কলঙ্ক

কলঙ্ক Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from কলঙ্ক, Comedy Club, Narayanganj, Bondurant, IA.

05/11/2025

---

নদীর পাড়ের সেই দিনগুলো – পর্ব ৬ (শেষ অনুভব)

— আমি, জিহাদ

SSC র পর জিসান আস্তে আস্তে দূরে সরে গেল। সে কিছু বলল না, আমরাও কিছু বুঝে উঠতে পারলাম না। হঠাৎ করেই শুনলাম, সে বিদেশ চলে গেছে।
আজও মাঝে মাঝে মনে হয় — ওর সঙ্গে হয়তো কখনো কিছু ভুল করে ফেলেছিলাম, যেটার জন্য সে কষ্ট পেয়েছিল।
জিসান, যদি তুই কোনোভাবে এই লেখাটা পড়িস — ভাই, আমি সত্যি দুঃখিত।
তোর কাছ থেকে সরাসরি বিদায় নিতে পারি নাই, কিন্তু মন থেকে তোকে কখনো ভুলতে পারি নাই। তোকে আমরা খুব মিস করি।

এরই মাঝে মিমের বিয়ে হয়ে গেল।
আমি, আসিফ — আমরা ওর বিয়েতে গিয়েছিলাম।
মিম ছিল আমাদের প্রিয় বন্ধু, আর বিয়ের দিন সে ছিল স্বপ্নের মতো সুন্দর। লাল বউসাজে যখন তাকাল, মনে হচ্ছিল — যেন দুনিয়ার সব রঙ তার গায়ে নেমে এসেছে।
তার বিয়ে হয় ফয়সাল নামে এক ভদ্র ছেলের সাথে।
আমরা একটু আনন্দ করেছিলাম, কিন্তু আগের সেই নির্ভেজাল হাসি আর আনন্দ ছিল না। মিমের নতুন বন্ধুবান্ধবদের মাঝে আমরা যেন একটু অচেনা হয়ে গেছিলাম।

এরপর বেশি দিন যায় না — সোহোনার বিয়ে হয়ে যায় এক প্রবাসী ছেলের সঙ্গে।
আমি, আসিফ আর সিফাত — আমরা তিনজন বিয়েতে গিয়েছিলাম।
সোহোনাকে বউ সেজে দেখে মনটা কেমন যেন হয়ে গেছিল।
ওর চোখে-মুখে ছিল একরাশ শান্তি, একধরনের লজ্জা, আর অদ্ভুত এক সৌন্দর্য। মনে হচ্ছিল, এমন মায়াবী মেয়ে দুনিয়ায় আর নেই।

খাওয়া-দাওয়ার পর সবাই ব্যস্ত ছিল, তাই আসিফ আর সিফাত আগে বিদায় নিয়ে চলে গেল।
আমি দাঁড়িয়ে ছিলাম একা।
সোহোনার মা এসে বললেন, “বোনকে বিদায় দিয়ে যা বাবা।”
আমি গিয়ে দাঁড়ালাম।
সোহোনা আমার হাত ধরে একটুও কাঁদল না — কিন্তু আমি বুঝতে পারলাম, ওর চোখ ভিজে আছে।
আমরা কেউ কিছু বলি নাই, কিন্তু দুজনেই জানতাম — এটা শেষ দেখা।

তারপর...

আসিফ এখন বিদেশ যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
আমি নিজে Animal Health and Production নিয়ে একটা ডিপ্লোমা কোর্স করছি।
ইচ্ছা — যদি সম্ভব হয়, একদিন একটা গরুর ফার্ম করব।
আর না পারলে... হয়তো আমিও একদিন বিদেশ চলে যাব।

এখন আমাদের মাঝে আর আগের মতো যোগাযোগ নেই।
কেউ কারো খোঁজ নেয় না।
কারো সংসার, কারো কাজ, কেউ ব্যস্ত জীবনের দৌড়ে।
কিন্তু একটা সম্পর্ক আজও আছে — আমার, আসিফ আর সিফাতের।
পুরোনো দিনের মতো না হলেও, মাঝে মাঝে রাতের বেলা ওদের কথা মনে পড়ে।
ইচ্ছা হয়, আবার স্কুলে ফিরে যাই, আবার নদীর পাড়ে বসি, আবার হাসি — আগের মতো, একসাথে।

আমার হৃদয়ের ভিতর সেই দিনগুলো এখনো বেঁচে আছে।
ছবি না থাকলেও, স্মৃতিগুলো গেঁথে আছে মনের গভীরে।

কেউ যদি জিজ্ঞেস করে,
"তোর জীবনের সবচেয়ে দামী সময় কোনটা?"
আমি বলব,
"নদীর পাড়ে কাটানো সেই দিনগুলো — যেখানে ছিল বন্ধুত্ব, ভালোবাসা, আবেগ আর না বলা হাজারো কথা।"

05/10/2025

নদীর পাড়ের সেই দিনগুলো – পর্ব ৪
— জিহাদের গল্প

SSC পরীক্ষার ঠিক আগেই এক অপ্রত্যাশিত ঘটনা আমাদের মনটা ভারী করে দেয় — মোহনার বিয়ে ঠিক হয়ে যায়। ওর পরিবার একজন প্রবাসী ছেলের সঙ্গে বিয়ে ঠিক করে ফেলে। মোহনা বলেছিল, সে SSC এর পর আর পড়াশোনা করবে না। শুনে আমাদের কারও মুখে কোনো কথা ছিল না। বিশেষ করে সিফাত — কিছুই বলেনি, কিন্তু তার চোখের ভাষা পড়া যাচ্ছিল সহজেই।

ও বলেও যায়নি আমাদের অনেক কিছু, হয়তো বলার সময় পায়নি, কিংবা সাহস করেনি। আমরা শুধু জানতাম, আমাদের সাতজনের গল্পটা এখন থেকে ছয়জনের হতে চলেছে।

এরপর এল আমাদের বিদায় অনুষ্ঠান — স্কুলজীবনের শেষ অধ্যায়। সবাই সুন্দর করে পোশাক পরে এল, কিন্তু মনটা ছিল ভারী। হাসির আড়ালেও চোখে ভাসছিল কান্না। বিদায় মানে শেষ নয় — সবাই বলছিল, কিন্তু ভিতরে ভিতরে জানতাম, আজকের মতো দিন আর আসবে না।

SSC পরীক্ষা শুরু হলো। পরীক্ষা কেন্দ্র ছিল কাঁচপুর ওমর আলী হাই স্কুল। আমি, আসিফ আর জিসান একসাথে একটা CNG করে যেতাম। ওরা আর আমি — টেনশনের মাঝেও হাসাহাসি করতাম। অন্যদিকে, মিম, মোহনা আর সোহোনা যেত আরেকটা CNG-তে। প্রতিদিন পরীক্ষা শেষে ওদের আমরাই গাড়িতে তুলে দিতাম — যেন শেষটুকুও একসাথে থাকা যায়।

আর এভাবেই কবে যে শেষ হয়ে গেল SSC পরীক্ষা, বুঝতেই পারিনি। পরীক্ষার শেষে আমরা ছয়জন মিলে একটা ছোট্ট প্ল্যান করি — যাই বাংলার তাজমহল দেখতে।

সেইদিন এক কথায় ছিল জাদুর মতো। আমি — জিহাদ, আর আমার চার বন্ধু — আসিফ, সিফাত, মিম, মোহনা, আর সোহোনা — ছয়জন মিলে যেন নতুন করে বাঁচলাম। ঘুরে বেড়ানো, হাসাহাসি, খাওয়া-দাওয়া — মনে হচ্ছিল, সময় থেমে থাকুক।

কিন্তু তখন মোবাইল ছিল না আমাদের কারও কাছে। ছবি তুলতে পারিনি, কোন স্মৃতিও ফ্রেমে ধরা পড়েনি। তবে মনের মাঝে সেই মুহূর্তগুলো এমনভাবে গেঁথে গেছে, যেন চোখ বন্ধ করলেই দেখতে পাই — মোহনার চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকা, সোহোনার দুষ্টুমি, আর আমাদের ছেলেদের টিপ্পনী...

ছবি ছিল না, কিন্তু স্মৃতি ছিল। আর স্মৃতি তো কখনও মোছা যায় না, তাই না?

---

নদীর পাড়ের সেই দিনগুলো – পর্ব ৫
— জিহাদের গল্প

SSC পরীক্ষার কিছুদিন পর রেজাল্ট প্রকাশিত হলো। সবার চোখেমুখে তখন একরাশ আশা, কিন্তু ভাগ্য সবার জন্য এক ছিল না।

আমি, আসিফ, মোহনা আর মিম — আমরা চারজন পাস করলাম। কিন্তু…
সিফাত, সোহোনা আর জিসান ফেল করল। সেই খবরটা শুনে বুকটা হঠাৎ করে ভেঙে গেল। যে সাতজন একসাথে স্বপ্ন দেখত, তাদের তিনজন হঠাৎ পিছিয়ে পড়ল — এটা মানা খুব কষ্টকর ছিল।

সবচেয়ে কষ্ট লেগেছিল সোহোনার জন্য। আমি নিজে গিয়েছিলাম ওর বাসায়। চুপ করে বসে ছিল ও — একেবারে নিঃশব্দে। আমি বুঝিয়েছিলাম, ব্যর্থতা মানে শেষ নয়, আবার শুরু করা যায়। সেইদিন ও কিছু বলেনি, কিন্তু চোখে অদ্ভুত এক ভরসা ছিল।

আস্তে আস্তে সবাই স্বাভাবিক হতে লাগল। সিফাতও ধীরে ধীরে নিজের কষ্টটা সামলে নিল, আবার নতুন করে পড়াশোনায় মন দিল। জিসানও আগের মতো একটু একটু করে হাসতে শিখল।

এর মধ্যেই এল এক বড় ঘটনা — মোহনার বিয়ে। অল্প কিছুদিন আগেই SSC শেষ, আর তার মধ্যেই বিয়ে। আমাদের কাছে যেন সময়টা ছুটে পালাচ্ছিল।

আমি তখন অসুস্থ ছিলাম, শরীর ভালো ছিল না একদম। তবুও বন্ধুদের সঙ্গে — আমি, সিফাত, মিম, জিসান আর আসিফ — সবাই মিলে মোহনাদের বাসায় গিয়েছিলাম বিয়েতে।

যেই দেখলাম — লাল শাড়ি পরা এক মেয়ে বসে আছে — চোখ কটকে উঠল! প্রথমে চিনতেই পারিনি। এই সেই মোহনা! যেন সরাসরি কোনো তামিল সিনেমার নায়িকা এসে বসে আছে!
একটু অবাক হয়ে তাকিয়ে ছিলাম, আর মনের মধ্যে অদ্ভুত এক শূন্যতা।
এখন তো ও আমাদের আর “মোহনা” নেই, কারো ঘরের বউ হয়ে গেছে।

তারপর আমরা সবাই মিলে একটু মজা করে, হেসে, খেয়ে নিলাম। চেষ্টা করলাম আগের মতো করে আনন্দ করতে — কিন্তু মনটা তো আর আগের মতো ছিল না।

আর একটা কথা এখন বলাই দরকার — মোহনা আর সোহোনা ছিল কাচ্চা (ছোটবেলার) বোন। দুই বোন, একে অপরের ছায়া। ওদের দুজনকে একসাথে দেখলে বোঝাই যেত না — কে বড়, কে ছোট — ওদের বন্ধন ছিল দারুণ।

মোহনার বিয়ে মানে শুধু একটা মেয়ের নতুন জীবনে পা রাখা ছিল না, আমাদের ছোট্ট বন্ধুর দলটার জন্য ছিল এক বিশাল মোড় — কিছু হারানোর, কিছু না বলা ভালোবাসা হারিয়ে যাওয়ার।

--........

05/10/2025

নদীর পাড়ের সেই দিনগুলো – পর্ব ৩
— জিহাদের গল্প

দেখতে দেখতে সময় গড়িয়ে গেল। হাসি, আড্ডা, বন্ধুত্ব, ভালো লাগা — সবকিছুর মাঝে হঠাৎ করেই সামনে এসে দাঁড়াল আমাদের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় — SSC পরীক্ষা।

যেন হঠাৎ করেই বড় হয়ে গেলাম আমরা। ক্লাসরুমের দুষ্টুমি, টিফিনের সময় নদীর পাড়ে দৌড়ানো, বন্ধুরা মিলে সোহোনা-আসিফকে জুটিতে সাজানো — সব কিছুতেই একটা চাপা ভাব এসে গেল। সবাই একটু গম্ভীর, একটু বেশি চুপচাপ।

প্রতিদিনের আড্ডা কমে গেল। এখন আমরা সবাই বইয়ের পেছনে — কেউ প্রাইভেট, কেউ কোচিং, কেউ ঘরবন্দী টেনশনে। তবুও যখন-তখন সুযোগ পেলেই আমরা সাতজন মিলে একসাথে বসতাম, একসাথে স্বপ্ন দেখতাম — “পরীক্ষা শেষ হলে একসাথে ঘুরতে যাব”, “সবার আগে রেজাল্টে কে নাম তুলবে” — এসব কথা বলে আগাম আনন্দে ভরে উঠতাম।

আমাদের মধ্যে সম্পর্কগুলোও একটু একটু করে বদলাতে লাগল। সিফাত কিছু বলতো না, কিন্তু আমি বুঝতাম — সে মোহনাকে আর একটু বেশি মিস করছে এখন। মোহনাও আর আগের মতো ছিল না — তার চোখে মুখে ছিল এক অজানা চিন্তা। হয়তো ওর মনেও ছিল অজস্র না বলা কথা।

আর আমি? আমি তখনও তিসার ব্যাপারে কিছু বলতে পারতাম না। সে এখনও মাঝে মাঝে বিরক্ত করত, কিন্তু আমি চুপ ছিলাম — স্বভাবজাত লাজুকতাই যেন সব বাধা হয়ে দাঁড়াত।

সবচেয়ে মজার ব্যাপার ছিল — সোহোনার সঙ্গে আমার বন্ধুত্ব তখন আরও গভীর হয়ে উঠছিল। আমরা প্রায় প্রতিদিন ফোনে কথা বলতাম, পড়াশোনা নিয়ে টেনশন শেয়ার করতাম। আমাদের বোঝাপড়াটা ছিল একদম স্বচ্ছ — না প্রেম, না দূরত্ব — ঠিক মাঝখানে এক অদ্ভুত বন্ধন।

জিসানও বদলে গিয়েছিল — কবিতার প্রেমে সে একটু অন্যরকম হয়ে উঠেছিল। এখন আর আগের মতো মজার কাণ্ড করত না। মাঝে মাঝে দেখি, একা নদীর পাড়ে বসে থাকে — কিছু ভাবনার জগতে ডুবে আছে।

তবে সবার মধ্যেই একটা কথা স্পষ্ট ছিল — পরীক্ষা শেষ মানেই একটা অধ্যায়ের শেষ। সেই ভাবনাটাই কষ্ট দিত।

আরও কিছুদিন পর আমাদের সামনে হাজির হবে একটা নতুন জীবন, নতুন পথ। কিন্তু তার আগে ছিল একটা বিশাল পরীক্ষা — SSC 😔

05/10/2025

নদীর পাড়ের সেই দিনগুলো
— জিহাদের গল্প

আমার নাম জিহাদ। স্কুলজীবনে আমার চারজন কাছের বন্ধু ছিল — সিফাত, আসিফ, জিসান আর আমি। আমরা সবাই একসাথে ক্লাস ১০-এ পড়তাম। সেদিনগুলো যেন স্বপ্নের মতো ছিল — হেসে খেলে, দৌড়ে বেড়ানো এক অনবদ্য সময়, যা এখন শুধুই স্মৃতি।

আমরা পড়তাম শেখ জামাল হাই স্কুলে। স্কুলটা ছিল একদম নদীর ধারে। সকালে ঠান্ডা বাতাস আর বিকেলে নদীর জলের ঝিলমিল আলোয় ভরে উঠত আমাদের প্রিয় ক্যাম্পাসটা। ক্লাসরুমের জানালা দিয়ে তাকালেই দেখা যেত নদীর ঢেউ — এক অদ্ভুত শান্তি লাগত মন জুড়ে।

প্রথম দিকে আমরা শুধু নিজেরাই থাকতাম — চারজন ছেলের ছোট্ট এক দুনিয়া। আমাদের ক্লাসে তিনজন মেয়ে ছিল — সোহোনা, মোহোনা আর মিম। ওরা ছিল নিজেদের জগতে, আর আমরা আমাদেরটাতে। না আমরা ওদের পাত্তা দিতাম, না ওরা আমাদের।

কিন্তু সময় কখনও থেমে থাকে না। ধীরে ধীরে কথা বলা শুরু হলো, হেসে ওঠা, ছোট ছোট আড্ডা — সম্পর্কগুলো গড়ে উঠতে লাগল আপনাতেই। একসময় সাতজন মিলে একটা ছোট্ট গ্রুপ গড়ে উঠল — বন্ধুত্বের, হাসির, ভালো লাগার।

আমরা নিয়মিত একসাথে সময় কাটাতে লাগলাম। স্কুল শেষে প্রায়ই আমরা সবাই নদীর পাড়ে চলে যেতাম। কেউ গান গাইত, কেউ ছবি তুলত, কেউ শুধু চুপচাপ বসে থাকত জলের দিকে তাকিয়ে। নদীর বাতাসে ভেসে বেড়াত আমাদের গল্প, আমাদের স্বপ্ন।

আরো কাছে চলে আসি আমরা যখন সানজিদা ম্যাডামের কাছে প্রাইভেট পড়তে যেতাম। আমি, মোহোনা, সিফাত, মিম আর সোহোনা — প্রায় প্রতিদিন দেখা হতো। পড়াশোনার বাইরেও ওখানে তৈরি হয়েছিল নতুন এক সম্পর্ক, নতুন এক অনুভূতির। কখন যে কার চোখে কে থেকে গেল, কেউ বুঝতেই পারিনি।

আমাদের সেই সাতজনের দলটা ছিল একেবারে অন্যরকম — মিশে ছিল বন্ধুত্ব, ভালো লাগা, হালকা অভিমান আর একরাশ স্মৃতি।

নদীর পাড়ের সেই দিনগুলো – পর্ব ২
— জিহাদের গল্প

জীবনে সব গল্পে একটা না একটা অদ্ভুত চরিত্র থাকেই — আমার গল্পেও ছিল। তার নাম ছিল তিসা। সে আমাকে পছন্দ করত। আমি বুঝতাম, সবাই বুঝত, কিন্তু আমি কিছু বলতাম না। আমি ছিলাম একটু লাজুক ধরনের ছেলে, আর ওর সেই অতিরিক্ত আগ্রহ আমার ভাল লাগত না।

তিসা মন্দ ছিল না, মনের দিক থেকে সোজাসাপটা। কিন্তু ওর মাথায় একটু কম বুদ্ধি ছিল, সবসময় অদ্ভুত আচরণ করত। আমাকে নানা সময়ে বিরক্ত করত, আর আমি কিছু বলতাম না, শুধু চুপচাপ সহ্য করতাম।

আমার বন্ধু সিফাতও ছিল লাজুক, কিন্তু তার ভেতরে ছিল একরকম 'cool' attitude। আর সে মন থেকে মোহনাকে পছন্দ করত। মুখে কিছু বলত না, কিন্তু চোখে মুখে সবই স্পষ্ট ছিল। মোহনাও ওকে মনের ভিতর পছন্দ করত, কিন্তু তারাও কখনো একে অপরকে কিছু প্রকাশ করেনি। দুজনেই নিজেদের মধ্যে আটকে ছিল।

আমরা বন্ধুরা একটু দুষ্টু ছিলাম — সবকিছুকে নিয়ে হাসি ঠাট্টা করতাম। সবসময় আসিফ আর সোহোনাকে প্রেম করে বলে মজা করতাম। “আসিফ তো সোহোনার জন্যে পাগল!” — এমন কথা বলে হাসতাম। আবার সোহোনাকে গিয়ে বলতাম, “আসিফ তোর নাম নিয়ে সারাদিন কথা বলে।” ওরা দু’জনেই রেগে যেত, কিন্তু ভেতরে ভেতরে জানত, আমরা মজা করছি। এইসব খুনসুটিতে ভরে উঠেছিল আমাদের দিনগুলো।

আর ছিল জিসান — দলে সবচেয়ে ‘attitude boy’। চুপচাপ থাকলেও তার মধ্যে একরকম আলাদা গরিমা ছিল। হঠাৎ একদিন সে প্রেমে পড়ে গেল — এক মেয়ের, নাম কবিতা। ওদের কাহিনিটাও ছিল অনেক ঘোরাঘুরির, টুকটাক ভুল বোঝাবুঝির, কিন্তু সেই গল্প অন্য একদিন বলব।

এইসবের মাঝে হঠাৎ করে গড়ে উঠল আমার আর সোহোনার এক বিশেষ বন্ধুত্ব। আমরা ‘best friend’ হয়ে যাই। ওর সাথে আমার আলাদা একটা বোঝাপড়া ছিল, যেটা অন্যদের সাথে ছিল না। আর কেউ বুঝত না, কিন্তু আমরা বুঝতাম — একে অপরের প্রয়োজনীয়তা।

তবে, সব কিছুর মাঝে অন্ধকার ছায়াও ছিল। মোহনাকে রাজু নামের এক বখাটে ছেলে বিরক্ত করত। আমরা সবাই মিলে ওকে রক্ষা করতাম। সে মুহূর্তগুলো আমাদের আরও কাছাকাছি এনেছিল।

স্মৃতির খাতায় তখন প্রতিদিন কিছু না কিছু যোগ হত — হাসি, কান্না, প্রেম, দুষ্টুমি, অভিমান... সব মিলে গড়ে উঠেছিল একটা গল্প, যেটা পুরোটা বলা যায় না, শুধু মনে রাখা যায়।

---

Address

Narayanganj
Bondurant, IA

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when কলঙ্ক posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category