18/06/2026
হাজারীবাগের ট্যানারি শিল্প: মুঘল সামরিক ঘাঁটি থেকে দেশের বৃহত্তম চামড়াপট্টি হয়ে ওঠার গল্প 🪵⚙️
আজকের দিনে হাজারীবাগ নামটা শুনলেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে লেদার বা চামড়াজাত পণ্যের শোরুম আর ব্যস্ত এক বাণিজ্যিক এলাকা।
কিন্তু আপনি কি জানেন, একসময় মুঘল ইতিহাসের সাথে জড়িয়ে থাকা এই শান্ত এলাকাটি কীভাবে পুরো দেশের চামড়া শিল্পের প্রধানতম হাবে পরিণত হয়েছিল?'
হাজারী' মনসবদার থেকে হাজারীবাগ:"হাজারীবাগ" নামটির উৎপত্তি মূলত মুঘল সামরিক ইতিহাসের সাথে জড়িয়ে আছে। মুঘল আমলে এই এলাকায় সৈন্যদের একটি বড় সামরিক ঘাঁটি বা ব্যারাক ছিল। ধারণা করা হয়, মুঘল সেনাবাহিনীর 'হাজারী' (হাজার সৈন্যের অধিনায়ক বা মনসবদার)-দের আবাসন ও ঘাঁটি থাকার কারণেই এই এলাকার নাম হয়েছিল 'হাজারীবাগ'। কিন্তু বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝিতে এসে এই ঐতিহাসিক জনপদটি পুরোপুরি বদলে যায়।
প্রথম ট্যানারির জন্মকথা ও স্থানান্তর:ঐতিহাসিক নথিপত্র অনুযায়ী, অবিভক্ত বাংলায় তৎকালীন পূর্ববঙ্গের প্রথম বাণিজ্যিক ট্যানারিটি ১৯৪০-এর দশকে বিখ্যাত সমাজсеবক ও ব্যবসায়ী রণদাপ্রসাদ সাহা (আর. পি. সাহা) কর্তৃক নারায়ণগঞ্জে স্থাপন করা হয়েছিল।
পরবর্তীতে ১৯৫০-এর দশকের শুরুতে (আনুমানিক ১৯৫১ সালের সরকারি গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে) এই চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পটিকে ঢাকার হাজারীবাগে স্থানান্তর করা হয়। দেশভাগের পর ভারত থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে আসা মুসলিম ট্যানারদের আগমন এবং কাঁচা চামড়ার সহজলভ্যতার কারণে হাজারীবাগ খুব দ্রুত এই শিল্পের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে।
শিল্পের বিস্তার ও রূপান্তর:১৯৫০ থেকে ১৯৭০-এর দশকের মধ্যে এখানে প্রায় আড়াইশ ছোট-বড় ট্যানারি ইউনিট গড়ে ওঠে। একসময়ের খোলামেলা এলাকাটি ঢাকা পড়ে যায় লোহা ও কাঠের বিশাল বিশাল ড্রাম, কাঁচা চামড়ার স্তূপ আর রাসায়নিকের গন্ধে। বুড়িগঙ্গার কোল ঘেঁষে গড়ে ওঠা এই শিল্পটি দশকের পর দশক ধরে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও রপ্তানি খাতের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি ছিল।
পরবর্তীতে পরিবেশ দূষণ রোধে ২০১৭ সালে এই শিল্পটিকে সাভারে স্থানান্তর করা হয় এবং আজ হাজারীবাগ সস্তা ও টেকসই চামড়াজাত পণ্যের এক বিশাল খুচরা বাজারে রূপান্তরিত হয়েছে।
আজকের আধুনিক হাজারীবাগের এই ঐতিহাসিক রূপান্তরের গল্পটি কি আপনার জানা ছিল? কমেন্টে আমাদের জানান!
📚 তথ্যসূত্র ও প্রামাণ্য সোর্স:'Tannery' ও 'Leather Industry' — বাংলাপিডিয়া (এশিয়াটিক সোসাইটি বাংলাদেশ).
'ঢাকা: স্মৃতি বিস্মৃতির নগরী' — অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন।