12/07/2026
💔 "একটা জন্মদিন... অথচ 'হ্যাপি বার্থডে' শুনেও কোনো উত্তর নেই! তবুও স্ত্রী হাঁটু গেড়ে ফুল হাতে বলল— 'আজও কি উঠবি না তুই? দেখ... তোর বউ আবার তোকে প্রপোজ করছে!' 😭🌹"
কেউ কেউ ভালোবাসার প্রতিশ্রুতি দেয়... আর কেউ সেই প্রতিশ্রুতি জীবনের শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত পালন করে।
হাসপাতালের বিছানায় টানা ৯ মাস ধরে কোমায় শুয়ে আছেন সার্বত্রিক। চারপাশে হাসপাতালের যন্ত্রের শব্দ, ডাক্তার-নার্সদের ব্যস্ততা... কিন্তু সেই পরিবেশকেই আজ ভালোবাসার সবচেয়ে আবেগঘন মঞ্চে পরিণত করলেন তাঁর স্ত্রী সোমা শীল চ্যাটার্জি।
চোখে অশ্রু, হাতে একটি ফুল, হাঁটু গেড়ে বসে স্বামীকে বললেন—
"আজও কি উঠবি না তুই? দেখ... তোর বউ আবার তোকে প্রপোজ করছে।" 💔
এক মুহূর্তের জন্য যেন সময় থমকে গিয়েছিল।
এরপর স্বামীর হাত ধরে কেক কাটলেন। কপালে চুমু খেলেন, আদরে ভরিয়ে দিলেন তাঁকে। পাশে দাঁড়িয়ে ছিল তাঁদের মাত্র দেড় বছরের ছোট্ট সন্তান, যে হয়তো এখনও বুঝতেই পারেনি, তার বাবাকে ফিরে পাওয়ার জন্য তার মা কত বড় যুদ্ধ লড়ে চলেছেন।
স্বামীকে পাঞ্জাবি পরিয়ে, হুইলচেয়ারে বসিয়ে, মাথা বেল্ট দিয়ে শক্ত করে বেঁধে জন্মদিনের এই ছোট্ট আয়োজন করেছিলেন সোমা। কারণ তাঁর বিশ্বাস— একদিন না একদিন তাঁর মানুষটা ঠিক ফিরে আসবে।
এটাই প্রথম নয়। এর আগেও হাসপাতালেই বিবাহবার্ষিকী পালন করেছিলেন তিনি। কারণ তাঁর কাছে ভালোবাসা কোনো বিশেষ দিনের ছবি নয়— ভালোবাসা মানে কঠিন সময়েও হাত না ছাড়া।
ধীরে ধীরে কিছুটা উন্নতি হলেও এখনও অনেকটা পথ বাকি। দীর্ঘদিন হাত-পা গুটিয়ে থাকার কারণে হাঁটার শক্তি প্রায় হারিয়ে ফেলেছেন সার্বত্রিক। আবার যাতে হাঁটতে পারেন, সেই আশায় চলছে ব্যয়বহুল চিকিৎসা। শুধু বোটক্স চিকিৎসার খরচই এক লক্ষ টাকারও বেশি, আর প্রতিদিন চিকিৎসায় লাগছে ৪০–৫০ হাজার টাকা।
একদিকে সিঁথির সিঁদুর রক্ষা করার লড়াই, অন্যদিকে দেড় বছরের সন্তানের বাবাকে ফিরিয়ে আনার যুদ্ধ— সোমা আজও হার মানেননি।
আজকের দিনে অনেক সম্পর্ক সামান্য ঝড়েই ভেঙে যায়। অথচ এই নারী প্রমাণ করে দিলেন— সত্যিকারের ভালোবাসা শুধু সুখের দিনে নয়, সবচেয়ে কঠিন অন্ধকারেও পাশে দাঁড়িয়ে থাকে।
ঈশ্বরের কাছে একটাই প্রার্থনা— সার্বত্রিক খুব দ্রুত সুস্থ হয়ে নিজের স্ত্রী ও সন্তানের কাছে ফিরে আসুন। 🙏❤️