14/08/2026
ফারাজ স্কিন কেয়ারের প্রসাধনী নিয়ে অভিযোগ, ক্ষতির দাবি ভুক্তভোগীর
ঢাকা প্রতিনিধি:
রাজধানী ঢাকায় অনলাইন ফেসবুক পেজ ও আউটলেটের মাধ্যমে প্রসাধনী ও স্কিন কেয়ার পণ্য বিক্রির প্রতিষ্ঠান FARAZ SKIN CARE-কে ঘিরে নানা অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির মালিক হিসেবে নুপুর ফারাজী ও তার স্বামী সজীব ফারাজীর নাম উল্লেখ করে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগকারীদের দাবি, প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন ক্রিম, লোশন, সাবান ও অন্যান্য স্কিন কেয়ার পণ্য ব্যবহারের পর কারও কারও ত্বকে জ্বালাপোড়া, লাল হয়ে যাওয়া, ত্বক উঠে যাওয়া ও অন্যান্য সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। একজন ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, প্রতিষ্ঠানের পরামর্শ অনুযায়ী কয়েকটি পণ্য ব্যবহারের পর প্রথমে ত্বক কিছুটা ফর্সা হলেও পরবর্তীতে ত্বকে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
ওই ভুক্তভোগীর ভাষ্য, একটি ‘সিক্রেট ক্রিম’ ব্যবহারের পর তার ত্বক ছিলে গিয়ে লাল হয়ে যায় এবং প্রচণ্ড জ্বালাপোড়া শুরু হয়। বিষয়টি প্রতিষ্ঠানকে জানালে ওই ক্রিম ব্যবহার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে অন্যান্য পণ্য ব্যবহার অব্যাহত রাখার পর ত্বকের অবস্থার আরও অবনতি হয়েছে বলে তার দাবি। ব্যবহার বন্ধ করার পরও সমস্যা বেড়ে যাওয়ায় বর্তমানে তিনি উদ্বিগ্ন বলে জানান।
অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির কিছু প্রসাধনী পণ্যের অনুমোদন ও মান নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (BSTI)-এর অনুমোদন বা সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র রয়েছে কি না, তা নিয়ে অভিযোগকারীদের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নথি যাচাই ছাড়া নিশ্চিত কোনো মন্তব্য করা যাচ্ছে না।
এছাড়া অভিযোগ উঠেছে, সজীব ফারাজীর এক বোন মালয়েশিয়া থেকে বিভিন্ন কসমেটিকসের কাঁচামাল বাংলাদেশে পাঠান এবং সেগুলো দিয়ে পণ্য প্রস্তুত করা হয়। তবে এই দাবিরও স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন।
অভিযোগকারীদের আরও দাবি, নুপুর ফারাজী নিজেকে ‘বিউটি এক্সপার্ট’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন স্কিন কেয়ার পণ্য ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তার আগে ঢাকার একটি পার্লারে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে বলেও বিভিন্ন মাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। এসব তথ্যেরও স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন।
এদিকে বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে FARAZ SKIN CARE-কে নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য ও অভিযোগমূলক পোস্ট দেখা গেছে বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টের সত্যতা যাচাই না করে সেগুলোকে প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে বক্তব্য জানতে নুপুর ফারাজীর ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে এবং ফেসবুক মেসেঞ্জারে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে পরবর্তীতে কোনো বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনুমোদনহীন বা নিম্নমানের প্রসাধনী ব্যবহার করলে ত্বকে অ্যালার্জি, জ্বালাপোড়া, প্রদাহসহ বিভিন্ন ধরনের ক্ষতি হতে পারে। তাই কোনো প্রসাধনী ব্যবহারের আগে পণ্যের উপাদান, উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, অনুমোদন, মেয়াদ ও প্রয়োজনীয় মাননিয়ন্ত্রণের তথ্য যাচাই করা এবং প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
তদন্ত দাবি
ভুক্তভোগী ও অভিযোগকারীদের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে FARAZ SKIN CARE-এর পণ্যগুলোর অনুমোদন, উৎপাদন প্রক্রিয়া, কাঁচামালের উৎস এবং মান পরীক্ষা করা হোক। একই সঙ্গে অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
প্রতিবেদকের নোট: প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলো অভিযোগকারী ও ভুক্তভোগীদের বক্তব্যের ভিত্তিতে লেখা। অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নথি, পরীক্ষাগার রিপোর্ট এবং প্রতিষ্ঠানটির বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন।