17/01/2022
- কীরে! বেরোবি না?
- না রে। ভালো লাগছে না।
- ভালো লাগছেনা বলেই তো বলছি , চল একটু ঘুরে আসি ভালো লাগবে।
- ধ্যাত! ভালো লাগে না।
দাড়া ২ মিনিট , আমি রেডি হয়ে আসছি।
- তাড়াতাড়ি।
(তোর কাছে যে আর বেশি দিন সময় নেইরে পিহু ... সুমন ভাবতে থাকে)
- আমি রেডি। একি রে সুমন তুই কাঁদছিস নাকি?
- ধুর কাঁদতে যাবো কেনো? চোখে বোধ হয় কিছু পড়েছে বুঝলি তো।
- ওহ তাই বল। আমি আবার ভাবলাম কি জানি বাবা , তোর আবার কি হলো।
- নে ছাড় , এইসব কথা বাদ দে চল।
- হ্যাঁ চল।
এইসব কথা বলতে বলতেই ওরা দুজন বেরিয়ে পরে। কলেজস্ট্রীট আবার পীহুর খুব প্রিয় জায়গা। তাই ওরা ওখানেই গেলো।
- আচ্ছা সুমন , তোরা সবাই আমাকে কিছু বলছিসনা কেনো রে? বল না আমার কি হয়েছে? মা কি জন্য কাঁদছিল সেদিন তোর কাছে?
- তোকে সেটা নিয়েই আমার কিছু বলার আছে।
- হ্যাঁ বল।
- তোর ১ টা brain operation হবে। সেটার পর তুই বাঁচতেও পারিস আবার কিছু হয়েও যেতে পারে ...
- আমার হাতে আর কদিন সময় আছে?
- ৩ দিন ...
- আর তুই আমায় আজকে বলছিস?
- কি করবো বল। কাকিমা আমাকে বলতে বারণ করেছিল , আমি কি করব বল?
- ঠিক আছে।
- পীহু , তোর যদি কিছু হয়ে যায় তাহলে আমি কি করবো?(সুমন কাঁদতে থাকে)
- ধুর পাগল , আমার কি হবে? তোরা তো আছিস। আমি তোদের ছেড়ে কোথায় যাব বল তো??
- promise কর।
- আচ্ছা promise.
এর ৩ দিন পর পিহুর operation হয়। সেটা successful ও হয়।
- দেখলি বলেছিলাম না যে আমার কিছু হবে না।
- হুম দেখলাম। তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে বাড়ি চল এবার।
- হ্যাঁ , সে তো অবশ্যই কিন্তু ...
- কিন্তু কী শুনি?
- তুই আমাকে একটা promise কর।
- কী promise?
- আমি যদি মরে যাই , তাহলে সবাই তো রজনীগন্ধা আনবে। তুই একটা গোলাপ আনিস।
- দেখ পিহু , খুব খারাপ হয়ে যাবে বলে দিলাম।
- আরে রেগে যাস না। বল না , আনবি তো?
- আনবো।
- ঠিক আছে। আর যদি আমার কিছু হয় তাহলে আমার diary টা নিজের কাছে রাখিস কেমন।
- তোর কিছু হবে না রে পাগলি।
- মানুষের কথা কি বলা যায়?
এরপই ধীরে ধীরে পিহুর oxygen level কমতে থাকে। ও কিছুই বলতে পারে না। সুমন যতক্ষনে ডাক্তার ডাকতে গেলো ততক্ষণে সব শেষ। Promise অনুযায়ী সুমন পিহুর সাথে শেষ দেখা করতে গেল গোলাপ নিয়ে। পিহুর diary টাও নিয়ে গেলো। সুমন সেই diary টা পড়ার পর বুঝতে পারল যে সে নিজে পিহুকে as a freind যতটা ভালোবাসতো তার চেয়ে ঢের বেশী পিহু সুমনকে ভালোবাসতো। হঠাৎ করেই পিহুর diary থেকে একটা কাগজ বেরোয় যেখানে লেখা ছিল, "সুমন, তুই বলার অনেক আগেই আমি জানতাম যে আমার মৃত্যু খুব কাছে। আমার brain operation এর পর এই চিঠি টা আমি একজনকে দিয়ে লেখাচ্ছি। আমার operation এর পর আমার হাত এ মাত্র ২৪ ঘণ্টা আছে। আমি ডাক্তারকে বলতে না করেছিলাম। শেষ সময়টা তোর সাথেই কাটাতে চেয়েছিলাম। সত্যি টা বলে দিলে সবাই আসত , কাঁদত। যেটা আমি চাই না। তোর সাথে life এর শেষ সময় টা কাটাতে বেশ ভালোই লাগল। যদিও এটা আগে লিখেছি তবুও তোর সাথে সময় কাটালে সেটা খারাপ লাগবে না।"
এবার সুমন বুঝতে পারে যে , কেনো পিহু সবসময় ওর diary টা সুমনকে দিয়ে দিতে চাইত।
আজ পিহুর মৃত্যুর ১ বছর পূর্ণ হল। এইসব কথা গুলো যেনো সুমনকে ঘিরে ধরছে। কারণ আর যাই হোক পিহু তো ওর সবচেয়ে কাছের ছিল।
কলমে : দিশা কুন্ডু
পোস্টার ডিজাইন ও Illustration : নবাংকিতা
#নবাকাশ