Priyo Kobita

Priyo Kobita This is a collection of my favorite poems. Poems that I have grown up with. Copied from poetry books in my Journal.

নিঝুম দুপুরে নীরেন্দ্রনাথ।ইংরেজি তে একটা কথা আছে ‘কম্ফর্ট ফুড।’ আমি বাংলায় বলি ‘আরাম খাবার’। যেমন খেলে মনে শান্তি আসে, প...
15/03/2024

নিঝুম দুপুরে নীরেন্দ্রনাথ।

ইংরেজি তে একটা কথা আছে ‘কম্ফর্ট ফুড।’ আমি বাংলায় বলি ‘আরাম খাবার’। যেমন খেলে মনে শান্তি আসে, প্রাণে আরাম আসে। এই যেমন, শীতের সকালে লুচি-আলু ফুলকপির চচ্চড়ি। শেষ পাতে ঝোলা গুড়। বা বর্ষার রাতে খিচুড়ির সাথে গরম ঘি। মনে শান্তি। প্রাণে আরাম।

আমার দু’ একটা আরাম কবিতা আছে। কোথাও একলা ট্যুরে গেছি। গরম কাল। মাঝারি শহর। ইন্দোর বা রাঁচি। অথবা দুর্গাপুর। তুমুল রোদ্দুর। একলা হোটেলের ঘরে। ফোন স্যুইচ অফ করে, এসি বন্ধ করে, পাখা চালিয়ে দি। জানালার বাইরে রোদ্দুর। ঘরের ভেতরে পাখার হাওয়া। কেউ বিরক্ত করবে না এই সময়ে। এ সময় আমার। একান্ত। নিজস্ব।

কবিতার খাতা খুলে আরো একবার পড়ি আমার কমফর্ট কবিতার সেকশনের প্রথম কবিতা টা। এ কবিতা স্বপ্ন দেখায়। ভালোবাসায়। এমন কবিতা লেখা হয়ে ছিলো একদিন বলে মনে হয়, এ পৃথিবী কত সুন্দর। কবিতা পড়তে পড়তে কখন যেন ঘুমিয়ে পড়ি।

স্বপ্ন দেখি নিশ্চয় সেদিন। বাগান। পুকুর। একটা ছাদ। ছোট্ট মন্দির। উঠোন। কিছু প্রিয় মানুষের চলা ফেরা। ২৮/১১ র নটবর পাল রোডের দোতলা বাড়িটা। যেখানে ফেলে রাখা আছে ছোট্টবেলার অনেক সুখস্মৃতি। এই কবিতা আমায় ফিরিয় দেয় অনেক ভালোবাসার মুহূর্ত।

আমার আরাম কবিতা।

স্বপ্নে-দেখা ঘরদুয়ার।।
(নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী)॥

পুকুর, মরাই, সবজি-বাগান, জংলা ডুরে শাড়ি,
তার মানেই তো বাড়ি।
তার মানেই তো প্রাণের মধ্যে প্রাণ,
নিকিয়ে নেওয়া উঠোনখানি রোদ্দুরে টান্-টান্।

ধান খুঁটে খায় চাড়টে চড়ুই , দোলমঞ্চের পাশে
পায়রাগুলো ঘুরে বেড়ায় ঘাসে।
বেড়ালটা আড়মোড়া ভাঙছে, কুকুরটা কান খাড়া
করে শুনছে, কথা বলছে কারা।

পূবের সূর্য পশ্চিমে দেয় পাড়ি,
দুপুরবেলা ঘুমের থেকে জেগে উঠছে বাড়ি।

লাঠির ডগায় পুঁটলি বাঁধা, অনেকটা পথ ঘুরে
লোকটা যাচ্ছে দূরের থেকে দূরে।
ওর চোখেও কি এমন একটা বাড়ির স্বপ্ন টানা?
ওর মনেও কি গন্ধ ছড়ায় গোপন হাস্নুহানা?

ও বড়বউ, ডাকো ওকে ডাকো,
ওই যে লোকটা পার হয়ে যায় কাঁসাই নদীর সাঁকো।

আজ ভাষা দিবস।আমার ভায়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি,আমি কি ভুলিতে পারি?তখন আমি বেশ বড়। মেডিক্যাল কলেজে প্রথম বা দ্বিত...
21/02/2022

আজ ভাষা দিবস।

আমার ভায়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি,
আমি কি ভুলিতে পারি?

তখন আমি বেশ বড়। মেডিক্যাল কলেজে প্রথম বা দ্বিতীয় বর্ষ। মোহনবাগান - ইস্টবেঙ্গল ম্যাচের টিকিট কাটতে গিয়ে হাল্কা ব্যটনের ছোঁয়া খেয়েছি। বাড়ি ফিরে মলম লাগিয়ে ড্রয়িংরুমে বসে চা খেতে খেতে বাবাকে বলছিলাম আমার অভিজ্ঞতার কথা। সেই প্রথম এবং সেই শেষ, বাবার সামনে বলার অনুপযুক্ত এক শব্দ মুখ ফসকে চলে আসে আমার ঠোঁটের ডগায়। বাবা টিভি দেখতে দেখতেই বলে, ‘মিঠু, ভাষাটা সংযত করো।’ এরপর বাবার সামনে আর কোনোদিন ভাষা অসংযত হয় নি।

শব্দ আমার কাছে ভাষার প্রাণ। অমূল্য তার চয়ণে এবং উচ্চারনে। তাই তো শব্দ কে ভালোবেসে, ভালোবাসি সুধীন্দ্রনাথ, সুবোধ আর অলোকরঞ্জন কে।

অলোক বাবুর এই কবিতাটা আমি মাঝে মাঝেই আমার ডায়রির পাতা উল্টে পড়ি। পড়তে ভালো লাগে বলে শুধু নয়, শব্দগুলোর উচ্চারন শুনতে ভালো লাগে বলেও।

কি অদ্ভুত সব শব্দ। কি অদ্ভুত তাদের ঝংকার।

একসময় যখন দক্ষিন দিনাজপুর যেতাম , দু’বার করে নদীগুলোর নাম পড়তাম। শুধুমাত্র তাদের নামের উচ্চারনের টানে। এই আত্রেয়ী পেরোলাম। এই ব্রাহ্মণী। পুনর্ভবা পেরোলাম। এই টাঙন। বড় সুন্দর সে সব নদীর নাম। উচ্চারনেই এক অদ্ভুত মাদকতা।

অলোক বাবুর এই কবিতাটার তাই কোনো বিশেষ মানে নেই আমার কাছে। কোনো ছবিও আঁকে না আমার মনে এই কবিতা। তবু বারবার পড়ি শুধু এই কবিতার শব্দগুলো শুনবো বলে। নেশার মতন। শব্দের নেশায়।

আজ ভাষা দিবস। আমার জান প্রাণ মাতৃ সমান বাংলা ভাষা কে ভালোবেসে আজ।

কবিতার কাজে।।

(অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত)

একটি মেঘের নাম আবর্তক, সে যদি গর্জায়
সমস্ত নদীর নাম মেঘনা হয়, তারা ফুঁসে ওঠে।
কেউ বলল, একটি সংস্কৃত ছন্দ উপেন্দ্রবজ্রা,
তাতে যদি স্তোত্র বাঁধো, কী-শ্রাবণে অথবা শরতে

মেঘের আপীন থেকে অবিরল জল টেনে নিয়ে
দীর্ঘকাল বেঁচে থাকে অনাথ বালক। আয়ুব্রতে
এ সমস্ত সম্ভাবনা আছে, তবু কাজে না লাগিয়ে
বসেছি নদীর পাশে। যে- মেয়েটি আসন্ন-আঁধার
পুরিয়া ধানেশ্রী হয়ে ছুটে যায় আমি তার নাম
এখনো জানি না, তার দু-পায়ের রৌপ্য গহনার
গুজরিপঞ্চম নাম, শুধু সেইটুকু জেনে নিয়ে

কবিতার কাজে খুব সন্তর্পণে প্রয়োগ করলাম।।

20/02/2022

19/2/2022

বছরের দু একটা রোদেলা সকাল হয় শুধু কবিতার জন্য। আজ তেমনই এক সকাল।

এই পড়ে শেষ করলাম, বারবার তিন বার জয় গোস্বামী র এই অসামান্য উপহার।।

॥॥॥॥॥॥॥॥॥॥॥॥॥॥॥॥॥॥॥॥॥॥॥

মেঘ বলতে আপত্তি কি ? – জয় গোস্বামী

মেঘ বলতে আপত্তি কি ?

বেশ, বলতে পারি
ছাদের ওপর মেঘ দাঁড়াতো
ফুলপিসিমার বাড়ি
গ্রীষ্ম ছুটি চলছে তখন

তখন মানে ? কবে ?

আমার যদি চোদ্দো, মেঘের ষোলো-সতেরো হবে

ছাদের থেকে হাতছানি দিতো
ক্যারাম খেলবি ? … আয় …
সারা দুপুর কাহাঁতক আর ক্যারম খেলা যায়
সেই জন্যেই জোচ্চুরি হয়
হ্যাঁ, জোচ্চুরি হতো
আমার যদি চোদ্দো, মেঘের পনেরো-ষোলো মত।

ঘুরিয়ে দিতে জানতো খেলা শক্ত ঘুঁটি পেলে
জায়গা মত সরিয়ে নিতো আঙ্গুল দিয়ে ঠেলে
শুধু আঙ্গুল ? … বোর্ডের উপর লম্বা ফ্রকের ঝুল
ঝপাং ফেলে ঘটিয়ে দিতো ঘুঁটির দিক ভুল
এই এখানে … না ওখানে ..
এই এইটা না ঐটা
ঝাঁপিয়ে পড়ে ছিনিয়ে নিলো ঘুঁটির বাক্সটা
ঘুঁটির ও সেই প্রথম মরণ

প্রথম মরা মানে ?

বুঝবে শুধু তারাই … যারা ক্যারাম খেলা জানে।

চলেও গেলো কদিন পরে .. মেঘ যেমন যায়
কাঠফাটা রোদ দাঁড়িয়ে পড়ল মেঘের জায়গায়
খেলা শেখাও, খেলা শেখাও, হাপিত্যেস কাক
কলসিতে ঠোঁট ডুবিয়ে ছিলো, জল তো পুড়ে খাক
খাক হওয়া সেই কলসি আবার পরের বছর জলে …

ভরল কেমন তোমায় ? …

ধ্যাত্, সেসব কি কেউ বলে ? …
আত্মীয় হয় ..

আত্মীয় হয় ? আত্মীয় না ছাই
সত্যি করে বল এবার, সব জানতে চাই

দু এক ক্লাস এর বয়স বেশি, গ্রীষ্ম ছুটি হলে
ঘুরেও গেছে কয়েক বছর, এই জানে সক্কলে
আজকে দগ্ধ গ্রীষ্ম আমার তোমায় বলতে পারি
মেঘ দেখতাম, ছাদের ঘরে, ফুলপিসিমার বাড়ি।

20/02/2022

20/2/2022

সমর বাবুর এই লেখাটা আমি পড়ে ছিলাম যখন আমি কলেজ পড়ি। ৮০ র দশকের প্রথম ভাগ। মহানগর দেখেছি। মাধবী-অনিল। কোলকাতা-৭১ ও দেখেছি। আর কিছু মাসীমা-মেসোমশায়দের। সুখী সংসার। ধুতি পরে, ছাতা মাথায় আপিস যাওয়া। মাসীমার গোল ফর্সা মুখ, কপালে টিপ। গালে পান। দুগ্গা-দুগ্গা।

ফ্রন্টিয়ার, কৃত্তিবাস পড়ছি। মহীনের ঘোড়ার ক্ষুরের আওয়াজ শুনছি।

তখনও ইন্টারনেট আসে নি। তেমন পরিবর্তন ও নয়। তখনও কেউ কেউ চানঘরে যায় স্নান করতে গামছা পরে। সারা গায়ে তেল মেখে। বাজারে যায় লুঙ্গি পরে। বাজার থেকে ফেরে , এক হাতে ব্যাগ, এক হাতে আনন্দবাজার। বগলে ছাতা।

রবিবার দুপুরে মাংস ভাত হয়। রাত্রে লুচি। তখনও ট্রেন যাত্রা মানে হোল্ডল, কালো ট্রাঙ্ক আর লুচি-আলুদ্দম। সাথে সন্দেশ।

তখনোও বাঙালি মধ্যবিত্তের পরিচয় হয় নি ওয়েস্টার্ন টয়লেটের সাথে। কোন ম্যজিকে কে জানে, বিন্তি, চিন্তি, মামটু, পিন্টু, হাবুল, টুবলু , বাবা, মা , কাকা, কাকিমা, জেঠু, জেঠিমা, রাঙা দিদা আর সোনা দিদা একই সকালে তাদের সকলের নিত্য কাজকর্ম সারতেন বিনা ঝঞ্ঝাটে।

আমি যখন কবিতাটা পড়ে ছিলাম তখনও বেশ্যা কথাটা বড়ই নোংরা কথা। বাবা-কাকাদের আড্ডায় বাজে মেয়ে মানে একটা বিরাট ক্যনভাস। বুঝে নাও সুধীজন। পাড়ার আড্ডা তখনও হয়। রকে নয়। সাধন দার চায়ের দোকানে। তখনও লাশ পরে। আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে কালে ভদ্রে। বেশীটাই পাড়া-দখল আর প্রমোটার বেদখলের অজুহাতে।

এইরকম যখন সময়, হঠাৎ চোখে এলো এই কবিতা টা। সমর বাবুর। সেই থেকে আজ ও আমি যখনিই তিরিশ- চল্লিশ-পঞ্চাশ দশকের কোলকাতার কথা কোথাও পড়ি- এই বাম আন্দোলন, গাঁধীর অনশন, সলিলের গান বা বীরেন বাবুর স্তোত্র, হঠাৎ করে সব ছাপিয়ে ভেসে ওঠে এই কবিতাটা। প্রথম ৭ টা লাইন।

আমার কাছে ৪০-৫০ দশকের মধ্যবিত্ত নিত্য জনজীবনের এক অপূর্ব দলিল এই কবিতা। কবিতার প্রথম কয়েকটা লাইন আর শেষ দুটো লাইন আমার ডায়েরি তে লিখে রেখে ছিলাম।

কে জানতো সেদিন, শেষ লাইনদুটি র দিনও একদিন আসবে বা আসন্নপ্রায়।

জন্মদিনে।

(কবি সমর সেন)



আবার ফেরাও সহজ শহরে
যেখানে দশটা পাঁচটার পর
ক্লান্ত লোকেরা অন্তত নিঃশঙ্ক বাড়ি ফেরে;
সূর্যাস্তের সিঁদুর পশ্চিমে,
ঘরে ঘরে গৃহিনীরা গা ধোয়,
আর গা ঢাকা অন্ধকারে ঘরছাড়া বাবুরা
চকিতে বেপাড়ায় ঢোকে।

………..

পুরনো দিন ফেরে না কোনোদিন।
আকাশের দিকে তাকাই,
আগুনের গোলা যেখানে
আপনমনে জ্বলে;
ধুলো ওড়ে, নেড়া বট মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে
গতপত্র ক্লান্ত ভঙ্গীতে।
গাছের যৌবন তবু প্রতি বছরে ফেরে
আমরা ক্রমশ ডুবি স্বখাত সলিলে।

সহজ জীবনের পর মৃত্যু-
সে তো বটের উপর চাঁদের আলো,
কিম্বা শূন্য পাহাড়ে কুয়াশা।
ও ধ্রুপদী শান্তি আমাদের নয়;
অনিদ্রা থেকে দুঃস্বপ্নই আমাদের যাত্রায়

কাক ডাকে,
রোদেপোড়া উদ্বিগ্ন মুখের কালো শব্দ।
বাঙলায় বিহারে গড়মুক্তেশ্বরে
বিকলাঙ্গ লাশ কাঁধে
লোক চলে গোরস্থানে
কিম্বা পোড়াবার ঘাটে।

মৃত্যু হয়তো মিতালি আনে:
ভবলীলা সাঙ্গ হলে সবাই সমান-
বিহারের হিন্দু আর নোয়াখালির মুসলমান
নোয়াখালির হিন্দু আর বিহারের মুসলমান।



শুনি না আর সমুদ্রের গান
থেমেছে রক্তে ট্রামবাসের বেতাল স্পন্দন।
ভুলে গেছি সাঁওতাল পরগনার লাল মাটি
একদা দিগন্তে দেখা উদ্যত পাহাড়,
বাঈজীর আসরে শোনা বসন্তবাহার।
ভুলে গেছি বাগবাজারী রকে আড্ডার মৌতাত,
বালিগঞ্জের লপেটা চাল,
আর ডালহৌসীর আর ক্লাইভ স্ট্রিটের হীরক-প্রলাপ,
ডেক জাহাজের বিদেশী ডাক।
রোমান্টিক ব্যধি আর রূপান্তরিত হয় না কবিতায়।

যৌবনের প্রেম শেষ প্রবীণের কামে।
বছর দশেক বাদে যাব কাশীধামে।

Address

H 504, Elite Homz, Sector 77
Noida
201301

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Priyo Kobita posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category