20/08/2026
সূরা কাহাফের একটা ইন্টারেষ্টিং জিনিস খেয়াল করেছেন?
এর প্রতিটা গল্পেই একটা কমন প্যাটার্ন আছে!
গল্পের শুরুতে ভাবে ঘটনা এক বাট পরবর্তীতে দেখা যায় ঘটনা আসলে আরেক
কাহাফের যুবকদের কথাই ধরুন না কেন
ঘুম থেকে উঠে তারা মনে করে যে তারা হয়তো একদিন কিংবা দিনের কিছু অংশ ঘুমিয়েছিলো
পরে টের পায় যে না তারা আসলে ঘুমিয়েছিলো ৩০০ বছরেরও বেশি!
কিংবা দুই বাগানের মালিকের ক্ষেত্রে?
একজন ভাবে তার বিশাল বাগান জীবনেও ধ্বংস হবে না
অথচ পরের দৃশ্যেই এসে দেখে সব কিছু উলোটপালট!
মুসা আ. এবং খিজির আ.-এর ঘটনা তো আরো ইন্টারেস্টিং
তিনি ভাবতে থাকেন খিজির আ কি করে একটার পর একটা ভুল ডিসিশন নিচ্ছেন
পরে রিয়েলাইজ করেন, না তার প্রতিটা অ্যাকশনের পিছনেই একটা লজিক ছিল!
আর ফাইনালি যুলকারনাইনের ঘটনা
তারা ভাবে উনাকে টাকা পয়সা দিলেই কেবল তিনি কাজ করবেন, টাকা পয়সা সাধেও তারা
পরে দেখতে পায় যে না তাঁর মোটিভেশন র ইনটেনশন আসলে ভিন্ন!
এখন প্রশ্ন হচ্ছে
কাহাফের যুবকদের ঘুমের এক্সপেরিয়েন্স কি মিথ্যা ছিল?
একদমই না!
তারা আসলেই ফিল করেছিল যে তারা একদিন কিংবা কিছু অংশ ঘুমিয়েছিলো
তাদের এক্সপেরিয়েন্স তাদের জন্য রিয়ালই ছিল জাস্ট তাদের কনক্লুশনটা ভুল ছিল।
বাগানের মালিকের ক্ষেত্রেও একই ব্যাপার
সে যা দেখেছিলো সেটা তো সত্যই ছিল
চারদিকে ফল, মাঝখান দিয়ে পানি বয়ে যাচ্ছে, সবকিছু ফুলে ফেঁপে উঠছে
তার এপিয়ারেন্স সত্যই ছিল জাস্ট তার রিয়ালিটি ভুল ছিল!
মুসা আ এর ক্ষেত্রেও কিন্তু তাই
-নৌকাটা সত্যিই ফুটো করা হয়েছিল
-ছেলেটিকে সত্যিই হত্যা করা হয়েছিল
-দেয়ালটাও সত্যিই বিনা পারিশ্রমিকে ঠিক করে দেয়া হয়েছিল
পার্থক্য জাস্ট ছিল যে উনার কাছে ফুল পিকচারটা ছিল না তাই উনার জাজসমেন্ট ভুল ছিল
আর যুলকারনাইনের ক্ষেত্রেও তো সেইম
তারা তাঁকে তার ইনটেনশন জাজ করছিলো কারণ বেশির ভাগ মানুষ তো ওই টাকার জন্যই কাজ করে!
সো কাহাফের এই চার গল্পে আমরা বুঝি
-ফিলিংস মানেই ফ্যাক্ট না
-যা দেখছি সেটাই রিয়ালিটি না
-কনটেক্সট না জেনে কাউকে জাজ করা যাবে না
-আর কাউকে দেখে তার ইনটেনশন এজিউম করা যাবে না
এখন খেয়াল করে দেখুন
প্রতিদিনই কিন্তু আমরা এই কাজ গুলোই করছি, হরহামেশা!
বিশেষ করে এই সোশ্যাল মিডিয়াতে!
-মেসেজ সিন হওয়ার পরেও রিপ্লাই না এলে ভাবছি, সে আমাকে “ইগনোর করছে!”
-ফেসবুকে বাড়ি, গাড়ি, ভ্যাকেশন আর হাসিখুশি ফ্যামিলি দেখে ভাবছি “আহা! জীবনটা কতই না সুখের তাদের!”
-২০ সেকেন্ডের একটা ভিডিও দেখে কে ভালো, কে খারাপ, কে ভিক্টিম, কে ভিলেন—সব বের করে ফেলছি
-মতের অমিল থাকলে ঝগড়া করছি
-কোনো পোস্ট আসলে পুরোটা না জেনে শেয়ার করছি
-আর কেউ ভালো কিছু করলেই জাজ করছি যে লোকটার ইনটেনশন কি আসলেই জেনুইন নাকি লোক দেখানো?
এই জায়গাতেই কাহাফ আমাদেরকে ট্রেনিং দেয় যে
যা দেখছো, সেটাকেই পুরো সত্য ধরে নিও না
কারণ দাজ্জাল তো এসে এটাই করবে!
সে দেখাবে একটা কিন্তু রিয়ালিটি হবে আরেকটা
তার সব কিছুই হবে আপেক্ষিক
আর আমরা হারাতে বসবো আমাদের মোরাল কম্পাস
হারাতে বসবো আমাদের রেফারেন্স পয়েন্ট!
এই ক্রান্তিকালে তাই কাহাফই হবে আমাদের গো টু প্লেস
কারণ সে আমাদেরকে রিমাইন্ডার দেয় যে
না! হারানোর কিছু নেই, তোমাদের রেফারেন্স পয়েন্ট ঠিকই আছে
সেটা হচ্ছে "এই কিতাব"!
তাইতো এই সূরার প্রথম আয়াতটাই শুরু হয়েছে এই রিমাইন্ডার দিয়ে
"সকল প্রশংসা ঐ আল্লাহর জন্য যিনি তাঁর বান্দাদের প্রতি এই কিতাব নাজিল করেছেন যাতে রাখেননি কোন "ইওয়াজা"
"ইওয়াজা" হচ্ছে এমন জিনিস যা সময়ের সাথে বেঁকে যায়
এই জন্যই এই কিতাব আমাদের জন্য এবসোলিউট রেফারেন্স পয়েন্ট
কারণ তার শিখানো আদর্শ যে সময়ের সাথে বেঁকে যায় না!
পুরো কিতাব জুড়ে অজস্র রেফারেন্স পয়েন্ট আছে
আজ কেবল প্রাসঙ্গিক কয়েকটা শেয়ার করা!
যেমন বলা আছে:
[১] অন্যকে নিয়ে ঠাট্টা বা তুচ্ছতাচ্ছিল্য করবে না — সূরা হুজুরাত ৪৯:১১
[২] এমনকি তাকে অপমানজনক নামে ট্যাগও মারবে না — সূরা হুজুরাত ৪৯:১১
[৩] কোনো খবর এলে, আগে সেটা যাচাই করবে, যাতে কারো ক্ষতি না হয়ে যায় — সূরা হুজুরাত ৪৯:৬
[৪] (তার থেকেও বড় কথা) অন্যের ব্যাপারে অ্যাসাম্পশন থেকে বিরত থাকবে — সূরা হুজুরাত ৪৯:১২
[৫] এবং অন্যের দোষও খোঁজাখুঁজি করতে যাবে না — সূরা হুজুরাত ৪৯:১২
[৬] এমনকি কারো অনুপস্থিতিতে তাকে নিয়ে কমেন্ট বা নিন্দা পর্যন্ত করবে না — সূরা হুজুরাত ৪৯:১২
শুধু কি তাই? তিনি আরো আছে,
যে বিষয়ে তোমরা জানো না:
[৭] সেটা মুখে মুখে ছড়াবে না — সূরা আন-নূর ২৪:১৫
[৮] সেটার পেছনে দৌড়াবে না — সূরা আল-ইসরা ১৭:৩৬
[৯] সেটা নিয়ে তর্কও করবে না — সূরা আলে ইমরান ৩:৬৬
ফাইনালি আছে :
[১০] কোনো খবর পেলেই সেটা ছড়িয়ে দিবে না, বরং দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কাছে আগে এস্কেলেট করবে — সূরা আন-নিসা ৪:৮৩
[১১] এবং ভিত্তিহীন কোনো অপবাদের বা একিউসিশনের খবর আসলে সেটা শেয়ার তো করবেই না বরং সেটাকে স্ট্রংলি অপোজ করবে — সূরা আন-নূর ২৪:১৬!
পয়েন্ট গুলো স্কিপ না করে আবার একটু খেয়াল করুন
প্রতিটা পয়েন্টেই একটা জিনিস কমন — আমরা!!!!
তিনি আমাদেরকে সম্মানিত করে পাঠিয়েছেন!
এবং এই সম্মান, মর্যাদা আর ইন্টিগ্রিটিকে প্রটেক্ট করার জন্যই এই আদেশগুলো জারি করেছেন!
সো নেক্সট টাইম কোনো ভিডিও কিংবা নিউজ দেখে রিয়েক্ট বা শেয়ার করার আগে নিজেকে একবার হলেও প্রশ্ন করেন
আমি কি আসলেই পুরো ঘটনাটা জানি নাকি না জেনেই কনক্লুশনে জাম্প করছি?
তার থেকেও বড় প্রশ্ন
তিনি নিজে যেখানে অন্যের ইজ্জত বাঁচাতে সচেষ্ট সেখানে আমি কি করে অন্যের সম্মানহানি করছি?
রোজ হাশরের ময়দানে সেদিন যখন তিনি বজ্র কণ্ঠে আমাকে প্রশ্ন করবেন
তুমি কীসের ভিত্তিতে তাকে জাজ করছিলে?
তুমি কীসের ভিত্তিতে এই ভুল তথ্য ছড়িয়েছিলে?
পারব তো সেদিন ঠিকঠাকভাবে জবাব দিতে?