23/03/2026
#যোজনগন্ধা - একটি #অন্তরঙ্গনাট্য এবং
কে আমরা সবাই চিনি না। ওনাকে উবাচ'র আন্তরিক ধন্যবাদ। উনি নিবিষ্টমনে যোজনগন্ধা দেখেছেন। ওনার নিজস্ব অভিমত 👇:
"আহা কি দেখিলাম"। একেকটি ফুল সযত্নে চয়ন করে যেন পুরো মালাটি গাঁথা হয়েছে। এমন একটি উপস্থাপনা যাতে চোখ, মন এবং হৃদয় আটকে থাকে পুরো সময় জুড়ে। নাচে, গানে, সংস্কৃত শ্লোকে, প্রাচীন থেকে আধুনিকতার যে মেলবন্ধন তৈরি হয়েছে তা আকৃষ্ট করে দর্শকদের।
রূপান্তর নাট্য গোষ্ঠী ও ভারতীয় যাদুঘরের যৌথ উদ্যোগে বঙ্গীয় নাট্য উৎসব ২০২৫-এ নয়াবাদ তিতাসের সঞ্চালনায় দশটি নাটকের মধ্যে অন্যতম হল 'উবাচ' নাট্য গোষ্ঠীর নাটক যোজনগন্ধা। নাটকটি মঞ্চস্থ হল গত ৬ ডিসেম্বর কলকাতা যাদুঘরের আশুতোষ জন্ম শতবার্ষিকী হল-এ।
মহাভারতের কাহিনীতে ধীবরের সযত্নে পালিত কন্যা অপরূপা সত্যবতী। সে শান্ত, কর্তব্যপরায়না। কিন্তু আপন মনের গভীরে প্রকৃতিরূপা। এই সময়ে তার নাম ছিল মৎস্যগন্ধা। শরীরে মাছের গন্ধ। সেহেতু সে হীনমন্যতায় ভুগতো। পরাশর মুনি অপরূপা সত্যবতীকে নৌকা পারাপার করতে দেখে তার প্রতি আকৃষ্ট হন। ঋষি পরাশরের ঔরসে ব্যাসদেবের জন্মের পর পরাশরের বরে মৎস্যগন্ধা সুগন্ধযুক্ত হয়। সহস্র যোজন দূর থেকে তার সুবাস পাওয়া যেত। এই কারণে তার নাম হয়েছিল যোজনগন্ধা। পরবর্তীকালে রাজা শান্তনু এই গন্ধে আকৃষ্ট হয়ে যোজনগন্ধার কাছাকাছি আসেন এবং পরবর্তীকালে যোজনগন্ধা শান্তনুর রানি সত্যবতী নামে মহাভারতের বিখ্যাত নারী চরিত্র হন।
মৎস্যগন্ধার ইচ্ছেকে কেউ প্রাধান্য দেবে এমন স্বপ্ন মনের গভীরে সে সযত্নে লালন করে। পরাশর মুনি সত্যবতীর সেই লালিত ইচ্ছেকে রূপদান করে। নিয়তির বিধানে সত্যবতীর সঙ্গে কুরু বংশের পূর্বপুরুষ শান্তনুর বিয়ে হয়। এই বিয়ের পরিপ্রেক্ষিতে ভীষ্ম অবিবাহিত থাকতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন। সত্যবতীকে ভীষ্ম মাতা হিসেবে গ্রহণ করেন। ভীষ্মের সহযোগিতায় সত্যবতী নিজের ইচ্ছে ও লড়াইয়ের মাধ্যমে কুরু বংশের শাসনকে এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন। রাজবংশের নানান উত্থান পতনের পরিপ্রেক্ষিতে সত্যবতীর বুদ্ধিমত্তায় দ্বৈপায়ন ব্যাসের ঔরষে ধৃতরাষ্ট্র ও পাণ্ডুর জন্ম হয়। মহাভারতে নারীশক্তির এই ইচ্ছে যাপন এবং লড়াই যুগে যুগে প্রতিটি নারীতেই প্রতিফলিত। তাই একথা বলাই যায়, "যা নেই ভারতে তা নেই মহাভারতে"।
একটি ব্যতিক্রমী সঞ্চালনার সঞ্চালক #সঞ্জয়ঘোষদস্তিদার। Sanjoy Ghosh।
সংস্কৃত শ্লোক, রবীন্দ্রসংগীত, আধুনিক সংগীত, সংলাপ, পরম্পরা প্রতিটি ক্ষেত্রে এক টানটান উত্তেজনাপূর্ণ এই নাটক এক মুহূর্তের জন্যেও দর্শককে মঞ্চে নিবন্ধ দৃষ্টি থেকে অন্যমনস্ক হতে দেয়নি।
সঞ্জয় বাবুর বাংলা এবং সংস্কৃত সংলাপ নিক্ষেপ এবং অভিনয় দক্ষতা নাটকটিকে একটি আলাদা মাত্রায় নিয়ে যায়।
আই আই এম শিলংয়ের অধ্যাপক #সঞ্জয়মুখার্জী Sanjoy Mukherjee তাঁর জলদগম্ভীর কণ্ঠে দর্শকাসন থেকে যখন বাংলা ও সংস্কৃত শ্লোকের মাধ্যমে ব্যাসদেবের চরিত্রাভিনয় করছিলেন তা দর্শকদের কাছে এক অনন্য পাওনা।
বেশ কিছু খালি গলায় রবীন্দ্রসংগীত ও আধুনিক গান, কোরাস গানে ও অভিনয়ে অংশগ্রহণ করেছিলেন। সঞ্চালক সঞ্জয় ঘোষ দস্তিদার সহ তমাল, অমিতাভ, কাবেরী, ইন্দ্রাণী, #লোপামুদ্রাগুহনিয়োগী, Lopamudraa Guhā Neogy, প্রদীপ মুখার্জী ও গোপা মুখার্জী। অভিনয়ের সঙ্গে নাচে অংশগ্রহণ করেছিলেন আলী, পায়েল, অসীমা, দেবা, আদ্রিজা এবং দেবর্পিতা।
সমগ্র উপস্থাপনাটি প্রাচীন থেকে আধুনিকতার ধারাবাহিকতায় মোড়া ছিল। 'উবাচ' নাট্যগোষ্ঠীর যোজনগন্ধা নাটকটির কলাকুশলীদের বোঝাপড়া ছিল অনবদ্য।
উত্তরীয় বদল করে ঘটনা পরম্পরাকে বিশ্লেষণ করার ধারণাটিও অভিনব।
~ নাট্য সমালোচনায় #সৌমিতারায়চৌধুরী