22/02/2026
কণ্ঠের ক্যানভাস:
(আবৃত্তি কুঞ্জ)
দিনলিপির ধূসর পাতায় যখন জমেছে ধুলো,
অভ্যস্ত কোলাহলে হারিয়ে গেছে শব্দগুলো—
তখন এক চিলতে রোদ্দুর হয়ে এলো এই আঙিনা,
যেখানে সুরের ভাঁজে লুকানো থাকে চেনা-অচেনা।
এই তো আমাদের আশ্রয়, আমাদের প্রাণের মঞ্চ,
শব্দের কারুকাজে সাজানো— 'আবৃত্তি কুঞ্জ'।
আমরা যারা সংসারী মায়ার ঘেরাটোপে বন্দি,
সময়ের সাথে লড়ি রোজ অদ্ভুত এক ফন্দি;
ভুলে গেছি স্পষ্ট উচ্চারণে বুক ভরে শ্বাস নিতে,
ভুলে গেছি বুক চিরে আসা শব্দের জোয়ারে ভাসতে।
এখানে এলে শৈশব ফেরে, ফেরে হারানো সে গান,
অক্ষরে অক্ষরে খুঁজে পাই নতুন এক আত্মসম্মান।
কখনো রবীন্দ্রনাথের গাম্ভীর্য, কখনো নজরুলের বিদ্রোহ,
কণ্ঠের জাদুতে ভাঙে যান্ত্রিক জীবনের যত মোহ।
এখানে শেখানো হয় কেবল ছন্দ আর যতি নয়,
শেখানো হয় কীভাবে মৌনতা ভেঙে জয় করতে হয় ভয়।
শব্দেরা ডানা মেলে এখানে, প্রাণ পায় মৃত কথা,
আবৃত্তি কুঞ্জে ধুয়ে যায় সব মনের নিরবতা।
আমরা তো কেবল আবৃত্তিকার নই, আমরা তো দ্রষ্টা—
কবিতার আয়নায় খুঁজি জীবনের হারানো সব নকশা।
শুদ্ধ উচ্চারণে যখন কেঁপে ওঠে এই চরাচর,
তখন বুঝে নিই— শিল্পই আমাদের আসল ঘর।