বং Doze

বং Doze To promote the Bengali’s attire

দেশভাগ ও এক নারীর গল্প ....… ‌🌑🔴🌑 #দেশভাগের_গল্প সাংবাদিকতার দুনিয়ায়  #কুলদীপ_নায়ার এক সাড়াজাগনো নাম। নিজের আত্মজীবন...
21/08/2026

দেশভাগ ও এক নারীর গল্প ....… ‌🌑🔴🌑
#দেশভাগের_গল্প

সাংবাদিকতার দুনিয়ায় #কুলদীপ_নায়ার এক সাড়াজাগনো নাম। নিজের আত্মজীবনী নিয়ে লিখেছেন দুটি বিখ্যাত বই, Beyond the lines এবং Between the lines. নাম শুনে অনেকেই তাঁকে দক্ষিণ ভারতীয় ভাবলেও আদতে ছিলেন #শিখ ধর্মাবলম্বী, যদিও পাগড়ি বা দাড়ি একটা সময়ের পর আর রাখেননি। জন্মসূত্রে পাওয়া পদবী সিং থেকে করে নেন নায়ার। জন্ম ১৯২৩ সালে, অবিভক্ত পাঞ্জাবের #শিয়ালকোটে। তাঁর বাবা ছিলেন নামকরা ডাক্তার। সেই সুবাদে স্থানীয় হিন্দু-মুসলিম ও শিখদের অত্যন্ত প্রিয় ছিলেন। কিন্তু দেশভাগের পর উদ্বাস্তু হয়ে চলে আসেন ভারতে। আইনে স্নাতক হয়েও সাংবাদিকতায় কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। লন্ডনে ভারতের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্বও সামলেছেন। হয়েছেন রাজ্যসভার সদস্য। গল্পটি তাঁর লেখা থেকে অনুবাদ।

দেশভাগের সময়ে মেয়েদের সবচেয়ে বেশি ভুগতে হয়েছে, সব ধরনের নৃশংসতা সইতে হয়েছে। আজ এক শিখ নারীর গল্প বলবো যিনি ভারত পাকিস্তানের লাখো নারীর মতো দেশভাগের ধকল সয়েছেন। রাওয়ালপিন্ডি ছিল মুসলমান-অধ্যুষিত এক শহর। তবে সেখানে কিছু শিখও থাকত। বহু বছর ধরে সেখানে এই দুই সম্প্রদায় শান্তিপূর্ণভাবে পাশাপাশি বাস করেছে, পাকিস্তানের দাবি ওঠার পরই তাদের মধ্যেকার সম্পর্কে তিক্ততা সৃষ্টি হয়। রাতারাতি তাদের মধ্যে এক বিভেদ সৃষ্টি হলো। ব্যাপারটা এমন যেন তারা বছরের পর বছর ধরে একত্রে বসবাস করেনি।

শিখদের পাগড়ি দেখে সহজেই আলাদা করা যেত, তারাই ছিল প্রধান লক্ষ্যবস্তু। বিশেষ করে শিখ নারীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতেন। দাঙ্গা লাগলে তাঁদের অনেকেই সম্ভ্রম বাঁচাতে শহরের কাছে এক কুয়ায় ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করলেন। সদ্য এক কিশোরীর মা ও বোন কুয়ায় ঝাঁপ দিলেন, কিন্তু মেয়েটি তা না করে দৌড়াতে শুরু করে। এক ধার্মিক মুসলমান পরিবার তাকে উদ্ধার না করা পর্যন্ত তার দৌড় থামেনি। সেই দম্পতি ছিল নিঃসন্তান। ফলে এই মেয়েটি তাঁদের কাছে হয়ে উঠল ঈশ্বর-প্রেরিত। তাঁরা মেয়েটিকে দত্তক নিয়ে তাকে মুসলমান হিসেবে লালনপালন করেন। তারপর সেই দম্পতি মেয়েটিকে মহিলা মাদ্রাসায় পাঠান, সেখানে সে পবিত্র কোরআন মুখস্থ করে।
পবিত্র কোরআনের ওপর মেয়েটির দখল এত বেশি ছিল যে নিজের স্কুলেই সে কোরআন শিক্ষিকা হিসেবে নিয়োগ পান। কেউই সন্দেহ করেনি, তিনি জন্মসূত্রে একজন শিখ।

মেয়েটি নিজেও আরবি শেখায় নিজেকে ডুবিয়ে দিয়েছিল, যাতে কোরআন ও ইসলামের মৌলিক মতবাদ ভালোভাবে বুঝতে পারে। কখনো কখনো আবার সে সঙ্গে করে আনা বাক্সটি খুলে গুরু নানকের ছবিটির দিকে তাকিয়ে থাকতো।সেটি ছিল তাঁর অমূল্য সম্পদ। ছবিটি তাঁকে নিজের শিকড়ের কথা স্মরণ করিয়ে দিত। এমনকি এক মুসলমান শিক্ষককে বিয়ে করার পরও তিনি এই ছবিটি দেখা বন্ধ করেননি। এই ছবিটাই ছিল তাঁর শিকড়ের সঙ্গে একমাত্র সংযোগ।

মহল্লার লোকজন এমনকি তার স্বামী ও পুত্র কখনোই তাঁর জন্মগত পরিচয় নিয়ে সন্দেহ করেনি। সবাই জানতো তিনি জন্মসূত্রেই মুসলমান।পবিত্র কোরআনের ওপর তাঁর দখল ছিল বলে লোকজন তাঁর কাছে পরামর্শও চাইতে আসতো। কিন্তু একটা সময়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার সম্পর্কের উন্নতি তাঁর জীবনে বিপর্যয় ডেকে আনলো। শুরু হয়েছিল দু'দেশের মধ্যে যাতায়াত। দেশভাগের সময় যারা পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছিল তাদের খোঁজে এক দেশ থেকে অন্য দেশে শুরু হলো যাতায়াত। মহিলার এক ভাই জানতো সে কুয়োয় ঝাঁপ দেয়নি। ভারত থেকে রাওয়ালপিন্ডিতে এসে সেই ভাই খোঁজখবর নিয়ে চলে আসে তাদের বাড়িতে। যদিও বেশিক্ষণ থাকতে পারেনি তবে খবরটা চাউর হয়ে যায় যে মহিলা একজন শিখ।

তাঁর স্বামী এটা মেনে নিলেও পুত্রটি খবর জেনে মর্মাহত হয়ে পড়ে। বন্ধুরা তাকে নিয়ে হাসি ঠাট্টা করাতে একসময় সবাইকে এড়িয়ে চলে সে এমনকি নিজের মা'কেও । তার মা ব্যাপারটা ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করলেও কোনো লাভ হয়নি। সে বুঝতেই চায়নি পাকিস্তান সৃষ্টির অনেক আগেই জন্মসূত্রে তিনি শিখ ছিলেন। এই সত্য এড়িয়ে যাওয়ার কোন উপায় নেই।

ছেলেটি একদিন তার মায়ের অমূল্য বাক্সটি চুরি করে, কাছের এক খালে গিয়ে জিনিসপত্র গুলো ফেলে দেয়। খালের জলে ভেসে ওঠে গুরু নানকের ছবি, একসময় জলের স্রোতে ধীরে ধীরে ছবিটি ডুবে যায়। তারপরও ছেলেটি তার মাকে ক্ষমা করতে পারে না, তাঁর কাছেও যায় না। মহিলা সব কিছু বুঝতে পেরে প্রচন্ড কষ্ট পান, যদিও মুখে কিছু প্রকাশ করলেন না। তিনি মনে মনে যুক্তি দেওয়ার চেষ্টা করেন তাঁর ভাই তো তাঁকে খুঁজতে এসেছিলেন, তিনি তো যাননি। অতীতের সঙ্গে সব সম্পর্ক তিনি স্বেচ্ছায় ত্যাগ করেছেন।

ব্যাপারটা এমন দাঁড়ায় যে ছেলেটি তার মায়ের অস্তিত্বকেই ঘৃণা করতে শুরু করে। তার মা সেটা বুঝতেও পারেন। ছেলেটির বাবা স্ত্রীর কষ্ট টের পান, কিন্তু তিনি মনে করেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু তিনি কখনোই ছেলেকে এ ব্যাপারে কিছু বলেন না। প্রতিটি পদক্ষেপে ছেলেটি তার মাকে অপমান করে। সে বোঝাতে চায়, তার তরফ থেকে সে সব সম্পর্ক ত্যাগ করেছে। মহিলা স্মরণ করেন, তাঁর মা ও বোন নিজেদের অতীত মুছে ফেলার জন্য কী করেছিলেন ?

তারপর একদিন যখন তিনি বাড়িতে একা, সব যন্ত্রণার অবসান ঘটানোর সিদ্ধান্ত নেন। তিনি সেই কুয়ার কাছে যান, যে কুয়ায় তাঁর মা ও বোন একদিন ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। না, এবার আর তিনি দৌড়ে পালান না। তাঁর ছেলেই প্রথম দেখতে পায় তাঁর ভাসমান লাশ। হ্যাঁ, ওটা তার মায়েরই মরদেহ। এতে হয়তো তার রাগ কিছুটা পড়ে, কিন্তু মাকে হারিয়ে সে এক ফোঁটা চোখের জলও ফেলে না। এবার আর তার সমাজে মুখ দেখাতে বাধা রইলো না।
অনুবাদে ✍🏻©️ স্বপন সেন 🌲
ছবিওয়ালা: সৈকত বিশ্বাস

অগ্নিযুগের গোড়ার কথা.... ‌🔥🔥পত্র বা পার্সেল বোমার নাম নিশ্চয়ই শুনে থাকবেন। নিরীহ দেখতে কোন বই বা প্যাকেট দিয়ে গেল পিওন ...
21/08/2026

অগ্নিযুগের গোড়ার কথা.... ‌🔥🔥

পত্র বা পার্সেল বোমার নাম নিশ্চয়ই শুনে থাকবেন। নিরীহ দেখতে কোন বই বা প্যাকেট দিয়ে গেল পিওন , প্রাপক যেই খুললো অমনি ....ধূম !‌💥
উনবিংশ শতকের মাঝামাঝি ইউরোপ ও আমেরিকার সন্ত্রাস বাদীদের এটি ছিল প্রিয় হাতিয়ার । প্রাপকের তালিকায় কে না ছিলো....... হ্যারি #ট্রুম্যান, এন্টনী #ইডেন, চার্লস #দ্যগল, ফিদেল #কাস্ত্রো সহ আরো অনেক রাষ্ট্রপ্রধান । কপাল গুণে কেউ বেঁচে গেছেন , কেউ আবার গেছেন ভবপারে । কিন্ত এটা কি জানেন উনিশ শতকের গোড়ার দিকে এই বোমা তৈরী করে পাঠিয়েছিল বাংলার বিপ্লবীরা ? নেহাতই তাদের কপাল মন্দ নইলে ইতিহাস হয়তো অন্যভাবে লেখা হতো ।

নাশকতার কাজে আজকাল আকছার ব্যবহৃত হয় Improvised Explosive Devices অর্থাৎ রেডিয়ো, হাতঘড়ি, টিফিনবক্স,ল্যাপটপ সহ নানা রকমের দৈনন্দিন ব্যবহার্য সামগ্রী ব্যবহার করে বিস্ফোরন ঘটানো। একবার শুধু ভাবুন, আজ থেকে একশো বছর আগে বিজ্ঞানের এই প্রযুক্তি আয়ত্ত করে ফেলেছিলেন আমাদের দেশের মেধাবী ও দেশপ্রেমিক বিপ্লবীরা, অত্যাচারী ব্রিটিশ বিচারক #কিংসফোর্ড কে চিরতরে শেষ করে দিতে। #হেমচন্দ্র_দাসের তৈরি সেই বই বোমা ভারতবর্ষ তথা এশিয়ার ইতিহাসে সম্ভবত প্রথম !

সালটা ছিল 1908 , কলকাতার চীফ মেট্রোপলিটান ম্যাজিষ্ট্রেট পদ থেকে বদলী হয়ে মজঃফরপুর চলে যাচ্ছেন #কিংসফোর্ড সাহেব । কদিন আগে তের বছরের #সুশীল_সেনকে প্রকাশ্যে পনেরো ঘা চাবুক মারার দন্ড দিয়ে তিনি তখন বাংলার বিপ্লবীদের নয়নের মণি । তাঁরা কিছুতেই সাহেবকে বাঁচতে দিতে রাজী নয় । সাহেব ও কিছুটা আন্দাজ করতে পেরেছিলেন, তাই তাড়াতাড়ি লটবহর ট্রাকে তুলে দিয়ে রওয়ানা হয়ে গেলেন #মজঃফরপুর ।

সবে তার জন্য নির্দিষ্ট জজ-বাংলোতে পৌঁছেছেন, দেখেন স্থানীয় থানার বড়বাবু উদ্বিগ্ন মুখে দাঁড়িয়ে ।
আর্জেন্ট রেডিওগ্রাম ফ্রম স্পেশাল ব্রাঞ্চ স্যার , সাহেবকে দেখেই এগিয়ে দেন একটা লেফাফা ।
ভুরু কুঁচকে তড়িঘড়ি পড়লেন সেটা.......
Do not unpack the luggage once they reach. By no means. Foul play suspected. Explosive expert is on the way.

ভাবতে পারেন ঘটনাটা একশো বছরেরও আগেকার ! তখন না ছিল প্রযুক্তির অবাধ আনুকূল্য, না বহির্জগতের সাথে অনায়াস তথ্যের আদান প্রদান । সে নাই বা থাকুক, চিন্তার অভিনবত্ব কবে আর সময়ের আজ্ঞাবহ থেকেছে ? বিংশ শতকের গোড়াতেই বাংলার বিপ্লবীরা কিংসফোর্ড হত্যায় প্রয়োগ করতে চেয়েছিলেন I.E.D , তৈরী হয়েছিল #বইবোমা !

সাহেবের ছিল অসম্ভব বইপ্রীতি, বিদায়ী উপহার উপঢৌকন জমা হবেই ওনার কিড স্ট্রিটের বাংলোয় আর ওই হিসেব করেই পৌঁছে দেওয়া হবে সুদৃশ্য মোড়কে একটি বই । যেইনা উনি খুলবেন, ভেতরে রাখা বোমাটি ফাটবে আর কিংসফোর্ডের খেল খতম ! মোটামুটি এই ছিল হত্যার ব্লু প্রিন্ট ।

বিপ্লবী #পরেশ_মৌলিক সরকারী কর্মী পরিচয় দিয়ে গেটের সেন্ট্রিদের হাতে তুলে দিলেন প্যাকেট । সাহেবের বিদায় লগ্নে এমনতো কতোই আসছে, তাই বিন্দুমাত্র সন্দেহ না করেই প্যাকেট পৌঁছালো অন্দরমহলে । কিন্তু বিধি বাম, তাড়াহুড়োয় সাহেব খুললেন না প্যাকেট, বাক্সবন্দী হয়ে পাড়ি দিলো মজঃফরপুর ।

গোয়েন্দা বিভাগ কিন্ত সুশীল সেনের ঘটনার পর থেকেই সাহেবের ওপর কড়া নজর রাখছিল । ওরা জানতো বিপ্লবীদের হিটলিস্টে কিংসফোর্ডের নাম এক নম্বরে । সোর্স মারফত খবর এলো অজ্ঞাত পরিচয় এক সরকারি কর্মচারী দুদিন আগে বাংলোয় একটা #প্যাকেট দিয়ে গেছে । ততক্ষণে সাহেব রওয়ানা হয়ে গেছে, তাই ঐ সতর্ক বার্তা দিয়ে রেডিওগ্রাম ।

বোমা বিশেষজ্ঞ Major Williams সদলবলে এলেন মজঃফরপুর , উদ্ধার হলো বইবোমা । যথাচিত সতর্কতায় তা আনা হলো কলকাতাতেই এবং নিষ্ক্রিয় করা হলো তৎকালীন নগরপালের কিড স্ট্রিট বাংলোর বাগানে। বিপ্লবীদের ভাগ্য সেদিন সহায় হলে হয়তো #ক্ষুদিরাম প্রফুল্ল চাকীদের অকালে চলে যেতে হতো না।
কলমে 🖌️ © স্বপন সেন 🌲

আপনি কি জানেন, এক সময় ছাগলের গাড়ি ছিল শিশুদের অন্যতম বিনোদনের মাধ্যম?একটা সময় ছিল, যখন শিশুরা আনন্দ খুঁজে নিত প্রকৃতির ...
21/08/2026

আপনি কি জানেন, এক সময় ছাগলের গাড়ি ছিল শিশুদের অন্যতম বিনোদনের মাধ্যম?

একটা সময় ছিল, যখন শিশুরা আনন্দ খুঁজে নিত প্রকৃতির কোলে, আর খেলাধুলা মানে ছিল সহজ সরল কিছু — লাঠি ঘোরানো, দড়ি লাফ, কিংবা ছোট ছোট গাড়ি নিয়ে খেলা। সেই সময় এক অদ্ভুত গাড়ি ছোটদের মধ্যে খুব জনপ্রিয় ছিল, যা ঘোড়া বা গরুর গাড়ি নয়, ছিল ছাগলে টানা গাড়ি — “goat carriage” বা ছাগলের গাড়ি। ছোটদের খেলনা গাড়ির চেয়ে একটু বড়, আর ততটাই মনভোলানো।

উনবিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে ইউরোপে, বিশেষ করে ইংল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, ফ্রান্স আর জার্মানির গ্রামাঞ্চলে ছাগল টানা গাড়ি ছিল এক জনপ্রিয় বিনোদন। অভিজাত পরিবারের সন্তানদের জন্য এটি ছিল খেলনা ও যানবাহন—দুটোরই সংমিশ্রণ।

ব্রিটিশ রাজপরিবারের পুরোনো অ্যালবাম খুললে দেখা যায়—প্রিন্স এডওয়ার্ড ও প্রিন্সেস ভিক্টোরিয়া ছাগলের গাড়িতে বসে হাসছে, পেছনে লন্ডনের প্রাসাদের বাগান। ঐ সময় “goat carriage” শুধু শিশুদের আনন্দের জন্যই নয়, রাজকীয় আয়োজনে, মেলা কিংবা পার্কের প্রদর্শনীতেও ব্যবহৃত হত। অনেক সময় ঘোড়ার মতো ছাগলদেরও বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হত, যাতে এক বা একাধিক ছাগল একা বা অন্যনা ছাগলদের সাথে পাশাপাশি সমান গতিতে হেঁটে গাড়ি টানতে পারে।

এই ছোট গাড়িগুলোর কাঠামো সাধারণত হালকা কাঠের তৈরি হত, চাকা থাকত লোহার। গাড়ি টানার ওজন যেন ছাগলের পক্ষে সামলানো সম্ভব হয়, সেজন্য বিশেষভাবে মাপজোক করা লাগাম ও জোতা ব্যবহৃত হত।

বিশ শতকের শুরুর দিকেই এই প্রথা হারিয়ে যেতে থাকে। শহরে মোটরগাড়ি ও সাইকেলের আগমন, মেকানিকাল খেলনার রমরমা—সব মিলিয়ে ছাগল টানা গাড়ি হয়ে পড়ে অতীতের এক প্রত্নচিহ্ন। কিন্তু আজও ইউরোপের কিছু ছোট গ্রামে বা ঐতিহ্যবাহী মেলায় দেখা যায় পুনর্নির্মিত “goat carriage” — যেন সময়ের পাতা উল্টে এক মুহূর্তের জন্য ফিরে দেখা যায় সেই সোনালি শৈশব।

লেখা: সৈকত বিশ্বাস

ছবি: সংগৃহীত

#সৈকত_বিশ্বাস ©️ #কথোপকথন #বংDoze

পেজটি ভালো লাগলে লাইক ও ফলো করে আমাদের উৎসাহ জোগাবেন, আর শেয়ার করে অন্যদের দেখার সুযোগ করে দেবেন।

গলি থেকে রাজপথে ......... ‌🍂🍂কাশ্মীর উপত্যকায় ১৯৭৩ এ জন্ম এই বাঙালি কন্যার।মদ্যপ সেনাকর্মী বাবার নিত্য অত্যাচারে চার বছর...
21/08/2026

গলি থেকে রাজপথে ......... ‌🍂🍂

কাশ্মীর উপত্যকায় ১৯৭৩ এ জন্ম এই বাঙালি কন্যার।মদ্যপ সেনাকর্মী বাবার নিত্য অত্যাচারে চার বছর বয়সে মা তাদের দুই বোনকে নিয়ে চলে আসে মামার বাড়ি মুর্শিদাবাদ । আবারও বিয়ে করে মা, বড় হতে থাকে সৎ বাবার সংসারে । ক্লাস সিক্সে পড়ার সময় আচমকাই শেষ হয়ে যায় তার মেয়েবেলা !

একটি প্রতিবেদন
একটা বাচ্চা মেয়ের যখন ফ্রক পরে খেলাধুলো করার কথা, তখন তাকে বসিয়ে দেওয়া হয় বিয়ের পিঁড়িতে। শেষ হয়ে যায় তার "শৈশব,” খেলার মাঝখান থেকে তাকে উঠিয়ে এনে মণ্ডপে একটা লোকের পাশে বসিয়ে দেওয়া হয়। কিছুই বুঝতে পারছিল না মেয়েটা, ভেবেছিল বোধহয় কোনো পুজো হচ্ছে। তারপর তাকে বলা হল যে ওই লোকটার সঙ্গে চলে যেতে হবে। তখন মেয়েটার মাত্র ১২ বছর বয়স, স্বামীর ২৬।

বিয়ের প্রথম রাত থেকেই শুরু হয় অত্যাচার। পতি দেবতাটির ধারণা বউয়ের তো দুটোই কাজ, সন্তান ধারণ আর রান্না করা। কুড়ি বছর বয়সের মধ্যে মেয়েটি তিন সন্তানের জন্ম দিলো। তখনই সে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সন্তানদের জীবন তার জীবনের মত হবে না। ১৯৯৯ সালে, ২৫ বছর বয়সী তরুণী মা তার তিন সন্তানকে নিয়ে দিল্লীগামী একটি ট্রেনে উঠে বসেন।

একটি প্রতিবেদন
দিল্লিতে এসে সে বিভিন্ন বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করতে শুরু করলো। একে অল্প বয়স তার ওপরে কোন গার্জেন নেই, কাজের জায়গায থেকেই নানা কুপ্রস্তাব আসতে লাগলো । নানা বাড়ি ঘুরে শেষ অব্দি কাজ পেলো প্রবোধ কুমারের বাড়িতে । অধ্যাপক কুমার ছিলেন মুন্সী প্রেমচন্দের নাতি।

বইয়ের তাক ঝাড়পোঁছ করতে গিয়ে মেয়েটি মাঝেই মাঝেই তাক থেকে পেড়ে আনতো বই। কিছুক্ষণ বইয়ের পাতার ওপর চোখ বুলিয়ে আবার রেখে দিতো যথাস্থানে। এই ঘটনা চোখ এড়ায়নি গৃহকর্তার যাকে সে তাতুস বলে ডাকতো । শব্দটির অর্থ বাবা, তিনিই তাকে এ নামে ডাকতে বলেছিলেন । একদিন তিনি বেবীর হাতে তুলে দেন তসলিমার লেখা আমার মেয়েবেলা।
“বইটা পড়ে আমার খুব ভালো লেগেছিল। মনে হয়েছিল, যেন আমার কথাই এখানে লেখা আছে,” বলছিলো কাজের মেয়েটা ।

একটি প্রতিবেদন
এর কিছুদিন পর, দক্ষিণ ভারত ভ্রমণে যাওয়ার আগে, নিজের ড্রয়ার থেকে প্রবোধ কুমার তাকে একটা ডায়েরি আর পেন দিয়ে যান। বলেন লিখতে । মেয়ে তো হতবাক......কী নিয়ে লিখবেন তিনি!
লিখলেন তাঁর হারানো শৈশবের কথা, লিখলেন তাঁর প্রথম সঙ্গমের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা, লিখলেন তেরো বছর বয়সের প্রসব যন্ত্রণার কথা, লিখলেন বছরের পর বছর ধরে নির্যাতনের ফলে শরীরে ফুটে ওঠা ক্ষতের কথা। লিখতে লিখতে ফিরে এল (বোনের) স্বামীর বোনের গলা টিপে ধরার অবদমিত স্মৃতি।

প্রায় কুড়ি বছর পর লিখছিলেন, প্রথম দিকে বানান, ব্যাকরণ নিয়ে একটু সমস্যা হচ্ছিল। কিন্তু একটু একটু করে পুরনো অভ্যাস মনে পড়ে গেল। আরো লিখতে থাকলেন। পরে বলছেন, “যত লিখতাম, ততই ভালো লাগত। মনে হত যেন অনেক দিনের কোনো ভার আমার বুকের ওপর থেকে সরে যাচ্ছে।” প্রবোধ কুমার ফিরে এসে দেখলেন, একশো পাতার ওপর লেখা হয়ে গেছে!

এটাই #বেবী_হালদারের প্রথম বই – "আলো আঁধারি।" প্রথম বার পড়ে কেঁদে ফেলেছিলেন প্রবোধ। যে সমস্ত সাহিত্য-অনুরাগীদের লেখাটি দেখিয়েছিলেন তিনি, তাঁরা অনেকে অ্যান ফ্রাঙ্কের ডায়েরির সঙ্গে তুলনা করেছিলেন লেখাটির।
বহু প্রকাশক নাকচ করে দেওয়ার পর, শেষ অব্দি কলকাতার একটা ছোট প্রকাশনী – রোশনি পাবলিশার্স – বইটি ছাপতে রাজি হয়।‌🏵️

একটি প্রতিবেদন
“একদিন একটা বই দেখিয়ে তাতুস আমাকে বললেন, ‘এটা তোমার বই। তুমি এটা লিখেছ।’ ছাপা বই আমার সামনে হাজির! আমি তো বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না!”
ঝাড়ুদার থেকে পরিচারিকা,পাশের বাড়ির অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা থেকে আধুনিকা কলেজ পড়ুয়া – বেবীর কাহিনি নাড়া দিয়েছিল সকলকেই। বইটির ইংরেজি অনুবাদ করেছেন ঊর্বশী বুটালিয়া। ২০০৬ সালে বইটি বেস্ট সেলার তালিকায় ছিল। বইটি ২১টি আঞ্চলিক এবং ১৩টি বিদেশি ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

আরো দুটি বই লিখেছেন বেবী। লেখা তাঁকে দিয়েছে আত্মপরিচয়, যা আগে ছিলই না।
অর্থনৈতিক ভাবে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর মত অবস্থায় পৌঁছে বেবী তাঁর তিন সন্তানকে (সুবোধ, তাপস, পিয়া) নিয়ে কলকাতায় থাকতে আরম্ভ করেন।
“এখন আমি বিশ্বাস করি, মানুষ সব পারে। আগে আমি পরিচারিকা ছিলাম। এখন আমি লেখিকা। আমি সবাইকে এটাই বলি যে, শুরু যে কোনো সময়েই করা যায়।” ‌🌹🌹
কলমে 🖌️ © স্বপন সেন 🌲

বিভেদের দেওয়ালকে ঐক্যের প্রতীকে রূপ দিয়েছিল লন্ডনের ওয়ালথামস্টোবাসীরালন্ডনের ওয়ালথামস্টো। এক সকালে দেখা গেল, রাস্তার...
21/08/2026

বিভেদের দেওয়ালকে ঐক্যের প্রতীকে রূপ দিয়েছিল লন্ডনের ওয়ালথামস্টোবাসীরা

লন্ডনের ওয়ালথামস্টো। এক সকালে দেখা গেল, রাস্তার ধারে কাঠের দেওয়ালে বড় হরফে কেউ লিখে গেছে— “SPEAK ENGLISH”। কথাটা অনেকটা ছিল আদেশের মতো, আর তার ভেতরে লুকিয়ে ছিল অন্য ভাষাভাষীদের প্রতি ঘৃণা। যে শহরে শত শত ভাষা বছরের পর বছর একসাথে উচ্চারিত হচ্ছে, সেখানে এই এক বাক্য নিমেষে এক বিদ্বেষ ছড়িয়ে যেন বলছিল— “তোমার জায়গা এখানে নয়।”

কিন্তু ওয়ালথামস্টো চুপ থাকেনি। কিছুদিনের মধ্যেই সেই একই দেওয়ালে যোগ হলো নতুন কিছু শব্দ— কেউ লিখে দিল “WE SPEAK”, আর তার চারপাশে সারি সারি ভাষার নাম: Punjabi, Bengali, Polish, Urdu, Romanian, Turkish, Tamil ইত্যাদি। যে দেওয়াল একসময় ছিল বিভেদের প্রতীক, মুহূর্তেই বদলে গেল ঐক্যের প্রতীকে। ঘৃণার জায়গায় ফুটে উঠল গর্বের বোধ— হ্যাঁ, আমরা নানান ভাষায় কথা বলি ঠিকই, কিন্তু আমরা একই শহরের মানুষ।

এই ঘটনার সবচেয়ে সুন্দর দিক ছিল এর জবাবের ধরন। কেউ পুরনো লেখাটা মুছে ফেলেনি, বরং তার ওপরেই নতুন শব্দ বসিয়ে যেন বলতে চায়— “তোমরা যত ঘৃণা ছড়াবে, আমরা তার চেয়েও বেশি ভালোবাসা ছড়াব।” লন্ডনের মতো শহর, যেখানে প্রতিদিন তিনশোরও বেশি ভাষা বলা হয়— যা বিশ্বের সর্বাধিক ভাষাবৈচিত্র্যপূর্ণ শহরগুলির মধ্যে অন্যতম— সেখানে এই দেওয়াল হয়ে উঠল নিঃশব্দ এক চপেটাঘাত, তাদের উদ্দেশে যারা জাতপাত, ভাষা বা গায়ের রঙ নিয়ে মানুষে মানুষে বিভাজনের দেওয়াল তুলতে চায়।

এই প্রতিবাদী দেওয়াল আমাদের মনে করিয়ে দেয়— সব সময় প্রতিবাদের ভাষা হিংসা দিয়ে নয়, ভালোবাসা দিয়েও হয়। এইভাবেই ওয়ালথামস্টোর সেই দেওয়াল আজ শান্তিপ্রিয় শহরের এক প্রতীক, যেখানে হিংসার ভাষা বদলে গিয়েছিল প্রেমময় এক ঐক্যবদ্ধ মিলনের ভাষায়।

লেখা: সৈকত বিশ্বাস

ছবি: সংগৃহীত

#সৈকত_বিশ্বাস ©️ #কথোপকথন #বংDoze

পেজটি ভালো লাগলে লাইক ও ফলো করে আমাদের উৎসাহ জোগাবেন, আর শেয়ার করে অন্যদের দেখার সুযোগ করে দেবেন।

১৯১৬ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর।আমেরিকার টেনেসি অঙ্গরাজ্যের কিংস্টন শহরে ঘটেছিল মানবসভ্যতার অন্যতম এক নিষ্ঠুর ঘটনা। পৃথিবীর ইতি...
20/08/2026

১৯১৬ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর।

আমেরিকার টেনেসি অঙ্গরাজ্যের কিংস্টন শহরে ঘটেছিল মানবসভ্যতার অন্যতম এক নিষ্ঠুর ঘটনা। পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম এবং শেষবারের মতো একটি হাতিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

হাতিটির নাম ছিল ‘বিগ ম্যারি’। পাঁচ টনের এই এশীয় হাতি বহু বছর ধরে স্পার্কস ওয়ার্ল্ড ফেমাস ট্রাভেলিং সার্কাস-এর প্রধান আকর্ষণ ছিল। অসাধারণ কসরত ও শান্ত স্বভাবের জন্য সে দর্শকদের প্রিয়পাত্র হয়ে উঠেছিল। মালিক চার্লি স্পার্কসের পরিবার ছোটবেলায়ই তাকে কিনে এনেছিল, আর তখন থেকেই ম্যারি ছিল দলের অপরিহার্য সদস্য।

ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন অভিজ্ঞ মাহুতকে সরিয়ে দিয়ে নতুন মাহুত রেড এল্ড্রিক্সকে হাতির দেখাশোনার দায়িত্ব দেওয়া হয়। আগের অভিজ্ঞতা থাকলেও নতুন জায়গার হাতির ব্যাপারে রেড ছিল অনভিজ্ঞ। এক প্রদর্শনীর সময়, ম্যারি যখন পেছনের দুই পায়ে দাঁড়িয়ে কসরত দেখাচ্ছিল, রেড অকারণে লোহার শিক দিয়ে তার কানে আঘাত করতে থাকে। ব্যথা ও উত্তেজনায় ক্ষিপ্ত হয়ে ম্যারি তাকে মাটিতে ফেলে পায়ে পিষে দেয়।

এই ঘটনার পর হাতিকে ঘিরে শহরে চরম উত্তেজনা আর ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। জনতার দাবি—“খুনি” হাতির শাস্তি চাই, নইলে তারা সার্কাস বয়কট করবে। মালিক বোঝানোর চেষ্টা করলেও কেউ শুনল না যে রেডের নিষ্ঠুরতা ও অনভিজ্ঞতাই দুর্ঘটনার মূল কারণ। কেউই চার্লি স্পার্কসের কোনও শো দেখতে যাচ্ছিল না এই ঘটনার প্রতিবাদে। সার্কাসটি একসময় প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হল। অবশেষে জনরোষ প্রশমনের জন্য মালিককে রাজি হতে হল ম্যারিকে হত্যা করতে।

কীভাবে ম্যারিকে হত্যা করা হবে, তা নিয়ে নানান প্রস্তাব এল। কেউ বলল গুলি করে হত্যা করা হোক, কেউ বলল ট্রেনে পিষে ফেলা হোক, আবার কেউ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট করে মারার প্রস্তাব দিল। কিন্তু শেষমেশ ঠিক হল—ম্যারিকে ক্রেনে ঝুলিয়ে ফাঁসি দেওয়া হবে, আর তা স্বচক্ষে দেখার জন্য নাগরিকদের ডাকা হবে।

হাজারো মানুষ সেদিন জড়ো হয় এক অবলা জীবের “বিচার” দেখতে। ভারী চেন দিয়ে ম্যারিকে ক্রেনের হুকে বাঁধা হয়। চালু হতেই এক ঝটকায় তাকে ২০ ফুট ওপরে তুলে নিল ক্রেন। কিন্তু ভারে চেন ছিঁড়ে সে মাটিতে পড়ে যায়—মেরুদণ্ড ও পা ভেঙে যায়, রক্ত ঝরতে থাকে। তবু উন্মত্ত জনতা দয়া দেখায়নি। পুনরায় গলায় চেন বেঁধে উপরে তোলা হয় তাকে। প্রবল আওয়াজ আর ছটফটানিতে কেঁপে ওঠে দিক-বেদিক, তারপর চিরনিস্তব্ধতা। জনতার উল্লাসে সেদিন ভেঙে যায় মানবতার সমস্ত সীমা—“খুনি হাতি” তার প্রাপ্য শাস্তি পেয়েছে।

কিন্তু প্রশ্ন রয়ে যায়—সেদিন কি সত্যিই খুনি মারা গিয়েছিল? নাকি ফাঁসির দড়িতে ঝুলেছিল মানবতা, সহানুভূতি ও সভ্যতার মুখোশ? ইতিহাস আজও সেই উত্তর খুঁজে বেড়ায়।

লেখা: সৈকত বিশ্বাস
ছবি: সংগৃহীত

#সৈকত_বিশ্বাস ©️ #কথোপকথন #বংDoze

পেজটি ভালো লাগলে লাইক ও ফলো করে আমাদের উৎসাহ জোগাবেন, আর শেয়ার করে অন্যদের দেখার সুযোগ করে দেবেন।

অচেনা এক লৌহমানবী.....‌🔥🔥....ভয় পেওনা, আমাকে বলো  তুমি কি নিজের ইচ্ছায় এখানে এসেছো মা?"আটপৌরে শাড়ি পরিহিত মহিলার প্রশ্...
20/08/2026

অচেনা এক লৌহমানবী.....‌🔥🔥
....ভয় পেওনা, আমাকে বলো তুমি কি নিজের ইচ্ছায় এখানে এসেছো মা?"
আটপৌরে শাড়ি পরিহিত মহিলার প্রশ্নের জবাবে নীরব থাকে তরুণী বধূটি।
...চুপ করে থেকোনা, বলো তুমি কি নিজের ইচ্ছায় এসেছ নাকি জোর করে আনা হয়েছে? তোমার বাবা মা ভাই বোন , এরা কোথায়?"
কোন কথা বলেনা মেয়েটি,তার হয়ে জবাব দেয় সঙ্গী পুরুষটি, বিবিজান আমার বড় লাজুক। সদ্য নিকাহ হইচে মেমসাহেব, অচেনা লোকের লগে কথা কয় না!

প্রশ্নকত্রী এবার পাশের ইংরেজ পুলিশ অফিসার কে বলেন, " আই ওয়ান্ট ট্যু ইন্টারোগেট দিস লেডি প্রাইভেটলি। প্লিজ এরেঞ্জ!"....."হোয়াই ম্যাম ? শি ইজ হিজ লিগ্যাল ওয়াইফ। দ্য এনটায়ার পিকচার ইজ কোয়াইট ক্লিয়ার য়্যান্ড ..."
কথা শেষ করতে না দিয়ে গর্জে ওঠেন মহিলা, অফিসার , আই সেড আই ওয়ান্ট ট্যু ইন্টারোগেট প্রাইভেটলি। প্লিজ এরেঞ্জ!"

ব্যবস্থা হলো । আর পুরুষটি চোখের আড়াল হতেই চিৎকার করে কেঁদে উঠলো বধূটি।
"আমারে বাঁচান দিদিমণি। আমার বাপরে ভাইরে মাইরা জোর কইরা তুইলা আনসে। মা'রেও কুথায় পাঠাইসে জানি না। মুখ খুললে গুম কইরা দিবে কয়।"
কান্নার শব্দ শুনে ছুটে এলেন ইন্সপেক্টর। একদম অপ্রস্তুত হয়ে পড়লেন ভদ্রমহিলার বিচক্ষণতা দেখে!
"হোয়াট আর ইউ ওয়েটিং ফর ?"- আবার মহিলার গর্জন -" টেক হার উইথ আস!"
-"ইয়েস ম্যাডাম!"

স্থান: দাঙ্গা বিধ্বস্ত নোয়াখালী, পূর্ব বাংলা।
কাল: আগষ্ট মাস, ১৯৪৬
চিনতে পারলেন মহিলা কে ?
ঠিক একবছর পর ১৯৪৭ সালের ১৪ই আগষ্ট মাঝরাতে সংসদ ভবনে দাঁড়িয়ে নেহেরুজী তাঁর বিখ্যাত ভাষণ Tryst with Destiny দিয়ে সম্বোধন করলেন দেশবাসী কে। আর তারপর ওই একই মহিলার উদাত্ত কন্ঠের 'বন্দেমাতরম' ও 'সারে জঁহা সে আচ্ছা' গান বেতারের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল দেশের কোনায় কোনায়। এবার কি চিনতে পারলেন ?
ইনি বঙ্গতনয়া সুচেতা মজুমদার কৃপালনী, স্বাধীন ভারতের প্রথম মহিলা মুখ্যমন্ত্রী।

জন্ম ১৯০৮ সালের ২৫শে জুন, আম্বালা শহরে
এক ব্রাহ্ম পরিবারে। বাবা সুরেন্দ্রনাথ মজুমদার ছিলেন সরকারি হাসপাতালের ডাক্তার, সেই জন্য অনবরত তাকে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় বদলি হতে হতো। আর তাই ছোটবেলায় বিভিন্ন রাজ্যে ঘুরতে হয়েছে সুচেতাকে।

নিজের আত্মজীবনীতে লিখেছেন ছোটবেলায় ছিলেন অত্যন্ত লাজুক। তাঁর দশ বছর বয়সে লাহোরে থাকার সময় ঘটেছিল জালিয়ানওয়ালা বাগ হত্যাকান্ড। পুরোটা বুঝতে না পারলেও সেই ঘটনা তাকে যথেষ্ট প্রভাবিত করেছিল। এরপর থেকে স্কুলে শ্বেতাঙ্গ ছেলেমেয়েদের তিনি এড়িয়ে চলতেন। লাহোরের কিনইয়ার্ড কলেজে পড়ার সময একবার তাদের বাইবেল শিক্ষক হিন্দুধর্ম নিয়ে কিছু বাজে কথা বলেছিলেন। রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে বাড়ি এসে বাবার কাছে সব খুলে বললেন তরুণী সুচেতা। সারারাত ধরে পড়লেন ভাগবদগীতা। পরদিন কলেজে থিওলজি ক্লাসে গীতা থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে সেই অধ্যাপককে এমন ঘোল খাইয়েছিলেন, তিনি আর কোনদিনও হিন্দু ধর্ম নিয়ে কিছু বলার সাহস পাননি।

দিল্লির সেন্ট স্টিফেন কলেজ থেকে ইতিহাসে M.A করার পর ভেবেছিলেন দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে সামিল হবেন, কিন্তু হঠাৎ বাবা মারা গেলেন। সংসারের হাল ধরতে বেরুলেন চাকরির খোঁজে। লাহোরে নিজের পুরানো কলেজে ভালো মাইনের অধ্যাপনার চাকরি পেলেও যোগ দিলেন বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ে। একটাই কারণ, উপনিবেশ বিরোধী আন্দোলনে সেদিন বড় ভূমিকা ছিলো এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির।

এখানেই তাঁর পরিচয় হয় আচার্য জে বি কৃপালিনীর সাথে। উনি তখন জাতীয় কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক। প্রায়ই আসতেন ঐ বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাধীনতা আন্দোলনের জন্য শিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবকের সন্ধানে। ১৯৩৪ সালে বিহারে হলো ভয়াবহ ভূমিকম্প, জেবির নেতৃত্বে ত্রানকার্যে ঝাঁপিয়ে পড়লো কংগ্রেস সেবাদল। সঙ্গী হলেন সুচেতা। সেখান থেকেই দুজনের ঘনিষ্টতা আর তারপর পরিণয়। ১৯৩৬ সালে আটাশ বছরের সুচেতা তাঁর চেয়ে বিশ বছরের বড় জীবতরাম কৃপালিনীকে বিয়ে করে হলেন সুচেতা কৃপালিনী। এবার পুরোদমে নিজেকে নিয়োজিত করলেন জাতীয় আন্দোলনে। এলো ভারত ছাড়ো আন্দোলন..... অরুণা আসফ আলী, উষা মেহতার সঙ্গে সুচেতাও ঝাঁপিয়ে পড়লেন এই বিপ্লবযজ্ঞে।কর্মদক্ষতা দেখে মুগ্ধ হলেন গান্ধীজি, কস্তুরবা গান্ধীর নামাঙ্কিত ট্রাস্টের দায়িত্ব অর্পণ করলেন তাঁর হাতে। সুচেতার হাতেই পত্তন হলো সর্বভারতীয় মহিলা কংগ্রেসের ।

এরমধ্যেই চলে এলো ১৯৪৬ সালের সেই ভয়াবহ দিন। লীগ মন্ত্রীসভার উস্কানিতে বাংলার দুই প্রান্তে শুরু হয়ে গেল ভয়াবহ দাঙ্গা। স্থির থাকতে পারলেন না সুচেতা। গান্ধীজীর সঙ্গে পা দিলেন নোয়াখালীর মাটিতে, তারপরেই শুরু হলো তার মিশন। হতভাগ্য মেয়েগুলোকে বাঁচাতে হবে। সঙ্গী ছিলেন আরো সব নমস্য মহিলা বিপ্লবী.... বীণা দাস , লীলা রায়, শান্তিলতা!

স্বাধীন ভারতে প্রধানমন্ত্রী নেহরুর সঙ্গে জে বি কৃপালিনীর মনান্তর ঘটলো, স্বামী প্রতিষ্ঠা করলেন, কৃষক মজদুর প্রজা পার্টি। সেই পার্টিতে যোগদান করলেন তিনি এবং সেই পার্টির টিকিটেই নয়াদিল্লি কেন্দ্র থেকে কংগ্রেসের হেভিওয়েট প্রার্থীকে হারিয়ে ১৯৫২ সালের প্রথম লোকসভা নির্বাচনে জিতলেন তিনি। তাঁর পাঁচ বছর পরে , ১৯৫৭ সালে আবার জয়, এবার অবশ্য পুরনো দল কংগ্রস থেকেই! ১৯৬৩ সালে আবার জীবনে মোড় ঘুরলো। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী রূপে তাঁকে মনোনীত করলো শাসক দল। তিনিই হলেন স্বাধীন ভারতের প্রথম মহিলা মুখ্যমন্ত্রী, তাও আবার দেশের বৃহত্তম রাজ্যের।
দক্ষ প্রশাসক হিসাবে ছাপ রেখে গেছেন নিজের শাসনকালে। ১৯৬৭ সাল অব্দি দৃঢ়তার সঙ্গে রাজ্য শাসন করেছেন। সরকারি কর্মচারীরা তার আমলে ৬২ দিন ধরে ধর্মঘট চালালেও তিনি অবিচল ছিলেন। ইউনিয়ন নমনীয় হওয়ার পরেই তিনি তাদের সাথে আলোচনায় বসতে রাজী হয়েছিলেন।

কথায় কথায় আমরা প্রশাসনের লৌহমানবী বলতে মার্গারেট থ্যাচার বা গোলডা মেয়ারের উদাহরণ দিই। দেশের প্রথম মহিলা মুখ্যমন্ত্রী এই বঙ্গললনা তাদের থেকে কোন অংশে কম ছিলেন না, শুধু ঘরের মেয়ে বলে আমরা স্বীকৃতি দিতে চাই না!

রাজনীতি থেকে অবসর নেন ১৯৭১ সালে।আত্মজীবনী লিখলেন,"An Unfinished Autobiography".
পয়লা ডিসেম্বর ১৯৭৪, একরকম নীরবেই দুনিয়া ছাড়লেন দেশের প্রথম মহিলা মুখ্যমন্ত্রী!

কলমে: স্বপন সেন
তথ্য সৌজন্যে, চয়ন মুখার্জি।

🐘🐘এক হাতি বনাম মুঘল বাহিনী—ধরা পড়েও মাথা নত নয়, প্রভুর জন্য ১৮ দিন না খেয়ে মৃত্যুবরণ 🐘🐘ভারতের ইতিহাসে এমন অনেক যুদ্ধ ...
20/08/2026

🐘🐘এক হাতি বনাম মুঘল বাহিনী—ধরা পড়েও মাথা নত নয়, প্রভুর জন্য ১৮ দিন না খেয়ে মৃত্যুবরণ 🐘🐘

ভারতের ইতিহাসে এমন অনেক যুদ্ধ হয়েছে যেখানে মানুষের পাশাপাশি প্রাণীরাও সামনে থেকে লড়াই করে গিয়েছে এক নীরব যোদ্ধা হয়ে। মহারানা প্রতাপের বিশ্বস্ত ঘোড়া চেতকের কথা সবাই জানে, কিন্তু তাঁর আর এক সঙ্গীর গল্প অনেকেই ভুলে যায়। সে ছিল তাঁর যুদ্ধহাতি রামপ্রসাদ—এক বিশাল, শক্তিশালী এবং আশ্চর্য রকমের বিশ্বস্ত প্রাণী।

মুঘল সম্রাট আকবর তখন একের পর এক রাজ্য জয় করে ভারতবর্ষের প্রায় সব রাজাকে নিজের অধীনে নিয়ে ফেলেছেন। অনেক রাজপুত রাজাও শেষ পর্যন্ত তাঁর অধীনতা স্বীকার করেছিলেন। কিন্তু একজন রাজা বারবার তাঁর সামনে মাথা নত করতে অস্বীকার করেছিলেন—মেওয়ারের মহারানা প্রতাপ। আকবরের কাছে বিষয়টা তখন শুধু রাজ্য দখলের প্রশ্ন ছিল না, এক ধরনের ব্যক্তিগত জেদও হয়ে দাঁড়ায়। বলা হয়, তাঁর দুইটি বড় ইচ্ছে ছিল—এক, মহারানা প্রতাপকে জীবিত ধরে আনা; দুই, প্রতাপের বিখ্যাত যুদ্ধহাতি রামপ্রসাদকে নিজের দখলে নেওয়া।

১৫৭৬ সালের ১৮ জুন রাজস্থানের হলদিঘাটের সেই বিখ্যাত যুদ্ধে এই রামপ্রসাদ যেন একাই এক সেনাবাহিনীর মতো লড়াই করেছিল। যুদ্ধ শুরু হতেই সে মুঘল বাহিনীর হাতিদের দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে। সমসাময়িক বর্ণনায় বলা হয়েছে, সে একাই মুঘল বাহিনীর প্রায় তেরোটি যুদ্ধহাতিকে মেরে ফেলে বা অক্ষম করে দেয়। বিশাল দেহ আর দুর্ধর্ষ শক্তির সামনে অনেক হাতিই টিকতে পারেনি। যুদ্ধক্ষেত্রে মুহূর্তের মধ্যেই সে এক আতঙ্কে পরিণত হয়।

যখন খবর যায় যে এক হাতি পুরো যুদ্ধক্ষেত্রকে তছনছ করে দিচ্ছে, তখন মুঘল সেনাপতি বিশেষ পরিকল্পনা করেন। সরাসরি আক্রমণে তাকে হারানো সম্ভব হচ্ছিল না। তাই সাতটি শক্তিশালী রাজকীয় হাতিকে নিয়ে এক ধরনের ঘেরাও কৌশল তৈরি করা হয়। বহু মাহুত ও সৈন্য মিলে সেই সাতটি হাতিকে সামনে রেখে রামপ্রসাদকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে। দীর্ঘ লড়াইয়ের পরে অবশেষে তাকে জীবিত আটক করা সম্ভব হয়।

এরপর কঠোর পাহারায় তাকে নিয়ে যাওয়া হয় আগ্রায় সম্রাট আকবরের দরবারে। বিশাল ও সাহসী এই হাতিকে দেখে আকবর নাকি খুবই খুশি হয়েছিলেন। তাকে রাজকীয় যত্নে রাখা হয়, এমনকি তার নামও বদলে “পীরপ্রসাদ” রাখা হয়। তাকে ফল, আখ আর জল দেওয়া হয়েছিল, যেন সে ভালোভাবে খায় ও সুস্থ থাকে। কিন্তু রামপ্রসাদ কিছুতেই সেই খাবার গ্রহণ করল না।

লোককথা ও বহু ঐতিহাসিক বর্ণনায় বলা হয়, সে তার প্রভু মহারানা প্রতাপকে ছাড়া অন্য কারও খাবার খেতে রাজি হয়নি। দিন পর দিন কেটে যায়, কিন্তু সে মুখে কিছু তোলে না। এইভাবে প্রায় আঠারো দিন কিছু না খেয়েই সে শেষ পর্যন্ত প্রাণ ত্যাগ করে।

রামপ্রসাদের এই কাহিনি ইতিহাসে শুধু এক যুদ্ধহাতির গল্প নয়। এটি সেই অদ্ভুত বিশ্বস্ততার গল্প, যেখানে এক প্রাণী তার প্রভুর প্রতি এমন আনুগত্য দেখিয়েছিল যে বন্দিত্বে বেঁচে থাকার চেয়ে মৃত্যুকেই শ্রেয় মনে করেছিল।

হলদিঘাটের যুদ্ধের বহু বছর পরে আজও রাজস্থানের লোককথায় রামপ্রসাদের নাম উচ্চারিত হয় শ্রদ্ধার সঙ্গে—কারণ সে শুধু একটি হাতি ছিল না, সে ছিল মহারানা প্রতাপের এক দুর্দান্ত প্রতাপ সৈনিক।

লেখা : সৈকত বিশ্বাস

#সৈকত_বিশ্বাস ©️ #কথোপকথন #বংDoze

পেজটি ভালো লাগলে লাইক ও ফলো করে আমাদের উৎসাহ জোগাবেন, আর শেয়ার করে অন্যদের দেখার সুযোগ করে দেবেন।



——————————————————————-

বিধিকরণ সতর্কতা:

© বংDoze © সৈকত বিশ্বাস — সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

এই লেখার কোনো অংশ অনুমতি ছাড়া কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। ব্যবহার করতে চাইলে লেখক ও পেজের নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে—অন্যথায় তা কপিরাইট লঙ্ঘন হিসেবে ধরা হবে।

——————————————————————-

🥂🍻আপনি কি জানেন, ব্রিটিশ আমলের সেই পানশালা আজও কলকাতার বুকে একই সুনাম নিয়ে টিকে আছে?🍻🥂কলকাতার এসপ্ল্যানেড মেট্রো গলির ভ...
20/08/2026

🥂🍻আপনি কি জানেন, ব্রিটিশ আমলের সেই পানশালা আজও কলকাতার বুকে একই সুনাম নিয়ে টিকে আছে?🍻🥂

কলকাতার এসপ্ল্যানেড মেট্রো গলির ভেতরে লুকিয়ে আছে শহরের অন্যতম পুরোনো পানশালা— শ ব্রাদার্স (Shaw Bros), যাকে অনেকেই ভালোবেসে “ছোটো ব্রিস্টল” বলে ডাকেন। প্রায় দেড় শতাব্দীর ইতিহাস নিয়ে এই বারটি আজও কলকাতার সামাজিক জীবনের এক অনন্য সাক্ষী। ব্রিটিশ আমলের হোটেল ব্রিস্টলের পেছনের অংশে শুরু হওয়া এই পানশালাটি ধীরে ধীরে অফিসকর্মী, সাংবাদিক, আর্টিস্ট আর সাধারণ মানুষের আড্ডার কেন্দ্র হয়ে ওঠে। ১৮৭২-এর দিকে প্রতিষ্ঠিত হওয়া এই পানশালাটি “শ“
পরিবারের (Shaw) ছয় প্রজন্ম ধরে সামলাচ্ছে, আর সেই পুরোনো দিনের ধারা আজও বজায় রয়ে রেখেছে। বিলাসবহুল সাজসজ্জা নয়, বরং একদম সহজ-সরল, নির্ভেজাল পরিবেশ এখানে প্রধান আকর্ষণ। পুরোনো কাঠের কাউন্টার, সাদামাটা আলো, আর টেবিল ঘিরে জমে ওঠা আড্ডা মিলিয়ে এই বারটিকে যেন ইতিহাসের ফ্রেমে আটকে যাওয়া স্মৃতিছবি।

এখানে অর্ডার নেওয়ার ধরনটাও পুরোনো দিনের মতো, ওয়েটার এসে আগে দাম নেন, তারপর এসে পানীয় ও বাড়তি টাকা ফিরিয়ে দেন। কোনও কিচেন নেই এই বারে। বাইরে থেকে আনা ভাজা ছোলা, আদা-লবণ মাখানো কাঁচা ছোলা, মটন লিভার, মাছ ফিঙ্গার, চিজ কিউব আর সল্টেড কাজুর মতো স্ন্যাকস পরিবেশন করা হয় পানীয়র সাথে। রীতিনীতি মেনে সন্ধ্যা কালীন পুজোর জন্য আগে প্রতিদিন সন্ধ্যা ছ’টা থেকে পনেরো মিনিটের জন্য বারের দরজা বন্ধ থাকতো তবে এখন ওই সময়টা দরজা খোলা থাকলেও কোনো অর্ডার নেওয়া হয় না। পানীয়র দাম কম, সঠিক মাপ - এই ভাবে পুরোনো দিনের আস্থা, সরলতা এবং আন্তরিকতা মিলিয়ে এই জায়গাটিকে পানশালার থেকেও বেশি এক প্রাণের জায়গা করে তোলে।

অফিস ফেরত হোক বা চলতি কাস্টমার, সবার ঘণ্টার পর ঘণ্টা পানীয়র সাথে আড্ডা মারার জন্য প্রিয় ঠিকানা এই প্রাচীন পানশালাটি। শোনা যায় এক সময় নাকি একজন নিয়মিত কাস্টমার প্রতিদিন বাসের টিকিট কাউন্টারে ছুড়ে দিতেন, আর ওয়েটার সেটাই ‘আইডেন্টিটি’ ধরে তাকে পেগ দিতেন, এমনই ছিল এই দোকানের প্রতি কাস্টমারদের আস্থা ও মোহ। এই বারে মহিলাদের প্রবেশ নিষেধ আর কয়েক দশক আগে থেকে ধূমপানও সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শোনা যায় ঋত্বিক ঘটকের মতো সেলিব্রেটিরাও একসময় এখানে বসে গল্প, তর্ক আর আড্ডায় মশগুল থাকতেন।

ব্যস্ত শহরের মাঝে এই বারটি শুধু পান করার জায়গা নয়, বরং এক সামাজিক চিত্রপট, যেখানে প্রতিদিনই মানুষের গল্প, হাসি, তর্ক আর আড্ডা মিলেমিশে তৈরি হয় এক অনন্য পরিবেশ। কলকাতার ঐতিহ্য, নস্টালজিয়া আর সাধারণ মানুষের জীবনের ছন্দ—সবই যেন একসঙ্গে বেঁচে আছে শ ব্রাদার্সে। এই কারণেই এখনও বহু মানুষের কাছে এটি শুধুই একটি বার নয়, কলকাতার স্মৃতির এক পুরোনো ঠিকানা।

আরও একটি মজার তথ্য—‘Shaw’ পদবির আড়ালেও রয়েছে কলকাতার পুরনো ইতিহাস। বর্তমান Shaw পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁদের পূর্বপুরুষদের পদবি ছিল ‘Saha’। পরবর্তী সময়ে ‘Shaw’ পদবিটি ব্যবহৃত হতে শুরু করে। কেউ কেউ মনে করেন, ব্রিটিশ আমলে উচ্চারণ বা নথিভুক্তির পরিবর্তনের ফলেই Saha থেকে Shaw নামের প্রচলন। তবে ব্রিটিশরাই ইচ্ছাকৃতভাবে পদবি বদলে দিয়েছিল—এমন নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক দলিল এখনও পাওয়া যায়নি।

লেখা: সৈকত বিশ্বাস
ছবি: সংগৃহীত

#সৈকত_বিশ্বাস ©️ #কথোপকথন #বংDoze

পেজটি ভালো লাগলে লাইক ও ফলো করে আমাদের উৎসাহ জোগাবেন, আর শেয়ার করে অন্যদের দেখার সুযোগ করে দেবেন।










সাপের ভাষা/সাপের বিষ......‌🔴🌑সাপ নিয়ে ভরসন্ধ্যায় আপনি হেলাফেলা করতেই পারেন। পোস্টে লাইক/কমেন্ট না করে চলেও যেতে পারেন,...
19/08/2026

সাপের ভাষা/সাপের বিষ......‌🔴🌑

সাপ নিয়ে ভরসন্ধ্যায় আপনি হেলাফেলা করতেই পারেন। পোস্টে লাইক/কমেন্ট না করে চলেও যেতে পারেন, আপ কি মর্জি। তবে গেলে কোন দায়িত্ব নিতে পারবো না সেটা আগেভাগেই বলে দিচ্ছি। গতকাল 'মন্নত' এ #কিং_খানের বাড়িতে অব্দি তেনারা দেখা দিয়েছেন শুনলাম! রাজা-গজার বাড়ি যখন তখন কি আর জলঢোড়া বা বালিবোড়া হবে, নির্ঘাৎ কিং কোবরা! যাইহোক আজ শোয়ার আগে একবার খাটের তলাটা দেখে নেবেন কিনা সেটা আপনার ব্যাপার ! 🙄

'........ঢেলাটা একটা ভারী শব্দ করে ঝোপের ওপর পড়ে কাঁটাসমেত পাতাগুলোকে তছনছ করে দিল। ধূর্জটিবাবু টর্চটা ধরে আছেন গর্তের ওপর। কয়েক মুহূর্ত সব চুপ—কেবল বনের মধ্যে কোথায় যেন একটা ঝিঁঝি সবেমাত্র ডাকতে আরম্ভ করেছে। এবার তার সঙ্গে আরেকটা শব্দ যোগ হলো। একটা শুকনো সুরহীন শিসের মতো শব্দ। তারপর পাতার খসখসানি, আর তারপর টর্চের আলোয় দেখা গেল একটা কালো মসৃণ জিনিসের খানিকটা। সেটা নড়ছে, সেটা জ্যান্ত, আর ক্রমেই সেটা গর্তের বাইরে বেরিয়ে আসছে।

এবার ঝোপের পাতা নড়ে উঠল, আর তার পরমুহূর্তেই তার ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে এল একটা সাপের মাথা। টর্চের আলোয় দেখলাম কেউটের জ্বলজ্বলে চোখ, আর তার দুভাগে চেরা জিব, যেটা বারবার মুখ থেকে বেরিয়ে এসে লিকলিক করে আবার সুড়ুত্ করে ভেতরে ঢুকে যাচ্ছে।

#দীনদয়াল কিছুক্ষণ থেকেই জিপে ফিরে যাওয়ার জন্য আমাদের তাগাদা দিচ্ছিল, এবার ধরা গলায় অনুনয়ের সুরে বলল, ‘ছোড় দিজিয়ে বাবু!—আব্ তো দেখ লিয়া, আব ওয়াপস চালিয়ে।’

টর্চের আলোর জন্যই বোধ হয় বালকিষণ এখনো মাথাটা বার করে আমাদের দিকে চেয়ে আছে, আর মাঝে মাঝে জিব বার করছে। আমি সাপ দেখেছি অনেক, কিন্তু এত কাছ থেকে এভাবে কালকেউটে কখনো দেখিনি। আর কেউটে আক্রমণের চেষ্টা না করে চুপচাপ চেয়ে রয়েছে, এ রকমটাও তো কখনো দেখিনি।‌

তারপর যে কাণ্ডটি ঘটল সেটার জন্য আমি মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না। ধূর্জটিবাবু হঠাত্ একটা পাথরের টুকরো তুলে নিয়ে চোখের নিমেষে সেটা বালকিষণের মাথার দিকে তাক করে ছুড়ে মারলেন। আর তার পরপরই আরও দুটো। একটা বিশ্রী আশঙ্কায় দিশেহারা হয়ে আমি বলে উঠলাম, ‘আপনি এটা কি করলেন #ধূর্জটিবাবু!’

ভদ্রলোক আমার পাশে দাঁড়িয়ে হাঁপাতে হাঁপাতে চাপা গলায় বেশ উল্লাসের সঙ্গে বললেন, ওয়ান কেউটে লেস!’

দীনদয়াল হাঁ করে বিস্ফারিত চোখে ঝোপটার দিকে চেয়ে আছে। ধূর্জটিবাবুর হাত থেকে টর্চটা নিয়ে আমিই এবার গর্তের ওপর আলো ফেললাম। বালকিষণের অসাড় দেহের খানিকটা অংশ দেখা যাচ্ছে। ঝোপের পাতায় লেগে রয়েছে সাপের মাথা থেকে ছিটকে বেরোনো খানিকটা রক্ত! ‌♦️

এর মধ্যে কখন যে ইমলিবাবা আর তাঁর চেলা এসে আমাদের পেছনে দাঁড়িয়েছে, তা বুঝতেই পারিনি। ধূর্জটিবাবুই প্রথম পেছন ফিরলেন। তারপর আমিও ঘুরে দেখি বাবা হাতে একটা যষ্টি নিয়ে আমাদের থেকে হাত দশেক দূরে একটা বেঁটে খেজুরগাছের পাশে দাঁড়িয়ে ধূর্জটিবাবুর দিকে একদৃষ্টে চেয়ে আছেন। বাবা যে এত লম্বা সেটা বসা অবস্থায় বুঝতে পারিনি। আর তাঁর চোখের চাহনির বর্ণনা দেওয়ার ক্ষমতা আমার নেই। শুধু এটুকু বলতে পারি যে বিস্ময়, ক্রোধ আর বিদ্বেষ মেশানো এমন চাহনি আমি কারও চোখে দেখিনি।‌👁️‌👁️

বাবার ডান হাতটা এবার সামনের দিকে উঠে এল। এখন সেটা নির্দেশ করছে ধূর্জটিবাবুর দিকে। হাতের তর্জনীটা এবার সামনের দিকে বেরিয়ে নির্দেশটা আরও স্পষ্ট হলো। এই প্রথম দেখলাম বাবার আঙুলের একেকটা নখ প্রায় দুই ইঞ্চি লম্বা। কিন্তু অভিশাপের কথা বললেন না ইমলিবাবা। এমন বিদ্বেষপূর্ণ চাহনিতে ধূর্জটিবাবুর দিকে তর্জনী তুলে রেখেছেন যেন অভিশাপ দিচ্ছেন ধূর্জটিবাবুকে।

কিন্তু মুখে অভিশাপের কথা কিছু বললেন না #ইমলিবাবা। তবে গম্ভীর, চাপা গলায় হিন্দিতে তিনি যা বললেন তার মানে হলো, একটা #বালকিষণ গেছে তো কি? আরেকটা বালকিষণ আসবে। বালকিষণের মৃত্যু নেই। সে হলো অমর! তারপর...?

পাঠক বুঝতেই পারছেন এটি ' #খগম' গল্পের অংশ। কিন্তু কে এই খগম ? মহাভারতের আদিপর্বে রয়েছে সাপ নিয়ে ফাজলামির এক মারাত্মক পরিণতির উপাখ্যান। ঋষি খগম খড় দিয়ে তৈরি এক সাপ নিয়ে ভয় দেখিয়েছিলেন তাঁর বন্ধু তপস্যারত #সহস্রপাৎ কে । উনি ভয়ে অজ্ঞান হয়ে যান। সংজ্ঞালাভ করে খগমকে অভিশাপ দেন সে মানুষ থেকে ঢোঁড়া সাপে রূপান্তরিত হবে। হলোও তাই। বহু বছর পরে রাজা #রুরু'র দর্শন পেয়ে অবশ্য তাঁর শাপমুক্তি ঘটেছিল।

এই উপাখ্যানের ওপর নির্ভর করেই বাংলা ছোটগল্পের এক অনন্য নিদর্শন 'খগম'.... রচয়িতা #সত্যজিৎ_রায়। গতকাল গেছে মনসা পুজো, আজ এই গল্প স্মরণ করেই মা মনসার প্রতি আমাদের শ্রদ্ধাঞ্জলি। দেরী করার জন্য অপরাধ নিওনা মা !🌹
সংকলনে ✍🏻©️ স্বপন সেন 🌲
ছবিওয়ালা: সৈকত বিশ্বাস

Address

Mumbai

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when বং Doze posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Establishment

Send a message to বং Doze:

Shortcuts

Share