Radio Shohor

Radio Shohor Radio Shohor Is The Best Social Radio Station In Bangladesh. Stay Tuned. Contact Us For More Informa Radio Shohor Is A Online Radio Station.
(2)

While the radio station itself has expanded, but the aim hasn't changed. Radio Shohor is the online radios station which variety of music, news, radio segment, entertaining. Through its network of friendly radio jockeys, constant audience interaction via text messages and special features allowing fans to get closer to their favorite stars, Radio Shohor is now in online platform but soon it will b

e the most famous fm in the country . Radio Shohor is now live in only 3 days in a week, Every Thursday, Friday And Saturday Keep Your Eyes On radio Shohor. There Is Love Segment Called Bhalobashar Benjondhoni At 11-30pm, Hosted By Rj Sania. On Friday At 9-30 Pm There Is Horror Segment Named City Of Horror Hosted By Rj Jeffrey And On Saturday At 11Pm Poetry Segment Named Kobitar Shohor Hosted By Rj Shahriar. If Any company wants to promote there brand or company for sponsorship, our door is always open. For Business:
Contact with us for branding on offline and online . visit our page - www.facebook.com/radioshohor

For Online Support - [email protected]
Send Us Horror Stories - [email protected]
Direct Contact With Authority - [email protected]
Developer Support - [email protected]
Send Us Lovestories - [email protected]
Direct Connect With Rj Sania - [email protected]
Direct Contact With Rj Jeffrey - [email protected]

Direct Connect With Authority - [email protected]

For More Detail Visit Us - radioshohor.com

Call us On Offline - 01754408822

♨️বায়োগ্রাফি__পর্ব-৫:-ঢালিউডের গতানুগতিক ধারা ভেঙে অভিনয় ও বুদ্ধিদীপ্ত ক্যারিয়ার গড়ার অনন্য উদাহরণ তিনি আরেফিন শুভ।--...
22/06/2026

♨️বায়োগ্রাফি__পর্ব-৫:-
ঢালিউডের গতানুগতিক ধারা ভেঙে অভিনয় ও বুদ্ধিদীপ্ত ক্যারিয়ার গড়ার অনন্য উদাহরণ তিনি আরেফিন শুভ।

---

জন্ম ও প্রাথমিক জীবন: পরিশীলিত এক তরুণ

আরেফিন শুভর পুরো নাম আরেফিন আহমেদ শুভ। তাঁর জন্ম ১৯৮৬ সালের ১ নভেম্বর, ঢাকায়। তিনি বর্তমান সময়ের সবচেয়ে স্মার্ট, সুশিক্ষিত ও পরিকল্পিত ক্যারিয়ার গড়া নায়কদের অন্যতম। পড়াশোনায় তিনি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী। স্কুল ও কলেজের গণ্ডি পেরিয়ে তিনি ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটে (আইবিএ), যা দেশের অন্যতম সেরা উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সেখান থেকে তিনি বিবিএ ও এমবিএ ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। তাঁর মতো উচ্চশিক্ষিত একজন তরুণ চলচ্চিত্রে আসবেন, এটা ছিল অনেকের কাছেই বিস্ময়কর।

মিডিয়া জগতে প্রবেশ: মডেলিং থেকে নায়ক

চলচ্চিত্রে আসার আগে শুভ ছিলেন দেশের বিজ্ঞাপনচিত্রের একজন শীর্ষ মডেল। তাঁর ব্যক্তিত্বময় চেহারা ও ক্যামেরার সামনে স্বচ্ছন্দ উপস্থিতির কারণে তিনি দেশ-বিদেশের অসংখ্য ব্র্যান্ডের মডেল হিসেবে কাজ করেছেন। এই সময়ে তিনি মিউজিক ভিডিওতেও কাজ করে দর্শকের নজর কাড়েন।

তবে শুভর সিনেমায় পা রাখা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন ধারার ছবির মাধ্যমে।

চলচ্চিত্রে অভিষেক ও সাফল্যের ধারা

অধিকাংশ নায়কের বাণিজ্যিক ছবির মাধ্যমে অভিষেক হলেও শুভ আত্মপ্রকাশ করেন একটি শিল্পধর্মী ছবির মাধ্যমে।

· অভিষেক ছবি ‘পিতার আসন’ (২০১৫): নির্মাতা ফিরোজ খান প্রিন্স পরিচালিত এই ছবির গল্প ছিল ভিন্ন ধারার, যেখানে শুভ অভিনয় দিয়ে নিজের উপস্থিতি জানান দেন।
· বাণিজ্যিক সাফল্য ‘চুয়াত্তর’ (২০১৬): অ্যাকশন-রোমান্টিক এই ছবিটি দর্শকপ্রিয়তা পায় এবং শুভ মূলধারার বাণিজ্যিক ধারায় প্রবেশ করেন।
· ধারাবাহিক হিট: এরপর একে একে আসে ‘তুই আমার’, ‘অহংকার’, ‘ঢাকা অ্যাটাক’-এর মতো ছবি। ‘ঢাকা অ্যাটাক’ ছিল ঢালিউডের প্রথম পূর্ণাঙ্গ পুলিশি থ্রিলার, যেখানে তাঁর স্মার্ট গোয়েন্দা চরিত্রটি সমালোচকদের প্রশংসা পায়।
· জুটি জনপ্রিয়তা: নায়িকা মাহিয়া মাহির সঙ্গে তাঁর জুটি দারুণ জনপ্রিয়তা পায়।

‘মিশন এক্সট্রিম’ ও নতুন উচ্চতা

কিন্তু শুভর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় মাইলফলক আসে ২০২১ সালে, ওয়েব প্ল্যাটফর্ম ও প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়া ‘মিশন এক্সট্রিম’ ছবির মাধ্যমে।

· ছবিটি একটি অ্যাকশন-থ্রিলার, যেখানে শুভ একজন কঠোর পুলিশ কর্মকর্তার চরিত্রে অভিনয় করেন।
· আন্তর্জাতিক মানের অ্যাকশন, সিনেমাটোগ্রাফি ও শুভর দাপুটে উপস্থিতি ছবিটিকে ব্লকবাস্টার বানিয়ে দেয়। ছবিটি বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে ব্যবসাসফলতার নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করে।

বর্তমান অবস্থান ও ‘নায়ক’ থেকে ‘অভিনেতা’

আরেফিন শুভ ইচ্ছাকৃতভাবেই কম ছবি করেন। মানসম্মত কাজের প্রতি তাঁর ঝোঁক এবং প্রতিটি চরিত্রে নিজেকে ভেঙে নতুন করে গড়ার দক্ষতা তাঁকে আলাদা করে তোলে। তিনি অভিনয়কে নেশা হিসেবে নেন, পেশা হিসেবে নয়।

তাঁর অভিনয়ের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:

· পরিমিতিবোধ: কখনোই প্রয়োজনের অতিরিক্ত অভিনয় করেন না।
· সংলাপ বলার ভঙ্গি: তাঁর স্পষ্ট ও গম্ভীর কণ্ঠের সংলাপ দর্শকমনে দাগ কাটে।
· স্মার্টনেস: পর্দায় তাঁর ইউরোপিয়ান স্টাইলের পোশাক ও লুক তরুণ প্রজন্মের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়।

ব্যক্তিগত জীবন ও ভাবমূর্তি

আরেফিন শুভ ব্যক্তিগত জীবনে অত্যন্ত রুচিশীল ও শান্ত স্বভাবের। বই পড়া, ফিটনেস চর্চা ও বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনায় তিনি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। চলচ্চিত্রাঙ্গনের সব ধরনের নেতিবাচক বিতর্ক ও রাজনীতি থেকে নিজেকে দূরে রেখে কাজ করাই তাঁর মূলমন্ত্র।

আরেফিন শুভ ঢালিউডে একটি ব্যতিক্রমী চরিত্র। তিনি প্রমাণ করেছেন, উচ্চশিক্ষা, রুচিবোধ ও অভিনয়—একসঙ্গে চলতে পারে। বাণিজ্যিক সিনেমার জনপ্রিয়তা ও শিল্পধর্মী সিনেমার অভিনয়শৈলী—দুইয়ের মিশেলে তিনি গড়ে তুলেছেন নিজের স্বতন্ত্র পরিচয়।

♨️বায়োগ্রাফি__পর্ব-৪:-মান্না, বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, যিনি অ্যাকশন, রোমান্স ও বাস্তবধর্মী গল্পের এ...
22/06/2026

♨️বায়োগ্রাফি__পর্ব-৪:-
মান্না, বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, যিনি অ্যাকশন, রোমান্স ও বাস্তবধর্মী গল্পের এক অনন্য মিশেল ঘটিয়েছিলেন।

---

জন্ম ও প্রাথমিক জীবন: এলিগ্যান্ট এক তরুণ

মান্নার আসল নাম এস এম আসলাম তালুকদার। তাঁর জন্ম ১৯৬৪ সালের ১৪ এপ্রিল, টাঙ্গাইল জেলার এলেঙ্গায়। তবে শৈশব ও কৈশোর কেটেছে রাজধানী ঢাকাতেই। তিনি পড়াশোনা করেছেন ঢাকার বিখ্যাত সেন্ট গ্রেগরী হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ-এ।

ছোটবেলা থেকেই সিনেমার প্রতি ছিল তাঁর অদম্য টান। দীর্ঘদেহী, ফর্সা, সুদর্শন এই তরুণ যখন চলচ্চিত্রে নাম লেখানোর স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন, তখন কেউ হয়তো জানতেন না, তিনিই একদিন বাংলা সিনেমার গতিপথ বদলে দেবেন।

চলচ্চিত্রে আগমন ও সংগ্রামের শুরু

মান্না ১৯৮৪ সালে নবাব আলীর পরিচালনায় ‘টাকা’ ছবিতে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ শুরু করেন। পর্দার পেছনে কাজ করার পাশাপাশি সামনে আসার স্বপ্নও মনে লালন করতেন। একই বছর তিনি ‘নতুন মুখ’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে নায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন, কিন্তু সেটি তেমন সাড়া ফেলতে পারেনি।

প্রথম দিকের বছরগুলো কেটেছে চরম সংগ্রাম, টুকরো চরিত্র ও ব্যর্থতার গ্লানি নিয়ে। কিন্তু মান্না ছিলেন আত্মবিশ্বাসী ও ধৈর্যশীল। তিনি নিজেকে প্রস্তুত করতে থাকেন এবং সুযোগের অপেক্ষায় থাকেন।

কিংবদন্তির উত্থান: অ্যাকশন হিরো হিসেবে স্বীকৃতি

নব্বইয়ের দশকের শুরুতে মান্নার ভাগ্য পরিবর্তন হতে শুরু করে। দর্শকরা তাঁর লম্বা-চওড়া চেহারা, মারপিট ও বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বরকে ভালোবাসতে শুরু করে। তিনি হয়ে ওঠেন এক নতুন ধরনের অ্যাকশন হিরো।

· ট্রাজেডি কিং: ‘তুমি আমার’, ‘বিক্ষোভ’, ‘প্রতিজ্ঞা’র মতো ছবিতে তাঁর ট্র্যাজিক অ্যাকশন হিরোর ইমেজ গড়ে ওঠে। বেশিরভাগ ছবিতেই শেষ দৃশ্যে নায়িকার কোলে মাথা রেখে তাঁর মৃত্যু হতো, যা দর্শকদের কাঁদিয়ে ছাড়ত। এ কারণেই ভক্তরা তাঁকে ‘ট্রাজেডি কিং’ আখ্যা দেন।
· সেরা জুটি: নায়িকা মৌসুমীর সঙ্গে তাঁর জুটি ছিল সে সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সফল রোমান্টিক-অ্যাকশন জুটি। একসঙ্গে তাঁরা কয়েক ডজন সুপারহিট ছবি উপহার দিয়েছেন।

স্বর্ণযুগ: প্রযোজনা ও রূপান্তর

মান্না শুধু নায়ক নন, একজন সফল প্রযোজকও ছিলেন। তিনি কৃতাঞ্জলী চলচ্চিত্র নামে নিজস্ব প্রযোজনা সংস্থা খোলেন এবং এমন সব ছবি প্রযোজনা করেন, যা বাংলা সিনেমার মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

তাঁর প্রযোজিত সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ও যুগান্তকারী ছবি ছিল ‘আম্মাজান’ (১৯৯৯)।

· পরিচালক কাজী হায়াৎ নির্মিত এই ছবিটি ঢাকাই সিনেমার ইতিহাসে এক মাইলফলক।
· এতে মান্না ‘বদরু’ নামে এক পথশিশু থেকে মাফিয়া ডনের চরিত্রে অভিনয় করেন, যা দর্শক ও সমালোচক উভয়ের দ্বারাই প্রশংসিত হয়।
· ‘আম্মাজান’ ছবিটি ব্যাপক ব্যবসাসফল হয় এবং মান্নাকে এক ভিন্ন উচ্চতায় নিয়ে যায়। এর কয়েকটি সংলাপ, যেমন—“তোমারে একটা কথা কইছি, মনে থাকে না? কইছি না, এ শহর আমার?”—আজও বাংলা সিনেমার ইতিহাসে অমর।

পরবর্তীতে তিনি কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘লুটতরাজ’, ‘টাকার নেশা’, ‘বীর সৈনিক’ এবং মনতাজুর রহমান আকবর পরিচালিত ‘মনের সাথে যুদ্ধ’, ‘সত্যের বিজয়’-এর মতো বাস্তবতাবাদী ও সামাজিক গল্পের ছবি উপহার দেন।

অভিনয়ের ধরন ও জনপ্রিয়তা

মান্নার পর্দায় উপস্থিতি মানেই ছিল এক দৃপ্ত দীপ্তি। তাঁর বৈশিষ্ট্যগুলো ছিল অসাধারণ:

· শক্তিমান কণ্ঠ: তাঁর ভারী ও কর্তৃত্বময়ী কণ্ঠস্বর ছিল অ্যাকশন সংলাপের জন্য অমোঘ অস্ত্র।
· সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক: নব্বইয়ের দশকের শেষ থেকে আমৃত্যু তিনি ঢালিউডের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত নায়ক ছিলেন।
· সাহসী ব্যক্তিত্ব: ব্যক্তিগত জীবনেও তিনি ছিলেন নির্ভীক ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার। চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে একাধিকবার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে তিনি শিল্পীদের অধিকার ও কল্যাণের জন্য লড়াই করেছেন।

ব্যক্তিগত জীবন: সংসারী ও স্নেহময় মানুষ

ব্যক্তিগত জীবনে মান্না ছিলেন একনিষ্ঠ সংসারী। ১৯৮১ সালে শিলা আক্তার শেলীর সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। এই দম্পতির দুই কন্যা—মিম ও শিখা। পর্দার উগ্র চরিত্রের বিপরীতে তিনি বাস্তবে ছিলেন ভীষণ সাদাসিধে, ধার্মিক ও পরোপকারী। কেউ বিপদে পড়লে ছুটে যাওয়া ছিল তাঁর স্বভাব।

অকালমৃত্যু: অসমাপ্ত অধ্যায়

বাংলা চলচ্চিত্রের এই অগ্রগণ্য নায়ক ২০০৮ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল মাত্র ৪৩ বছর। তাঁর এই অকাল ও আকস্মিক মৃত্যু পুরো জাতিকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল।

মান্না কেবল একজন নায়কই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একটি চেতনার নাম, বাংলা চলচ্চিত্রের আত্মবিশ্বাস। জসিম যেমন মাটির নায়ক ছিলেন, মান্না তেমনি সেই মাটির স্পর্শ থেকে উঠে এসে আধুনিক, সচেতন ও ব্যবসাসফল ঢাকাই সিনেমার এক শক্তিশালী স্তম্ভ গড়েছিলেন।

♨️বায়োগ্রাফি__পর্ব-৩:-জসিম, যিনি ‘গ্রামের নায়ক’ ও ‘অ্যাকশন জসিম’ নামে কিংবদন্তি হয়ে আছেন।---জন্ম ও শৈশব: মাটি থেকে ওঠা এ...
22/06/2026

♨️বায়োগ্রাফি__পর্ব-৩:-
জসিম, যিনি ‘গ্রামের নায়ক’ ও ‘অ্যাকশন জসিম’ নামে কিংবদন্তি হয়ে আছেন।

---
জন্ম ও শৈশব: মাটি থেকে ওঠা এক যোদ্ধা

জসিমের আসল নাম আবুল খায়ের জসিম উদ্দিন। তাঁর জন্ম ১৯৫০ সালের ১৪ আগস্ট (কিছু সূত্রে ১৯৫৩), পুরান ঢাকার লক্ষ্মীবাজারের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে শৈশবেই বাবাকে হারান তিনি। অভাব-অনটন আর সংগ্রামের মধ্য দিয়ে কাটে তাঁর কৈশোর।

তরুণ বয়সেই শরীরচর্চার প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ তৈরি হয়। তিনি বডি বিল্ডিং শুরু করেন এবং কঠোর অনুশীলনের মাধ্যমে একটি অসাধারণ পেশিবহুল শরীর গড়ে তোলেন। শরীরটাই পরবর্তীতে তাঁর চলচ্চিত্রে আসার মূল পুঁজি হয়ে দাঁড়ায়। কুস্তি, জিমন্যাস্টিকস ও মারামারির বিভিন্ন কৌশলে তিনি দক্ষ ছিলেন।

চলচ্চিত্রে আগমন: স্টান্টম্যান থেকে সুপারস্টার

জসিমের চলচ্চিত্র জগতে প্রবেশটা ছিল পুরোপুরি লড়াইয়ের। ষাটের দশকের শেষের দিকে তিনি ঢাকাই ছবিতে ফাইট মাস্টার বা কুস্তিগীর হিসেবে কাজ শুরু করেন। নিজের অসীম সাহস আর শারীরিক দক্ষতার কারণে তিনি দ্রুত স্টান্টম্যান ও খলনায়কের ভূমিকায় সুযোগ পেতে থাকেন।

· নায়ক হওয়ার পালাবদল: ১৯৭০-এর দশকের শুরুতে তিনি ‘দেবর’ (১৯৭২) ও ‘বিচ্ছু’ (১৯৭৩)-এর মতো ছবিতে ভিলেন চরিত্রে দারুণ জনপ্রিয়তা পান। কিন্তু পরিচালক দেওয়ান নজরুলের ‘দোস্ত দুশমন’ (১৯৭৭) ছবিতে প্রথম নায়ক হিসেবে সুযোগ পান এবং সেটিই তাঁর ভাগ্য বদলে দেয়। এরপর থেকে আর পেছনে ফিরতে হয়নি।

স্বর্ণযুগ ও ‘গ্রামের নায়ক’ তকমা

আশি ও নব্বইয়ের দশক ছিল জসিমের একক আধিপত্যের সময়। তখন ঢালাইউডের ছবি মানেই ছিল অ্যাকশন, আর অ্যাকশন মানেই জসিম। দর্শকরা, বিশেষ করে গ্রামীণ ও প্রান্তিক দর্শকরা তাঁকে আপনজনের মতো ভালোবাসতেন।

তাঁর সাফল্যের মূল কারণ ছিল:

1. অ্যাকশন হিরো ইমেজ: সে সময়ে কোনো বডি ডাবল ছাড়াই নিজে সব স্টান্ট করতেন। বাস, ট্রেন, উঁচু দালান—সব জায়গায় নির্ভীকভাবে লাফিয়ে পড়তেন। তাঁর বন্দুক হাতে ভঙ্গি ও কুস্তির দৃশ্যগুলো ছিল দর্শকদের কাছে ভীষণ আকর্ষণের।
2. সংলাপ ও মাটি-মানুষি ভাষা: জসিমের সংলাপে ছিল গ্রামবাংলার মানুষের মুখের ভাষা। “আমি জসিম, কুস্তিগির” বা “তুই আমার প্রতিদ্বন্দ্বী না, তোর বাপও না”—এমন ডায়লগ আজও মানুষের মুখে মুখে ফেরে।
3. সামাজিক বাস্তবতা: তাঁর বেশিরভাগ ছবির গল্প ছিল সমাজের বঞ্চিত, দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পক্ষে। তিনি পর্দায় হয়ে উঠতেন এক দুর্ধর্ষ প্রতিবাদী যোদ্ধা, যা সাধারণ মানুষের স্বপ্নের সঙ্গে মিলে যেত।

উল্লেখযোগ্য ছবি ও কিংবদন্তি চরিত্র

জসিম তিন শতাধিক ছবিতে অভিনয় করেছেন। এর মধ্যে কিছু ছবি কিংবদন্তি:

· রঙিন রংবাজ: জসিম-শাবানা জুটির অসাধারণ কেমিস্ট্রি এ ছবিকে অমর করেছে।
· টাকার পাহাড়: তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম ব্যবসাসফল ছবি।
· বাংলার বাঘ: জসিমের অ্যাকশন ইমেজের সর্বোচ্চ রূপ দেখা যায় এতে।
· তেজী: অত্যন্ত জনপ্রিয় এই ছবিতে তাঁর ‘কমান্ডো’ স্টাইল দর্শকদের মাতিয়েছিল।
· সওদাগর, জজ ব্যারিস্টার, দাবিদার, শক্তিমান—প্রত্যেকটিই সে সময়ে দারুণ ব্যবসা করেছিল।

ব্যক্তিগত জীবন: সাদামাটা ও নির্লোভ

জসিম পর্দায় যতটা রুদ্র-উগ্র ছিলেন, ব্যক্তিজীবনে ছিলেন ততটাই শান্ত, বিনয়ী ও নির্লোভ। সহকর্মী ও জুনিয়র শিল্পীদের সঙ্গে ছিল তাঁর অত্যন্ত আন্তরিক সম্পর্ক। অল্পতে সন্তুষ্ট থাকা এ মানুষটি কখনও তারকাসুলভ অহংকার পুষতেন না। তিনি ছিলেন একজন ধার্মিক ও সোজাসাপ্টা মানুষ। শেষ জীবনে তিনি ব্যবসায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন এবং শারীরিক অসুস্থতায় ভুগেছিলেন।

মৃত্যু: এক যুগের অবসান

বাংলা চলচ্চিত্রের এই অ্যাকশন জগতের অবিসংবাদিত রাজা ১৯৯৮ সালের ৮ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন। মাত্র ৪৮ বছর বয়সে ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বাংলা চলচ্চিত্রের একটি গৌরবোজ্জ্বল অ্যাকশন যুগের সমাপ্তি ঘটে।

জসিম কেবল একজন নায়ক ছিলেন না, তিনি ছিলেন বাংলার সাধারণ মানুষের ভালোবাসা, ক্ষোভ ও প্রতিবাদের প্রতিচ্ছবি। শাকিব খান পরবর্তীতে যতই রাজত্ব করুন, ‘জসিম ভাই’ নামক যে ব্র্যান্ডটি তিনি তৈরি করেছিলেন, তা বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

♨️বায়োগ্রাফি__পর্ব-২:-সিয়াম আহমেদ- বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের তুলনামূলক নতুন প্রজন্মের একজন আলোচিত নায়ক, যিনি নিজের অভিনয়...
22/06/2026

♨️বায়োগ্রাফি__পর্ব-২:-

সিয়াম আহমেদ- বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের তুলনামূলক নতুন প্রজন্মের একজন আলোচিত নায়ক, যিনি নিজের অভিনয় দক্ষতা ও স্মার্ট ব্যক্তিত্বের জন্য দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন।

---

প্রাথমিক জীবন ও শিক্ষা: শহুরে তরুণের গল্প

সিয়াম আহমেদের জন্ম ১৯৯১ সালের ২৯ মার্চ, ঢাকায়। তাঁর পুরো নাম সিয়াম আহমেদ সাদ। ঢাকার এলিট পরিবেশে বেড়ে ওঠা সিয়ামের শিক্ষাজীবন কেটেছে রাজধানীর নামকরা প্রতিষ্ঠানে। তিনি মিরপুরের ন্যাশনাল ব্যাংক পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য ভর্তি হন ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব)-এ। তবে নিয়মতান্ত্রিক শিক্ষার চেয়ে মিডিয়া ও অভিনয়ের জগতেই তাঁর আগ্রহ ছিল বেশি।

মিডিয়া জগতে প্রবেশ: পর্দার বাইরেও আলো

সিনেমার নায়ক হওয়ার আগে সিয়াম ছিলেন দেশের বিজ্ঞাপনচিত্রের (টিভিসি) পরিচিত মুখ। তাঁর গড়ন, স্মার্ট লুক ও ক্যামেরার সামনে স্বচ্ছন্দ উপস্থিতি দ্রুত তাঁকে মডেলিং জগতে জনপ্রিয় করে তোলে। গ্রামীণফোন, বাংলালিংক, রবিসহ দেশের প্রায় সব বড় ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপনে তিনি মডেল হিসেবে কাজ করেছেন। এই সময়ে তিনি কিছু নাটকেও অভিনয় করেন, যেখানে তাঁকে সবসময় আধুনিক, রুচিশীল তরুণের চরিত্রে দেখা গেছে।

চলচ্চিত্রে অভিষেক: নতুন ধারার সূচনা

সিয়ামের বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে ২০১৬ সালে, তরুণ নির্মাতা অনম বিশ্বাস পরিচালিত ‘আয়নাবাজি’ ছবির মাধ্যমে। এই ছবিটি বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়।

· চরিত্র: এতে তিনি ‘সাইফ’ নামে এক প্রতারক যুবকের চরিত্রে অভিনয় করেন, যে নিজেকে পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন প্রতারণা করে বেড়ায়।
· সাফল্য: ডার্ক থ্রিলার ঘরানার এই ছবিতে সিয়ামের অভিনয় দর্শক ও সমালোচক উভয়ের কাছেই ব্যাপক প্রশংসিত হয়। তাঁর ক্যারিশম্যাটিক উপস্থিতি এবং সংলাপ বলার ভঙ্গি দর্শকমনে দাগ কাটে। প্রথম ছবিতেই তিনি বুঝিয়ে দেন, তিনি প্রচলিত ছকের নায়ক নন।

ক্যারিয়ারের উত্থান ও ধারাবাহিক সাফল্য

‘আয়নাবাজি’র সাফল্যের পর সিয়াম আর পেছনে তাকাতে হয়নি। তিনি একের পর এক ভিন্ন ধারার ছবিতে অভিনয় করে নিজেকে ‘অভিনেতা’ হিসেবে প্রমাণ করেছেন।

· পোড়ামন ২ (২০১৮): রায়হান রাফী পরিচালিত এই প্রণয়ধর্মী ছবিটি ছিল সুপারহিট। এখানে গ্রামীণ পটভূমির একেবারে সাধারণ এক তরুণের চরিত্রে সিয়ামের সরল অভিনয় দর্শকদের মন জয় করে। তাঁর বিপরীতে ছিলেন নায়িকা পূজা চেরি।
· দহন (২০১৮): আবারও রায়হান রাফীর পরিচালনায় একটি অ্যাকশন-থ্রিলার ছবি। এতে তিনি ‘তুহিন’ নামে এক যুবকের চরিত্রে অভিনয় করেন, যে স্ত্রীর ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিশোধ নিতে মরিয়া হয়ে ওঠে। ছবিটি ব্যবসাসফল হয় এবং সিয়ামের মারপিট ও অভিনয় প্রশংসিত হয়।
· ফাগুন হাওয়ায় (২০১৯): তৌকীর আহমেদের পরিচালনায় ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে নির্মিত এই ছবিটি সিয়ামের ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা কাজ। এখানে তিনি একেবারে ভিন্ন মাত্রার চরিত্রে দেখা দেন। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা দেওয়া এই ছবিতে তাঁর অভিনয় গভীরভাবে নজর কাড়ে। এর জন্য তিনি সেরা অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০১৯ লাভ করেন।
· শান (২০২২): এম রাহিম পরিচালিত এই অ্যাকশন ছবিতে সিয়াম একজন গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্টের চরিত্রে অভিনয় করেন। এটি ছিল স্পাই-থ্রিলার ঘরানার ছবি, যেখানে সিয়ামকে পুরোদস্তুর অ্যাকশন হিরো লুকে দেখা যায়।
· অ্যাডভেঞ্চার অব সুন্দরবন (২০২৩): দেশের প্রথম ওয়াইল্ডলাইফ অ্যাডভেঞ্চার ছবি। এতে তিনি বিখ্যাত লেখক মুহম্মদ জাফর ইকবাল স্যারের সৃষ্ট ‘রাতুল’ চরিত্রে অভিনয় করেন।

অভিনয়ের ধরণ ও ব্যক্তিত্ব

সিয়াম আহমেদ ঢালিউডের গতানুগতিক নায়ক ইমেজ ভেঙে একজন আধুনিক, শহুরে ও ‘বয়-নেক্সট-ডোর’ ইমেজের নায়ক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। তাঁর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:

· নির্বাচিত চরিত্র: তিনি ছবির সংখ্যা নয়, গুণগত মানকে প্রাধান্য দেন। বছরে হাতে গোনা দু-একটি ছবি করেন, যা দর্শকদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি করে।
· সাবলীলতা: অতিনাটকীয়তা পরিহার করে স্বাভাবিক অভিনয় করাই তাঁর ট্রেডমার্ক।
· ভাষা ও সংলাপ: ঢাকাইয়া ভাষার মিশেলে তাঁর সংলাপ বলার ধরন তরুণ প্রজন্মের কাছে খুবই জনপ্রিয়।

চলচ্চিত্রের বাইরে ও বর্তমান অবস্থান

অভিনয়ের পাশাপাশি সিয়াম খেলাধুলা ও ফিটনেস নিয়ে খুবই সচেতন। নিয়মিত জিম ও ফুটবল প্র্যাকটিস তাঁর রুটিনের অংশ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি বেশ সক্রিয় এবং ভক্তদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখতে ভালোবাসেন।

সিয়াম আহমেদ প্রমাণ করেছেন যে, শুধু পৈতৃক সূত্র বা সিনেমা পরিবারের উত্তরসূরি হয়েই নয়, বরং প্রতিভা, পরিশ্রম ও বুদ্ধিদীপ্ত ক্যারিয়ার প্ল্যানিংয়ের মাধ্যমেও ঢালিউডে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করা যায়। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় ও পরিশ্রমী নায়কদের একজন।

♨️বায়োগ্রাফি__পর্ব-১:-শাকিব খান বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসের সবচেয়ে সফল ও প্রভাবশালী নায়ক। তাঁর জীবন এক রূপকথার গল্পে...
22/06/2026

♨️বায়োগ্রাফি__পর্ব-১:-
শাকিব খান বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসের সবচেয়ে সফল ও প্রভাবশালী নায়ক। তাঁর জীবন এক রূপকথার গল্পের মতো—একেবারে নিচ থেকে উঠে এসে শীর্ষে পৌঁছানো, যেখানে তিনি গত দুই দশক ধরে রাজত্ব করছেন। নিচে তাঁর বর্ণাঢ্য জীবন ও ক্যারিয়ার নিয়ে বিস্তারিত লেখা হলো।

---

শৈশব ও সংগ্রাম: নিচ থেকে ওঠার গল্প

শাকিব খানের আসল নাম মাসুদ রানা। জন্ম ১৯৭৯ সালের ২৮ মার্চ, নারায়ণগঞ্জে। তবে ক্যারিয়ারের প্রয়োজনে তিনি নায়ক ইমরান খানের ভক্ত হিসেবে ‘শাকিব খান’ নাম নেন।

তাঁর শৈশব কেটেছে চরম আর্থিক সংকটে। বাবা আব্দুর রব ছিলেন সরকারি চাকুরে, কিন্তু পরিবার ছিল বড়, তাই অভাব লেগেই থাকত। নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে সিনেমা দেখতে যাওয়া ছিল তাঁর একমাত্র বিনোদন। সংসারের হাল ধরতে তিনি কৈশোরেই কাজে নামেন। কখনো ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি, কখনো কাপড়ের দোকানের সেলসম্যান, আবার কখনো রাজমিস্ত্রির জোগালির কাজও করেছেন। এই কঠিন দিনগুলোই তাঁকে মানসিকভাবে শক্ত করে তোলে।

চলচ্চিত্রে আগমন: এক দুর্ধর্ষ লড়াই

১৯৯৯ সালে ‘অনন্ত ভালোবাসা’ ছবির মাধ্যমে তাঁর বড় পর্দায় অভিষেক হয়। তবে ওস্তাদ জাহাঙ্গীর আলমের মতো গুণী পরিচালকের ছবিতে সুযোগ পাওয়ার পরও রাতারাতি সাফল্য আসেনি। এরপর কেটেছে টানা টুকরো চরিত্রে অভিনয়ের অন্ধকার সময়। নায়ক হওয়ার স্বপ্ন বুকে নিয়ে তিনি অ্যাকশন দৃশ্যে বডি ডাবল (স্টান্টম্যানের বিকল্প) হিসেবেও কাজ করেছেন, যেখানে মারাত্মক চোট পেয়েছেন।

সেই সময়ের অধিকাংশ নায়ক ছিলেন মার্শাল আর্ট ও নাচে পারদর্শী। শাকিব খান বুঝতে পারেন, টিকে থাকতে হলে নিজেকে তৈরি করতে হবে। তিনি গোপনে মার্শাল আর্ট, নাচ ও অভিনয়ের ওপর কঠোর প্রশিক্ষণ নেন। এই প্রস্তুতিই তাঁকে ভবিষ্যতের জন্য তৈরি করেছিল।

উত্থান ও রাজত্ব: একক আধিপত্য

শাকিব খানের ভাগ্য বদলায় ২০০৪ সালে ‘ভালোবাসা ভালোবাসা’ ছবির মাধ্যমে। এরপর ২০০৫ সালে ‘বাঁধা’ ও ‘সিটি টেরর’-এর মতো ছবি দিয়ে তিনি দর্শকের নজর কাড়েন। কিন্তু আসল চমক দেখান ২০০৭ সালে ‘আমার প্রাণের স্বামী’ দিয়ে। এরপর আর পেছনে ফিরতে হয়নি।

· খলনায়ক থেকে নায়ক: ‘শাস্তি’ (২০০৪) ছবিতে তিনি নেগেটিভ চরিত্রে অভিনয় করে বুঝিয়ে দেন, তিনি সব ধারার চরিত্রেই সাবলীল।
· কমেডি ও রোমান্টিক ঘরানা: ‘নম্বর ওয়ান শাকিব খান’ (২০১০), ‘প্রিয়া আমার প্রিয়া’, ‘আদরের জামাই’—এ ধরনের ছবি দিয়ে তিনি সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকের নায়কে পরিণত হন।
· প্রথম সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক: ‘নবাব’ (২০১৭) ছবির জন্য তিনি ৭০ লাখ টাকা পারিশ্রমিক নেন, যা ছিল বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাসে রেকর্ড।

পরিচালক, প্রযোজক—সবাই একবাক্যে স্বীকার করেন, “শাকিব খান থাকা মানে ছবির অর্ধেক সাফল্য নিশ্চিত।” ২০১০ থেকে ২০১৯—এই দশক ছিল তাঁর একক আধিপত্যের। অপু বিশ্বাসের সঙ্গে জুটি গড়ে তিনি টানা সুপারহিট ছবি উপহার দিয়েছেন। একসময় বছরের ১০-১২টা ছবিই এককভাবে দাপটের সঙ্গে করে গেছেন।

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি

অভিনয় দক্ষতার জন্য তিনি চারবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন:

1. ‘ভালোবাসলেই ঘর বাঁধা যায় না’ (২০১০)
2. ‘খোদার পরে মা’ (২০১২)
3. ‘আরো ভালোবাসবো তোমায়’ (২০১৫)
4. ‘সত্তা’ (২০১৭)

এছাড়া মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার, বাচসাস পুরস্কারসহ অসংখ্য সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। ২০২৩ সালে ‘প্রিয়তমা’ ছবির অসাধারণ বাণিজ্যিক সাফল্যের পর তাঁকে ঢালিউডের ‘সালভেশন’ বা ত্রাতা হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়।

বিতর্ক ও ব্যক্তিগত জীবন: আলোচিত অধ্যায়

শাকিব খানের ব্যক্তিগত জীবন সব সময়ই গণমাধ্যমের শিরোনামে ছিল।

· অপু বিশ্বাসের সঙ্গে সম্পর্ক: ক্যারিয়ারের সোনালি সময়ে সহ-অভিনেত্রী অপু বিশ্বাসের সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০০৮ সালে গোপনে বিয়ে করেন তারা। ২০১৬ সালে তাঁদের পুত্র আব্রাম খান জয়ের জন্ম হয়।
· বিস্ফোরক প্রকাশ: ২০১৭ সালে অপু বিশ্বাস এক টেলিভিশন শোতে ছেলেকে নিয়ে হাজির হয়ে তাঁদের গোপন বিয়ে ও সন্তানের কথা প্রকাশ করে দেন, যা বাংলাদেশের গণমাধ্যমে তুমুল ঝড় তোলে। শাকিব খান প্রাথমিকভাবে কিছুদিন অস্বীকৃতি জানালেও পরে তা মেনে নেন। দুঃখজনকভাবে, কয়েক মাসের মধ্যেই তাঁদের বিচ্ছেদ হয়।
· বর্তমান সংসার: পরবর্তীতে তিনি কলকাতার মডেল ও প্রযোজক শবনম বুবলির সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান এবং ২০২২ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গোপন বিয়ে করেন। তাঁদের পুত্র শেহজাদ খান বীরের জন্ম ২০২২ সালে।

নতুন দিগন্ত: রূপান্তর ও ক্ষমতা

সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শাকিব খান তাঁর ইমেজ বদলেছেন। ‘প্রিয়তমা’ (২০২৩), ‘তুফান’ (২০২৪) বা ‘দরদ’ (২০২৪)-এর মতো ছবিতে তিনি শুধু নায়ক নন, একজন অভিনেতা হিসেবে নিজেকে নতুন করে উপস্থাপন করেছেন। কলকাতার ছবিতেও তাঁর দাপুটে উপস্থিতি এখন ঈর্ষণীয়। পশ্চিমবঙ্গে ‘একজন শাকিব খান’ ফিল্ম ক্লাব তাঁর জনপ্রিয়তার প্রমাণ।

শাকিব খান শুধু একজন সুপারস্টার নন, তিনি একটি ইন্ডাস্ট্রির প্রাণভোমরা। দীর্ঘ পঁচিশ বছরের ক্যারিয়ারে এক হাতের আঙুলে ভর দিয়ে সাইকেল চালানো থেকে শুরু করে গ্ল্যামার জগতের রাজা হওয়া—এই জার্নি বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এক জীবন্ত কিংবদন্তি। বিতর্ক যতই থাকুক, পর্দায় তাঁর ম্যাজিক আজও দর্শকদের হলমুখী করে, আর এটাই তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় সার্থকতা।

19/06/2026

আর্জেন্টাইন ফুটবলারদের অনুকরণ পরীমণির

19/06/2026

আজ থেকে দেশজুড়ে মুক্তি পেলো মাসুদ রানা

19/06/2026

প্রেক্ষাগৃহে একসঙ্গে তিন শাকিব!

'ভূত'পূর্ব (Bhuto'Purbo) হলো ২০২৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত একটি চমৎকার বাঙালি অলৌকিক ও রহস্যধর্মী অ্যান্থোলজি চলচ্চিত্র। ছবিটি...
18/06/2026

'ভূত'পূর্ব (Bhuto'Purbo) হলো ২০২৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত একটি চমৎকার বাঙালি অলৌকিক ও রহস্যধর্মী অ্যান্থোলজি চলচ্চিত্র। ছবিটি ২০২৫ সালের ২৭ জুন প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় এবং পরবর্তীতে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম hoichoi-এ স্ট্রিম করা হয়।

পরিচালক কাকলি ঘোষ ও অভিনব মুখোপাধ্যায়ের ডেবিউ ছবি এটি। বাংলা সাহিত্যের তিনজন বিখ্যাত লেখকের তিনটি আলাদা অতিপ্রাকৃত গল্পকে এই সিনেমায় চমৎকারভাবে এক সুতোয় বোনা হয়েছে।

🎬 সিনেমার মূল পটভূমি ও গল্পসমূহ
১৯৬০-এর দশকের শেষভাগের এক ঝোড়ো ও বৃষ্টিভেজা রাতে উত্তর কলকাতার এক পুরনো বাড়িতে তিনজন পুরুষ আড্ডায় বসেন। তারা হলেন নীলকণ্ঠ, শশধর এবং স্বয়ং লেখক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই রাতের আড্ডায় তাদের মুখে উঠে আসে তিনটি ভিন্ন অতৃপ্ত আত্মার গা ছমছমে গল্প:

মণিহারা (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর): এক বনেদি ব্যবসায়ী ফণীভূষণ সাহা এবং তার স্ত্রীর গহনার প্রতি তীব্র লোভ ও তার মর্মান্তিক পরিণতির গল্প।

তারানাথ তান্ত্রিক (বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়): এক তান্ত্রিকের অলৌকিক অভিজ্ঞতা, গৃহত্যাগ এবং মাতু পাগলীর কাছ থেকে দীক্ষা নেওয়ার রহস্যময় কাহিনি।
শিকার (মনোজ সেন): ভারত-চীন যুদ্ধোত্তর সময়ের অপরাধ জগতের অন্ধকারে জড়িয়ে পড়া এক শিক্ষিত যুবক পূর্ণেন্দুর ভৌতিক অভিজ্ঞতা।

আপাতদৃষ্টিতে গল্পগুলো আলাদা মনে হলেও, ভোরের আলো ফোটার সাথে সাথে তাদের মধ্যে এক গভীর ও অন্ধকার মনস্তাত্ত্বিক সংযোগ প্রকাশ পায়।

👥 কুশীলব ও কলাকুশলী
চলচ্চিত্রটিতে টলিউডের বেশ কয়েকজন জনপ্রিয় মুখ অভিনয় করেছেন:

☢️প্রধান অভিনয়ে: সত্যম ভট্টাচার্য (নীলকণ্ঠ/ফণীভূষণ), সুহোত্র মুখোপাধ্যায় (শশধর/পূর্ণেন্দু), সপ্তর্ষি মৌলিক (বিভূতিভূষণ), সন্দীপ্তা Sen, অমৃতা চট্টোপাধ্যায় এবং রূপাঞ্জনা মিত্র (মাতু পাগলি)।
সঙ্গীত ও আবহ সঙ্গীত: দানু সৈকত সিংহ।
চিত্রগ্রহণ: সৌম্যদীপ্ত গুঁইন।

বাঙালি দর্শকদের অলৌকিক ও সাহিত্যনির্ভর গল্পের প্রতি ভালোবাসাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এই সিনেমাটি হরর ঘরানার প্রেমীদের কাছে বেশ প্রশংসিত হয়েছে।

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে মুক্তি পাওয়া 'খাদান' চলচ্চিত্রটি টলিউড সুপারস্টার দেবের একটি ধামাকাদার কমার্শিয়াল 'মাস মসালা' কামব...
18/06/2026

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে মুক্তি পাওয়া 'খাদান' চলচ্চিত্রটি টলিউড সুপারস্টার দেবের একটি ধামাকাদার কমার্শিয়াল 'মাস মসালা' কামব্যাক ছবি। সুজিত দত্ত পরিচালিত এই ছবিটি আসানসোল-রানিগঞ্জ অঞ্চলের কয়লা খনির পটভূমিতে ক্ষমতা, রাজনীতি ও বন্ধুত্বের এক ভরপুর অ্যাকশন ড্রামা।

চলচ্চিত্রটির একটি সামগ্রিক ও নিরপেক্ষ রিভিউ নিচে তুলে ধরা হলো:

☢️ছবির মূল গল্প
বাংলাদেশ (তৎকালীন ওপার বাংলা) থেকে সর্বস্ব হারিয়ে কাঁটাতার পেরিয়ে ভারতে আসে মোহন (যীশু সেনগুপ্ত)। কয়লা খনি অঞ্চলে তার পরিচয় ও গভীর বন্ধুত্ব হয় স্থানীয় লড়াকু যুবক শ্যাম মাহাতোর (দেব) সঙ্গে। মোহনের তীক্ষ্ণ বুদ্ধি আর শ্যামের পেশ পেশীশক্তির মেলবন্ধনে তারা কয়লা খনি অঞ্চলে নিজেদের একচ্ছত্র দাপট তৈরি করে এবং সাধারণ মানুষের কাছে 'রবিন হুড'-এর মতো জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। কিন্তু ক্ষমতার এই লড়াইয়ে রাজনীতি, বিশ্বাসঘাতকতা এবং একের পর এক টুইস্ট কীভাবে তাদের জীবন বদলে দেয়, তা নিয়েই এগিয়েছে ছবির গল্প।

✅পজিটিভ দিক (যা ভালো লাগবে)
দেবের লার্জার-দ্যান-লাইফ পারফরম্যান্স: ছবিতে দেবকে তার পুরনো সেই চেনা অ্যাকশন অবতারে দেখা গেছে। পর্দায় তার উপস্থিতি এবং হাই-ভোল্টেজ অ্যাকশন দৃশ্যগুলো দর্শকদের দারুণ বিনোদন দেয়।

🔥যীশু সেনগুপ্তর অভিনয়: শান্ত অথচ মাপা চালে মোহনের চরিত্রে যীশু সেনগুপ্ত অসাধারণ অভিনয় করেছেন। দেব ও যীশুর অন-স্ক্রিন রসায়ন এবং যুগলবন্দি ছবিটিকে টেনে নিয়ে গেছে।

🌍অ্যাকশন ও সিনেমাটোগ্রাফি: শৈলেশ অবস্তির সিনেমাটোগ্রাফি এবং ছবির চমৎকার অ্যাকশন কোরিওগ্রাফি টলিউডের কমার্শিয়াল সিনেমার মানকে বেশ কিছুটা ওপরে তুলেছে। কোয়ালিটি বেশ আন্তর্জাতিক মানের লেগেছে।

🔥অনবদ্য সঙ্গীত: ছবির গান ও ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর (BGM) বেশ প্রশংসিত হয়েছে। বিশেষ করে কীর্তন ঘরানার 'রাধারানী' গানটি দর্শকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

🛑পার্শ্ব চরিত্র: আদিবাসী নেতা হিসেবে অনির্বাণ চক্রবর্তী এবং রাজনৈতিক নেতার চরিত্রে সুজন মুখোপাধ্যায়ের অভিনয় দারুণ ছিল।

🚫
নেগেটিভ দিক (যা কিছুটা দুর্বল)
প্রেডিক্টেবল চিত্রনাট্য: ছবির মূল গল্প বা চিত্রনাট্য খুব বেশি নতুনত্ব দিতে পারেনি। অনেক জায়গায় দক্ষিণ ভারতীয় (সাউথ) কমার্শিয়াল ছবির স্পষ্ট প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।

💋দুর্বল নারী চরিত্র: ইধিকা পাল এবং বরখা বিস্তের চরিত্রগুলো চিত্রনাট্যের দুর্বলতার কারণে তেমন কোনো ছাপ ফেলতে পারেনি।
সম্পাদনা (Editing): কিছু জায়গায় ছবির এডিটিং বেশ খাপছাড়া ও দ্রুত মনে হয়েছে, যার কারণে গল্পের আবেগ পুরোপুরি দানা বাঁধেনি।

🔥বক্স অফিস ও প্রতিক্রিয়া
মুক্তির পর ছবিটি বক্স অফিসে ঝড় তোলে এবং দর্শক ও ফ্যানদের উন্মাদনায় এটি অল-টাইম ব্লকবাস্টার তকমা পায়। সমালোচকদের একাংশ চিত্রনাট্যের খামতি নিয়ে প্রশ্ন তুললেও, সাধারণ দর্শক এবং লার্জার-দ্যান-লাইফ সিনেমার ভক্তদের কাছে 'খাদান' একটি দারুণ উপভোগ্য বিনোদন প্যাকেজ। বিভিন্ন ফোরামে ছবিটিকে ৫ এর মধ্যে ৩.৫ থেকে ৪ তারকা রেটিং দেওয়া হয়েছে।

Address

Dhaka

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Radio Shohor posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Establishment

Send a message to Radio Shohor:

Share