বং Doze

বং Doze To promote the Bengali’s attire

বেহড় বাগী বন্দুক.......... ‌🔴‌💥🔵'কোই রাজপুত হ্যায় ইধর, যো মুঝে পানি পিলানে সকে ?' টানা বারো ঘন্টা ধরে চলা পুলিশের সাথে...
22/06/2026

বেহড় বাগী বন্দুক.......... ‌🔴‌💥🔵

'কোই রাজপুত হ্যায় ইধর, যো মুঝে পানি পিলানে সকে ?' টানা বারো ঘন্টা ধরে চলা পুলিশের সাথে গুলির লড়াইতে ঝাঁঝরা হয়ে যাওয়া মৃত্যু পথযাত্রীর আবেদনে সাড়া দিয়ে জলভর্তি ফ্লাস্ক নিয়ে এগিয়ে যান হাবিলদার ত্রিভুবন সিং। পেছন থেকে গর্জে ওঠেন ইন্সপেক্টর মহেন্দ্রপ্রতাপ সিং চৌহান, 'রুক যাও ত্রিভুবন। ডাকুয়ো কি কোই জাত নেহি হোতে!' একবুক তৃষ্ণা নিয়েই দুনিয়া ছাড়লেন চম্বলের সেই ডাকাত, মরণকালেও যিনি অন্য জাতের হাতে জল খেতে রাজি ছিলেন না ! ১৯৮১ সালের ঘটনা, রাত পোহালেই গান্ধী জয়ন্তী !

যাচ্ছিলাম গোয়ালিয়র এক পেপার মিলে ইন্টারভিউ দিতে। আগ্রা থেকে ট্রেন ধরেছি সকালে। কিছুক্ষণ পরেই বদলে গেল দুপাশের দৃশ্য। সবুজ বনানীর জায়গায় এলো কেমন যেন রুক্ষ ঢেউ খেলানো জমি আর বালিয়াড়ি। এই দেখছি মানুষ, পরমুহুর্তেই গায়েব। চোখে বিস্ময়ের ছাপ দেখে মুখ খুললেন পাশে বসা প্রৌঢ় মানুষটি, শুভ্র বসন মাথায় সাদা পাগড়ি কাঁচাপাকা ইয়া এক গোঁফ। ইসকো বোলতে হ্যায় 'বেহড়' বাবুজী। চমকে উঠলাম শুনে, এই তাহলে সেই চম্বল ঘাঁটি!

চম্বল , নাম শুনলেই মনের মধ্যে সবার আগে যে ছবি ভেসে আসে, তা হল ডাকাত। মান সিংহ থেকে ফুলন দেবী – লম্বা গালপাট্টা, বন্দুক কাঁধে দাপিয়ে বেড়ানো ভয়ঙ্কর সব ডাকাতের ছবি।
মূলত উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ আর রাজস্থানের কিছু অংশ মিলিয়ে এই চম্বল। আর যে নদীকে ঘিরে এই নাম তারও নাম চম্বল। দেশের অন্যতম স্বচ্ছ এক নদী, অভিশপ্তও বটে। যার জল একবার খেলে নাকি মানুষ 'বাগী' বা বিদ্রোহী হয়ে যায়!

এখনও আছে ঐ বাগীরা ?
প্রশ্ন শুনে দীর্ঘশ্বাস ফেলেন বৃদ্ধ, হ্যায় তো বাবুজি লেকিন দুসরা বেশ মে। পহলে উয়োলোগ আমীর কো লুটতা অব গরীব কো পেটমে লাথ মারতে হ্যায়! বুড়োর ইঙ্গিত বুঝতে দেরি হলোনা। ততক্ষণে ট্রেন ঢুকে পড়েছে ভিন্দ স্টেশনে। চল্লিশ বছর আগে এখানেই পুলিশ এনকাউন্টারে নিহত হয় চম্বলের শেষ বাগী, যার জীবনী উঠে এসেছে রূপালী পর্দায় ........ পান সিং তোমর ! ‌💥

১৯৩২-এ চম্বল উপত্যকার মোরেনা জেলার ভিড়োসা গ্রামে জন্ম এই তরুণ আঠারো বছর বয়সে যোগ দেয় ভারতীয় সেনাবাহিনীতে। ছফুটের ওপর লম্বা পানসিং ভর্তির সময়তেই নজর কেড়ে নেয় সেনা কর্তাদের। তাঁর দৌড়ানোর ভঙ্গী ও শারীরিক সক্ষমতা তাঁকে পাকাপাকি ভাবে জায়গা করে দেয় বাহিনীর Athletics কোটায়। খাতায় কলমে ছিলেন রুরকি'তে 51 Engineering রেজিমেন্টের Bengal Engineer Group এর সুবেদার। নাম শুনে আবার বাঙালি রেজিমেন্ট ভেবে আহ্লাদিত হবেন না যেন! পাক্কা দশবছর ধরে ছিলেন ৩০০০ মিটার Steeplechase এ জাতীয় চ্যামপিয়ন। ১৯৫৮ সালে টোকিও এশিয়ান গেমসে দেশের হয়ে সোনা জিতেছেন। ক্রীড়া জগতের এই নক্ষত্রকে ৬২ এবং ৬৫ তে যুদ্ধে অব্দি যেতে দেয়া হয়নি, যদিও এই সিদ্ধান্তে খুশি ছিলেন না পানসিং তোমর।

মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে এই Steeplechase ইভেন্টটা কি........? Steeple শব্দের অর্থ গীর্জার চূড়ো। বহু অতীতে ইউরোপের সংবাদ বাহকেরা এই উঁচু চূড়ো লক্ষ্য করে মাঠঘাট নদীনালা পেরিয়ে এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে ছুটে যেতো বা Chase করতো। সেই থেকে উৎপত্তি এই খেলার যা আসলে একধরনের হার্ডল রেস। যাইহোক নির্দিষ্ট চাকরির মেয়াদ উত্তীর্ণ হবার পরও সেনাবাহিনী তাকে প্রশিক্ষক রূপে রাখতে চেয়েছিল কিন্তু ১৯৭৭ সালে পান সিং ফিরে আসে নিজের গ্রামে।

একটুকরো জমি নিয়ে গন্ডগোলটা শুরু হয়েছিল আগেই কিন্তু পানসিং ফিরে আসার পর নতুন করে সেটা মাথা চাড়া দিলো। এমনিতেই চম্বলে চাষযোগ্য জমি কম তাই জ্ঞাতি ভাই জান্দেল ও বাব্বু সিংয়ের হাত থেকে জমির অধিকার ফিরে পেতে মরীয়া পানসিং পঞ্চায়েতের শরণাপন্ন হলো। কিন্তু প্রভাবশালী বাব্বু সিংয়ের সামনে অসহায় পঞ্চায়েত কোন সিদ্ধান্তেই আসতে পারলো না। রাজনৈতিক নেতাদের হাত তো ছিলোই তার মাথায়, সাথে বেশ কয়েকজন বন্দুকধারী স্যাঙাত। এর মাঝে সে একদিন দলবল নিয়ে চড়াও হয় পান সিংয়ের বাড়িতে। কাউকে না পেয়ে তার বৃদ্ধা মাকেই মারধর করে চলে যায়। বস্তুত সেদিনের ঘটনার মধ্যেই লুকিয়ে ছিল ভবিষ্যতের এক বাগী'র অঙ্কুর। ছেলেরা ফিরে আসতে মা শুধু বলেছিলেন, 'লৌটা দে মেরি ইজ্জত!'

পরদিন ভোর হতেই নিজের লাইসেন্স বন্দুক নিয়ে বেরিয়ে পড়ে পানসিং, সঙ্গী বড়োভাইয়ের ছেলে বলবন্ত। নিজেদের জমিতে চাষের তদারকি করছিল বাব্বু সিং, কিন্তু ওর সঙ্গীরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই গুলি চালায় পান সিং। প্রাণভয়ে দৌড় লাগায় সে, কিন্তু থোড়াই পারবে এক জাতীয় পর্যায়ের দৌড়বীরের সাথে! বলবন্তের গুলি থেকে বাঁচতে পালিয়ে যায় বাকি সঙ্গীরা।‌🔴

সেই শুরু, বছর না ঘুরতেই বিপক্ষ দলের হাতে খুন হয়ে যায় পান সিংয়ের বড়োভাই মাতাদীন। বদলা নিতে পান সিংয়ের দলের হাতে খুন হয় আটজন গ্রামবাসী। প্রশাসন পঞ্চাশ হাজার টাকা ঘোষণা করে পান সিংয়ের মাথার দাম। বাছাই করা দুশো কনস্টেবল নিয়ে তৈরি হয় মধ্যপ্রদেশ পুলিশের বিশেষ টিম। অবশেষে এলো সেই দিন....!

১লা অক্টোবর, ১৯৮১.
ভিড়োসা গ্রামের এক ইনফরমারের কাছ থেকে খবর পেয়ে ভোররাতে পুলিশ 'নাকাবন্দী' করে ভিন্দের কাছে 'রথিয়া কা পুরা' গ্রাম। আগের রাতেই ১৫ জন বিশ্বস্ত সঙ্গী নিয়ে সেখানে পৌঁছেছে পান সিং। বারোঘন্টা ধরে চলা গুলির লড়াইয়ে নিকেশ হয় দলবল সহ পানসিং তোমর, সেই সাথে শেষ হয় ক্রীড়া জগতের এক বর্ণময় অধ্যায়! প্রসঙ্গত ওনার একমাত্র পুত্র সৌরাম সিং তোমর ও ভারতীয় সেনাবাহিনীর একজন অবসরপ্রাপ্ত সুবেদার। প্রতিহিংসার আগুন থেকে বাঁচতে সপরিবারে থাকেন চম্বল ঘাঁটি থেকে দূরে ঝাঁসিতে।

কেমন আছে আজ চম্বল.....?
বছরে প্রায় ৮০০ হেক্টর রেটে বেড়ে চলা 'বেহড়' আজ ওখানে সবচেয়ে বড়ো সমস্যা। চম্বলে ডাকাতরা বহুদিন থেকেই নেই। এখন তাদের জায়গা নিয়েছে বালি মাফিয়ারা। দিনরাত চম্বল নদী থেকে বালি তুলছে। আর করবেই বা কি.... ? না আছে সেখানে কলকারখানা না আছে চাষের জমি। আর তাই পুলিশ থেকে প্রশাসন, সবাই সব জেনেও চুপ!
কলমে ✍🏻 স্বপন সেন 🌲

 #জরা_ইয়াদ_করো_কুরবানী....... চতুর্থ পর্ব 🔥‌🔥কবরস্থান দেখেছেন  ? দেখেছেন নিশ্চয়ই,  হয় মানুষের নয় জীবজন্তুর কিন্ত যদি বল...
22/06/2026

#জরা_ইয়াদ_করো_কুরবানী....... চতুর্থ পর্ব 🔥‌🔥

কবরস্থান দেখেছেন ?
দেখেছেন নিশ্চয়ই, হয় মানুষের নয় জীবজন্তুর কিন্ত যদি বলি যুদ্ধের ট্যাঙ্কের ? অবাক হলেন তো !
সেটাই কিন্ত বানিয়েছিল ভারতীয় সেনা, তাও এক দুটো নয় ......মোট সাতানব্বইটা, তাও আবার প্যাটন ট্যাঙ্ক! আর এই কাহিনীর নায়ক এক বত্রিশ বছরের সেনা হাবিলদার, #আবদুল_হামিদ 🌹

সাল 1965, খেমকরণ সেক্টর পাঞ্জাব ....... সেপ্টেম্বরের শুরুতেই পাক সেনা হুড়মুড় করে ঢুকে পড়লো জম্মু কাশ্মীরের আখনুর সীমান্ত দিয়ে । আরেকটা দল অনুপ্রবেশের উদ্দেশ্যে জড়ো হলো খেমকরণ সীমান্তে । এই সীমান্তে তখন মোতায়েন ছিল ভারতীয় সেনার 4th. গ্রেণেডিয়ার রেজিমেন্ট ।অমৃতসর থেকে ষাট কিলোমিটার দূরে পাক সীমান্ত ঘেঁষা এক গ্রাম অসল উত্তর যার পাশ দিয়ে গেছে 21 নং হাইওয়ে । পাক বাহিনীকে রুখবার জন্য এই গ্রামেই অর্ধ চন্দ্রাকারে অবরোধ সাজালো ভারতীয় সেনা । ভারী অস্ত্র বলতে তাদের কাছে ছিল সেদিন জীপে বসানো 106 RCL গান বা anti-tank gun .‌💥

৮ই সেপ্টেম্বর, ভোরের আলো ফোটার সাথে সাথেই পাক সেনা প্যাটন ট্যাঙ্ক নিয়ে ভাঙতে এলো অবরোধ । প্রবল গোলাবর্ষণে আগুন ঝরাতে লাগলো গ্রামের প্রতিটি কোণায় । হাবিলদার আবদুল হামিদ ছিলেন জীপের ওপর বসানো একটা ট্যাঙ্ক বিধ্বংসী কামানের চার্জে । রাস্তার ধারে বড় বড় আখগাছের আড়ালে লুকিয়ে রেখেছিলেন তার বাহনটাকে । তিনটে ট্যাঙ্ক গোলা ছুড়তে ছুড়তে এগিয়ে এলো সেদিকে । নাগালের মধ্যে আসতেই অব্যর্থ লক্ষে আঘাত করলেন একটা ট্যাঙ্কে ....দাউদাউ করে জ্বলে উঠলো পাকিস্তানের গর্ব প্যাটন ! দেখে বাকি দুটো ট্যাঙ্ক থেকে পাক সৈন্যরা ভয়েই পালালো । দিনের শেষে একই কায়দায় হামিদ আরো দুটো প্যাটন ট্যাঙ্ক ধ্বংস করলেন ।‌🔥

পরদিন পাকিস্তান স্যাবার জেট নিয়ে ওখানে আক্রমণ চালালো যাতে তাদের সাঁজোয়া বাহিনী বিনা বাধায় এগিয়ে যেতে পারে । ভারতীয় সেনা সেদিন চুপচাপ গ্রামের আখ ক্ষেতের আল গুলো কেটে রাখলো যাতে জল ঢুকে মেঠো রাস্তা কাদায় ভরে যায় এবং ট্যাঙ্ক চলতে না পারে ।‌🌲

১০ই সেপ্টেম্বর সকাল আটটা ,
ভয়ংকর গোলা ছুড়তে ছুড়তে এগিয়ে আসতে লাগলো পাক সাঁজোয়া বাহিনী । ফরোয়ার্ড লাইন ভেঙে তারা চলে এলো একদম হাইওয়ের ওপর । নিজের নিরাপত্তার কথা একটুও না ভেবে হামিদ বাঘের মতো তার কামানবাহী জীপ নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়লেন তাদের ওপর । নির্ভুল লক্ষে আঘাত করেই সরে পড়েন অন্যদিকে যাতে তাকে নিশানা না করতে পারে । পাঁচটা ট্যাঙ্ক ঘায়েল করে যখন ছয় নম্বরের দিকে এগোচ্ছেন তখনই গোলার আঘাতে জীপশুদ্ধ ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় তাঁর দেহ ! ঐ আখক্ষেতেই সমাধিস্থ করা হয় তাঁকে ।
একজন সেনার হাতে আটটি আধুনিক ট্যাঙ্ক ধ্বংসের নজির সারা বিশ্বে কোথাও নেই । অনবদ্য এই বীরত্বের জন্য দেয়া হয় তাঁকে মরণোত্তর পরমবীর চক্র ! ‌🏵️

তাঁর এই বলিদান বিফলে যায়নি । সহযোগী সেনারা বিপুল উৎসাহে ঝাঁপিয়ে পড়ে কাদায় ফেঁসে যাওয়া পাক ট্যাঙ্ক গুলোর ওপর । বাকি কাজ করে দেয় বিমান বাহিনী, তাদের ন্যাট আর মিগ আকাশ পথে হামলা চালিয়ে খেমকরণ তালুককে বানিয়ে দেয় প্যাটন ট্যাঙ্কের গোরস্থান! লেজ তুলে পালায় পাকিস্তানী হানাদারেরা ।

সবশেষে বলি দু’দেশের দুই বিখ্যাত মানুষ এই যুদ্ধে আবদুল হামিদের সাথে লড়াই করেছিলেন, একজন পক্ষে অন্যজন বিপক্ষে । পক্ষে ছিলেন আন্না হাজারে, পরে যিনি সমাজসেবী হিসাবে নাম করেছিলেন । পাক সাঁজোয়া বাহিনীর সাথে সেদিন হামলা চালিয়েছিল এক তরুণ ক্যাপ্টেন, যিনি পরে সেদেশের প্রেসিডেন্ট হন....পারভেজ মুশারফ !‌💥
‌🌲 সংকলনে ✍🏻 স্বপন সেন ‌🌲

হায় হাসান, হায় হোসেন..........‌🌑🔴ব্যাপারটা কি মশাই, মহরমের আগেই হঠাত কারবালা প্রান্তরে চলে গেলেন কেন? আরে মশাই গেছি কি...
22/06/2026

হায় হাসান, হায় হোসেন..........‌🌑🔴

ব্যাপারটা কি মশাই, মহরমের আগেই হঠাত কারবালা প্রান্তরে চলে গেলেন কেন? আরে মশাই গেছি কি আর এমনি, বাংলা জুড়ে এখন সবাই যে জপছে এই নাম ! কিন্তু কেসটা কি ? মাত্র তিন মিনিট লাগবে, পড়ে নিন।

1932 সালের 6ই ফেব্রুয়ারী, সিনেট হলে চলছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন উৎসব । মঞ্চে উপস্থিত আচার্য বাংলার গভর্নর স্ট্যানলি জ্যাকসন ও আরও অনেক বিশিষ্ট অতিথি । একে একে তাদের হাত থেকে মানপত্র নিচ্ছে কৃতি ছাত্র ছাত্রীরা, শেষদিকে মঞ্চে উঠে এলো কনভোকেশন গাউন পরিহিতা এক বঙ্গ তনয়া। গভর্নর করমর্দন করার জন্য যেই হাত বাড়িয়েছেন অমনি গাউনের ভেতর থেকে বের করলো রিভলভার । পরপর পাঁচটা গুলি .... ‌💥

বীনা হয়তো জানতেন না যাকে উনি গুলি করতে যাচ্ছেন তিনি উনবিংশ শতকের শেষ ও বিংশ শতকের প্রথম দিকের এক বিরাট ক্রিকেটার। আ্যলেরটনের ধনী জমিদার বা ব্যারনের পুত্র স্যার ফ্রান্সিস জ্যাকসনের পড়াশোনা হ্যারো তে। তাঁর জুনিয়র বা ফ্যাগ ছিলেন উইনস্টন চার্চিল। ১৭ বছর বয়সে ইটন বনাম হ্যারো ম্যাচ দিয়ে তাঁর বড় ক্রিকেটে হাতে খড়ি। পরের বছর ইটনের বিরুদ্ধে ৫৯ করে শুরু করলেন জয়যাত্রা। ১৭ বছরের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট জীবনে ১৫,০০০ রান ও ৭৫০র বেশি উইকেট নিয়ে শেষ করেন তিনি। টেস্ট খেলেন মাত্র ২০ টা আর তাতেই ১৪১৫ রান, গড় আটচল্লিশ। মোট ৫ টা সেঞ্চুরী। হাজার হোক পুরানো খেলোয়াড়, রিফ্লেক্স যাবে কোথায় ?

সম্বিত ফিরে পেয়ে প্রথম চেয়ার থেকে উঠে আসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য #হাসান সুরাবর্দি। জাপটে ধরলেন মেধাবী বীনাকে। সেই অবস্থাতেই আবারো গুলি চললো, যদিও একটা গুলিও জ্যাকসনের দেহ স্পর্শ করলো না । গুলি শেষ হয়ে গেলে অসহায় আত্মসমর্পণ। তারপর সেই চিরাচরিত প্রশ্ন, কোথায় পেলে রিভলভার..... কে দিলো ?

শত অত্যাচারেও মুখ খোলাতে না পেরে পুলিশ লক আপে হাজির করলো বাবা , বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ বেণীমাধব দাসকে যিনি নেতাজীর শিক্ষক ছিলেন । অর্থাত তিনি একবার মেয়েকে বুঝিয়ে বলুন মুখ খুলতে। সেই মেয়ে তখন পুলিশকে বললো, 'কেন শুধু শুধু বাবাকে আনলেন, উনি কি আমাকে বিশ্বাসঘাতক হতে বলবেন!'

প্রথমে ডায়াসেশন ও পরে বেথুন কলেজে পড়া বীনা দাসের জন্য আদালতে রোজই হাজিরা দিতেন মিশনারী সিস্টাররা । বিচার কালে তার বিবৃতি শুনে হৈচৈ পড়ে গেল শুধু এদেশে নয় বিলেতেও । এতো শুধুমাত্র বিবৃতি নয় , classic literature !
আদালতে সিস্টাররা তার দৃঢ়তা দেখে বিচারককে বললেন, "Just see, doesn't she looks like Madonna ?"
তাদেরই অনুরোধে ফাঁসির বদলে হলো নয় বছরের সশ্রম কারাদণ্ড । জেল থেকে মুক্তির পর তিনি কংগ্রেস দলে যোগ দেন এবং ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সময় আবার তিন বছরের জন্য জেলে যান । পদ্মশ্রী পুরস্কার পাওয়া এই স্বাধীনতা সংগ্রামীর শেষ জীবন বড়ো কষ্টের। হৃষিকেশে এক অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে মারা যান এবং কোন দাবীদার না থাকায় অজ্ঞাতপরিচয় লাশ হিসেবে পুলিশ জ্বালিয়ে দেয় তাঁর মরদেহ। দেশসেবার কি দারুন পুরস্কার!

অন্যদিকে প্রভুভক্তির জন্য ইংরেজরা সুরাবর্দিকে নাইট (OBE) উপাধিতে ভূষিত করে।১৯৩৩ সালে কলকাতা পুরসভা পার্ক সার্কাস এলাকায় তাঁর বাড়ির সামনের রাস্তাটির নামকরণ করে 'সুরাবর্দি অ্যাভিনিউ'! এনারই সুযোগ্য ভাইপো হোসেন সুরাবর্দি ছিলেন অবিভক্ত বাংলার শেষ প্রধানমন্ত্রী এবং দি গ্রেট ক্যালকাটা কিলিংয়ের খলনায়ক! কি করে #সুরাবর্দি নামটা এতোদিন মহানগরীর বুকে রয়ে গেছিল সেটাই আশ্চর্য!
🌲 কলমে ✍🏻 স্বপন সেন ‌🌲

ভক্তের ভগবান........‌🍂🍂বাঙালির অতি প্রিয় ভ্রমণ তালিকা "দী পু দা" এর দুনম্বরে পুরী। রথদেখা কলাবেচা কথাটার উৎপত্তি সম্ভবত...
21/06/2026

ভক্তের ভগবান........‌🍂🍂

বাঙালির অতি প্রিয় ভ্রমণ তালিকা "দী পু দা" এর দুনম্বরে পুরী। রথদেখা কলাবেচা কথাটার উৎপত্তি সম্ভবত এখান থেকেই। এখানকার অধিষ্ঠিত দেবতা হলেন জগন্নাথ। নুলো ঠাকুর হলে কি হবে তার দর্শনের নিয়মকানুন বেশ কড়া। অন্য ধর্মের মানুষ তো দূরের কথা, হিন্দু ধর্মেরই নিম্নবর্ণের লোকজনের মন্দিরে প্রবেশাধিকার নেই। শুনেছি খোদ ইন্দিরা গান্ধীকেও নাকি প্রবেশ দ্বারে আটকে দেয়া হয়েছিল। সে যাকগে, এটা কি জানেন একজন মানুষ সারা জীবন প্রাণপাত করে জগন্নাথ দেবকে উৎসর্গ করে ওড়িয়া ভাষায় অসংখ্য ভজন লিখে গিয়েছেন। তবু আমৃত্যু তাকে পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হয়নি, একটাই কারণে..... তিনি ছিলেন মুসলমান।‌🎅

মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের আমলে কলিঙ্গ অঞ্চলের এক বিশ্বস্ত সুবেদার ছিলেন ‘লালবেগ’। এই দুর্ধর্ষ যোদ্ধা-সুবেদার একজন ব্রাহ্মণ বিধবাকে অপহরণ করে বিবাহ করেন এবং তার নাম রাখেন ফতেমা বিবি। আসল নামটি জানা যায়না। যথাসময়ে তাদের ঔরসে জন্ম নেয় এক পুত্রসন্তান, নাম সালবেগ।
বড় হয়ে সালবেগ বাবার মতই দুর্ধর্ষ যোদ্ধা হয়ে উঠলেন। একের পর এক বহিরাগতদের আক্রমণ প্রতিহত করে তিনি মোঘল দরবারেও ছিলেন সম্রাটের প্রিয়পাত্র। প্রচলিত লোককথা অনুসারে, একবার যুদ্ধ থেকে ফিরে সাংঘাতিক জ্বরে পড়লেন সালবেগ। মায়ের নির্দেশে তিনি প্রভু জগন্নাথের কাছে তার অসুখ সারিয়ে দেবার জন্য প্রার্থনা করতে থাকেন। সেরে উঠলেন তিনি আর তারপরেই যুদ্ধ টুদ্ধ ছেড়ে দিয়ে জগন্নাথদেবের একনিষ্ঠ ভক্ত হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেন। এরপরে তিনি তার প্রাণের ঠাকুরকে দেখতে চলে আসেন পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে। কিন্তু মন্দিরের নিয়ম অনুযায়ী সেই সময়ে উচ্চবর্ণের হিন্দু ছাড়া কাউকে মন্দিরে ঢুকতে দেওয়া হতো না। হতাশ ও অপমানিত সালবেগ বৃন্দাবন অভিমুখে যাত্রা করেছিলেন বলে শোনা যায়।

বৃন্দাবন থেকে ফেরার দিন হিসেবে ঠিক করলেন রথযাত্রার দিনটি। ঐদিন জগন্নাথদেব রথে চেপে মাসির বাড়ির দিকে যান, উনি ঠিক করলেন তখনই রাজপথে জগন্নাথ-দর্শন করবেন। কিন্তু পথে তার দেরি হয়ে যায়। প্রার্থনা করেন তিনি না পৌঁছনো অবধি প্রভু যেন তার জন্য অপেক্ষা করেন। লোককথা অনুসারে, সালবেগ না আসা পর্যন্ত সেদিন রথের চাকা একচুল নড়ানো যায়নি।

অন্য একটি লোককথা অনুসারে, একবার তিনি দিল্লি থেকে পুরী ফিরছিলেন বালেশ্বর হয়ে। পথে তিনি বিশ্রামের জন্য বালেশ্বরের স্বামীনারায়ণ মন্দিরের কাছে আশ্রয় নিলেন। সন্ধ্যায় তাঁর আরতি দেখার ইচ্ছা হয়, কিন্তু সেদিন ও তাকে মন্দিরের ভিতর ঢুকতে দেওয়া হয়নি। উনি তখন বিছানায় শুয়ে মন দিয়ে আরতির ভজন ও কৃষ্ণমহিমা শুনতে লাগলেন । পরের দিন মন্দিরের প্রধান পুরোহিত দেখেন, গর্ভগৃহ থেকে মূর্তি উধাও! সেই রাতেই রাজা স্বপ্নে দেখলেন দেবতা মন্দির ছেড়ে বেরিয়ে এসেছেন তার প্রিয় ভক্তের সাথে দেখা করার জন্য। সকালে উঠেই রাজা মন্দিরের দেওয়ালে ফুটো করার আদেশ জারি করলেন। সালবেগ সেই ছিদ্রে চোখ লাগাতেই দেবতা আবার নিজের জায়গায় আবির্ভূত হলেন। সেদিন ঐ ফুটো দিয়েই আরতি দেখেছিলেন তিনি।

ভিনধর্মে জন্ম তার ভক্তসাধনার মাঝে কখনোই অন্তরায় হয়ে উঠতে পারেনি। একজন মুসলিম কবি হয়েও একের পর এক ভজন লিখে গেছেন তার প্রিয় প্রভুর জন্য। যিনি প্রভুর চেয়েও বেশি একজন বন্ধু! শোনা যায় মৃত্যুর আগে বলেছিলেন, “যদি আমার ভক্তির জোর থাকে তবে মৃত্যুর পর প্রভু আমার কবরে আসবেন।” সালবেগকে জগন্নাথ মন্দির ও গুণ্ডিচা মন্দির অর্থাৎ জগন্নাথের মাসির বাড়ির মাঝে কবর দেওয়া হয়। বর্তমানে এই কবরটি পুরীর গ্র্যান্ড রোডের ওপর পড়ে এবং সেখান দিয়েই রথযাত্রা যায়।

একবার হঠাৎ রথযাত্রার সময় রথের চাকা ঐ কবরের সামনে আটকে যায়। শত চেষ্টা করেও তাকে সরানো না গেলে, তৎকালীন উৎকল রাজ সবাইকে সালবেগের নামে জয়ধ্বনি দিতে আদেশ দেন। জয়ধ্বনি উঠতেই আবার গড়াল রথের চাকা। এই রীতি আজ অবধি পালন করা হয় রথযাত্রার সময়। স্বয়ং ভগবান তার এক বিধর্মী ভক্তকে এই রীতির মধ্যে দিয়ে অমর করে গেলেন।‌🌹

উপসংহার: কিছুটা স্থানীয় মানুষের মুখে শোনা, বাকিটা আপন মনের মাধুরী মেশানো। কোন কাগজ আমি দেখাতে পারবো না!
🏵️ জয় জগন্নাথ‌ 🏵️
‌‌🌲 কলমে ✍🏻©️ স্বপন সেন 🌲

অয়লারস স্পয়লার্স..…... ‌🌐🌐 #বিজ্ঞান_কতামার্কিন মুলুকে এক ছোট্ট হোটেলের ঘটনা। সকালে এক বাঙালি ভদ্রলোক গেছেন বিল মেটাতে। ট...
21/06/2026

অয়লারস স্পয়লার্স..…... ‌🌐🌐
#বিজ্ঞান_কতা

মার্কিন মুলুকে এক ছোট্ট হোটেলের ঘটনা। সকালে এক বাঙালি ভদ্রলোক গেছেন বিল মেটাতে। টেবিলের ওপর রাখা নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রথম পাতাটা দেখিয়ে ক্যাশিয়ার জিজ্ঞাসা করলেন, এই ছবিটা কি তোমার? উনি মৃদু হেসে ঘাড় নাড়লেন। ক্যাশিয়ার তখন বললেন, তুমি নিশ্চয় বড় রকমের কিছু একটা করেছো, কারণ নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রথম পাতা মিলিয়ন ডলার দিয়ে কেনা যায় না !

দিনটা ছিল ১৯৫৯ সালের ২৬শে এপ্রিল। দুদিন আগেই এক বিখ্যাত গবেষণার ফলাফল পেশ হয়েছে আমেরিকান ম্যাথমেটিক্যাল সোসাইটির সম্মেলনে। সেই গবেষণার ওজন এমনই যে, পরদিন নিউ ইয়র্ক টাইমসের সায়েন্স এডিটর নিজেই গিয়েছিলেন ওই বিজ্ঞানীর ইন্টারভিউ নিতে। ওই রবিবার সেই সাক্ষাৎকারটি ছাপা হয়েছিল পত্রিকার প্রথম পাতায় সঙ্গে তাঁর ছবি এবং গবেষণার বর্ণনা।

হ্যাঁ, ছয় দশক আগে সত্যি বড় রকমের একটা অঘটন ঘটিয়েছিলেন বাঙালি গবেষক রাজচন্দ্র বসু, সহ গবেষক ছিলেন ই টি পার্কার এবং শঙ্কর শ্রীখন্দ। প্রবাদপ্রতিম সুইস গণিতজ্ঞ অয়লারের পৌনে দুশতকের পুরোনো একটি ধারণা এবং তত্ত্বকে ভুল প্রমাণ করে দিয়েছিলেন তিনি।

আঠারো শতকের ডাকসাইটে অঙ্কবিদ লিওনার্ড অয়লার মারা য়ান ১৭৮৩ সালে। তার ঠিক আগের বছর ১৭৮২-তে অয়লার একটি গাণিতিক অনুমান করেন, যা পরিচিত কনজেকচার নামে। একে একরকম ধাঁধাই বলা চলে। ১৯৫৯ সালে এই বিজ্ঞানীরা ভুল প্রমাণ করেন অয়লারকে। ফলশ্রুতিতে বসু সহ তিন বিজ্ঞানীর নামই হয়ে গেল অয়লারস স্পয়লার্স। তাঁদের এই গবেষণা খুলে দেয় রাশি বিজ্ঞানের এক নতুন শাখা। তবে গণিতের জগতে তিনি অমর হয়ে থাকবেন বোস-মেসনার অ্যালজেব্রা ও ডিজাইন থিয়োরির জন্য। জ্যামিতিক উপপাদ্যতে প্রচলিত B*H কোড তারই নামের আদ্যক্ষর দিয়ে পরিচিত।

১৯০১ সালে #১৯শে_জুন মধ্যপ্রদেশের হোসাঙ্গাবাদে জন্মগ্রহণ করেন প্রবাদপ্রতিম এই গণিতজ্ঞ। বাবা প্রতাপ চন্দ্র ছিলেন সেনাবাহিনীর ডাক্তার। ছোটবেলা কেটেছে পাঞ্জাবের রোহতকে। দিল্লির হিন্দু কলেজ থেকে স্নাতক হবার বছরেই বাবা মারা যান। খরচ চালানোর জন্য শিক্ষকতা শুরু করেন সেন্ট স্টিফেন স্কুলে। স্কলারশিপ পেতে একবছর পর ফলিত গণিত নিয়ে M.Sc ক্লাসে ভর্তি হন। ১৯২৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক শ্যামাদাস মুখার্জির অধীনে রিসার্চ এসোসিয়েটস হয়ে যোগ দেন। অর্থাভাবে মাঝপথে বন্ধ হয়ে যায় তার গবেষণা, শুরু করেন জ্যামিতির ওপর বই লেখা। শিক্ষা মহলে খ্যাতি পায় তার লেখা বই।

ভাগ্য সহায় হয় ১৯৩২ সালে যখন আচার্য প্রশান্ত মহালনবীশ তার নবনির্মিত ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউটে রাজচন্দ্রকে আংশিক সময়ের অধ্যাপক নিয়োগ করেন।
১৯৪৭ সাল, দেশ স্বাধীন হবার সাথে সাথে অধ্যাপক মশাইয়ের সামনে খুলে গেল আন্তর্জাতিক সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দরজা। আমন্ত্রিত অধ্যাপক হিসেবে সেবছর গ্রীষ্মে গেলেন মার্কিন মুলুকে ভার্জিনিয়া পলিটেকনিকে। পরের দু'বছর আমন্ত্রণ পেলেন নর্থ ক্যারোলিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যাপেল হিল কলেজ এবং ক্যালিফোর্নিয়ার বার্কলে থেকে। ১৯৪৯ সালের মার্চ মাসে পূর্ণ সময়ের অধ্যাপক রূপে নিয়োগ পান নর্থ ক্যারোলিনার চ্যাপেল হিলে। পাকাপাকি ভাবে দেশান্তরী হন পন্ডিত মানুষটি, পেয়ে যান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব।

এখানে বন্ধুবর Gautam Basu II এর কাছ থেকে শোনা একটি ঘটনার উল্লেখ না করে পারলাম না। সালটা সম্ভবত ১৯৬৬....
অ্যারিজোনা শহরের একটা হোটেলে, প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি. জনসন প্রবেশ করবেন একটু পরেই | হাফপ্যান্ট পরে এক অনামা পর্যটক বেড়াতে বেরিয়ে সেসময় হোটেলে ফিরছিলেন। প্রেসিডেন্টের সিকিউরিটি তখন ভয়ানক কড়া, কারন মাত্র বছর ২/৩ আগেই প্রেসিডেন্ট কেনেডীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে |

সিকিউরিটির ষন্ডা গার্ডেরা সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্সের জন্য সিগারেট খেতে থাকা প্রৌঢ় মানুষটিকে ধাক্কা মেরে সরাতে যান। আচমকা এই ধাক্কায় মাটিতে পড়ে যান উনি। আস্তে আস্তে উঠে দাঁড়িয়ে সবে জামাকাপড়ের ধুলো ঝাড়ছিলেন, এমন সময় লিন্ডন জনসনের প্রবেশ |

সকলকে হতবাক করে, প্রেসিডেন্ট এগিয়ে এসে, প্রৌঢ়ের হাত দুটি ধরে অনুনয় করে বলেন, প্রফেসার চলুন আমার সাথে ১কাপ কফি খাবেন।| দু'জনে একে অপরকে আলিঙ্গন করেন পরম উষ্ণতায় | তাই দেখে সিকিউরিটি চীফ বোঝেন আজ তাঁর চাকরীটা নিশ্চয়ই গেলো!

কফি খেয়ে বেরোনোর পরে সিকিউরিটি চীফ, হাতে ধরে ক্ষমা চান আর তার চাকরীটা যেন থাকে এমনই আবেদন রাখেন। মস্ত হাসিতে, সবটা ভুলিয়ে দিয়ে এগিয়ে চললেন প্রফেসার রাজচন্দ্র বসু | আত্মভোলা মানুষটা বলেন, তোমার কাজ তুমি সঠিকভাবেই করেছো, আমি তোমায় কোনও দোষারোপ করছি না ! অপসৃয়মান প্রফেসারের পিছনে গোটা দেহরক্ষী বাহিনী তখন স্যালুট ঠুকছে !!!!!!

৩১শে অক্টোবর ১৯৮৭, ঘুমের মধ্যেই না ফেরার দেশে চলে যান আম বাঙালির কাছে অচেনা আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এই বঙ্গসন্তান.....!
জন্মদিনে আমাদের শ্রদ্ধাঞ্জলি । ‌🌹🌹
কলমে ✍🏻 স্বপন সেন 🌲

রবীন্দ্রনাথ এখানে কোনদিন খেতে আসেননি.. ‌🏀আজ  #জামাইষষ্ঠী। রাম শ্যাম যদু মধু তো গেছেই শ্বশুরবাড়ি, সেই সাথে সোশ্যাল মিডিয...
20/06/2026

রবীন্দ্রনাথ এখানে কোনদিন খেতে আসেননি.. ‌🏀

আজ #জামাইষষ্ঠী। রাম শ্যাম যদু মধু তো গেছেই শ্বশুরবাড়ি, সেই সাথে সোশ্যাল মিডিয়া জোড়াসাঁকো থেকে রবিঠাকুরকেও পাঠিয়ে দিয়েছে নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে। আর ষষ্ঠী যখন তখন দুপুরে চর্ব্য চোষ্য লেহ্য পেয়-র আয়োজন তো থাকবেই। সে যাই হোক বর্ণনানুসারে খেতে বসেছেন তিনি, তত্ত্বাবধানে স্বয়ং শ্বশ্রুমাতা। শুরুটা হলো ঘি-করলা বা কাঁকরোল শুকতো দিয়ে তারপর নারকেল দিয়ে সোনামুগের ডাল আর ভাত, সঙ্গে কয়েকপদ ভাজা। আলু ভাজা, কুমড়ো ভাজা, পটল ভাজা, বেগুন ভাজা..। এরপর একে একে আসবে মোচা লাউ মাছ মিষ্টি...!
কবিবর খেতে থাকুন আমরা ততক্ষণে খোঁজ নেই কোথায় তিনি গিয়েছিলেন এই ষষ্ঠীর খাওয়া সারতে ?

জামাইষষ্ঠী যখন তখন কবি শ্বশুরবাড়ি ছাড়া আর যাবেনই বা কোথায় ? অধুনা বাংলাদেশের খুলনা জেলায় দক্ষিণডিহি গ্রামে ছিলো কবির শ্বশুরবাড়ি। ছিলো কেন বলছি, বাড়িটি এখনও আছে। তবে যখন ওনার বিয়ে হয়েছিল তখন অবশ্য গ্রামটি ছিল যশোর জেলার অন্তর্গত। মজার কথা হলো এই গ্রামেই ছিল কবির মামারবাড়ী। রবি ঠাকুরের মা সারদাসুন্দরী দেবী এখানেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন। এমনকি তাঁর কাকিমা ত্রিপুরাসুন্দরী দেবীও এই গ্রামের মেয়ে। বাল্য অবস্থায় মায়ের সাথে কবি দু-একবার মাত্র এসেছেন মামারবাড়ীর গ্রাম দক্ষিণডিহিতে।

রবীন্দ্র গবেষক প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের লেখায় জানা যায় ১৮৮৩ খ্রিষ্টাব্দে পূজার ছুটিতে জ্ঞানদানন্দিনী দেবী উৎসাহী হয়ে বাস্তুভিটা দেখার অজুহাতে যশোর জেলার নরেন্দ্রপুর গ্রামে যান। আসল উদ্দেশ্য কাছাকাছি পিরালী পরিবারের মধ্যে থেকে রবির জন্য বধূ নির্বাচন। জ্ঞানদানন্দিনী দেবীর সঙ্গে কাদম্বরী দেবী, বালিকা ইন্দিরা, বালক সুরেন্দ্রনাথ ও রবীন্দ্রনাথ এসেছিলেন পুরাতন ভিটা দেখতে। এই সময়েই দক্ষিণডিহি গ্রামের মেয়ে ফুলি ওরফে ভবতারিণীকে তাঁদের পছন্দ হয়। সংযোগ বশত মেয়েটির বাবা বেনীমাধব রায় ছিলেন ঠাকুরবাড়ি এস্টেটের বারো টাকা বেতনের গোমস্তা। চারহাত এক করাতে বেশি সময় নেননি গৃহকর্তা দেবেন্দ্রনাথ।

১৮৮৩ সালের ৯ই ডিসেম্বর বেনীমাধব ও দাক্ষায়ণীর প্রথম সন্তান ভবতারিণীর সাথে কবির বিবাহ সম্পন্ন হয়। তবে দক্ষিণডিহিতে নয়, কলকাতায় জোড়াসাঁকোর ঠাকুর বাড়িতে। পাত্রের বয়স তখন বাইশ আর পাত্রী মাত্র এগারো। বিয়ের দিন পরিবারে এক বড় বিপর্যয় নেমে আসে। কবির বড় বোন সৌদামিনী দেবীর স্বামী সারদা প্রসাদ গঙ্গোপাধ্যায় শিলাইদহে মারা যান। তারজন্য অবশ্য নববধূকে কেউ অপয়া আখ্যা দেয়নি।

ঠাকুর বাড়ির প্রথা মেনে বিয়ের পর ভবতারিণীর নাম রাখা হয় মৃণালিনী। সবচেয়ে বড় কথা এরপর সামাজিক প্রতিষ্ঠা বজায় রাখতে নতুন বধূর পুরো পরিবারকে দেবেন্দ্রনাথ জোড়াসাঁকোর বাড়িতে উঠিয়ে আনেন। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সেখানেই তাঁরা স্থায়ীভাবে বসবাস করেন।

সুতরাং "কোন এক জামাইষষ্ঠীর গল্প" নামক ভাইরাল পোস্টে উল্লেখিত ১৯০৩ সালে (বিয়ের কুড়ি বছর পরে) কবির শ্বশুরবাড়িতে নেমন্তন্ন খেতে যাবার বর্ণনা নিছকই একটি ফেসবুকীয় গল্প। বাস্তবে বিয়ের পর আদৌ কোনদিন কবি শ্বশুরবাড়ির গ্রাম দক্ষিণডিহিতে যাননি। আর জমিদারি দেখাশোনার জন্য পূর্ববাংলার শিলাইদহ, শাহজাদপুর ও পতিসরের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং সেসব স্থানে থেকে তিনি যেসব সাহিত্যকর্ম রচনা করেন, দক্ষিণডিহির ক্ষেত্রে কিন্তু তেমনটিও হয়নি।
কলমে ✍️ © স্বপন সেন 🌲

*খুলনা শহর থেকে ১৯ কিমি দূরে দক্ষিণডিহি গ্রাম আর সেখানেই রয়েছে কবির একদা শ্বশুরবাড়ি। বাংলাদেশ সরকার দ্বারা সংরক্ষিত ভবনটি বর্তমানে 'রবীন্দ্র কমপ্লেক্স' নামে পরিচিত। রয়েছে তাঁর লেখা চিঠিপত্র ও রচনাবলী। জন্ম ও মৃত্যুদিনে কবি স্মরণে নানান অনুষ্ঠান হয়ে থাকে।

এক রাতে প্রায় ১৭০০ মানুষ এবং ৩৫০০ গবাদি পশুর প্রাণ নিয়েছিল এই ‘খুনি হ্রদ’ নায়স (Nyos) লেক, এই সুন্দর নয়নাভিরাম লেকটি ...
20/06/2026

এক রাতে প্রায় ১৭০০ মানুষ এবং ৩৫০০ গবাদি পশুর প্রাণ নিয়েছিল এই ‘খুনি হ্রদ’

নায়স (Nyos) লেক, এই সুন্দর নয়নাভিরাম লেকটি থেকে ১৯৮৬ সাল নাগাদ হঠাৎ করেই কার্বন-ডাই-অক্সাইডের এক বিশাল বুদবুদ বের হতে থাকে আর এটা সালফার এবং হাইড্রোজেনের সঙ্গে মিশে সেখানকার প্রায় ২৩ কিলোমিটার পর্যন্ত সেই স্থানের বায়ুমণ্ডলে মিশে যায় আর এই বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে মাত্র দু’ঘন্টার মধ্যে সেই অঞ্চলের প্রায় ১৭০০ মানুষ এবং ৩৫০০ গবাদি পশু মারা যায়। যারা ভাগ্যক্রমে জীবিত ছিল তারা দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় ভুগতে হয়েছিল আর সেগুলো ছিল হয় টিস্যু পোড়া, নয়তো শ্বাসযন্ত্রের রোগ ইত্যাদি। এই কারণেই এই লেকটি খুনিহ্রদ বা কিলার লেক নামে পরিচিতি লাভ করেছে। এখনো পর্যন্ত এই লেকের পাশে গেলে মৃত্যু অবধারিত। এই লেকটি একটি মৃত আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখে অবস্থিত। এর নিচটা লাভা দিয়ে পরিপূর্ণ থাকলেও ওপরে জল থাকে। এই লেকটির গভীরতাও অনেক আর এই লেকের জলের মধ্য দিয়েই ধীরে ধীরে কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গত হয়।

কিলার লেকটি ক্যামেরুনের উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলের ওক পর্বতমালার অন্তর্গত। ১৯৮৬-এর সেই অভিশপ্ত দিনটিতে মোট ১.৬ টন পরিমাণ গ্যাস চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েছিল। এই কারণেই মৃত্যুলীলা ঘটে যায় সেই অঞ্চলে। আজও যদি কেউ সেই লেকের পাশে খেয়ালবশত চলে যায় তবে তার মৃত্যু অবধারিত।

আমাদের এই বৈচিত্র্যময় পৃথিবীতে আরও একটি কিলার লেক আছে, সেটি হচ্ছে তানজানিয়ার নেট্রন লেক। এই লেকটির কাছে গেলেই চোখে পড়বে প্রচুর পশুপাখির নিখুঁত ভাস্কর্য, অবশ্য ভালো করে লক্ষ্য করলে বোঝা যাবে যে সেগুলো জীবন্ত জীবাশ্ম, আবার সেগুলোকে মমি বললেও ভুল হবে না।

দক্ষিণ আফ্রিকার তানজানিয়ায় অবস্থিত নেট্রন লেকের মধ্যে যে পশুপাখিই নামুক, তারা আর বেঁচে ফেরে না। একে তো ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস উষ্ণতা, যেটা সহ্য করা প্রায় অসম্ভব আর তাপমাত্রার হাত থেকে বেঁচে ডাঙায় উঠলেও সেই প্রাণীর শরীর ধীরে ধীরে পাথরের মতো হয়ে যায়। এই লেকটির দৈর্ঘ্য ৫৭ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ২২ কিলোমিটার। এই লেকটিতে এওয়াসো নায়গ্রো নদীর জল এসে পড়ে। এছাড়াও আশেপাশে অবস্থিত কয়েকটি উষ্ণপ্রস্রবণের জলও এই লেকে এসে পড়ে। আসলে এই লেকটির গভীরতা মাত্র দশ ফুট আর এর তলদেশ প্রচুর সোডিয়াম ও কার্বনেটযুক্ত ট্রাকাইট লাভা দিয়ে তৈরি। এর ফলেই এই লেকের উষ্ণতা ৬০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের আশেপাশেই অবস্থান করে।

বেশি তাপমাত্রার ফলে লেকের জল খুব তাড়াতাড়ি বাষ্পে পরিণত হয় এবং জলের মতো তরল লাভা পড়ে থাকে। সোডিয়াম এবং কার্বনেটের ক্ষারধর্মের জন্য এই লেকে জন্ম নেয় এক ধরনের অণুজীব, যেগুলো সায়ানোব্যাকটেরিয়া নামে পরিচিত। এই অণুজীবগুলোর শরীরে থাকে এক ধরনের লাল রঙের রঞ্জক আর তার জন্য দূর থেকে লেকের জলকে লাল বলে মনে হয় আর এই লাল রঙের আকর্ষণে পশুপাখি লেকের জলে নামতে যায় আর তখনই ঘটে বিপত্তি! লেকের লাল জলের ছোঁয়ায় তৎক্ষণাৎ মৃত্যু ঘটে পশুপাখিগুলোর, অথবা যারা অনেক কষ্টে লেকের পাড়ে উঠে যায়, তাদের গায়ে লেগে থাকা লেকের জলের সোডা আর নুন আস্তে আস্তে শরীরে জমতে থাকে এবং এক সময় তারা পাথরে পরিণত হয়।

২০১১ সালে ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফার নিক ব্রান্ডেটের ক্যামেরায় এই লেকের রহস্য প্রথম ধরা পড়ে আর তারপরেই সবার সামনে এই লেকের রহস্য প্রকাশ পায়।

লেখা: কাকলি পাল বিশ্বাস

#কাকলিপালবিশ্বাস ©️ #কথোপকথন #বংDoze

পেজটি ভালো লাগলে লাইক ও ফলো করে আমাদের উৎসাহ জোগাবেন, আর শেয়ার করে অন্যদের দেখার সুযোগ করে দেবেন।



——————————————————————-
বিধিকরণ সতর্কতা:
© বংDoze © কাকলি পাল বিশ্বাস — সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
এই লেখার কোনো অংশ অনুমতি ছাড়া কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। ব্যবহার করতে চাইলে লেখক ও পেজের নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে—অন্যথায় তা কপিরাইট লঙ্ঘন হিসেবে ধরা হবে।
——————————————————————-

আজ ২০শে জুন.... ‌🌑🛑🌑আর পাঁচটা দিনের মতো সকাল থেকে ভ্যাপসা গরম নিয়ে হাজির আরো একটি দিন। তবে ইতিহাস ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান নিয়...
20/06/2026

আজ ২০শে জুন.... ‌🌑🛑🌑

আর পাঁচটা দিনের মতো সকাল থেকে ভ্যাপসা গরম নিয়ে হাজির আরো একটি দিন। তবে ইতিহাস ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান নিয়ে যারা খবরাখবর রাখেন তাঁদের কাছে দিনটির মূল্য অপরিসীম। কি হয়েছিল মশাই আজ....?
পিছিয়ে যাই চলুন ৭৭ বছর। ১৯৪৭ সালে আজকের দিনে বঙ্গীয় প্রাদেশিক আইনসভায় বাংলা ভাগ করা হবে কিনা - সেই সিদ্ধান্তের ওপরে ভোটাভুটি হয়।

মুসলমান সংখ্যাগুরু পূর্ববঙ্গ অঞ্চলের জনপ্রতিনিধিদের ভোটে বাংলা ভাগ করার বিপক্ষে রায় যায়। ১০৬টি ভোট বাংলা ভাগের বিপক্ষে আর মাত্র ৩৫টি ভোট পড়েছিল বাংলা ভাগ করার পক্ষে। আর হিন্দু সংখ্যাগুরু পশ্চিমবাংলা অংশের জনপ্রতিনিধিদের ভোটে ৫৮-২১ ভোটে বাংলা ভাগ করার পক্ষে রায় যায়। বাংলা ভাগের তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন কংগ্রেসের শরৎ বসু ও কিরণশঙ্কর রায়, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধার্থ শংকর রায়ের পিতা।

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাসের অধ্যাপক সুগত বসু বলছেন, প্রাদেশিক আইনসভার বেশিরভাগ সদস্য দেশভাগ না চাইলেও মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনার মাধ্যমে ৩রা জুনই ঘোষণা হয়ে গিয়েছিল যে পাঞ্জাব আর বাংলা ভাগ করা হবে। তাঁর কথায়, ২০শে জুনের ভোটাভুটির মাধ্যমে দেশভাগের সিদ্ধান্তে সিলমোহর পড়েছিল মাত্র।

অবিভক্ত বাংলার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী প্রাদেশিক আইনসভায় বাংলা ভাগের সিদ্ধান্তে সিলমোহর দেওয়ার পরে সেদিনই সংবাদমাধ্যমে একটি বিবৃতি দিয়েছিলেন।
সেই বিবৃতিতে তিনি বলেছিলেন "আশা-নিরাশার যন্ত্রণার ইতি হলো অবশেষে। স্বাধীন সার্বভৌম বাংলা রাষ্ট্রের আদর্শের পৃষ্ঠে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। বাংলাকে দ্বিধাবিভক্ত করা হবে অচিরেই, মুসলিম বাংলার ক্ষোভের বিশেষ কারণ নেই। “
আরও বলেছিলেন, "আমাদের পথ আলাদা হয়ে গেছে। চলুন আমরা পরস্পরের প্রতি বন্ধুত্বের ভাব বজায় রেখেই পৃথক পথে এগিয়ে যাই।,”

তবে অনেক ঐতিহাসিকের মতে এই দিনে পশ্চিমবঙ্গ সৃষ্টি এবং তার ভারত ভুক্তির সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তাঁদের কথায়, “সেদিন যদি দেশভাগের সিদ্ধান্ত না নেওয়া হত, তাহলে তো পুরো বাংলাটাই ভারত থেকে বেরিয়ে যেত।“

আসলে বাংলা ভাগের প্রেক্ষাপট রচিত হয়েছিল বিশে জুনের বহু আগে থেকেই। ৪০-এর দশকের প্রথম থেকে উদ্ভব হয় দাঙ্গা পরিস্থিতির, শুরু হয় বিভিন্ন জায়গায় বিশেষ সম্প্রদায়ের ওপর অত্যাচার। এরই চূড়ান্ত পর্যায়ে ১৬ই আগস্ট ১৯৪৬-এ ডিরেক্ট অ্যাকশন ডে। পাঁচদিন ধরে মহানগরীতে চলে দ্যা গ্রেট ক্যালকাটা কিলিংস। ওপার বাংলায় নোয়াখালির দাঙ্গায় তা চূড়ান্ত রূপ নেয় । উভয় ক্ষেত্রেই প্রশাসন ছিল নির্বাক দর্শক। নিহত ও ধর্ষিতা হয় অগণিত নারীপুরুষ। ক্ষতিগ্রস্তদের সংখ্যাটি আজো অজানা। সেই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতেই মানুষ বাংলা ভাগ মেনে নেয় এবং সৃষ্টি হয় আজকের পশ্চিমবঙ্গ।
কলমে ✍️ স্বপন সেন 🌲

ভাগ মিলখা ভাগ....... ‌🛑শহুরে সভ্যতা থেকে অনেক দূরে ছোট্ট এক লোকালয়.... কোট আডডু। অনেকদিন আগে রাজস্থান থেকে আসা এক পরিবা...
20/06/2026

ভাগ মিলখা ভাগ....... ‌🛑

শহুরে সভ্যতা থেকে অনেক দূরে ছোট্ট এক লোকালয়.... কোট আডডু। অনেকদিন আগে রাজস্থান থেকে আসা এক পরিবার সংসার পেতেছিল মুলতানের এই গ্রামে। পেশায় কামার পরিবারটি ছিল শিখ ধর্মাবলম্বী। শান্ত নিস্তরঙ্গ গ্রামীণ জীবনে পাশাপাশি বাস করতো তখন হিন্দু-মুসলমান-শিখ-ইশাই। গ্রামে না ছিল কোন রেডিও না আসতো সেখানে খবরের কাগজ। বাইরের জগতের খবর তারা তখনই পেতো যখন বিশ মাইল দূরে সবচেয়ে কাছের শহর মুজফ্ফরগড়ে কেউ যেতো। সেও নমাসে ছমাসে।

এই শিখ পরিবারেই জন্মেছিলেন মিলখা সিং। গ্রামে লেখাপড়া বলতে ছিল চার পাঁচ মাইল দূরে মসজিদ সংলগ্ন একটি মাত্র মাদ্রাসা, একটু বড় হতে সেখানেই যেতে লাগলো মিলখা। বন্ধুদের সাথে এতটা রাস্তা রোজ দৌড়েই যাতায়াত করতো সে। স্বপ্নেও ভাবেনি সেদিন, এই দৌড় একদিন গড়ে দেবে তাঁর ভবিষ্যতের ভিত! যাইহোক সম্প্রীতির আবহাওয়া থাকায় বিধর্মী মিলখার কোনদিনও মাদ্রাসায় যেতে অস্বস্তি হয়নি। অন্যসময়ে সে গ্রামের ছেলেদের সাথে কাবাডি খেলতো নয়তো কুস্তি লড়তো। পরিবারের অল্প চাষের জমিতে গম কাটার সময় সাহায্য করতো বাবা কাকাদের। ভালোই কাটছিল দিনগুলো।

এলো ১৯৪৭, মিলখার বয়স তখন পনেরো। দ্বিখণ্ডিত হয়ে স্বাধীন হলো দেশ। টুকরো হলো পাঞ্জাব, আর মিলখার জন্মভূমি চলে গেল পাকিস্তানে। দেশভাগের আগুন তখনো ঐ গ্রামে না পৌঁছালেও কেমন যেন বদলে গেলো এতদিন ধরে পাশাপাশি বাস করা মানুষগুলো। তরুন মিলখার খেলার সাথীরাও কখন যেন পাশ থেকে সরে গেল। কি ভেবে সে যাওয়া বন্ধ করে দিল মাদ্রাসায়।

তারপর এলো সেই কালো দিন....! সূর্য অস্ত যেতেই উন্মত্ত একদল জনতা বন্দুক ও ধারালো অস্ত্র হাতে হাজির হলো গ্রামের সীমানায়। বিপদের গন্ধ পেয়ে বাড়ির পুরুষেরা একজোট হয়ে পাহারায় থাকলেন। গ্রামের এক মাতব্বর তাদের শান্ত করতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হতেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেল। রাত বাড়তেই মুখে আওয়াজ আর গুলি ছুড়তে ছুড়তে ঢুকে পড়ে তারা গ্রামের মাঝে, আক্রমণের লক্ষ্য হয় বিশেষ এক সম্প্রদায়ের মানুষের ঘরবাড়ি। তলোয়ার হাতে প্রতিরোধে নামে মিলখার বাবা কাকা। বোনের হাত ধরে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেটির বিস্মিত চোখের সামনে তলোয়ারের আঘাতে একসময় লুটিয়ে পড়ে তার বাবা। পড়ে যেতে যেতে সেই সর্দার ছেলের উদ্দেশ্যে চেঁচিয়ে ওঠে... ভাগ মিলখা ভাগ ! ‌💥

নিজের আত্মজীবনী তে বলেছেন জীবনে তিনবার কেঁদেছি আমি.....
প্রথম বার চোখের সামনে পরিবারের সবাইকে খুন হতে দেখে। দ্বিতীয় বার কেঁদেছি রোম অলিম্পিকে অল্পের জন্য সোনা হাতছাড়া হতে, আর শেষবার কেঁদেছি নিজের বায়োপিক দেখে.....!

ওনার আত্মজীবনী "The race of my life" বইয়ের ভূমিকায় বিশিষ্ট সাংবাদিক খুশবন্ত সিং লিখেছেন,
"He didn't bring a single Olympic medal to India. But in narrowly missing one, he brought the seed of hope and optimism to a civilisation ravaged by colonialism, war and poverty. There lies his significance."

১৯৪৭ এ বাবার আদেশে দৌড় শুরু করেছিলেন বছর ষোলোর এক তরুণ। বিরানব্বই বছর বয়সে এসে গতবছর থেমে গেল তাঁর পথচলা। দৌড় থামিও না তুমি Flying Sikh... এভাবেই ছুটে চলো অমরত্বের পথে........! প্রয়াণ দিবসে আমাদের শ্রদ্ধাঞ্জলি 🌹🌹
কলমে ✍🏻 স্বপন সেন 🌲

🏩🏨 জানেন কি হোটেলের বিছানার চাদর কেন সাদা হয়? 🏩🏨বেড়াতে ভালবাসেনা এমন লোক খুঁজতে গেলে "ঠগ বাছতে গাঁ উজাড়"-এর মত অবস্থা...
19/06/2026

🏩🏨 জানেন কি হোটেলের বিছানার চাদর কেন সাদা হয়? 🏩🏨

বেড়াতে ভালবাসেনা এমন লোক খুঁজতে গেলে "ঠগ বাছতে গাঁ উজাড়"-এর মত অবস্থা হবে কারণ মানুষমাত্রই ভ্রমণপ্রিয় হয়, আমরা ভালো ভালো জায়গায় বেড়াতে ভালোবাসি আর সারাদিন বেড়িয়ে রাত্রে গা এলিয়ে দিই হোটেলের দুধসাদা বিছানার উপর। বেশিরভাগ হোটেলে বিছানার চাদর থেকে শুরু করে বালিশের কভার, স্নানের তোয়ালে সবকিছুই সাদা রংয়ের হয়। আমরা সেগুলো ব্যবহার করে থাকি কিন্তু কোনদিন কি ভেবেছি, যে কেন হোটেলের চাদর সাদা রঙের হয়!!!

হোটেলের ঘরে সাদা চাদর পাতার কাহিনী জানতে হলে আমাদের ফিরে যেতে হবে 90 এর দশকে। 1990 সাল থেকে হোটেলের ঘরে সাদা চাদর, সাদা বালিশের কভার ও সাদা তোয়ালের ব্যবহার শুরু করা হয়েছিল।

আর এই সাদা রঙটিকে জনপ্রিয় করে তোলে ওয়েস্টিন ও শেরাটন হোটেল গ্রুপ। এই দুই হোটেলের ভাইস প্রেসিডেন্ট অফ ডিজাইন এরিন হুভার হোটেলের ঘরগুলোতে সাদা চাদর বালিশ ব্যবহারের সুপরামর্শ দেন। এই পরামর্শের পিছনে কয়েকটি যুক্তিও দিয়েছিলেন হুভার। তিনি বলেছিলেন সাদা রঙ হোটেলে আগত অতিথিদের মনে পরিচ্ছন্নতার অনুভূতি তৈরি করে এবং এতে তারা মানসিক তৃপ্তি লাভ করেন।

নব্বইয়ের দশকে হুভারের এই যুক্তি মানার ফলে ওয়েস্টিন গ্রুপ-এর হোটেলগুলোর ব্যবসা অনেকটাই বেড়ে যায় আর দেখা যায় যে অতিথিদের পছন্দের হোটেলের মধ্যে ওয়েস্টিন গ্রুপের হোটেলগুলির চাহিদা অনেকটাই বেশি আর এই হোটেলগুলো অতিথিদের মনে অনেকটাই জায়গা করে নিয়েছে।

1970-1980 সালে ইউরোপ এবং আমেরিকার কয়েকটি নামিদামি হোটেলে সাদা চাদর ব্যবহারের চল থাকলেও,1990 সালের পর সেটা ছড়িয়ে পড়ে এবং পরবর্তীকালে প্রায় সমস্ত হোটেলগুলোই এই পন্থা অবলম্বন করতে শুরু করেছিল।

আসলে আমরা জানি যে সাদা রং আলোর প্রতিফলন ঘটায় আর তাই যদি হোটেলের ঘরগুলোতে সাদা রঙের ব্যবহার হয়, তবে সেগুলো অনেক পরিষ্কার এবং উজ্জ্বল লাগে যেটা মানসিক শান্তি দিতে সক্ষম। এছাড়াও হোটেলগুলোর দেওয়ালের রং ঘনঘন পাল্টানো সম্ভব নয় আর যদি দেওয়ালের রং এর সাথে বিছানার চাদর ও বালিশের রং না মেলে তাহলে সেটা দৃষ্টিনন্দনও হয়না তাই এক্ষেত্রে সাদা রঙের চাদর, বালিশ ব্যবহার করলে এই সমস্যাগুলোর মোকাবিলা করা সম্ভব আর সাদা জিনিস অপেক্ষাকৃত সহজলভ্য আর তার সাথে সস্তাও হয় এছাড়া সাদা রং-কে বিলাসিতার প্রতীক বলেও মনে করা হয়।

"ব্যতিক্রমী কিছু করতে চাইলে খুঁটিনাটি বিষয়ে নিখুঁত পর্যবেক্ষণ খুব জরুরী"-- এরিন হুডারের এই মতামতকে সামনে রেখেই ওয়েস্টিন ও শেরাটন গ্রুপের হোটেলগুলো তাদের ব্যবসার আমূল পরিবর্তন এনেছিল আর এখনো এই মতাদর্শকে মেনে বিশ্বের প্রায় সমস্ত হোটেলেই এই সাদা চাদর, বালিশের কভার আর তোয়ালে ব্যবহার করা হয়।

লেখা: কাকলি পাল বিশ্বাস

#কাকলিপালবিশ্বাস ©️ #কথোপকথন #বংDoze

পেজটি ভালো লাগলে লাইক ও ফলো করে আমাদের উৎসাহ জোগাবেন, আর শেয়ার করে অন্যদের দেখার সুযোগ করে দেবেন।


——————————————————————-
বিধিকরণ সতর্কতা:
© বংDoze © কাকলি পাল বিশ্বাস — সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
এই লেখার কোনো অংশ অনুমতি ছাড়া কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। ব্যবহার করতে চাইলে লেখক ও পেজের নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে—অন্যথায় তা কপিরাইট লঙ্ঘন হিসেবে ধরা হবে।
——————————————————————-

Address

Mumbai

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when বং Doze posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Establishment

Send a message to বং Doze:

Share