22/04/2026
চার চারটে দিন মা স্কে ট্রি রা ই ফে ল কাঁধে পাহাড় জঙ্গলে পথ চলতে চলতে,শত্রু নিধনের জন্য অস্থির হয়ে উঠেছিল বছর পনেরোর কিশোর। একদিন সঙ্গীদের কাছে দৃপ্ত কণ্ঠে সে ঘোষণা করেছিল "এখন আমাদের কাজ অসম সাহসের সঙ্গে দ্বিধাহীন চিত্তে যু দ্ধ করা। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নিজের জায়গায় দাঁড়িয়ে থেকে ম র ণ প ণ যু দ্ধে শ ত্রু-নি ধ ন যজ্ঞ চালিয়ে যাব। শপথ নিচ্ছি মৃ ত্যু।" মাটিতে আঁচড় কেটে লিখেছিল 'D / E /A / T / H'...।
যু দ্ধ শুরু হওয়ার পর 'লাইং পজিশন' থেকে বারবার লাফিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে অকুতোভয়ে গু লি চালাচ্ছিল সে। শত্রুপক্ষের লু ই স গা ন থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে ছুটে আসা গু লি তে লু টি য়ে পড়ার পর পাশেই যু দ্ধ রত নিজের বড়োদাদাকে ক্ষীণকণ্ঠে শেষ বিদায়টুকু জানাতে পেরেছিল "সোনাভাই চললাম...।" প্রত্যুত্তরে নিজের 'পজিশন' থেকে এতটুকু না নড়ে,অবিচলিত কণ্ঠে দাদা জানিয়েছিলেন "যু দ্ধ ক্ষে ত্রে সোনাভাই কেউ নেই। আমরা সৈ নি ক,আমাদের কর্তব্য 'ডু অ্যান্ড ডা ই'! বীরের মত প্রা ণ দাও!" ছোটভাই হরিগোপাল বল, টেগরা নামেই যে সহ যো দ্ধা দের কাছে পরিচিত ছিল। বড়োদাদা লোকনাথ বল। জা লা লা বা দ পাহাড়ের যু দ্ধে যিনি ছিলেন ইন্ডিয়ান রি পা ব লি কা ন আ র্মির সে না পতি।
১৯২৯ সালে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বোস যখন চট্টগ্রাম রা জ নৈ তি ক জেলা কনফারেন্সে সভাপতিত্ব করতে এসেছিলেন তখন সতেরো বছরের স্বাস্থ্যবান, সুপুরুষ কিশোর তাঁর নজর কেড়েছিল। দুর্জয় সাহস এবং বিচক্ষণতার জন্য তাকে নিয়োগ করা হয়েছিল ইন্ডিয়ান রি পা ব লি কা ন আ র্মির ব্রি গে ডি য়া র পদে। যু দ্ধ চলাকালীন শ ত্রু প ক্ষের গু লি বি দ্ধ হয়ে তাকে লুটিয়ে পড়তে দেখে নিজেকে আর স্থির রাখতে পারেনি তার অন্তরঙ্গ বন্ধু এবং সহ যো দ্ধা আরেক কিশোর। ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে আসা গু লি অগ্রাহ্য করে বন্ধুর দিকে দৌড়ে এসেছিল সে। বন্ধুর ইউনিফর্মের বোতাম খুলে বুকের ক্ষ ত স্থা নের দিকে কয়েক মুহূর্ত নির্নিমেষ তাকিয়ে থেকে,বাষ্পাচ্ছন্ন চোখে আবার লাগিয়ে দিয়েছিল বোতাম। তারপর উঠে দাঁড়িয়ে 'অ্যা টে ন শ ন' পজিশনে সা ম রি ক অভিবাদন জানিয়েছিল শ হী দ ব্রি গে ডি য়া র ত্রিপুরা সেনকে। আবার নিজের পজিশনে ফিরে গিয়ে দ্বিগুন উদ্যমে চালিয়েছিল তার হাতের মা স্কে ট্রি। চোখের বদলে চোখ, র ক্তে র বদলে র ক্ত চাই। বন্দেমাতরম। লং লি ভ রি ভো লি উ শ ন। গ্রুপ ক্যাপ্টেন দেবপ্রসাদ গুপ্ত প্রতিজ্ঞা করেছিল শ ত্রু র শেষ দেখে ছাড়বে। আরেক স হ যো দ্ধা বছর পনেরোর নির্মল লালা গু লি বি দ্ধ হয়ে যখন লু টি য়ে পড়েছিল মাটিতে, তখন এই দেবপ্রসাদই ফের দৌড়ে এসেছিল নির্মলের কাছে। পরম স্নেহে কোলে তুলে নিয়েছিল মৃ ত্যু প থ যা ত্রী নির্মলের মাথা,হাত বুলিয়ে দিয়েছিল তার মাথায়,বুকে।
বিধু ভট্টাচাৰ্য এবং নরেশ রায় ছিল দুই অভিন্নহৃদয় বন্ধু। দু'জনেই ডাক্তারি পাশ করেছিল। দু'জনেই ছিল ইন্ডিয়ান রি পা ব লি কা ন আ র্মি র নিবেদিতপ্রাণ সৈ নি ক। যাঁদের কথা বলার ভঙ্গিমা বা স্রেফ শরীরী ভাষা উল্টোদিকের মানুষটির অট্টহাস্যের কারণ হতে পারে,বিধু ছিল সেই বিরল গোত্রের রসবোধের মানুষ। যু দ্ধ ক্ষে ত্রে গু লি বি দ্ধ হওয়ার পর সহাস্যে সে না প তিকে জানিয়েছিল "লোকাদা এতক্ষনে গু লি লেগেছে!" একের পর এক গু লি এসে বিঁ ধে ছি ল তার দেহে,আর বিধু তাদের সোল্লাসে আহ্বান জানিয়েছিল "আর কত ঢুকবি? ঢুকেছিসই যখন তখন আর আসে পাশে কেন? বু কে ঢু ক ছি স না কেন?"শেষপর্যন্ত তার বুকে গু লি লাগলে প্রিয় বন্ধুকে উদ্দেশ্য করে তার শেষ কথা ছিল "চললাম নরেশ। তুমিও এসো। তোমায় রিসিভ করবো!" বন্ধুর এই আহ্বান নরেশ বেশিক্ষণ উপেক্ষা করতে পারেনি। স্বা ধী ন তার স্বপ্নে বিভোর আরো এক শ হী দের র ক্তের অক্ষরে যেন লেখা হয়েছিল 'উদয়ের পথে শুনি কার বাণী, ভয় নাই, ওরে ভয় নাই'।
ব্রিটিশদের পক্ষে ছিল সুরমা ভ্যালি লাইট হর্স রে জি মে ন্ট একটি কোম্পানি এবং ইস্টার্ন ফ্র ন্টি য়া র রা ই ফে ল সের একটি কোম্পানির সঙ্গে ছিল ভি কা র্স মে শি ন গা নে র একটি এবং লু ই স গা নে র চারটি সেকশন। ব্রিটিশ সা ম রি ক ম্যানুয়াল অনুযায়ী এক একটি কোম্পানি গঠিত হত ১৫৬ জন সৈনিক নিয়ে। ভি কা র্স মে শি ন গা ন থেকে মিনিটে প্রায় সাড়ে তিনশো গু লি বৃষ্টি হচ্ছিলো। ইন্ডিয়ান রি পা ব লি কা ন আ র্মি র পঞ্চান্ন জন অকুতোভয় কিশোর-যুবকের সম্বল ছিল মা স্কে ট্রি রা ই ফেল, কিছু রি ভ ল ভা র,পি স্ত ল এবং তুলনায় সীমিত সংখ্যক কা র্তু জ। মা স্কে ট্রি র পাল্লা ছিল মাত্র ২০০ গজ এবং অন্যতম সমস্যা ছিল ব্যারেল এবং চেম্বারে ধোঁয়াবিহীন কালো বারুদ জমে যাওয়া। তাই নিরবছিন্ন গু লি ব র্ষণ করতে ক্রমাগত পরিষ্কার করে চালু রাখতে হচ্ছিল রা ই ফে ল গুলি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই কাজটি করে সহ যো দ্ধাদের মনোবল জুগিয়েছিলেন বাহিনীর সর্বাধিনায়ক মাস্টারদা সূর্য সেন। শ ত্রু পক্ষের মারাত্মক গু লি ব র্ষ ণে র মাঝে যখন 'লাইং পজিশন' থেকে যখন মাথা তোলা একপ্রকার অসম্ভব, তখন রুক্ষ পাথুরে জমিতে একপ্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে বুকে হেঁটে মা স্কে ট্রি আনা নেয়া করেছিলেন। বি প্ল বী দের গু লি যখন প্রায় ফুরিয়ে আসছে তখন ক্রমাগত 'ক ন্ট্রো ল ড ফা য়া র' করতে নির্দেশ দিয়ে গিয়েছিলেন,যাতে গু লি র অপ্রতুলতার ব্যাপারে শ ত্রু প ক্ষ বিন্দুমাত্র আঁচ না করতে পারে।
বি প্ল বী দের পক্ষে এছাড়াও শ হী দ হয়েছিল পুলিনবিকাশ ঘোষ, শশাঙ্ক দত্ত,মধুসূদন দত্ত, প্রভাস বল, যতীন্দ্র লালা এবং মতি কানুনগো। গুরুতর আ হ ত হয়েছিল অর্ধেন্দু দস্তিদার। পু লি শ ও মি লি টা রি তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করলে সেখানেই তার মৃ ত্যু হয়েছিল।
এছাড়াও গুরুতর আহত হয়েছিলেন অম্বিকা চক্রবর্তী, বিনোদ দত্ত এবং বিনোদ চৌধুরী।
যু দ্ধে র আগে চারদিন এই মৃত্যুহীন বিপ্লবীরা জালালাবাদ পাহাড়ে প্রায় অনাহারে বা অর্ধভুক্ত অবস্থায় দিন কাটিয়েছিলেন। অসহ্য তৃষ্ণায় জলের অভাবে কখনো তাঁরা গাছের পাতার রস নিংড়ে পান করেছিলেন আবার কখনো হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে বন্দুক পরিষ্কার করার মোবিল গলায় ঢেলে দিয়েছিলেন। বি প্ল বে র দুর্গম,বন্ধুর পথ তাঁরা সুগম করে নিয়েছিলেন তাঁদের অদম্য সাহস,সুদৃঢ় আত্মপ্রত্যয় এবং দেশের প্রতি নিখাদ ভালোবাসায়। তাঁদের দুর্জয় বৈ প্ল বি ক প্রেরণার কাছে শেষপর্যন্ত হার মেনে র ণে ভঙ্গ দিতে বাধ্য হয়েছিল ক্যাপ্টেন টেট, কর্ণেল ডালাস স্মিথ, ডি আই জি ফারমার প্রমুখের নেতৃত্বাধীন ব্রিটিশ বা হি নী।
আজ ২২ এপ্রিল, ৯৬ তম বর্ষপূর্তি হল ভারতের স শ স্ত্র আ ন্দো ল নে র ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়ের, যার নাম 'জা লা লা বা দ যু দ্ধ'।
'নিঃশেষে প্রা ণ যে করিবে দান, ক্ষ য় নাই তার ক্ষ য় নাই'।
#ডিডিবাংলা