08/08/2020
২০২১ একুশে বইমেলা উপলক্ষে পাণ্ডুলিপি প্রতিযোগিতা ও তরুণ লেখক-প্রকাশকদের প্রতি বিশেষ আহবান
আমাদের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, বইমেলা যখন একদম নাকের ডগায় তখন অনেকের বই করার শখ জাগে, প্রকাশকদের কাছে ভীড় জমান। প্রকাশকরা বাধ্য হয়েই পাণ্ডুলিপি নেন। অনেক নতুন লেখক টাকা-পয়সাসহও পাণ্ডুলিপি জমা দেন। কিন্তু প্রকাশকরা তাদের হাতে থাকা বইগুলোই ঠিকমতো মেলায় আনতে পারেন না, যারা চাপাচাপি করে শেষ মুহূর্তে পাণ্ডুলিপি জমা দেন তাদের বই কখন আসবে? ফলে মেলা ভেঙে যাওয়ার পরও ওসব বই কিছু প্রেসে পড়ে থাকে, কিছু বাঁধাইখানায়, কিছু লেমিনেশনের ঘরে। এমন কেইস দুয়েকটা নয়, অনেক।
অপরদিকে প্রকাশকরাও মেলাকেন্দ্রিক বই করে অভ্যস্ত। সারাবছর তারা কোথায় থাকেন, কি করেন; কিছুই জানা যায় না। না তারা লেখকদের কাছে পৌঁছতে পারেন, না লেখকরা তাদের কাছে।
এমন বাজে অভিজ্ঞতা থেকেই গত মেলার পর ঘোষনা দিয়েছিলাম, সারাবছর বই বের করব। অন্তত প্রতিমাসে একটা-দুটো। এখনো পর্যন্ত করোনার কারণে, আবার নতুন প্রকাশনী হওয়ায় তেমন সুবিধা করা যায়নি। এখন পরিস্থিতি অনেকটা শিথিল হচ্ছে। লেখক, প্রকাশক কারোরই বসে থাকা আর সমীচিন হবে না।
লেখক ও প্রকাশকদের প্রতি আমাদের বিনীত আহবান, আপনারা সারা বছর বই প্রকাশ করুন। সারা বছর বই বিক্রি করুন। অন্তত বইমেলার আগেই ছাপাছাপির কাজ কমপ্লিট করে পুরো মাসব্যাপী বই বেচুন। বইয়ের আনন্দ উপভোগ করুন। পাঠক, লেখক, প্রকাশকদের হৃদ্যতা বাড়ানোর চেষ্টা করুন।
শাশ্বত প্রকাশ বরাবরই নতুন কিছুর উদ্যোগ নিয়ে হাজির হয়ে থাকে। এবারও আমরা তরুণ লেখকদের উদ্দীপনাকে উসকে দিতে আয়োজন করেছি ‘২০২১ একুশে বইমেলা উপলক্ষে পাণ্ডুলিপি প্রতিযোগিতা’।
ছড়া, কবিতা, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, নিবন্ধ, অনুবাদ, ভ্রমণসহ যে কোনও সৃষ্টিশীল পাণ্ডুলি জমা দিয়ে আমাদের এ আয়োজনে অংশগ্রহণের জন্য তরুণ লেখকদের প্রতি আহবান জানাচ্ছি।
অংশ গ্রহণের নিয়ম
পাণ্ডুলিপি মৌলিক হোক, অনুবাদ হোক সৃজনশীলতার ছাপ থাকতে হবে।
পাণ্ডুলিপি যেকোনও ক্যাটাগরিতে পাঠানো যাবে।
নন-ফিকশনধর্মী পাণ্ডুলিপি নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্রের সাহায্যে রচিত হতে হবে।
অপ্রকাশিত নতুন ও পুরাতন পাণ্ডুলিপি পাঠানো যাবে।
লিখিত পাণ্ডুলিপির সফটকপি পাঠাতে হবে।
ইউনিকোড কিংবা বিজয়, পাণ্ডুলিপি যেকোনও ফরম্যাটে হতে পারবে।
অন্যান্য নির্দেশিকা
একজন একাধিক বিষয়ে পাণ্ডুলিপি পাঠাতে পারবে।
পাণ্ডুলিপির শব্দসংখ্যা ন্যূনতম ২০,০০০ ও অনূর্ধ্ব ৩০,০০০ হতে হবে।
পাণ্ডুলিপি যথাসম্ভব শুদ্ধ বানানে হতে হবে।
জমা হওয়া পাণ্ডুলিপি থেকে বিচারক প্যানেল কবিতা, কথাসাহিত্য ও প্রবন্ধ; এ তিন বিভাগ থেকে তিনটি পাণ্ডুলিপি নির্বাচন করবেন।
পাণ্ডুলিপি নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিচারক প্যানেল-এর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।
নির্বাচিত পাণ্ডুলিপি ‘শাশ্বত প্রকাশ’ সংরক্ষণ ও প্রকাশ করবে।
লেখক কোনওভাবে এই পাণ্ডুলিপি প্রকাশ করতে পারবেন না।
সুযোগ সুবিধাসমূহ
বিজয়ী লেখকের পাণ্ডুলিপি বই আকারে প্রকাশ করা হবে।
বিজয়ী প্রতিযোগিকে তাঁর রচিত পাণ্ডুলিপির এক কপি বই সৌজন্য কপি দেয়া হবে।
২০০ কপি বই বিক্রি সাপেক্ষে ৫,০০০ টাকা রয়্যালিটি প্রদান করা হবে।
বইয়ের মোড়ক উন্মোচনের সময় লেখককে ক্রেস্ট, সম্মাননাপত্র প্রদান করা হবে।
প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী অন্তত ত্রিশজন উত্তীর্ণ লেখককে সম্মাননা ও ক্রেস্ট প্রদান করা হবে।
অংশগ্রহণকারীদের বাছাই করা লেখায় প্রকাশ করা হবে সংকলনগ্রন্থ।
বাছাইয়ের পর মানসম্মত পাণ্ডুলিপিগুলো প্রকাশে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।
সকল অংশগ্রহণকারীর পাণ্ডুলিপি অভিজ্ঞ সম্পাদকদের মাধ্যমে সম্পাদনা করানো ও প্রকাশ উপযোগী করার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করা হবে।
অংশগ্রহণকারীরা শাশ্বত পরিবারের সম্মানিত সদস্য হিসেবে আমাদের সকল কার্যক্রমে শরিক হওয়ার সুবিধা পাবেন।
আমাদের প্রকাশিত যে কোনো বই ক্রয়ের ক্ষেত্রে অন্তত ৫% অতিরিক্ত ছাড় পাবেন।
আবেদনের যোগ্যতা
যে কোনও নবীন লেখক পাণ্ডুলিপি পাঠাতে পারবেন।
পূর্বে যাদের দুইটার বেশি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে- এমন কারও অংশগ্রহণের প্রয়োজন নেই।
বাংলাদেশ, কোলকাতা ও আসামের নাগরিকদের জন্য প্রযোজ্য।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্যও উন্মুক্ত।
পাণ্ডুলিপি পাঠানোর নিয়ম
প্রতিটি পাণ্ডুলিপির সাথে যোগাযোগের ঠিকানা (নাম, ফোন নম্বর, ইমেইল এড্রেস, ফেসবুক আইডি) দিতে হবে।
পাণ্ডুলিপি পাঠানোর শেষ তারিখ ৩১ সেপ্টেম্বর ২০২০।
পাণ্ডুলিপি পাঠানোর মেইল ঠিকানাঃ [email protected]
নবীন-তরুণ লেখক ও প্রকাশকদের প্রতি
আরেকটি বিশেষ আহবান :
আমরা বই প্রকাশের পাশাপাশি নবীন-তরুণ লেখক ও প্রকাশকদের সার্বিক সহযোগিতা দিয়ে থাকি। যে কোনও পাণ্ডুলিপি সম্পাদনা, প্রুফ রিডিং, প্রচ্ছদ, সেটাপ-মেকাপসহ সব ধরনের প্রস্তুতিমূলক কাজে সাপোর্ট দিয়ে থাকি। যে কোনো প্রয়োজনে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।
অফিস
শাশ্বত, তাঁতবাজার, ভুলতা, গাউছিয়া, রূপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ
মোবাইল : 01732760694