13/10/2022
।। কলা বউ গনেশের স্ত্রী নন ।।
দুর্গা পুজোর মধ্যে সপ্তমীর দিন সকাল থেকেই শুরু হয়ে যায় কলা বউ এর স্নান। আর কলাবৌয়ের স্নানের পর তাকে মা দুর্গার পাশে প্রতিষ্ঠা করা হয়, তারপর শুরু হয় মূল পুজো। কিন্তু কে এই কলা বউ? কলাবউ এর পরিচয় শুনলে অনেকেই অবাক হবেন, হ্যাঁ যাকে গণেশের স্ত্রী বলে ভেবে এসেছি আমরা তিনি আসলে গণেশের স্ত্রী নন, গণেশ জননী! কলা বউ আসলে দেবী দুর্গার একটি রূপ তাই কলাগাছকে মন্ডপের মধ্যে প্রতিষ্ঠা করা হয় এবং দেবীর সাথেই পূজো করা হয় । কলা বউ হল আসলে নবপত্রিকা যা দেবী দুর্গার বৃক্ষ রূপ। মা দুর্গার নয় রূপের প্রতীক হলো নবপত্রিকা। নবপত্রিকা অর্থাৎ গাছের নয়টি পাতা। এই নয়টি গাছ মায়ের নয় রূপকে চিহ্নিত করে। এই নয়টি উদ্ভিদ হলো- রম্ভা অথবা কলাগাছ, কচু গাছ, হরিদ্রা অথবা হলুদ, জয়ন্তী, বিল্ব অর্থাৎ বেল, দাড়িম্ব অর্থাৎ ডালিম গাছ, অশোক গাছ, মান গাছ, ধান গাছ। এই নয় গাছ দেবীর যে নয় রূপকে বোঝায় সেই নয়টি রূপ হল-ব্রহ্মাণী, কালিকা, উমা, কার্তিকী, শিবা, রক্তদন্তিকা, শোকরহিতা, চামুন্ডা ও লক্ষী। তবে এই নয় দেবীর মধ্যে একমাত্র দেবী চামুণ্ডা ছাড়া অন্য কোন দেবীর আবাহন ও পুজো হয়না। তাই এই নবপত্রিকা দেবীর রূপ দিয়েই কলা বউ স্নানের মধ্যে দিয়েই দুর্গাপুজোর সূচনা হয়। এই মহাসপ্তমীর দিন একটি সপত্র কলা গাছের সাথে আটটি সমূল সপত্র উদ্ভিদকে একত্র করে একজোড়া বেল শ্বেত অপরাজিতা লতা দিয়ে বেঁধে দেওয়া হয় ও লাল পাড় সাদা শাড়ি জড়িয়ে ঘোমটা দিয়ে বধূর আকারে সজ্জিত করা হয়। এরপর এই কলাগাছের সিঁদুর পরিয়ে দেবী প্রতিমার পরিবারের ডানদিকে রাখা হয়, আর ডানদিকে গনেশের পাশে রাখা হয় বলে আমরা মনে করে থাকি কলা বউ আসলে গনেশের স্ত্রী কিন্তু আসলে কিন্তু তা নয় । অর্থাৎ ঐভাবেই পুজো করা হয় দেবী দুর্গার সাথে কলা বউয়ের । নবপত্রিকার নয়টি উদ্ভিদ কে একসাথে নবপত্রিকা বাসিনী নবদুর্গা নামেও পুজো করা হয়ে থাকে ।
‘নবদুর্গায়ৈ নমঃ’
লিখেছেন মৌ বিশ্বাস