23/01/2026
নারীর যৌনতা প্রস্ফুটিত হয়—
স্পর্শের আগে, ইচ্ছার আগেই।
যখন সে বুঝতে পারে
কেউ তাকে তাড়া করছে না।
শুধু লক্ষ্য করা হচ্ছে।
আমরা সবাই চাই কারও পূর্ণ অনুরাগ—
কিন্তু এই খোলা বাজারে
তা পাই টুকরো টুকরো করে।
একটা চোখের চাহনি,
একটা কথার থেমে যাওয়া,
হাসির ভাঁজে অজানা ইঙ্গিত।
তারপর—
কোনো এক নিভৃত কোণে
এই সমস্ত ছড়িয়ে থাকা প্রণিধান
এখন একসাথে শুধু তার।
এই জানাটাই প্রথম শিহরণ।
সে শিহরিত হতে চায় ধীরে।
যেন কেউ তার দিকে তাকিয়ে আছে,
যেন চাইলেই ছুঁয়ে দিতে পারে—
কিন্তু এখনো বাড়ায়নি হাত।
যেন তার শরীর একটি সেতার—
যার সব তার একসঙ্গে ছোঁয়া হলে
শব্দ হয়, সুর নয়।
কিন্তু সংবেদী তালে, বিরতিতে,
যদি ছুঁয়ে দেওয়া যায় প্রতিটি তার,
তখন শরীর নিজেই
হয়ে ওঠে সুর।
জলের ফোঁটার মতো ঝরে পড়ে চুম্বন—
ঠোঁটে, গালে, কপালে,
ঘাড়ে, পিঠে।
শরীর তখন আশ্বস্ত হয়—
এখানে তাড়া নেই।
যখন প্রতিটি অঙ্গ স্ফুটনোন্মুখ,
সে তখন শুধু গ্রহণ করে না—
নিয়ন্ত্রণও করে।
কোথাও থেমে যাওয়া আরও কিছুক্ষণ,
কোথাও ছুঁয়ে চলে যাওয়া।
এই না-বলা নির্দেশেই
ভরে ওঠে কলসী,
উথলে ওঠে জল।
এখন শিশ্নের যোনিপ্রবেশ—
শুধু মিলন নয়;
যেন উথাল সমুদ্রে
পাড়ি দেওয়া একটি কলার ভেলা।
কেউ জানে না ঠিক কোথায় শেষ,
শুধু জানে—
এই ভাসাটুকুই সত্যি।
তারপর একসময়
খুঁজে পাওয়া যায়
সেই নোনাজলে ভেজা বালুতট—
যেখানে শুয়ে থাকে দুটি ভেজা শরীর।
কিছু খুচরো কথাবিনিময়।
তারপরে উঠে দুজনার দুটি পথে চলে,
মিশে যাওয়া এই জনবহুল শহরে।
শুধু মনে রেখে দেওয়া—
তাকে ছোঁয়া নয়,
শোনা হয়েছিল।
Saraswat Sabha
#কবিতা_যাপন