01/11/2026
অন্তরালে তুমি 🍂 পর্ব+১❤️🩹
বসন্ত মানেই রঙের উৎসব বসন্তের রঙে নিজেকে রাঙিয়ে তোলা কিংবা প্রকৃতি অপরূপ সাজে নিজেকে সাজিয়ে তোলা। আর যদি সেই বসন্ত কাটানো যায় কোন প্রিয় মানুষের সাথে; তাহলে তা হয়ে ওঠে আরো রঙিন।
কৃষ্ণচুড়া হোক বা কাঠগোলাপ আমার কাছে বসন্ত মানেই প্রেমের আলাপ।
মাইকে কেউ একজন কথাগুলো বলছে। আমান তুই কি এই প্রেমের আলাপ শুনানোর জন্য ভার্সিটি তে নিয়ে এসেছিস বললো শাফিন আমান বললো নারে দোস্ত আমি তো তোদের আমিষ বানানোর জন্য নিয়ে এসেছি আর কতো সিঙ্গেল থাকব। তা যা বলেছিস ভাই এই বেটা শাফিন এর জন্য আমারও সিঙ্গেল নিজেও প্রেম করবে না আর আমাদেরও করতে দিবেনা শালা হিটলার বললো সাঈদ। (আমান, শাফিন সাঈদ তিন বন্ধু বাকিটা না হয় গল্প থেকেই যেনে নেবেন) আমান তাহলে আমাদের মিশন শুরু। শাফিন বললো কিসের মিশন সেটা তো বল।
আমান বললো, মিশন মিসেস শাফিন খোঁজার আজকে এখান থেকেই শুরু।
সাঈদ বললো ভাই তুই বলতো তোর কেমন মেয়ে পছন্দ খুঁজতে একটু সুবিধা হতো। বলে লাভ নেই সেরকম
মেয়ে পাবি না বললো শাফিন। তুই বলেতো দেখ বললো সাঈদ। আমন বললো আজকে তোকে বলতেই হবে শাফিন বললো ওকে ফাইন তবে আজকেই ফাস্ট এন্ড লাস্ট। সাঈদ আর আমান দুজনেই বলে উঠলো জো হুকুম মহারাজ....
শাফিন বলা শুরু করলো....
যার চোখের বিশালতা সমুদ্রে বিশালতাকেও হার মানাবে। যে বিশালতায় ডুবেগেলে আর কিনারা খুঁজে পাওয়া
যাবে না।
অনেক ফর্সা না হলেও মায়াবতী হবে। যার মায়ায় জড়ানো তো যায় তবে সেই মায়া কাটানো যায় না।
যার চুল হবে মেঘের মতো। যা যখন তখন আমার হৃদয়ে ঝড় তুলবে।
সে কথা বললে পৃথিবী থমকে যাবে।
মানে সে যখন কথা বলবে তখন শুধু তার কথাই শুনতে ইচ্ছে করবে। আমান সাঈদ একসাথে জোরে বললো থাম ভাই আর বলতে হবে না। তুই ও সিঙ্গেল থাক আমরাও সিঙ্গেল থাকি।
শাফিন মিটিমিটি হাসছে আর মনে মনে ভাবছে
ভালোই ফাঁসাইছি এবার খুঁজতে থাক সারা জীবন........
মিহি কি হলো তাড়াতাড়ি কর একটু পরেই আমাদের পার্ফামেন্স আর তোর এখনো চুল ঠিক করা হলো না।
বললো নাদু, সুমু বললো কি যে বলিস সিন্ড্রেলার
চুল বুঝি এতো তাড়াতাড়ি বাধা যায়। উঁফ একটু থামবি তোরা কি শুরু করেছিস। বললো মিহি, এই নাবিল এই গাজরাটা একটু খোঁপায় লাগিয়ে দে তো। (মারশিয়া জাহান মিহি, নাদিয়া, সুমাইয়া, নাবিল বেস্ট ফ্রেন্ড)
মিহি বললো তাড়াতাড়ি চল দেরী হয়ে যাচ্ছে
তা এতোখন পর মনে হলো দেরী হচ্ছে। বললো নাদু,
মিহি বললো নাচের এস্টেপ মনে আছে তো। আমাদের টাই যেন বেস্ট হয়। মাথায় থাকে যেনো।
বেস্ট তো হতেই হবে তুই যে পরি সেজেছিস তাতে নাচ যেমন হোক তোকে দেখেই মাঠে কড়ো তালির বন্যা বয়ে যাবে। বললো নাবিল, তাহলে এক কাজ করি স্টেজে যে না নেচে দাড়িয়ে থাকি সবার আমাকে দেখতে সুবিধা হবে, মন খারাপ করে বললো মিহি। হঠাৎ সামনে যা দেখলো তার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিল না।
সামনে তাকাতেই মিহি দেখতে পায় একটি ছেলে একটি মেয়েকে কিস করছে। চারিদিকে মানুষ গিজগিজ করছে। এদের কি লজ্জা সরম কিছু নাই নাকি; এটা আপনাদের বেডরুম নয় ভার্সিটির মাঠ আশেপাশে প্রচুর মানুষ বললো মিহি, কিন্তু তাদের উভয়ের মধ্যেই কোন ভাবান্তর নেই। কথা যেন তারা শুনতেই পায়নি। নাবিল: মিহি চল এদেরকে বলেও লাভ নেই। এর মধ্যেই মাইকে এনাউন্স হলো। এই বসন্ত উৎসবকে আরো রঙিন করতে আসছে মিহি ও তার দল। নিজেদের নাম শুনতে পেয়ে দ্রুত চলে গেলে। স্টেজে উঠে নিজেদের পজিশন মত দাঁড়িয়ে, নাবিল কে ইশারা করতেই গান বাজতে শুরু করলো..মনে রঙ লেগেছে বসন্ত এসেছে খুশিতে মেতেছে জীবন। আয়রে আয় সবাই মিলে ভিজবো আজ লালে নীলে, বাজারে বাজা মাদল আজ খুশিরী তালে তালে দিম তানা দিম তানা তনা না না আজ নাচেরে নাচে মন শুনে না মানা।
রঙ দিলেরে মনে রঙ দিলেরে নান নারে উঠে নারে করি কি উপায়;
দূর পাহাড়ে ওই দূর পাহাড়ে..
সাত সুরে বাঁশি বাজায় কে যে ডেকে যায় দোলেরে জীবন দোলে আর বলে দিম তানা...
দিম তান দিম তানা, তান না না আজ নাচেরে নাচে মন শুনেনা মানা
সাঈদ: কিরে শাফিন
এমন করে কি দেখছিস?
শাফিন: মাঝখানের মেয়েটা দেখতে দারুন
আমান: লম্বা লম্বা চুল, কাজল কালো চোখ, দুধে আলতা গায়ের রঙ একদম পরীর মত দেখতে
শাফিন: সবই মেকাপের কামাল
আমান: তুই জানিস না এই মেয়ে কলেজের প্রত্যেকটা ছেলের ক্রাশ।
শাফিন : তাই নাকি
আমান: হুম, কিন্তু কাউকেই পাত্তা দেয় না
সবার হাত তালিতে ভার্সিটি মুখরিত। মিহি বিজয়ের হাসি হাসলো।
নাবিল : দোস্ত তোরা তো পুরাই স্টেজে আগুন লাগাইয়া দিছোস। অস্থির নাচ ছিলো। আমার বউ যদি এমন নাচতে না পারে তাহলে বিয়েই করবো না।
মিহি: সিঙ্গেল থাকবি তার চেয়ে নাদুকেই বিয়ে করে নে।
নাবিল: এই পেত্নী কে বিয়ে করব আমি তার চেয়ে সারা জীবন সিঙ্গেল থাকাও ভালো।
নাদু: তোকে বিয়ে করতে আমার বয়েই গেছে।
সুমু: তোরা থামতো। কিরে আজকে আমান স্যারকে তো একবারও দেখলাম না। নাদু: সে যে কেন এলো না কিছু ভালো লাগে না এবার আসুক তারে আমি মজা দেখাবো।
নাবিল: আর মজা দেখাতে হবে না। তোরা যখন নাচতে ছিলি পুরোটা সময় স্যার তোদের দিকে তাকিয়ে ছিলো।
শুধু তাই নয় তার সাথে আরো দুজন হেন্ডসাম ছেলেও ছিলো।
একটা ছেলে তো এতো হেন্ডসাম যে মেয়ে হলে আমিই তার গলায় ঝুলে পরতাম।
সুমু: তাই নাকি চল দেখে আসি। ওনার ভাই হবে হয়তো তাড়াতাড়ি চল।
নাবিল : ভাই মনে হয় না বন্ধু ও হতে পারে।
মিহি এতো ভিড়ে আর সামনে যাওয়া যাবে না।
নাদিয়া:তার যেয়ে চল চলে যাই আর থাকতে হবে না বাসায় যে ঘুম দেই একটা।
মিহি আর নাবিল ও সম্মতি জানলো।
সুমু: না কেউ কোথাও যাবি না আজকে না স্যার এর গান গাওয়ার কথা। গান না শুনে কোথাও যাওয়া হবে না।
অনুষ্ঠান শেষের দিকে তাও আমানের গান শুনতে না পেয়ে মন খারাপ করে সুমু বললো চল চলে যাই স্যার বোধহয় গাইবেনা। ওরা সবাই বেড়িয়ে পড়ল গেটের কাছে আসতেই চারজন থেমে গেলো.. কারো গানের কন্ঠ যেন ওদের থামিয়ে দিয়েছে।