01/18/2026
রিয়া’র ছায়া: ছিন্ন স্বপ্ন
সন্ধ্যার আলোয় ঝলমলে শহরের বুকে,
রিয়া উড়ে চলেছে স্বপ্নের পাখায়,
আঠারো বসন্তের ফুল, কালো চুলের ঢেউ,
চোখে তার অনন্ত আকাশ, মুখে নিষ্পাপ হাসির ছোয়া।
কলেজের পথে লেখে কবিতা, "জীবনের আলো অন্ধকার জয় করে",
বাবার জন্মদিনের আলোয় ফিরছে বাড়ি, হৃদয়ে উচ্ছলতার ঝরনা ঝরে।
কিন্তু নির্জন গলির ছায়ায় লুকিয়ে আছে দানবের ছল,
অর্ণব, সেই সিনিয়র ভাই, যাকে বিশ্বাস করত সে স্নেহের মালা।
"দিদি, একটু দাঁড়াও," গলায় মধুর সুর, চোখে লোভের কালো জালা।
হাত তার কব্জিতে বাঁধল শিকল, বিশ্বাস ভেঙে চুরমার হলো,
তার সাথীরা, পশুর চেয়ে অধম, হাসিতে নির্মমতার আগুন জ্বালা।
টেনে নিয়ে গেল পরিত্যক্ত গুদামে, যেখানে অন্ধকার গ্রাস করে আলো,
অর্ণবের নখ খোঁচায় রিয়ার ত্বক, রক্তের লাল ঝরনা বয়ে যায়।
"কেন ভাইয়া, কেন এই বিশ্বাসঘাতকতা?" অশ্রুতে ভেসে যায় তার চোখের জল,
কিন্তু উত্তর শুধু হাসি, আর ছুরির ধার গলায় ঠেকিয়ে বলে, "চুপ, না হলে মরণের ছোয়া।"
পালা করে ঝাঁপিয়ে পড়ে দানবত্রয়, শরীর ছিন্নভিন্ন, সতীত্ব লুণ্ঠিত হয়,
কামড়ের যন্ত্রণা, রক্তের গন্ধ, চিৎকার দেয়ালে প্রতিধ্বনিত হয়ে যায়।
স্বপ্নের পাখি ভেঙে পড়ে অগ্নিকুণ্ডে, মনের আকাশে ঝড়ের কালো মেঘ,
পশুর চেয়ে অধম এরা, হৃদয়ে নেই দয়া, শুধু অন্ধকারের নির্মম খেলা।
সকালের আলোয় পাওয়া যায় রিয়া, রক্তাক্ত, ভাঙা ফুলের মতো,
হাসপাতালের বিছানায় চোখ খোলে সে, মনে জ্বলে ওঠে প্রতিশোধের আগুন ঠান্ডা।
পুলিশকে বলে না সত্য, নিজের হাতে বোনা প্রতিশোধের জাল,
কয়েক দিন পর অর্ণব পাওয়া যায় গলিতে, ছিন্নভিন্ন, গলায় নোটের ছুরির ফলা—
"পশুর চেয়ে অধমরা বাঁচতে পারে না, শিকার হয়ে ওঠে শিকারী এবার।"
রিয়ার চোখে শূন্যতা নয়, ঠান্ডা আগুনের দীপ্তি,
বিশ্বাসের ছাই থেকে উঠে দাঁড়ায় সে, অন্ধকারের ছায়ায় প্রতিশোধের গান।
এই গল্প শেষ হয় না, কারণ অধমেরা ঘুরে বেড়ায় চারপাশে,
কিন্তু কখনো কখনো করুণা থেকে জন্ম নেয় ভয়ানক প্রতিশোধের রস,
মানুষের মাঝে লুকিয়ে আছে দানব, পশুর চেয়ে অধম, অন্ধকারের বাস।
রিয়ার মতো ফুলগুলো ভেঙে যায়, কিন্তু উঠে দাঁড়ায় ঝড়ের মতো,
জীবনের আলো অন্ধকার জয় করে, কাব্যের রসে বোনা এই অমর কথা।