01/06/2026
তোফায়েল আহমেদ: ছাত্রআন্দোলন থেকে রাষ্ট্রক্ষমতার দীর্ঘ পথচলা
বাংলাদেশের রাজনীতিতে তোফায়েল আহমেদ ছিলেন এমন এক নাম, যিনি ছাত্রনেতা, স্বাধীনতা সংগ্রামের সংগঠক, সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী—সব পরিচয় মিলিয়ে কয়েক দশক ধরে জাতীয় আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন। আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ এই নেতা ১ জুন ২০২৬ সালে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন, এবং তার মৃত্যু বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি দীর্ঘ অধ্যায়ের অবসান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
শুরুর দিন
১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর বর্তমান ভোলা জেলায় জন্ম নেওয়া তোফায়েল আহমেদ পরবর্তী সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন এবং সেখান থেকেই তার রাজনৈতিক উত্থানের ভিত্তি তৈরি হয়। ১৯৬৭ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি হিসেবে তিনি ছাত্ররাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেন।
গণঅভ্যুত্থান ও জাতীয় উত্থান
১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয় ভূমিকার মধ্য দিয়ে তোফায়েল আহমেদ সারা দেশে পরিচিতি পান এবং তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিবর্তনের এক গুরুত্বপূর্ণ মুখ হয়ে ওঠেন। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে মাত্র ২৭ বছর বয়সে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনি জাতীয় রাজনীতিতে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেন।
স্বাধীনতার পর ক্ষমতার কেন্দ্রে
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৪ জানুয়ারি ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাকে রাজনৈতিক সচিব হিসেবে নিয়োগ দেন, এবং সে পদটি প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদাসম্পন্ন ছিল। পরে তিনি বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে ১৯৯৬ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত এবং আবার ২০১৪ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন; পাশাপাশি শিল্প মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।
দীর্ঘ সংসদীয় জীবন ও উত্তরাধিকার
তোফায়েল আহমেদ মোট নয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং বিশেষত ভোলা অঞ্চলের রাজনীতিতে তার প্রভাব ছিল দৃশ্যমান ও দীর্ঘস্থায়ী। জীবনের শেষ পর্যায়ে তিনি আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ছিলেন, যা দলীয় রাজনীতিতে তার প্রবীণ ও প্রভাবশালী অবস্থানেরই প্রতিফলন। বাংলাদেশের ইতিহাসে তার নাম মূলত তিনটি কারণে স্মরণীয় থাকবে—ছাত্রআন্দোলনের নেতৃত্ব, মুক্তিযুদ্ধ-সংলগ্ন রাজনৈতিক ভূমিকা, এবং স্বাধীনতার পর রাষ্ট্র পরিচালনায় দীর্ঘ উপস্থিতি।