Kothamala Parveen

Kothamala Parveen Hi I am Kothamala New Zealand. Here you will find all my recitations, music, motivational speech, vlog, and everything.

You can watch them on my YouTube channel also. The link is given here https://www.youtube.com/channel/
Thank you for watching them.

সূরা কাহাফের একটা ইন্টারেষ্টিং জিনিস খেয়াল করেছেন?এর প্রতিটা গল্পেই একটা কমন প্যাটার্ন আছে! গল্পের শুরুতে ভাবে ঘটনা এক ব...
20/08/2026

সূরা কাহাফের একটা ইন্টারেষ্টিং জিনিস খেয়াল করেছেন?

এর প্রতিটা গল্পেই একটা কমন প্যাটার্ন আছে!

গল্পের শুরুতে ভাবে ঘটনা এক বাট পরবর্তীতে দেখা যায় ঘটনা আসলে আরেক

কাহাফের যুবকদের কথাই ধরুন না কেন

ঘুম থেকে উঠে তারা মনে করে যে তারা হয়তো একদিন কিংবা দিনের কিছু অংশ ঘুমিয়েছিলো

পরে টের পায় যে না তারা আসলে ঘুমিয়েছিলো ৩০০ বছরেরও বেশি!

কিংবা দুই বাগানের মালিকের ক্ষেত্রে?

একজন ভাবে তার বিশাল বাগান জীবনেও ধ্বংস হবে না

অথচ পরের দৃশ্যেই এসে দেখে সব কিছু উলোটপালট!

মুসা আ. এবং খিজির আ.-এর ঘটনা তো আরো ইন্টারেস্টিং

তিনি ভাবতে থাকেন খিজির আ কি করে একটার পর একটা ভুল ডিসিশন নিচ্ছেন

পরে রিয়েলাইজ করেন, না তার প্রতিটা অ্যাকশনের পিছনেই একটা লজিক ছিল!

আর ফাইনালি যুলকারনাইনের ঘটনা

তারা ভাবে উনাকে টাকা পয়সা দিলেই কেবল তিনি কাজ করবেন, টাকা পয়সা সাধেও তারা

পরে দেখতে পায় যে না তাঁর মোটিভেশন র ইনটেনশন আসলে ভিন্ন!

এখন প্রশ্ন হচ্ছে

কাহাফের যুবকদের ঘুমের এক্সপেরিয়েন্স কি মিথ্যা ছিল?

একদমই না!

তারা আসলেই ফিল করেছিল যে তারা একদিন কিংবা কিছু অংশ ঘুমিয়েছিলো

তাদের এক্সপেরিয়েন্স তাদের জন্য রিয়ালই ছিল জাস্ট তাদের কনক্লুশনটা ভুল ছিল।

বাগানের মালিকের ক্ষেত্রেও একই ব্যাপার

সে যা দেখেছিলো সেটা তো সত্যই ছিল

চারদিকে ফল, মাঝখান দিয়ে পানি বয়ে যাচ্ছে, সবকিছু ফুলে ফেঁপে উঠছে

তার এপিয়ারেন্স সত্যই ছিল জাস্ট তার রিয়ালিটি ভুল ছিল!

মুসা আ এর ক্ষেত্রেও কিন্তু তাই

-নৌকাটা সত্যিই ফুটো করা হয়েছিল

-ছেলেটিকে সত্যিই হত্যা করা হয়েছিল

-দেয়ালটাও সত্যিই বিনা পারিশ্রমিকে ঠিক করে দেয়া হয়েছিল

পার্থক্য জাস্ট ছিল যে উনার কাছে ফুল পিকচারটা ছিল না তাই উনার জাজসমেন্ট ভুল ছিল

আর যুলকারনাইনের ক্ষেত্রেও তো সেইম

তারা তাঁকে তার ইনটেনশন জাজ করছিলো কারণ বেশির ভাগ মানুষ তো ওই টাকার জন্যই কাজ করে!

সো কাহাফের এই চার গল্পে আমরা বুঝি

-ফিলিংস মানেই ফ্যাক্ট না

-যা দেখছি সেটাই রিয়ালিটি না

-কনটেক্সট না জেনে কাউকে জাজ করা যাবে না

-আর কাউকে দেখে তার ইনটেনশন এজিউম করা যাবে না

এখন খেয়াল করে দেখুন

প্রতিদিনই কিন্তু আমরা এই কাজ গুলোই করছি, হরহামেশা!

বিশেষ করে এই সোশ্যাল মিডিয়াতে!

-মেসেজ সিন হওয়ার পরেও রিপ্লাই না এলে ভাবছি, সে আমাকে “ইগনোর করছে!”

-ফেসবুকে বাড়ি, গাড়ি, ভ্যাকেশন আর হাসিখুশি ফ্যামিলি দেখে ভাবছি “আহা! জীবনটা কতই না সুখের তাদের!”

-২০ সেকেন্ডের একটা ভিডিও দেখে কে ভালো, কে খারাপ, কে ভিক্টিম, কে ভিলেন—সব বের করে ফেলছি

-মতের অমিল থাকলে ঝগড়া করছি

-কোনো পোস্ট আসলে পুরোটা না জেনে শেয়ার করছি

-আর কেউ ভালো কিছু করলেই জাজ করছি যে লোকটার ইনটেনশন কি আসলেই জেনুইন নাকি লোক দেখানো?

এই জায়গাতেই কাহাফ আমাদেরকে ট্রেনিং দেয় যে

যা দেখছো, সেটাকেই পুরো সত্য ধরে নিও না

কারণ দাজ্জাল তো এসে এটাই করবে!

সে দেখাবে একটা কিন্তু রিয়ালিটি হবে আরেকটা

তার সব কিছুই হবে আপেক্ষিক

আর আমরা হারাতে বসবো আমাদের মোরাল কম্পাস

হারাতে বসবো আমাদের রেফারেন্স পয়েন্ট!

এই ক্রান্তিকালে তাই কাহাফই হবে আমাদের গো টু প্লেস

কারণ সে আমাদেরকে রিমাইন্ডার দেয় যে

না! হারানোর কিছু নেই, তোমাদের রেফারেন্স পয়েন্ট ঠিকই আছে

সেটা হচ্ছে "এই কিতাব"!

তাইতো এই সূরার প্রথম আয়াতটাই শুরু হয়েছে এই রিমাইন্ডার দিয়ে

"সকল প্রশংসা ঐ আল্লাহর জন্য যিনি তাঁর বান্দাদের প্রতি এই কিতাব নাজিল করেছেন যাতে রাখেননি কোন "ইওয়াজা"

"ইওয়াজা" হচ্ছে এমন জিনিস যা সময়ের সাথে বেঁকে যায়

এই জন্যই এই কিতাব আমাদের জন্য এবসোলিউট রেফারেন্স পয়েন্ট

কারণ তার শিখানো আদর্শ যে সময়ের সাথে বেঁকে যায় না!

পুরো কিতাব জুড়ে অজস্র রেফারেন্স পয়েন্ট আছে

আজ কেবল প্রাসঙ্গিক কয়েকটা শেয়ার করা!

যেমন বলা আছে:

[১] অন্যকে নিয়ে ঠাট্টা বা তুচ্ছতাচ্ছিল্য করবে না — সূরা হুজুরাত ৪৯:১১

[২] এমনকি তাকে অপমানজনক নামে ট্যাগও মারবে না — সূরা হুজুরাত ৪৯:১১

[৩] কোনো খবর এলে, আগে সেটা যাচাই করবে, যাতে কারো ক্ষতি না হয়ে যায় — সূরা হুজুরাত ৪৯:৬

[৪] (তার থেকেও বড় কথা) অন্যের ব্যাপারে অ্যাসাম্পশন থেকে বিরত থাকবে — সূরা হুজুরাত ৪৯:১২

[৫] এবং অন্যের দোষও খোঁজাখুঁজি করতে যাবে না — সূরা হুজুরাত ৪৯:১২

[৬] এমনকি কারো অনুপস্থিতিতে তাকে নিয়ে কমেন্ট বা নিন্দা পর্যন্ত করবে না — সূরা হুজুরাত ৪৯:১২

শুধু কি তাই? তিনি আরো আছে,

যে বিষয়ে তোমরা জানো না:

[৭] সেটা মুখে মুখে ছড়াবে না — সূরা আন-নূর ২৪:১৫

[৮] সেটার পেছনে দৌড়াবে না — সূরা আল-ইসরা ১৭:৩৬

[৯] সেটা নিয়ে তর্কও করবে না — সূরা আলে ইমরান ৩:৬৬

ফাইনালি আছে :

[১০] কোনো খবর পেলেই সেটা ছড়িয়ে দিবে না, বরং দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কাছে আগে এস্কেলেট করবে — সূরা আন-নিসা ৪:৮৩

[১১] এবং ভিত্তিহীন কোনো অপবাদের বা একিউসিশনের খবর আসলে সেটা শেয়ার তো করবেই না বরং সেটাকে স্ট্রংলি অপোজ করবে — সূরা আন-নূর ২৪:১৬!

পয়েন্ট গুলো স্কিপ না করে আবার একটু খেয়াল করুন

প্রতিটা পয়েন্টেই একটা জিনিস কমন — আমরা!!!!

তিনি আমাদেরকে সম্মানিত করে পাঠিয়েছেন!

এবং এই সম্মান, মর্যাদা আর ইন্টিগ্রিটিকে প্রটেক্ট করার জন্যই এই আদেশগুলো জারি করেছেন!

সো নেক্সট টাইম কোনো ভিডিও কিংবা নিউজ দেখে রিয়েক্ট বা শেয়ার করার আগে নিজেকে একবার হলেও প্রশ্ন করেন

আমি কি আসলেই পুরো ঘটনাটা জানি নাকি না জেনেই কনক্লুশনে জাম্প করছি?

তার থেকেও বড় প্রশ্ন

তিনি নিজে যেখানে অন্যের ইজ্জত বাঁচাতে সচেষ্ট সেখানে আমি কি করে অন্যের সম্মানহানি করছি?

রোজ হাশরের ময়দানে সেদিন যখন তিনি বজ্র কণ্ঠে আমাকে প্রশ্ন করবেন

তুমি কীসের ভিত্তিতে তাকে জাজ করছিলে?

তুমি কীসের ভিত্তিতে এই ভুল তথ্য ছড়িয়েছিলে?

পারব তো সেদিন ঠিকঠাকভাবে জবাব দিতে?

প্রতি মাসে কিভাবে অনেক বই পড়া এবং রিডিং স্পিড বাড়ানো যায় আজকে সে বিষয়ে আলোচনা করবো।আমার মাসে কম করে হলেও ৬-৭ বই পড়া হয় ব...
18/08/2026

প্রতি মাসে কিভাবে অনেক বই পড়া এবং রিডিং স্পিড বাড়ানো যায় আজকে সে বিষয়ে আলোচনা করবো।

আমার মাসে কম করে হলেও ৬-৭ বই পড়া হয় বা কোনো সময় যখন অনেক বেশি ফ্রি টাইম পাই তখন ১৬-১৭টা বই পর্যন্ত পড়ে ফেলি খুব স্বাভাবিকভাবেই। আজকে আমার অভিজ্ঞতার পাশাপাশি একাডেমিক প্রেসার, কাজের প্রেসার সামলিয়ে কিভাবে বেশি বই পড়া যায় সে বিষয়েই কথা বলা যাক চলুন। পয়েন্ট করে বলি তাহলে আপনাদের পোস্টটা পড়তে সুবিধা হবে।

১/প্রথমত যেটা করতে হবে সেটা হলো নিজের কাছে সবসময় একটা না একটা বই রাখা। চেষ্টা করবেন আপনার ব্যাগে, বিছানার পাশে অথবা পড়ার টেবিলে যেন কোনো না কোনো একটা বই থাকে। আর যখনই সময় পাবেন তখনই হাত বাড়িয়ে বইটা নিয়ে কয়েক পাতা পড়ে ফেলা। আমিও সবসময় এই কাজটা করি। আমার কাছে কোনো না কোনো সময় যেকোনো সিচুয়েশনে বই থাকেই। এতে যখন ব্রেক পাই তখনই কয়েক পাতা পড়ে ফেলি। আমি বই পড়ার জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময় রাখি না। সাধারণত, ক্লাসের আগে, ক্লাসের পরে অথবা যখন বাসায় থাকি বা কোথাও জার্নি করি তখন এরই ফাঁকে বই পড়ি। এতে দেখা যায় নির্দিষ্ট সময় ফিক্সড করে পড়ার চাইতে দ্রুত পড়া এবং অনেক সময় পাওয়া যায়। অবশ্যই সব একাডেমিক পড়া অথবা প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করে তারপর বই হাতে নিতে হবে।

এরপরও অনেক সময় দেখা যায় একাডেমিক চরম প্রেসারে সেভাবে বই পড়া যায় না। তখন আমি নির্দিষ্ট একটা টার্গেট ফিক্স করে ফেলি। যেমন, দিনে কমপক্ষে ৩০-৪৫ মিনিট সময় হলেও আমি বইয়ের পেছনে ব্যয় করব। এতে করে আমার রিডিং ব্লক তেমন আসে না এবং মাসে একই অনুপাতে বই পড়াও হয়ে যায়। কারণ ব্যস্ততার অজুহাতে একেবারে বই পড়া বন্ধ করে দিলে আবার নতুন করে পড়ার অভ্যাসটা তৈরি করতে বেশ কষ্ট হয়। তাই সময় কম থাকলেও নিয়মিত পড়ার অভ্যাসটা ধরে রাখাটাই আমার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এখন কিভাবে এই সময়টা নির্ধারণ করি সেটা বলি।

ধরুন, আপনি যদি মাসে ৬–৭টা বই পড়তে চান, তাহলে প্রশ্ন হলো প্রতিদিন আপনাকে কতক্ষণ বই পড়তে হবে?

সাধারণভাবে একটি বই যদি গড়ে ২০০ পৃষ্ঠার হয়, তাহলে ৬–৭টা বই পড়তে আপনাকে মাসে প্রায় ১২০০–১৪০০ পৃষ্ঠা পড়তে হবে।

যদি আপনি ২০ মিনিটে গড়ে ২০ পৃষ্ঠা পড়তে পারেন। তাহলে প্রতিদিন প্রায় ৪০–৪৫ মিনিট বই পড়লেই মাসে ৬–৭টা বই পড়ে ফেলতে পারবেন।

আর আপনার reading speed যদি একটু ভালো হয়, ধরুন ২০ মিনিটে ৩০ পৃষ্ঠা পড়তে পারেন, তাহলে প্রতিদিন মাত্র ৩০ মিনিটের মতো পড়লেই মাসে ৬–৭টা বই পড়া সম্ভব।

তাই প্রতিদিন অনেক সময় বের করার দরকার নেই। মাত্র ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট নিয়মিত বই পড়লেই মাসে ৬–৭টা বই পড়া সম্ভব। মূল বিষয় হলো—আপনি কতক্ষণ পড়ছেন তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, আপনি নিয়মিত পড়ছেন কি না। ভালো পাঠক হতে গেলে অবশ্যই নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

২/ Chunk Reading-এর অভ্যাস করুন। প্রতিটি শব্দ আলাদা আলাদা করে না পড়ে কয়েকটি শব্দ একসঙ্গে ধরার চেষ্টা করুন।

ধরুন, আপনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ছুটি’ গল্পের এই লাইনটি পড়ছেন:

“ফটিক চক্কোত্তির মাথায় একটা দুরন্ত বুদ্ধি খেলে গেল।”

শব্দ ধরে ধরে না পড়ে চোখে একসঙ্গে ধরার চেষ্টা করুন:

ফটিক চক্কোত্তির মাথায় / একটা দুরন্ত বুদ্ধি / খেলে গেল।

অর্থাৎ, প্রতিটি শব্দ আলাদা করে পড়ার পরিবর্তে কয়েকটি শব্দকে একসঙ্গে একটি meaningful chunk হিসেবে পড়বেন। এতে চোখের movement কমবে এবং ধীরে ধীরে আপনার reading speed বাড়বে।

৩/Backtracking কমান। যেমন, একটা লাইন পড়েই আবার আগের লাইনে ফিরে যাওয়া—এটা reading speed কমিয়ে দেয়।

সবকিছু ১০০% বুঝতে হবে এমন চিন্তা না করে আগে সামনে এগিয়ে যান। অনেক সময় পরের অংশ থেকেই আগের বিষয় পরিষ্কার হয়ে যায়। মূল বিষয় হলো, অনেক গল্প-উপন্যাস এমনভাবে ঘুরিয়ে লেখা হয় যেটা আপনি আগে hints পেলেও predict করতে পারবেন না। এজন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ কোনো চ্যাপ্টার না হলে backtracking করার কোনো দরকার নেই।

৪/বই শুরু করার আগে একটু Preview করুন।
যেটা আমি সবসময় করি। যেমন, বই শুরু করার আগে ৫ মিনিট সময় নিয়ে সূচিপত্র, অধ্যায়ের নামগুলো, ভূমিকা পড়ুন। বইটা কী নিয়ে সেটা বোঝার চেষ্টা করুন। তাহলে পড়ার সময় আপনার ব্রেইন আগে থেকেই একটা ফ্রেমওয়ার্ক পেয়ে যাবে।

৫/ ভালো না লাগলে বই Drop করুন। অনেক সময় অনেক বই পড়তে গেলে আমাদের আর সেটা ভালো লাগে না। খুব দুর্বোধ্য মনে হয়। এতে এত জটিলতায় পড়ার দরকার নেই। এতে রিডিং ব্লক আসতে পারে।

সুতরাং, বইটা পরবর্তী সময়ের জন্য রেখে আরেকটা বই হাতে নিয়ে পড়া শুরু করুন।

৬/বই পড়ার সময় Phone দূরে রাখুন। আপনি যদি ৩০ মিনিট পড়ার সময়ের মধ্যে প্রতি পাঁচ মিনিট পরপর ফোন দেখেন, তাহলে সেই ৩০ মিনিট আসলে ৩০ মিনিটের reading হবে না। তাই Reading Session-এর সময় ফোনটা silent করে একটু দূরে রাখুন। আমার বই পড়ার সবচেয়ে বড় শত্রু এই মোবাইল ফোন। অনেক distraction create করে। সুতরাং এটা avoid করাই better।

সময় হলে ফোনে অযাচিত reels না দেখে বিভিন্ন মাধ্যমে বই সম্পর্কে জানুন। এর জন্য আমার মতো যারা book review করে তাদের follow করুন, Insta, YouTube-এ প্রচুর বই নিয়ে কাজ হয়, সেগুলো দেখুন, জানুন। Goodreads-এ review পড়ুন। এতে আপনার ভেতরে একটা ভালো লাগা তৈরি হবে এবং অনেক পড়তে ইচ্ছে করবে।

৬/বই শেষ করার পর ২ মিনিটে Review করুন মনে মনে। বই শেষ করেই পরের বইয়ে চলে যাবেন না।

নিজেকে তিনটা প্রশ্ন করুন: এই বই থেকে কী শিখলাম? সবচেয়ে ভালো কোন বিষয়টা লেগেছে? কোন বিষয়টা মনে রাখতে চাই?

মাত্র ২–৩ মিনিটের এই review বইয়ের বিষয়গুলো মনে রাখতে অনেক সাহায্য করবে এবং আপনাকে বইটা ভালোভাবে বুঝতে সাহায্য করবে।

যদি সেরকম সময় থাকে তাহলে মাঝেমধ্যে নিজের Reading speed পরীক্ষা করুন। ধরুন, ২০ মিনিটে আগে ২০ পৃষ্ঠা পড়তেন। কয়েক সপ্তাহ practice করার পর যদি ২৫ পৃষ্ঠা পড়তে পারেন, তাহলে বুঝবেন আপনার speed improve করছে।

সবশেষে বলি, বই পড়ার গতি বাড়ানোর সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হলো দৈনিক পড়ার অভ্যাস করা। আপনি যত পড়বেন, ততই আপনার বই পড়ার speed বাড়বে। তাই যেকোনো সিচুয়েশনে বই পড়া থামাবেন না।

আমরা কেন প্রতিটি রাকাতে সূরা আল-ফাতিহা বারবার পড়ি?সূরা আল-ফাতিহা কেবল কিছু শব্দ নয় যা আমরা মুখস্থ বলে যাই। এটি প্রতিটি র...
15/08/2026

আমরা কেন প্রতিটি রাকাতে সূরা আল-ফাতিহা বারবার পড়ি?

সূরা আল-ফাতিহা কেবল কিছু শব্দ নয় যা আমরা মুখস্থ বলে যাই। এটি প্রতিটি রাকাতে আপনার এবং আল্লাহর মধ্যকার একটি সরাসরি কথোপকথন।

রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেছেন যে, আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন: "আমি নামাজকে (সূরা আল-ফাতিহাকে) আমার এবং আমার বান্দার মধ্যে দুই ভাগে ভাগ করেছি। আর আমার বান্দা যা চাইবে, তা-ই সে পাবে।"

যখন বান্দা বলে:
"আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামীন" (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি মহাবিশ্বের প্রতিপালক)
আল্লাহ তখন বলেন: "আমার বান্দা আমার প্রশংসা করল।"

যখন বান্দা বলে:
"আর-রাহমানির রাহীম" (যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু)
আল্লাহ তখন বলেন: "আমার বান্দা আমার গুণগান গাইল।"

যখন বান্দা বলে:
"মালিকি ইয়াওমিদ্দীন" (যিনি বিচার দিবসের মালিক)
আল্লাহ তখন বলেন: "আমার বান্দা আমার মর্যাদা ঘোষণা করল।" (অন্য বর্ণনায় এসেছে: "আমার বান্দা তার যাবতীয় বিষয় আমার ওপর সঁপে দিল।")

যখন বান্দা বলে:
"ইয়্যাকা না'বুদু ওয়া ইয়্যাকা নাস্তায়ীন" (আমরা একমাত্র আপনারই ইবাদত করি এবং একমাত্র আপনারই কাছে সাহায্য চাই)
আল্লাহ তখন বলেন: "এটি আমার এবং আমার বান্দার মধ্যকার বিষয়; আর আমার বান্দা যা চেয়েছে, তা-ই তাকে দেওয়া হবে।"

যখন বান্দা বলে:
"ইহদিনাস সিরাতাল মুস্তাকীম, সিরাতাল্লাযীনা আন'আমতা আলাইহিম, গাইরিল মাগদূবি আলাইহিম ওয়ালাদ্দাল্লীন" (আমাদের সরল সঠিক পথ দেখান; তাদের পথ, যাদের আপনি নেয়ামত দিয়েছেন, তাদের পথ নয়, যারা ক্রোধে পতিত হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে...)
আল্লাহ তখন বলেন: "এটি আমার বান্দার জন্য; আর আমার বান্দা যা চাইল, তা তাকে দেওয়া হবে।"

ঠিক এই কারণেই প্রতিটি রাকাতে সূরা আল-ফাতিহা পুনরাবৃত্তি করা হয়। কারণ প্রতিবার যখন আপনি এটি পাঠ করেন, আপনি সরাসরি আল্লাহর সাথে কথা বলেন এবং আল্লাহ নিজে আপনার কথার উত্তর দেন।

(উৎস: সহীহ মুসলিম, হাদিস: ৩৯৫, হাদীসে কুদসী)

সূরা ফালাক, নাস:  চমৎকার একটি সামঞ্জস্যতা-সূরা ফালাক ও নাস জীবনে বহুবার পড়া হলেও এই বিষয়টা আগে এইভাবে খেয়াল করিনি। সম্প্...
15/08/2026

সূরা ফালাক, নাস: চমৎকার একটি সামঞ্জস্যতা-

সূরা ফালাক ও নাস জীবনে বহুবার পড়া হলেও এই বিষয়টা আগে এইভাবে খেয়াল করিনি। সম্প্রতি বিষয়টা জানলাম এবং বেশ চমৎকৃত হলাম।

মূল প্রসঙ্গে যাবার আগে এই দুই সূরার উপর সামান্য আলোকপাত করে নেই। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একবার জাদুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন। এক ইহুদি তাঁর উপর জাদু করেছিল। এর প্রভাবে তিনি ভীষণ অসুস্থ হয় পড়েন। পরে আল্লাহ এই দুই সূরা অবতীর্ণ করেন এবং তাকে জাদুর ব্যাপারে জানিয়ে দেন। তিনি এই দুই সূরার মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন এবং সুস্থ হয়ে উঠেন। তো এই দুই সূরার মূল প্রতিপাদ্য হলো অন্যদের অনিষ্ট থেকে নিজেকে সুরক্ষা করা।

এই অনিষ্টগুলো দুই রকমের। একটা হলো বহিরাগত অনিষ্ট। যেমন, চোর-ডাকাতের কবলে পড়া। সাপ-বিচ্ছুর কামড় খাওয়া। অন্য কেউ জাদু-টোনা করা। কারো হিংসা-বিদ্বেষের শিকার হওয়া ইত্যাদি। অন্যটা হলো ভেতরগত। যেমন, নফস ও শয়তানের মনের ভেতর জাগিয়ে দেওয়া নানান রকম কুমন্ত্রণা।

বহিরাগত ও ভেতরগত এই দুই অনিষ্টের মধ্যে ক্ষতির দিক থেকে মারাত্মক হলো দ্বিতীয়টা। কারণ নানান রকম নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করার দ্বারা বহিরাগত অনিষ্ট সহজেই ঠেকানো যায়। কিন্তু যে অনিষ্ট সবসময়ই সাথে সাথে থাকে তার থেকে বাঁচা বড় দায়। কারণ মানুষ যেখানেই যায়, তার সাথে সেও যায়। মানুষের রক্ত-মাংসের সাথে শয়তান মিশে থাকে। হাদীসে এসেছে, শয়তান মানুষের রক্তের শিরা-উপশিরায় চলাচল করতে পারে। আর নফস তো মনের ভেতর সর্বদা শক্ত আসন গেড়ে বসে থাকে। ফলে এদের প্রতিহত করাটা বেশি কঠিন।

সূরা ফালাক ও নাস উভয় সূরার মধ্যে আল্লাহর কাছে বিভিন্ন অনিষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করা হয়েছে। খেয়াল করলে দেখবেন, সূরা ফালাকে উল্লেখিত অনিষ্টগুলো সব বহিরাগত। এর মধ্যে আছে-
ক. শাররি গাসিকিন বা রাতের অনিষ্ট।
খ. শাররিন নাফফাসাতি ফিল উকাদ বা গ্রন্থিতে ফুঁ-দানকারিণীর অনিষ্ট।
গ. শাররি হাসিদিন বা হিংসুকের অনিষ্ট।

এগুলো সব বহিরাগত হবার কারণে তুলনামূলকভাবে দুর্বল। তাই আশ্রয়দাতা আল্লাহর কথা একবার করে উল্লেখ হয়েছে-

আউযু বিরব্বিল ফালাক- আমি প্রভাতের রবের কাছে আশ্রয় চাচ্ছি।

পক্ষান্তরে সূরা নাসের অনিষ্টগুলো ভেতরগত। এটি হলো 'শাররিল ওয়াসওয়াস' বা মানুষ ও শয়তান জিনদের অন্তরে জাগ্রত করা ওয়াসওয়া বা কুমন্ত্রণা, যা তুলনামূলক বেশি শক্তিশালী ও অধিক ক্ষতিকর। ফলে এর থেকে বাঁচার জন্য আশ্রয়দাতা আল্লাহর কথা তিনবার উল্লেখ করা হয়েছে-
ক. আউযু বি রব্বিন নাস- আমি মানুষের রবের কাছে আশ্রয় চাচ্ছি
খ. মালিকিন নাস- মানুষের মালিকের কাছে আশ্রয় চাচ্ছি।
গ. ইলাহিন নাস- মানুুষের মাবুদের কাছে আশ্রয় চাচ্ছি।

এটা তো খুব সহজেই অনুমেয় যে, যেখানে আল্লাহর কথা তিনবার উল্লেখিত হয়েছে সেটা অবশ্যই একবার উল্লেখিত হবার তুলনায় অধিক শক্তিশালী হবে। বিষয়ের সাথে কত সুন্দর সামঞ্জস্যতা!

সুবহানাল্লাহ!!!

কুরআনের_সৌন্দর্য্য

[সংগৃহীত]

সুরা ফিলের ১০টা মজার ইনফো১. ফিল শব্দটা আরবি না। ফারসি ‘পিল’ থেকে এসেছে। আরবিতে ‘প’ ধ্বনি নেই। তাই পিল হয়ে গেছে ফিল।২. আব...
15/08/2026

সুরা ফিলের ১০টা মজার ইনফো

১. ফিল শব্দটা আরবি না। ফারসি ‘পিল’ থেকে এসেছে। আরবিতে ‘প’ ধ্বনি নেই। তাই পিল হয়ে গেছে ফিল।

২. আবরাহার বাহিনী বললেই আমরা অনেকগুলো হাতি ভাবি। আসলে হাতি ছিল খুব কম। ৮ থেকে ১২টা।

৩. সর্দার হাতির নাম ছিল মাহমুদ। ওই হাতিটাই সামনে থাকত।

৪. মাহমুদকে মক্কার দিকে নিতে গেলেই সে হাঁটু গেড়ে বসে পড়ত। উঠত না। কিন্তু ইয়েমেনের দিকে ঘুরিয়ে দিলে ঠিকই হাঁটা শুরু করে।

৫. তায়িফের সাকিফ গোত্র আবরাহার সাথে লড়েনি। নিজেদের উপাসনালয় আর মূর্তি লাতকে বাঁচাতে তারা আবরাহার গোলামি মেনে নিয়েছিল। এমনকী একজন গাইডও দিয়েছিল আবরাহার বাহিনীকে মাক্কার দিকে পথ দেখাতে।

৬. আবরাহা মাক্কার দিকে আসছে শুনে কোরেশিরা একটা প্রস্তাব দিয়েছিল। কাবা ছেড়ে দিলে তিহামার ৩ ভাগের ১ ভাগ বছর বছর তাকে দেওয়া হবে। আবরাহা সেই প্রস্তাব মানেনি।

৭. আবাবিল মানে আমরা যে পাখি বুঝি, তা ঠিক না। 'আবাবিল' মানে ঝাঁকে ঝাঁকে। আর এই পাখির বর্ণনায় এমন সব পাখির কথা আছে, যেগুলো আগে কেউ দেখেনি। কারও পা লাল, দেখতে কবুতরের মতো। কারও শরীর সবুজ, ঠোঁট হলুদ। কারও মাথা আবার জংলি পশুর মতো।

৮. ‘সিজ্জিল’ শব্দটাও আরবি থেকে আসেনি। এটা ফারসি ‘সাং’—মানে পাথর, আর ‘গিল’—মানে কাদামাটি, এই দুই শব্দ থেকে এসেছে। কাদামাটি গোল করে বানিয়ে আগুনে পুড়িয়ে শক্ত করা নুড়ি এটা। বড় কোনো পাথর না।

৯. এই পাথরের কয়েকটা নাকি আবু তালিবের মেয়ে উম্মু হানির ঘরে রাখা ছিল। যারা দেখেছিল, তারা বলেছে, পাথরগুলো ছিল কালো। গায়ে লাল ছোপ ছোপ দাগ।

১০. পাথরগুলি যাদের গায়ে পড়েছে তাদের শরীরে ছোট ছোট ফুসকুড়ি বের হতে শুরু করে।

উৎস: 'আনওয়ারুল-বায়ান', শাইখ আশিক ইলাহি মাদানি

———

কুরআনের তাফসির এমন মজার ভিজুয়ালে দেখতে চাইলে আমাদের আছে ভিজুয়াল বইগুলো দেখুন।

'লুটপাট অফার'-এ ইবুক পিডিএফে চলছে ৫

হাজী এমদাদুল্লাহ মুহাজিরে মক্কী (রহঃ) এর পরীক্ষিত আমল হিসেবে উল্লেখ করা হয়, কেউ যদি প্রতিদিন ৭০ বার এই আয়াতটি পাঠ করেন, ...
14/08/2026

হাজী এমদাদুল্লাহ মুহাজিরে মক্কী (রহঃ) এর পরীক্ষিত আমল হিসেবে উল্লেখ করা হয়, কেউ যদি প্রতিদিন ৭০ বার এই আয়াতটি পাঠ করেন, তাহলে জীবনে অভাব থাকবে না।

আয়াত: সূরা আশ-শূরা, আয়াত ১৯

ٱللَّهُ لَطِيفٌۢ بِعِبَادِهِۦ يَرۡزُقُ مَن يَشَآءُۖ وَهُوَ ٱلۡقَوِيُّ ٱلۡعَزِيزُ
উচ্চারণ: আল্লাহু লাতীফুম বি‘ইবাদিহী, ইয়ারযুকু মাই-ইয়াশা-উ, ওয়া হুওয়াল-ক্বাওয়িয়্যুল-‘আযীয।

সময়: প্রতি ফজরের নামাজের পর।
সংখ্যা: ৭০ বার।
শর্ত: একনিষ্ঠতা ও নিয়মিত আমল।

তাফসির ও ফজিলত:
অর্থ: আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু ও স্নেহশীল। তিনি যাকে চান, পর্যাপ্ত রিজিক দান করেন। তিনি সর্বশক্তিমান ও মহাপরাক্রমশালী।

রিজিকের প্রাচুর্য: এই আয়াত নিয়মিত পাঠ করলে আল্লাহ তাআলা রিজিকের সংকট থেকে সুরক্ষা দেন এবং অভাব দূর করেন।

অভিজ্ঞতা: অভিজ্ঞ আলেম ও বুজুর্গদের মতে, এটি রিজিক বৃদ্ধির একটি পরীক্ষিত ও কার্যকর আমল।

📌 দোয়া কবুলের গুরুত্বপূর্ণ আমল পেতে Quran Soul পেইজটি ফলো করে রাখুন।

#রিজিক #রিজিকের_আমল
#ইস্তেগফার #কুরআনের_আয়াত
#দোয়া

দরুদের ফজিলত অনেক যেমন বেশি বেশি দরুদ পাঠকারী নবীজির সাফায়াত লাভ করবেন, দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পাবেন ইত্যাদি। এর মধ্যে ক...
12/08/2026

দরুদের ফজিলত অনেক যেমন বেশি বেশি দরুদ পাঠকারী নবীজির সাফায়াত লাভ করবেন, দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পাবেন ইত্যাদি। এর মধ্যে কিছু দরুদের গুরুত্বপূর্ণ ফজিলত দেয়া হলো। যেহেতু আজ জুমার দিন তাই আসুন আজকে বেশি বেশি দরুদ পাঠ করি।

❑ একজন সাহাবি রাসূলকে বলেছিলেন, তিনি তাঁর উপর সর্বদা দরুদ পাঠ করবেন। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বলেছিলেন, ‘‘যদি তুমি তাই করো, তবে তোমার সকল চিন্তা ও উৎকণ্ঠা দূর করা হবে (প্রয়োজন পূরণ হবে) এবং তোমার পাপসমূহ ক্ষমা করা হবে।’’

[তিরমিযি: ২৪৫৭, হাকিম: ২/৪৫৭]
❑ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “যে ব্যক্তি আমার প্রতি একবার দরুদ পাঠ করবে, আল্লাহ তার উপর দশবার রহমত বর্ষণ করবেন।”

[সহিহ মুসলিম: ৪০৮]
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্যত্র বলেন, ‘‘যে ব্যক্তি আমার প্রতি একবার দরুদ পাঠ করবে, আল্লাহ্ তার প্রতি ১০ বার রহমত বর্ষণ করবেন, ১০ টি গুনাহ মোচন করবেন এবং তার জন্য ১০ টি স্তর উন্নীত করবেন।’

[নাসায়ি: ১২৯৭, মুসতাদরাক হাকিম: ১/৫৫০, সহিহ ইবনু হিব্বান: ৯০৪]
অন্য বর্ণনায় বলা হয়েছে, একবার দরুদ পাঠ করলে আল্লাহ্ ৭০ বার তার প্রতি রহমত পাঠাবেন এবং ফেরেশতাগণ ৭০ বার রহমতের দু‘আ করবেন।

[মুসনাদ আহমাদ: ২/১৭২, আত তারগিব: ৬৮০]
❑ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘আমার উপর দরুদ পড়ো। কেননা এটা তোমাদের জন্য যাকাতস্বরূপ।’’ [মুসনাদ আহমাদ: ৩/৩৬৫, ইবনু আবি শাইবাহ: ৮৭৯৬]
❑ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “কিয়ামতের দিন সেই ব্যক্তি সব লোকের চাইতে আমার বেশি নিকটবর্তী হবে, যে তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আমার উপর দরুদ পড়বে।”

[সুনানে তিরমিযি: ৪৮৪, সহিহ আত তারগিব: ২/১৩৬]
❑ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমাদের দিনগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম দিন হচ্ছে জুমুআর দিন। সুতরাং এই দিনে তোমরা আমার উপর বেশি করে দরুদ পড়ো। কেননা, তোমাদের দরুদ আমার কাছে উপস্থাপন করা হয়।”

[আবু দাউদ: ১০৪৭, নাসায়ি: ১৩৭৪]
❑ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘যে ব্যক্তি আমার প্রতি সকালে দশবার এবং বিকেলে দশবার দরুদ পাঠ করবে, সে ব্যক্তি কিয়ামতের দিন আমার শাফা‘আত (সুপারিশ) লাভ করবে।’’

[মাজমাউয যাওয়াইদ: ১৭০২২, সহিহ আত তারগিব: ১/২৭৩, জামি‘উস সগির: ৬/১৬৯]
❑ একবার ইবনু মাস‘উদ (রা.) সালাতের বৈঠকে বসে প্রথমে আল্লাহর প্রশংসা ও গুণ বর্ণনা করেন, অতঃপর রাসূলের উপর দরুদ পাঠ করেন, তারপর নিজের জন্য দু‘আ করেন। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘এখন চাও, তোমার (প্রার্থিত বস্তু) তোমাকে দেওয়া হবে; এখন চাও, তোমার (প্রার্থিত বস্তু) তোমাকে দেওয়া হবে।’’ [তিরমিযি: ২/৪৮৮]
❑ নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘তোমরা আমার উপর দরুদ পড়ো। কেননা, আমার উপর দরুদ পড়া তোমাদের জন্য কাফফারা (প্রায়শ্চিত্য)।’’ [ইবনু আবি আসিম, আস সলাতু ‘আলান নাবিয়্যি: ৭৮, ইবনু হাজারের মতে, সনদের রাবিগণ সহিহ হাদিসের রাবি]

© ফালাহ-فلاح

আজ কথা বলব একটা ভিন্নধর্মী সচেতনার বিষয় নিয়ে।আপনারা অনেকেই জানেন, আপেলের বীজ বিষাক্ত, বেশি পরিমাণে খেলে মানুষ মারা যায়। ...
09/08/2026

আজ কথা বলব একটা ভিন্নধর্মী সচেতনার বিষয় নিয়ে।
আপনারা অনেকেই জানেন, আপেলের বীজ বিষাক্ত, বেশি পরিমাণে খেলে মানুষ মারা যায়। কখনও ভেবেছেন, কেন মারা যায়? ঘটনাটা আসলে কী?

এর মূলে আছে Amygdalin নামের এক পদার্থ যা রোজাসিয়া গোত্রের উদ্ভিদের বীজে থাকে৷ খটকা সব বৈজ্ঞানিক নাম দিয়ে লেখাকে মাথার উপর দিয়ে নিয়ে যাব এমন লেখক আমি হয়ে উঠতে পারিনি, অতএব, ভয় নেই, পড়ুন।

আপেলের বীজে যে এ্যামিগডেলিন আছে, তা পেটে গিয়ে হাইড্রোজেন সায়নাইড তৈরি করে যা বিষেরই অপর নাম। রোজাসিয়া, মানে গোলাপ গোত্রের সব উদ্ভিদের বীজেই এই এমিগড্যালিন আছে। এই গোলাপ পরিবারে পাঁচ হাজারেরও বেশি উদ্ভিদ আছে, যার মধ্যে আপেল, নাশপাতি, খুরমানি, কাঠবাদাম, আলুবোখারা, স্ট্রবেরি, চেরি প্রভৃতি ফল অন্তর্ভূক্ত, যা আমরা হরহামেশাই খাই। মানে দাঁড়াচ্ছে, এদের যেকোনটার বীজেই এমিগডেলিন আছে, যা পেটে গিয়ে বিষক্রিয়া ঘটাতে পারে। তবে ব্যাপারটা হল, এই বীজ অল্প মাত্রায় পেটে গেলে সরাসরি ক্ষতি হয় না, পরিমাণ বেশি হয়ে গেলে আশঙ্কা আছে। যেমন স্ট্রবেরি ও লিচু দুটো ফলই অধিক খাওয়ার দরুন এদেশে দুই বার বেশ সারা জাগানো প্রাণহানির নিউজ পাওয়া গেছে। আরেকটি কথা প্রসঙ্গত বলতে হচ্ছে যে, এসব বীজ খোলসসহ খেলে অর্থাৎ চিবিয়ে না খেলে খুব একটা সমস্যা হয় না। কিন্তু খাওয়ার সময় চিবানো হচ্ছে না এই নিশ্চয়তা তো দেওয়া কঠিন। এছাড়া ট্রবেরির মত ফলের তো বিচি আলাদা করে বেছে খাওয়া সম্ভবও হয় না।

আশা করছি আপেলগোত্রের বীজের বিষক্রিয়া সংক্রান্ত মূল ব্যাপারটা বোঝাতে পেরেছি।
এই তালিকায় কী কী ফলের বীজ আছে তার আরেকটা রিভিউ দেই—

১. আপেল
২. নাশপাতি (পিয়ার/এ্যাপ্রিকট)
৩. চেরি (এর বীজ চিবিয়ে না খেলে তেমন সমস্যা হয় না)
৪. কাঠবাদাম (তিতা কাঠবাদাম) মিষ্টি কাঠবাদামে সামান্য পরিমাণে থাকে, তাই খাওয়া যায়, তবে অনেক বেশি খাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। বাচ্চাদের ক্ষেত্রে কাঠবাদাম একবারে দুইটির বেশি না দেওয়াই উচিত।
৫. আলুবোখারা
৬. পীচ (এর বীজ সবচাইতে মারাত্মক, বাংলাদেশে পীচ ফল কেমন জনপ্রিয় তা আমার জানা নেই।)
৭. ব্ল্যাকবেরি, ওয়াইল্ড বেরি, যাবতীয় বেরি এক্সেপ্ট কালোজাম। কালোজামের বীজ মোটামুটি নিরাপদ, তবে রেজিস্টার্ড কবিরাজ বা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া না খাওয়াই বেটার।
কালোজাম ছাড়া অন্য কোন জামের বীজ ভুল করেও খাওয়া যাবে না।

এই গোত্রের বাইরে ঝুঁকিপূর্ণ আরো কিছু ফল আছে, যাদের বীজে এ্যামিগডেলিন না থাকলেও অন্য কিছু উপাদান আছে যা একই রকম ভয়ানক। যেমন—

১. লিচু: লিচু খেতে সুস্বাদু হলেও এই ফলে ভিন্ন রকমের ঝুঁকি থাকে যা কেবল কাঁচা ও আধপাকা লিচুর বেলায় থাকে। পাকা লিচুর মাংসে বিষাক্ত উপাদান থাকে না। উপাদানটির নাম হাইপোগ্লাইসিন, এসব খটকা নাম বলে বিব্রত না করি। পাকা লিচুতে সমস্যা হয় না। কিন্তু পাকা লিচু আমরা ঠিকঠাক চিনব না এটাই স্বাভাবিক। লিচুর মত অবিকল আরেকটি ফল আছে রামবুটান নামে। এই দুই ফলের বীজই ভয়ানক ক্ষতিকর। খেয়াল রাখতে হবে বাচ্চা যেন লিচু বা রামবুটান খাওয়ার সময় কোনভাবেই বীজ না চাবায়।

২. আতা ফল/ শরীফা ফল/ নোনা ফল: এই ফলগুলো খাওয়া ভালো, কিন্তু এর বীজে আছে শক্তিশালী স্নায়ুবিষ (নিউরোটক্সিন)। অধিক পরিমাণে এর বীজ খেলে পেট খারাপ হয়, স্নায়বিক সমস্যা দেখা দেয়। এছাড়া আতা ফলের বীজ চোখে লাগলে অন্ধ হয়ে যাবার ঝুঁকি থাকে।

৩. কামরাঙ্গা ফল: কয়েক বছর আগেই সম্ভবত কোন একটা ডাক্তারের ইন্টারভিউতে বলা হয়েছিল এই ফলটাকে এদেশে নিষিদ্ধ করা উচিত। এই ফল ও এর বীজ কিডনির তীব্র ক্ষতি করে। এটি মস্তিষ্কে খিঁচুনি ও বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে।

৪. প্যাশন ফ্রুট বা ট্যাং ফল: এই জিনিস কক্সবাজারে বেশ দাম দিয়ে বিক্রি হয়। একজন খেতে চেয়েছিলেন, তখন ম্যানেজ করে দিতে পারি নাই। পরে দেখলাম, না দিয়েই বরং ভালো করেছি। রোজাসিয়া গোত্রের যে প্রধান বিষাক্ত উপাদান, সেই সায়ানোজেনিক গ্লাইকোসাইড এই ফলে সরাসরি আছে। এই ফল পাকা অবস্থায় খাওয়া মোটামুটি নিরাপদ কিন্তু কাঁচা বা আধপাকা খেলে এটি পেটে তীব্র বিষক্রিয়া সৃষ্টি করে। এখন কাঁচা পাকার তফাৎ তো আমরা বুঝব না স্বাভাবিক।
রোজাসিয়া প্রসঙ্গে আবার একটু বলি, গোলাপের বীজও এই সায়ানোজেনিক গ্লাইকোসাইড ধারন করে। তবে গোলাপের পরিপক্ব পাপড়ি দিয়ে চা বানিয়ে খাওয়াটা নিরাপদ বলেই স্বীকৃত।

৫. কাঁচা কাজু বাদাম: গাছ থেকে সরাসরি তোলা কাজুবাদাম বিষাক্ত হয়। এটি ত্বকে মারাত্মক এলার্জি ও চর্মরোগ সৃষ্টি করে এবং পেটে গেলে বিষক্রিয়া ঘটায়। আমরা যে কাজু বাদাম বাজার হতে কিনে খাই, তা উচ্চ তাপে প্রোসেস করা বিধায় এর মধ্যে ক্ষতিকারক উপাদান উরুশিওল নষ্ট হয়ে যায় এবং ভক্ষণীয় হয়। বাড়তি সচেতনতা হিসেবে আপনিও এটিকে খাবার আগে ভেজে নিতে পারেন।

৬. ডালিম/ আনার/ বেদানা: ডালিম নিরাপদ, পথ্য হিসেবে উচ্চতর স্বাস্থ্যকর বিবেচনা করা হয়। তবে ডালিমের খোসা কিন্তু বিপজ্জনক ও বিষাক্ত। এটি কোনভাবেই খাওয়া যাবে না। মুখে লাগলেই ক্ষতি হয়ে যাবে এমন নয়, তবে আমরা অনেকেই ডালিমের দানা সরাসরি কামড়ে মুখে নিতে চেষ্টা করে থাকি, এজন্যই সতর্কতা।

৭. চীনাবাদাম: চীনাবাদাম ত্বকের সজীবতা বাড়ায় বলা হয়। কিন্তু এটা বলা হয় না যে, এটি বিশ্বের প্রধানতম এলার্জিক খাবারের একটি। এলার্জি না থাকলে খাবারটি বেশ নিরাপদ এবং স্বাস্থ্যকর।
কিন্তু সমস্যা অন্যখানে, আমরা চীনাবাদাম খাওয়ার সময় প্রায়ই যে পঁচা বাদাম পাই, তা ভীষণ ক্ষতিকর। বাদামে যে ছত্রাক হয় তা ক্যান্সার সৃষ্টি করে এবং লিভারের ক্ষতি করে।

৮. বাঁশকোরল: পোস্ট অনেক বড় করার জন্য দুঃখিত, এটা বলেই শেষ করি। বাঁশকোরল পাহাড়ি অঞ্চলে বেশ জনপ্রিয় এবং তারই হাত ধরে এর চমৎকার স্বাদের কারণে দেশের ভেতরও ছড়িয়ে পড়েছে এই জনপ্রিয়তা। তবে মনে রাখার বিষয় হল, রোজাসিয়া গোত্রের না হলেও এর মধ্যে সায়ানোজেনিক গ্লাইকোসাইড ভালো পরিমাণেই আছে। ফলে কাঁচা তো খাওয়া যাবেই না, এটিকে সঠিক নিয়মে প্রোসেস করে তবেই রান্না করে খেতে হয়। নিয়মটি হল, কাঁচা বাঁশকোরল আট ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে রেখে সেই পানি ফেলে দিতে হয়, এরপর সেদ্ধ করে আরেকবার পানি ফেলে দিয়ে তারপর রান্না করতে হয়।

ধৈর্য নিয়ে পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

সব সময় মানসিক কষ্টে থাকেন? সূরা আদ-দোহার এই আমলটি করুন—ধীরে ধীরে বদলে যাবে আপনার জীবন।কখনো কি এমন হয়েছে—সবকিছু ঠিক আছে...
09/08/2026

সব সময় মানসিক কষ্টে থাকেন? সূরা আদ-দোহার এই আমলটি করুন—ধীরে ধীরে বদলে যাবে আপনার জীবন।

কখনো কি এমন হয়েছে—সবকিছু ঠিক আছে, তবুও মনটা অদ্ভুত ভারী লাগে? কোনো কারণ ছাড়াই দুশ্চিন্তা আসে।
ভবিষ্যৎ নিয়ে ভয় কাজ করে। মনে হয়—জীবনটা যেন কোথাও আটকে গেছে। অনেক মানুষ এই অবস্থার মধ্য দিয়ে যায়। বাইরে হাসে, মানুষের সাথে কথা বলে, কিন্তু ভেতরে ভেতরে একটা অজানা কষ্ট বয়ে বেড়ায়।
এমন সময়ে কুরআনের একটি ছোট সূরা আছে, যেটি আল্লাহ নাযিল করেছিলেন ঠিক এমন একটি মুহূর্তে—যখন একজন মানুষ গভীর মানসিক কষ্টের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন।
সেই মানুষটি হলেন আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ ﷺ।

কেন নাযিল হয়েছিল সূরা আদ-দোহা?
এক সময় কয়েকদিন পর্যন্ত ওহি নাযিল হওয়া বন্ধ ছিল।
এতে নবীজি ﷺ খুব চিন্তিত ও বিষণ্ন হয়ে পড়েন।
তখন কিছু মানুষ বলতে শুরু করেছিল— মনে হয় আল্লাহ তাকে ছেড়ে দিয়েছেন। এই কঠিন মুহূর্তে আল্লাহ নাযিল করেন একটি সান্ত্বনার সূরা— সূরা আদ-দোহা। এই সূরার মধ্যেই আল্লাহ নবীজিকে আশ্বাস দিয়ে বলেন—মা ওয়াদ্দা’আকা রাব্বুকা ওয়া মা ক্বালা

অর্থ:তোমার রব তোমাকে ত্যাগ করেননি, এবং তোমার উপর অসন্তুষ্টও নন। ভাবুন একবার— এই আয়াত শুধু নবীজির জন্য নয়, বরং প্রত্যেক সেই মানুষের জন্য, যে কখনো মনে করে— আল্লাহ হয়তো আমাকে ভুলে গেছেন।
সূরা আদ-দোহার একটি সহজ আমল (মানসিক কষ্ট দূরের জন্য) অনেক আলেম বলেন, যদি কেউ মানসিক কষ্ট, হতাশা বা অস্থিরতার মধ্যে থাকে, তাহলে নিয়মিত সূরা আদ-দোহা পড়া হৃদয়ে প্রশান্তি এনে দেয়।

আমলটি করার নিয়ম
▪️অজু করে নিন।
▪️শান্ত কোনো জায়গায় বসুন।
▪️প্রথমে ৩–১১ বার দরূদ শরীফ পড়ুন।
▪️তারপর সূরা আদ-দোহা ১১ বার বা ২১ বার তিলাওয়াত করুন। শেষে আবার ৩–১১ বার দরূদ পড়ুন। তারপর আল্লাহর কাছে মন খুলে দোয়া করুন।
কখন করবেন?
▪️ফজরের পর
▪️মাগরিব বা এশার পর
▪️অথবা রাতের শেষ সময় (তাহাজ্জুদের সময়)
কতদিন করবেন
৭ দিন, ১১ দিন বা ২১ দিন নিয়মিত করলে অনেকেই হৃদয়ের ভেতর পরিবর্তন অনুভব করেন।

সূরা আদ-দোহা আমাদের কী শেখায়?
এই সূরাটি শুধু একটি আমল নয়, বরং একটি বড় শিক্ষা।
এখানে আল্লাহ আমাদের তিনটি বড় বিষয় মনে করিয়ে দেন—
১️⃣ কঠিন সময় চিরস্থায়ী নয়
“নিশ্চয়ই পরের সময় আগের সময়ের চেয়ে উত্তম হবে।”
২️⃣ আল্লাহ কখনো তাঁর বান্দাকে ছেড়ে দেন না
যদিও আমরা কখনো কখনো তা অনুভব করতে পারি না।
৩️⃣ কষ্টের পরই আসে স্বস্তি

যখন মন খুব ভেঙে যায়, যখন মনে হবে— সবকিছু শেষ হয়ে যাচ্ছে… যখন মনে হবে— আপনার দোয়া কেউ শুনছে না… তখন একটু থামুন। অজু করুন। দুই রাকাত নামাজ পড়ুন। তারপর সূরা আদ-দোহা তিলাওয়াত করুন। হয়তো আপনি সঙ্গে সঙ্গে কোনো বড় পরিবর্তন দেখবেন না। কিন্তু ধীরে ধীরে অনুভব করবেন— আপনার হৃদয়ের ভেতর একটা শান্তি নেমে আসছে।

শেষ কথা
অনেক সময় জীবনের সবচেয়ে বড় অলৌকিক ঘটনা হয় হৃদয়ের পরিবর্তন। যখন আল্লাহ আমাদের ভেতরের অস্থিরতাকে শান্তিতে বদলে দেন— সেটাই আসলে সবচেয়ে বড় নিয়ামত। তাই যদি আপনি আজ মানসিক কষ্টে থাকেন— তাহলে সূরা আদ-দোহা পড়ে আল্লাহকে ডাকুন।
হয়তো নিঃশব্দেই আল্লাহ আপনার জীবনের পথ সহজ করে দিতে শুরু করবেন।

ইসলামের পরিভাষায় দাজ্জালের ফিৎনা মানবজাতির জন্য সবচেয়ে ভয়াবহ পরীক্ষাগুলোর একটি। পৃথিবীর শুরু থেকে কিয়ামত পর্যন্ত যত বড় ব...
07/08/2026

ইসলামের পরিভাষায় দাজ্জালের ফিৎনা মানবজাতির জন্য সবচেয়ে ভয়াবহ পরীক্ষাগুলোর একটি। পৃথিবীর শুরু থেকে কিয়ামত পর্যন্ত যত বড় বড় ফিৎনা ও বিপর্যয় এসেছে, সেগুলোর মধ্যে দাজ্জালের আবির্ভাবকে সর্ববৃহৎ ফিৎনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। তাই একজন মুমিনের দায়িত্ব হলো এই ফিৎনা সম্পর্কে জানা, নিজেকে প্রস্তুত রাখা এবং রাসূল (সা.) যে আমলগুলো শিখিয়ে গেছেন সেগুলো নিয়মিত পালন করা।

দাজ্জালের ফিৎনা থেকে নিরাপদ থাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি আমল হলো পবিত্র কুরআনের সূরা আল-কাহফের প্রথম ১০টি আয়াত মুখস্থ করা এবং তা নিয়মিত তিলাওয়াত করা। এ বিষয়ে সহিহ হাদিসে সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। তাই এটি কোনো প্রচলিত ধারণা নয়; বরং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর শিক্ষা।

হযরত আবু দারদা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,

«"যে ব্যক্তি সূরা আল-কাহফের প্রথম দশটি আয়াত মুখস্থ করবে, সে দাজ্জালের ফিৎনা থেকে নিরাপদ থাকবে।"»

রেফারেন্স: সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৮০৯।

অন্য একটি বর্ণনায় এসেছে,

«"যে ব্যক্তি সূরা আল-কাহফের শেষ দশটি আয়াত মুখস্থ করবে, সে দাজ্জালের ফিৎনা থেকে নিরাপদ থাকবে।"»

রেফারেন্স: সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৮০৯ (অন্য বর্ণনা)।

আলেমগণ ব্যাখ্যা করেছেন যে, উভয় বর্ণনাই সহিহ। তাই প্রথম দশটি অথবা শেষ দশটি আয়াত মুখস্থ করলেও এই ফজিলত অর্জনের আশা করা যায়। তবে অধিকাংশ মুসলিম প্রথম দশটি আয়াত মুখস্থ করার আমলটি বেশি পরিচিতভাবে অনুসরণ করে থাকেন।

প্রশ্ন হতে পারে, কেন বিশেষভাবে সূরা আল-কাহফের প্রথম দশটি আয়াতের কথা বলা হয়েছে? ইসলামী চিন্তাবিদ ও মুফাসসিরগণ বলেছেন, এই আয়াতগুলোতে আল্লাহ তাআলার মহিমা, ঈমানের দৃঢ়তা, তাওহিদের শিক্ষা এবং সত্যের ওপর অবিচল থাকার বার্তা রয়েছে। দাজ্জাল মানুষের ঈমান নিয়ে খেলবে, অলৌকিক কিছু বিষয় দেখিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করবে। কিন্তু যার ঈমান কুরআনের আলোয় দৃঢ় হবে, সে সহজে প্রতারিত হবে না।

সূরা আল-কাহফে আশহাবে কাহফের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। তারা ছিল এমন একদল যুবক, যারা আল্লাহর প্রতি ঈমান রক্ষার জন্য নিজের দেশ, সমাজ এবং আরাম-আয়েশ ছেড়ে গুহায় আশ্রয় নিয়েছিল। আল্লাহ তাদের অসাধারণভাবে রক্ষা করেছিলেন। এই ঘটনা একজন মুসলিমকে শেখায় যে, ঈমান রক্ষার জন্য ত্যাগ স্বীকার করতে হলেও আল্লাহর ওপর ভরসা রাখতে হবে।

দাজ্জালের সবচেয়ে বড় অস্ত্র হবে প্রতারণা। সে নিজেকে রব বলে দাবি করবে। তার হাতে এমন কিছু ক্ষমতা থাকবে যা দেখে অনেক মানুষ বিভ্রান্ত হবে। সে বৃষ্টি নামানোর দাবি করবে, জমিনে ফসল উৎপন্ন করবে, ধন-সম্পদের প্রলোভন দেখাবে। কিন্তু এগুলো হবে আল্লাহর পরীক্ষার অংশ। একজন প্রকৃত মুমিন বুঝবে, সৃষ্টিকর্তা একমাত্র আল্লাহ, কোনো মানুষ কখনো রব হতে পারে না।

রাসূলুল্লাহ (সা.) বারবার সাহাবিদের দাজ্জালের ফিৎনা থেকে আশ্রয় চাইতে শিখিয়েছেন। তিনি প্রত্যেক নামাজের শেষ বৈঠকে নিম্নোক্ত দোয়া পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন—

"اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ جَهَنَّمَ، وَمِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ، وَمِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ، وَمِنْ شَرِّ فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ"

অর্থ: "হে আল্লাহ! আমি জাহান্নামের শাস্তি, কবরের শাস্তি, জীবন ও মৃত্যুর ফিৎনা এবং মসীহ দাজ্জালের ভয়াবহ ফিৎনা থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাই।"

রেফারেন্স: Sahih al-Bukhari, হাদিস নং ১৩৭৭; Sahih Muslim, হাদিস নং ৫৮৮।

জুমার দিনের সঙ্গে সূরা আল-কাহফের বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সা.) জুমার দিনে এই সূরা তিলাওয়াত করতে উৎসাহিত করেছেন। হযরত আবু সাঈদ আল-খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে,

«"যে ব্যক্তি জুমার দিনে সূরা আল-কাহফ তিলাওয়াত করবে, তার জন্য এ জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত একটি নূর (আলোক) জ্বলতে থাকবে।"»

রেফারেন্স: Sunan al-Kubra by al-Bayhaqi, হাদিস নং ৬০৬; হাদিসটিকে অনেক মুহাদ্দিস হাসান বলেছেন।

এখানে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি। শুধু মুখস্থ করলেই হবে না; আয়াতগুলোর অর্থ বোঝা, সেগুলোর শিক্ষা জীবনে বাস্তবায়ন করা এবং নিয়মিত তিলাওয়াত করাও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কুরআন কেবল মুখে উচ্চারণের জন্য নয়, বরং জীবন পরিচালনার জন্য নাজিল হয়েছে।

দাজ্জাল কবে আসবে, তা একমাত্র আল্লাহই জানেন। তবে রাসূলুল্লাহ (সা.) জানিয়েছেন, কিয়ামতের আগে বিভিন্ন ছোট ও বড় আলামত প্রকাশ পাবে এবং শেষ সময়ে দাজ্জালের আবির্ভাব ঘটবে। তাই একজন মুসলিমের উচিত দাজ্জাল নিয়ে অযথা ভয় না পেয়ে নিজের ঈমানকে শক্তিশালী করা।

ইমাম আন-নববী (রহ.) সহিহ মুসলিমের ব্যাখ্যায় উল্লেখ করেছেন যে, সূরা আল-কাহফের প্রথম দশটি আয়াতে এমন শিক্ষা রয়েছে যা একজন মুমিনকে বিভ্রান্তি থেকে রক্ষা করে। তাওহিদের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস, আল্লাহর ওপর ভরসা এবং সত্যের প্রতি অবিচল থাকার শিক্ষা দাজ্জালের প্রতারণা থেকে মানুষকে বাঁচাতে সহায়তা করবে।

অনেকেই প্রশ্ন করেন, যদি কেউ প্রথম দশটি আয়াত মুখস্থ করতে না পারেন, তাহলে কী করবেন? উত্তর হলো, চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। প্রতিদিন কয়েকটি আয়াত করে মুখস্থ করা, নিয়মিত তিলাওয়াত করা এবং অর্থ পড়া—এভাবেই ধীরে ধীরে এই গুরুত্বপূর্ণ আমল সম্পন্ন করা সম্ভব।

আজকের যুগেও দাজ্জালের ফিৎনার পূর্বাভাসস্বরূপ নানা বিভ্রান্তি, মিথ্যা প্রচার, বস্তুবাদ এবং ঈমান দুর্বল করে দেওয়ার মতো অসংখ্য প্রলোভন আমাদের চারপাশে রয়েছে। তাই কুরআনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করা, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা, সুন্নাহ অনুসরণ করা এবং আল্লাহর কাছে হেদায়েত প্রার্থনা করা প্রতিটি মুসলিমের দায়িত্ব।

সবশেষে বলা যায়, দাজ্জালের ফিৎনা থেকে নিরাপদ থাকার জন্য রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর শেখানো অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো সূরা আল-কাহফের প্রথম ১০টি আয়াত মুখস্থ করা। সহিহ মুসলিমের হাদিসে এর স্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে। পাশাপাশি শেষ ১০টি আয়াত মুখস্থ করারও ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। এর সঙ্গে নিয়মিত জুমার দিনে সূরা আল-কাহফ তিলাওয়াত, নামাজের শেষে দাজ্জালের ফিৎনা থেকে আশ্রয় চাওয়ার দোয়া পড়া এবং কুরআন-সুন্নাহ অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করলে একজন মুমিন আল্লাহর রহমতে এই ভয়াবহ পরীক্ষায় নিরাপদ থাকার আশা করতে পারেন।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে কুরআনের শিক্ষা অনুযায়ী জীবন পরিচালনার তাওফিক দান করুন, সূরা আল-কাহফের আয়াতগুলো মুখস্থ ও আমল করার সৌভাগ্য দান করুন এবং দাজ্জালসহ সব ধরনের ফিৎনা থেকে হেফাজত করুন। আমীন।

Address

Auckland

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Kothamala Parveen posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share