15/03/2024
নিঝুম দুপুরে নীরেন্দ্রনাথ।
ইংরেজি তে একটা কথা আছে ‘কম্ফর্ট ফুড।’ আমি বাংলায় বলি ‘আরাম খাবার’। যেমন খেলে মনে শান্তি আসে, প্রাণে আরাম আসে। এই যেমন, শীতের সকালে লুচি-আলু ফুলকপির চচ্চড়ি। শেষ পাতে ঝোলা গুড়। বা বর্ষার রাতে খিচুড়ির সাথে গরম ঘি। মনে শান্তি। প্রাণে আরাম।
আমার দু’ একটা আরাম কবিতা আছে। কোথাও একলা ট্যুরে গেছি। গরম কাল। মাঝারি শহর। ইন্দোর বা রাঁচি। অথবা দুর্গাপুর। তুমুল রোদ্দুর। একলা হোটেলের ঘরে। ফোন স্যুইচ অফ করে, এসি বন্ধ করে, পাখা চালিয়ে দি। জানালার বাইরে রোদ্দুর। ঘরের ভেতরে পাখার হাওয়া। কেউ বিরক্ত করবে না এই সময়ে। এ সময় আমার। একান্ত। নিজস্ব।
কবিতার খাতা খুলে আরো একবার পড়ি আমার কমফর্ট কবিতার সেকশনের প্রথম কবিতা টা। এ কবিতা স্বপ্ন দেখায়। ভালোবাসায়। এমন কবিতা লেখা হয়ে ছিলো একদিন বলে মনে হয়, এ পৃথিবী কত সুন্দর। কবিতা পড়তে পড়তে কখন যেন ঘুমিয়ে পড়ি।
স্বপ্ন দেখি নিশ্চয় সেদিন। বাগান। পুকুর। একটা ছাদ। ছোট্ট মন্দির। উঠোন। কিছু প্রিয় মানুষের চলা ফেরা। ২৮/১১ র নটবর পাল রোডের দোতলা বাড়িটা। যেখানে ফেলে রাখা আছে ছোট্টবেলার অনেক সুখস্মৃতি। এই কবিতা আমায় ফিরিয় দেয় অনেক ভালোবাসার মুহূর্ত।
আমার আরাম কবিতা।
স্বপ্নে-দেখা ঘরদুয়ার।।
(নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী)॥
পুকুর, মরাই, সবজি-বাগান, জংলা ডুরে শাড়ি,
তার মানেই তো বাড়ি।
তার মানেই তো প্রাণের মধ্যে প্রাণ,
নিকিয়ে নেওয়া উঠোনখানি রোদ্দুরে টান্-টান্।
ধান খুঁটে খায় চাড়টে চড়ুই , দোলমঞ্চের পাশে
পায়রাগুলো ঘুরে বেড়ায় ঘাসে।
বেড়ালটা আড়মোড়া ভাঙছে, কুকুরটা কান খাড়া
করে শুনছে, কথা বলছে কারা।
পূবের সূর্য পশ্চিমে দেয় পাড়ি,
দুপুরবেলা ঘুমের থেকে জেগে উঠছে বাড়ি।
লাঠির ডগায় পুঁটলি বাঁধা, অনেকটা পথ ঘুরে
লোকটা যাচ্ছে দূরের থেকে দূরে।
ওর চোখেও কি এমন একটা বাড়ির স্বপ্ন টানা?
ওর মনেও কি গন্ধ ছড়ায় গোপন হাস্নুহানা?
ও বড়বউ, ডাকো ওকে ডাকো,
ওই যে লোকটা পার হয়ে যায় কাঁসাই নদীর সাঁকো।