Bini Sutor Mala

Bini Sutor Mala ক্লান্ত দিনের অলস বেলায় ভাববে বসে অবহেলায় উদাস হাওয়া আর ঝরা ফুলের গন্ধে আমি ফিরবো বারংবার।।

আমি যেমন, তেমনই। কারো ভালো লাগুক বা খারাপ, নিজেকে বদলানোর অভিনয় আমার আসে না। মিথ্যে মুখোশ পরে মানুষকে প্রভাবিত করার ক্ষ...
15/11/2024

আমি যেমন, তেমনই। কারো ভালো লাগুক বা খারাপ, নিজেকে বদলানোর অভিনয় আমার আসে না। মিথ্যে মুখোশ পরে মানুষকে প্রভাবিত করার ক্ষমতাও নেই। আমার ভেতরটা যেমন সাদামাটা, তেমনি বাইরেটাও। এখানে কোনো সাজানো চিত্র নেই, নেই কোনো ঢাক-ঢোল পেটানোর বাহানা।

যদি কারো মনে হয় আমি দূরত্ব বজায় রাখি, তাহলে ভাববে আমি ঠিক ততটাই সময় দিই, যতটা সেই সম্পর্কের প্রয়োজন। যদি মনে হয় আমি নির্লিপ্ত, তাহলে হয়তো সেই ব্যক্তি আমার কাছে বেশি কিছু চায়, যা আমি দিতে পারি না। আবার কেউ যদি ভাবে আমি খুব বেশি হাসিখুশি বা সঙ্গপ্রিয়, তবে সে জেনে রাখুক, তার সঙ্গ আমার কাছে সত্যিই আরামদায়ক।

আমার কাছে কোনো নির্দিষ্ট ছাঁচ নেই, যে ছাঁচে সবাইকে গড়ে তুলব। আমি যেমনটা অনুভব করি, সেভাবেই প্রতিক্রিয়া করি। কারো কাছে আমার ভালোবাসা হয়তো বেশি মনে হতে পারে, আবার কারো কাছে সেটা অপর্যাপ্ত। এটা আমার ত্রুটি নয়, এটা সম্পর্কের পরিধি মাত্র।

আমার জীবনটা সহজ। এখানে না আছে মিথ্যের রঙিন গল্প, না আছে সত্য ঢাকার চাদর। তুমি যদি আমার ভেতরটা দেখতে চাও, তবে তোমাকে সত্য মেনে নিতে হবে। অভিনয়ের জগতে আমি কখনো ঢুকিনি, ঢুকবও না। নিজেকে বদলাতে আমি অভ্যস্ত নই, আর সেটা করতে চাইও না।

তোমার কাছে আমার আচরণ কেমন হবে, তা নির্ভর করে তোমার অবস্থানের ওপর। আমি মিথ্যে আশ্বাস দিতে জানি না। আমি যেমনটা, তেমনটাই। সাদাসিধা, অকপট, আর সম্পূর্ণ স্বতঃস্ফূর্ত।

✍️ Bini Sutor Mala

28/10/2024
"দশ বারো বছর পরের একদিন"- অরণি বসুমণিদীপাকে নিয়ে একটা কবিতা লেখার কথা আমি ভেবেছিলুমদশ বারো বছর আগে।তখন প্রত্যেক সন্ধ্যায়...
28/10/2024

"দশ বারো বছর পরের একদিন"
- অরণি বসু

মণিদীপাকে নিয়ে একটা কবিতা লেখার কথা আমি ভেবেছিলুম
দশ বারো বছর আগে।
তখন প্রত্যেক সন্ধ্যায় আমরা বেরোতুম শহর পরিক্রমায়,
দুজনেই দুজনের রহস্যের দিকে তাকিয়ে, স্মিত হেসে,
শহরের সরু ও চওড়া রাস্তা বরাবর হাঁটতে শুরু করতুম।
কখনো আবার নির্জন রাস্তাকে সাক্ষী রেখে আরো নির্জন
এক চায়ের দোকানে বসে
লঘু তর্কে বাজিয়ে দিতুম নিজেদের, কিংবা স্বপ্ন দেখতুম
একটা সুন্দর ফুলদানি, বুকশেলফ বা ডানা হারানো এক পরীর।
বলা বাহুল্য, তবু বলি, মণিদীপাকে নিয়ে সে কবিতা আমার লেখা হয়নি।
লেখা হয়নি মানে দেরি হয়ে যাচ্ছিলো, দেরি হয়ে যাচ্ছিলো, তারপর
আর কিছুতেই লেখা হয়নি।
তখন, পরিক্রমা শেষে শহরের দুই প্রান্তের দুই বাস আমাদের
সরিয়ে নিয়ে যেতো পরস্পরের কাছ থেকে।

পুরনো দিনের রেশ টেনে মণিদীপাকে নিয়ে সেই কবিতাটা হয়তো
এখনো লেখা যেতে পারে, কিন্তু তার কি আর কোনো মানে হয়?
এর মধ্যে দশ বারো বছরের নদী বয়ে গেছে আমাদের ছুঁয়ে, পাড় ভেঙেছে,
এখন মণিদীপা আর আমার মাঝখানে শুয়ে থাকে আমাদের ছেলে।
আমাদের চোখে, জানো, আর কোনো রহস্যের গন্ধ নেই,
আর সেই ভালোবাসার সবুজ আলো--
মাঝে মাঝে মনে হয় তার ফিলামেন্টটাই বুঝি কেটে গেছে।
মণিদীপাকে নিয়ে সেই কবিতা লেখার আর কোনো মানে হয় না,
এখন শুধুই নুন আর ঘামের গন্ধ আর স্বার্থ আর টাকাপয়সা।
এখন আমার রাগের গলা মণিদীপার চেনা আর আমি জানি
ঘুমন্ত মণিদীপার চোখের পাতা তার চোখ সম্পূর্ণ ঢাকে না।

আজ খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে ঘুমন্ত মণিদীপার চোখের ওই একফালি
সাদার দিকে চেয়ে সেই না-লেখা কবিতার দুঃখে ভরে গেলো
ভোরের সৌন্দর্য, তারপর মণিদীপার ঘুমন্ত মুখ আর
ছেলের ছড়ানো শরীরের দিকে চেয়ে সহসা মনে হলো
মণিদীপাকে নিয়ে অন্য একটা কবিতা আজ এখনই লিখে ফেলা যায়।

***সম্পর্কের অবনতির কারণ হচ্ছে, পরস্পর পরস্পরের থেকে দূরে সরে যাওয়া যাওয়া। আর এই দূরত্ব তৈরিই হয় মূলত সময় না দেয়ার কারণে...
28/10/2024

***সম্পর্কের অবনতির কারণ হচ্ছে, পরস্পর পরস্পরের থেকে দূরে সরে যাওয়া যাওয়া। আর এই দূরত্ব তৈরিই হয় মূলত সময় না দেয়ার কারণে।

সম্পর্কে পরস্পরকে পর্যাপ্ত সময় দিলে, উভয়ের কেউ কখনো নিজেকে একা মনে করে না। আপনি যখন সম্পর্কে থাকা মানুষটাকে সময় দিবেন, কথা বলবেন, তবে তার বিষন্নতা, মন খারাপ আর একাকিত্ব এমনিতেই দূর হয়ে যাবে।

মানুষ তখনই নিজেকে একা মনে করে, যখন সম্পর্কে থাকা মানুষটা তাকে সময় দেয় না। মানুষ সম্পর্কে জড়ায় নিজেকে ভালো রাখতে। আর সেই সম্পর্কই যখন তার খারাপ থাকার কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তখন সে হতাশায় ভুগতে থাকে!

সম্পর্কের মানুষটাকে সময় দিলে আপনার সময় নষ্ট হয় না। বরং সম্পর্ক আরও গভীর হয়। আপনি নিজেই যদি উদাসীন থাকেন, সম্পর্কের মানুষটার অসহায়ত্ব বোঝার চেষ্টা না করেন, তবে সে আপনার সাথে কেন সম্পর্ক রাখতে চাইবে? স্রেফ ভালোবাসে বলে? অবহেলায় অনুভূতি নষ্ট হয়ে গেলে মানুষ আর তখন ভালোবাসা বোঝে না, মুক্তি খোঁজে।

কাউকে বুঝতে হলে, তাকে সময় দিতে হয়। তার সাথে কথা বলতে হয়, তাকে কখনো একা লাগতে দিতে হয় না। সম্পর্কে আপনি যতই যত্নবান হোন না কেন, যদি সামান্য সময়টুকু সম্পর্কের মানুষটাকে দিতে না পারেন, তবে আপনার সমস্ত প্রচেষ্টাই একটা সময় পর বৃথা যাবে। মানুষ যত্ন চায়, সম্পর্কের মানুষটার কাছ থেকে সময় চায়।

আর যদি সম্পর্কে থেকেও সে দুটোর একটাও না পায়, ঠিক তখনই সে তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। সেখানে যতই ভালোবাসা, মায়া কিংবা পিছুটান থাকুক না কেন, মানুষ সেই সম্পর্ক থেকে মুক্তি চাইবেই।

~~~~~সংগৃহীত ~~~~~



আমি ভণিতা করতে পারি না। মিথ্যাকে সত্য বানিয়ে পাঁচকে ছয় আবার ছয়কে দশ বানাতে পারি না। আমি ঠিক তেমনটা যেমনটা আমায় দেখা যায়।...
28/10/2024

আমি ভণিতা করতে পারি না। মিথ্যাকে সত্য বানিয়ে পাঁচকে ছয় আবার ছয়কে দশ বানাতে পারি না। আমি ঠিক তেমনটা যেমনটা আমায় দেখা যায়। এখানে পুরোটাই সত্য। এখানে মিথ্যাকে ঢেকে রাখার কোনো চাদর নেই। নেই কোনো ভুল স্বীকারোক্তি।

কারো কাছে যদি মনে হয় আমি তার সাথে কম কথা বলি, তবে ভাবতে হবে তার সাথে আমার সম্পর্কটা ওইটুকুতেই সীমাবদ্ধ। শক্ত দেয়াল দিয়ে বেষ্টনী দেওয়া। কারো যদি মনে হয় আমি অহংকারী খিটমিটে মেজাজের তবে সে ভাবতেই পারে আমার কাছে সে ওমনটাই পাওয়ার যোগ্য। এখানে কোনো ভণিতা নেই। নেই দুইকে চার বানানোর কোনো খেলা।

আবার কারো কাছে যদি মনে হয় আমি অনেক বেশি মিশুকে, কথায় কানে তালা লাগে, অকারণেই হাসি তবে তার বুঝতে হবে আমার আমিকে সে অনেকখানি জানে। আমরা খুব কাছাকাছি থাকি। সে আমায় অনেকখানি না বুঝলেও বোঝার চেষ্টা করে। তাই তো জানে অনেকটা।

আমি আসলে এমনই। এখানের পুরোটাই সত্যি। এখন তুমিই ঠিক করে নাও কোন আচারণটা তুমি আমার থেকে পেতে চাও। আমি ঠিক সেটাই তোমায় দিবো। সত্যটা ঢেকে মিথ্যেটা দিয়ে তোমার মুড়িয়ে রাখবো না। মনে রেখো, ওসব আমার আচরণে নেই।

_ নাবিলা তাসনিম



#অনুগল্প

তুমি আমার না হয়েই ভালো করছো। তুমি আমার হয়ে গেলে, ৬৩ বছর পর যখন তোমাকে রেখে মা'রা যেতাম'সারাজীবন তোমার পাশে থাকবো' বলে তো...
28/10/2024

তুমি আমার না হয়েই ভালো করছো।
তুমি আমার হয়ে গেলে, ৬৩ বছর পর যখন তোমাকে রেখে মা'রা যেতাম
'সারাজীবন তোমার পাশে থাকবো' বলে তোমাকে দেওয়া কথাটা তখন ভু'ল প্রমাণিত হতো। কথা দিয়ে কথা না রাখার অপ'রাধে সৃষ্টি কর্তার কাছে দায়ী থাকতাম আমি।

তুমি আমার হয়ে গেলে, কোনো কারণে যখন রা'গ করতাম তোমার সাথে তখন আমাকেই খারা'প লাগতো খুব। তোমার চোখের পানিতে ভেসে যেত আমার কুল। তখন আমার মনে তোমাকে নিয়ে আফসোস জন্মাতো।

তুমি আমার হয়ে গেলে, আমাকেই শুধু ভালোবাসা লাগতো তোমার, অনেক অনেক ভালোবাসা লাগতো আমায়। অন্য কারো সাথে তোমার ফ্রি-মাইন্ডের বলা কথা গুলোয় আমার হিং'সে হতো খুব। তোমার প্রতি একটা অভি'যোগ জন্ম নিতো আমার।

তুমি আমার হয়ে গেলে, সারাজীবন ব'ন্ধি থাকতে হতো আমাতে। তুমি যখন অন্য কারো সাথে হেসে হেসে কথা বলতে, আমার সহ্য হতো না। আমি রে'গে যেতাম খুব এবং তুমি ক'ষ্ট পেতে। তোমার ক'ষ্টে আবার আমিই ক'ষ্ট পেতাম।

তুমি আমার হয়ে গেলে, বিড়াট বড় সম'স্যা হয়ে যেতো তোমার। এই ধরো, সারাদিন তোমার খোঁজ খবর নিতাম, খেয়েছো কি'না, কি করো অথবা ঘুমানোর সময় তোমাকে বুকে শ'ক্ত করে জড়িয়ে ঘুমিয়ে যেতাম। কিন্তু তোমার তো গায়ে কারো স্পর্শ লাগলেই ঘুম হয় না;

তুমি আমার হয়ে গেলে, কোনো কারণে যখন মায়ের সাথে ঝ'গ'ড়া করতে তখন তোমার সাহসিকতার জন্য তোমাকে প্রচুর ব'কা-ঝ'কা করতাম কিংবা আব্বার যত্ন নিতে গিয়ে যখন বির'ক্তির চিহ্ন চোখে মুখে মে'খে নিতে আমি প্রচুর ক'ষ্ট পেতাম।

তুমি আমার হয়ে গেলে, তোমার জি'দের কারণে যদি কখনো মনে হতো 'তোমাকে ভালোবাসাটাই ভু'ল ছিল' তখন তোমার প্রতি একটা আ'ক্ষে'প জন্মাতো। একটা ঘৃ'ণার জন্ম হতেই পারতো তোমার জন্য। এই ঘৃ'ণা'টার জন্ম না দেওয়া জন্য হলেও তুমি অ'ন্যের হয়ে বেশ উপকার করেছো।

তুমি আমার হয়ে গেলে, আমার পরিবারের লোকজন যখন তোমাকে কোনো কারণে ভু'ল বুঝতো বা কথা শো'নাতো তখন তুমি মন খারা'প করতে ভী'ষণ। রাতে যখন কাজ শে'ষে বাসায় ফিরতাম তখন আমার পরিবারের কথা আমা'কেই বানিয়ে বানিয়ে বলতে তুমি। খুব ক'ষ্ট হতো আমার;

তুমি আমার হয়ে গেলে, বৃদ্ধ বয়সে যখন আমাদের বউমা আমার সামনে তোমাকে কথা শোনাতো, আমার কাঁ'ন্না পেতো ভীষ'ণ; অথবা তোমার সামনেই যখন আমাদের ছেলে তার বউয়ের কথায় আমাকে গা'লি-গা'লা'জ করতো কিংবা অ'যত্নে রাখতো তোমার স'হ্য হতো না এসব।

তুমি আমার হয়ে গেলে, বৃদ্ধ বয়সে যখন আমাদের ছেলেরা আমাদের ভরণ পোষণের দা'য়িত্ব থেকে ব'ঞ্চিত থাকতো, তখন তোমাকে ভালো রাখতে না পারার ক্ষো'ভে বুকটা ফে'টে যেতো আমার। তোমার চোখে পানি আসতে না দেওয়ার সং'গ্রামে আমিই হা'উ'মা'উ করে কেঁ'দে দিতাম।

তুমি আমার হয়ে গেলে, মৃ'ত্যু স'য্যায় তোমাকে নিয়ে চিন্তা হতো খুব আমার, আমি ম'রে গেলে কে তোমায় ভালোবাসবে, কে তোমায় বুকে নিয়ে ঘুমাবে, কার বুকে তুমি মাথা গু'জবে, এসবের ভ'য়ে একটা দায়িত্ব'হী'নতায় ভু'গে ম'রতে হতো আমাকে।

তুমি আমার হয়ে গেলে, তোমাকে যখন সারাজীবনের জন্য এ'কা করে ওপারে চলে যেতাম- পৃথিবীর বুকে তুমি হয়ে যেতে একা। ম'রে গিয়েও শান্তি হতো না আমার; আমার মৃ'ত্যুতে শো'কাহ'ত হতে তুমি; তোমার অ'সুস্থ পাতলা শরীরটা আরও রো'গা হয়ে যেত; তুমি আমার শো'কে, না খেয়ে- না খেয়ে রাতের পর রাত পার করতে, ভালো থাকতে না তুমি।

তুমি আমার হয়ে গেলে, যখন আমি দুনিয়া ছে'ড়ে চলে যেতাম 'তোমাকে কখনো ছে'ড়ে যাবো না' কথা'টা ভু'ল হয়ে যেতো। তোমার বাবা-মা সবাইকে ছেড়ে একা হয়ে আসতা এ বাড়িতে আমার ভরসায়। কিন্তু ম'রে গিয়ে তোমাকে আবার একা করে যেতাম আমি।

সবশে'ষে তুমি আমার না হয়েই ভালো করছো

আমার হয়ে গেলে, তোমাকে ভালোবাসতাম ঠিকিই কিন্তু আমার দ্বারা ক'ষ্টও তো পেতে পারতে তুমি; এখন তুমি অন্য কারো, তোমার আমার দ্বারা ক'ষ্ট পাবার নিশ্চয়তা শতভাগ নেই। তবে

তুমি অন্যের হয়ে আমারই বেশ সু'বিধা করে'ছো, তোমাকে আমি দূর থেকে ভালোবাসার সুযোগ পেয়েছি।

ভালো থেকে তুমি...

সংগৃহীত



আমি কোনোদিন বাবাকে মায়ের গায়ের উপর হাত তুলতে দেখিনি। আজ হাত তুললেন। সম্ভবত মায়ের গালে পাঁচ আঙুলের ছাপ বসে গেছে। কিন্তু ম...
27/10/2024

আমি কোনোদিন বাবাকে মায়ের গায়ের উপর হাত তুলতে দেখিনি। আজ হাত তুললেন। সম্ভবত মায়ের গালে পাঁচ আঙুলের ছাপ বসে গেছে। কিন্তু মায়ের চোখে পানি নেই। মায়ের অগ্নিচোখ। রাগে দাঁতে দাঁত চেপে কিড়মিড় করছেন। অথচ বাবার ছলছলে চোখ। বাবা ভেজা গলায় বললেন,

"উঠতে বসতে যে জোছনার খোটা দেও, সে আজ মরে গেছে। এবার খুশি তো? এখন থেকে অন্তত আমাকে রেহাই দেও।"

জোছনা নামটা আমি আজ প্রথম শুনিনি। আগেও বহুবার মায়ের মুখে শুনেছি। মা বাবার সাথে একটু রেগে গেলেই জোছনার নাম উঠে। আমি দুয়েকবার জানতে চেয়েছিলাম মায়ের কাছে, কে এই জোছনা? মা মুখে ভেংচির আকৃতি এনে ভাষাকে বিকৃতি করে বলেছিল,

"তোর বাপের নাঙ লাগে। আমারে বিয়ে করার আগে জোছনার লগে তোর বাপের পিড়িত ছিল।"

বাবা মাথা নিচু করে সেদিন আমার সামনে থেকে চলে গিয়েছিল। বুঝাই যাচ্ছে, নিজের ছেলের সামনে তিনি বেশ অপমানিত হয়েছেন।
বাবার জন্য আমার বড্ড মায়া লাগে। মায়ের এই অকথ্য ভাষার প্রতিবাদ বাবা কোনোদিন করেননি। কিন্তু আজ প্রতিবাদ করেছেন। প্রতিবাদের ভাষা ছিল সজোরে একটি থাপ্পড়। বিগত এত বছরের রাগ ক্ষোভ বাবা একটি থাপ্পড়ে কমাতে পেরেছেন তো? আমি দুপুরের খাবার খেতে বসেছি, মা তরকারি দিচ্ছিলেন। বাবা এলেন হঠাৎ ঘরে। তখনি মায়ের হুংকার!

"আমারে ঘুমে রাইখা কাউরে কিছু না কইয়া জোছনার কাছে গেছিলা? কইয়া গেলে কী হইতো? না করতাম আমি? এত বছরেও না কইরা ফিরাইতে পারছি?"

বাবা এগিয়ে এলেন। কষে থাপ্পড় দিয়ে জোছনার মৃত্যু সংবাদ প্রকাশ করলেন। এমতাবস্থায় আমার গলা দিয়ে আর ভাত নামবে না। বাবা ঘর থেকে চলে গেলেন। মায়ের দিকে তাকিয়ে বুঝলাম, মৃত্যু সংবাদ শুনে রাগ একটু কমেছে। আমি খাবার রেখে নলকূপে হাত ধুয়ে ফেলেছি। মনটা কেমন খারাপ লাগছে। বাবা যে আজ আড়ৎ এ যাবেন না, বুঝাই যাচ্ছে। তার চেয়ে ভালো আমি আড়ৎ এ গিয়ে বসি। কাস্টমারকে চাউল দিতে দিতে মনটাকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে রাখা যাবে।

রাত তখন বারোটা হবে। আমি বই পড়ছিলাম। হুমায়ূন স্যারের 'মিশির আলি সমগ্র।' বইয়ের 'তন্দ্রা বিলাস' আমার দুই চোখের তন্দ্রা কাটিয়ে দিলো। দরজায় ঠকঠক। দরজার ওপাশ থেকে বাবার গলার শব্দ।

"শাওন, ঘুমিয়ে পড়েছিস?"

আমি কোনো জবাব না দিয়ে দরজা খুলে দিলাম। বাবা ঘরে ঢুকে আমার বিছানায় বসতে বসতে বললেন,

"ঘুমাসনি এখনো! তোর সাথে গল্প করতে এলাম। বাপ-বেটার গল্প অন্য কারো শুনতে হয় না। তাই এখন এলাম। তোর সমস্যা হবে না তো?"

আমি মুচকি হেসে বললাম,

"না বাবা। আমার আরো ভালো লাগছে যে তুমি এসেছো। আজ এই ঘরেই ঘুমাও। মায়ের ব্যবহারে মন খারাপ করে থেকো না।"

বাবা পা তুলে আয়েশ করে বসলেন। ইশারায় আমাকে চেয়ার টেনে কাছে যেতে ইঙ্গিত করলেন। আমি কাঠের চেয়ার নিয়ে বাবার মুখোমুখি বসলাম। বাবা আমার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলেন। তারপর দেয়ালের দিকে তাকিয়ে বললেন,

"তোর অনেক কিছু জেনে রাখা দরকার। আমি তোকে জানাতে চাই। আগেও জানাতে চেয়েছি, সাহস হয়নি। ভেবেছি তোর মা যেমন অকথ্য ভাষায় কথা বলে, হয়তো তোর জানা হয়ে যাবে। কিন্তু তুই জানিস না কিছুই। শুধু একটি নাম জানিস, জোছনা। তুই এই নামটি তোর মায়ের মুখে শুনেছিস। যতবার শুনেছিস আমি লজ্জা পেয়েছি। বলতে পারিনি কিছু। আজ বলব।"

আমি গভীর মনোযোগ দিয়ে বাবার গল্প শুনছি। যে নাম নিয়ে মায়ের অকথ্য ভাষা, বাবার লজ্জা পাওয়া। অজানাকে জানতে অবশ্যই মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন। বাবা একনাগারে গল্প বলছেন। লুকায়িত এক গল্প।

"তোর মায়ের মুখে জোছনা নাম শুনে হয়তো ভেবেছিলি, আমার অন্য কারো সাথে কোনো সম্পর্ক আছে। সত্য হলো, জোছনার সাথে আমার কোনো অবৈধ সম্পর্ক নেই। জোছনা আমার বিয়ে করা প্রথম স্ত্রী ছিল। তোর দাদা দাদি পছন্দ করে বিয়ে করিয়েছেন। তোর দাদার বাড়ির কাছেই। আমরা যে এত বছর ধরে তোর দাদা দাদিকে রেখে শহরে থাকি, তার একটি কারণ এই জোছনা। তোকে নিয়ে যে প্রতিবার তোর দাদার বাড়ি যেতাম, আমি তোর সাথে সাথেই থাকতাম। যেন আমাদের গ্রামের কারো কাছ থেকে এই বিষয়ে কিছু শুনতে না হয়। তোর খারাপ লাগতে পারে শুনলে। তোর দাদা-দাদি মারা যাওয়ার পর গ্রামে খুব একটা যাই না। তোর মা সব জানে। তবুও তোকে বলেনি, যে আমি আগেও একটি বিয়ে করেছিলাম। আমার আর জোছনার একটি সন্তানও আছে। নাম ফাল্গুনী। তোর সৎ বোন ফাল্গুনীর মতো তোর নামটাও বাংলার বারো মাসের একটা নাম। গ্রামে আমরা শ্রাবণ মাসকেই শাওন মাস বলি। তোর মা আমার দ্বিতীয় স্ত্রী। সে যাই হোক। জোছনার সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক শেষ হওয়ার পর সে পরবর্তীতে আবার বিয়ে করে এক স্কুল মাস্টারকে। তোর দাদার বাড়ি থেকে কয়েকটা গ্রাম পরে। আট বছর সংসার করলেও আর কোনো সন্তানাদি হয়নি। স্কুল মাস্টার মারা গেলেন চার সালের বন্যায়। আমি সব খোঁজই রাখতাম। রাখার কারণ ফাল্গুনী, আমার মেয়ে। আমি তাকে আমার কাছে রাখতে পারিনি। মাস্টার মারা যাওয়ার পর সেই সংসারে টানাটানি অবস্থা। আল্লাহ আমাকে যথেষ্ট দিয়েছেন। কয়েকটা সংসার চালানোর তৌফিক দিয়েছেন। আমি প্রতি মাসেই যাই সেই এলাকায়। কাউকে দিয়ে খবর পাঠালে ফাল্গুনী আসে। বাবা বলে এসে জড়িয়ে ধরে। কতশত বায়না তার। আমি আসার পথে পুরো মাসের খরচ দিয়ে আসি ফাল্গুনীর হাতে। তোর মা এসব জানে। আমি গোপন করি না তোর মায়ের কাছে। আমি ফাল্গুনীর জন্মদাতা। সে আমার কাছে মেয়ে হিসেবে পাওনা। আমি তা দেবই। আমি ফাল্গুনীর মায়ের সাথে দেখা করি না। দেখা করাটা বেমানান। লোকে মন্দ বলবে। তাই লোক মারফত ফাল্গুনীকে ডেকে আনি। আর এখন তো নরসিংদী সরকারি কলেজেই অনার্স শেষ করবে এই বছর। এখন তো কলেজে গেলেই মেয়ের সাথে দেখা করতে পারি।
কিন্তু ঐ যে, আমি তোর মায়ের কাছে কোনোকিছু লুকাই না। তোর মা মনে করে আমি হয়তো ফাল্গুনীর মায়ের সাথেও দেখা করি। এজন্যই রাগের মাথায় দুই চারটে কথা শোনায়। এতে আমার খারাপ লাগে না। শুনতে শুনতে অভ্যেস হয়ে গেছে। কিন্তু তুই.... "

"বাবা এক মিনিট....."

আমি বাবাকে থামিয়ে প্রশ্ন করলাম,

"এত বড়ো জীবন ঘটিত বিষয়টা মায়ের কাছেও লুকিয়ে রাখো না। তাহলে আমি শুনলে কী সমস্যা বাবা?"

বাবা উত্তরে বললেন,

"আসলে আমি চেয়েছিলাম তুই বড়ো হলে সব বলব। তোর মানসিক বেড়ে উঠাতে মস্তিষ্কে কোনো প্রভাব পড়ুক, সেটা চাইতাম না। কিন্তু ভুলেই গিয়েছিলাম, যথেষ্ট বড়ো হয়েছিস। ইন্টার পরীক্ষা দিয়ে আর পড়লি না। ফাল্গুনী শুনেও কষ্ট পেয়েছে। ওহ হ্যাঁ, ফাল্গুনী কয়েকবার বলেছিল তোকে সব জানাতে, আমি সাহস পাইনি। তবে বিশ্বাস কর, ফাল্গুনীর মায়ের সাথে আমি দেখা করতাম না কখনো। কিন্তু আজ মৃত্যু সংবাদ শুনে না গিয়ে থাকতে পারিনি। তার উপর তোর মায়ের এমন কথাটুকু সহ্য হয়নি। তাই..."

আমার কোনো ভাই-বোন নেই, এমন একটি আক্ষেপ ছিল সবসময়। আজ বাবার মুখে শুনলাম আমার একটি বোনও আছে। আমার বড়ো আপু। নাম ফাল্গুনী। কোনোদিন দেখিনি। বাবা দেয়ালের দিকে তাকিয়ে আছেন। চোখ দুটো ছলছল। জোছনা নামের মানুষটির জন্য বাবার চোখে পানি। থাকাটা স্বাভাবিক। আমি বাবাকে প্রশ্ন করলাম,

"তোমাদের ছাড়াছাড়ি কেন হয়েছিল বাবা?"

বাবা দেয়াল থেকে দৃষ্টি আমার দিকে দিলেন। একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললেন,

"যে মানুষটা দুনিয়া ছেড়ে চলে গেছে, তার সম্পর্কে কিছু না বলাই উত্তম। এতটুকু জেনে নে, আমাদের মনের মিল ছিল না। তবে বুঝতে একটু দেরি হওয়াতে সাড়ে চার বছর সংসার টিকেছিল। পরে আর টিকেনি। ফাল্গুনীকেও নিয়ে গেছে, আমার কাছে কোনোভাবেই রাখতে পারিনি। জোর করলে হয়তো পারতাম। আইনে গেলে ফাল্গুনীকে রাখতে পারতাম। থানা পুলিশ করে কোর্টে গিয়ে এতসব করতে ইচ্ছে হয়নি।"

আমি কিছু বলতে যাব, তার আগেই বাবা কীভাবে যেন প্রসঙ্গ পাল্টে ফেললেন। আমাকে উদ্দেশ্য করে বললেন,

"মেঘনা দিয়ে এক ট্রলার ভর্তি চাউল আসার কথা। মুন্সিগঞ্জ বাজারের পরিচিত পাইকারদের থেকে কিনেছি। সন্ধ্যায় আসার কথা। রাত নয়টা অবধি বসেছিলাম, আসেনি। দোকানের আওলাদের কাছে নাম্বার আছে। সকালে আড়ৎ এ গিয়ে একটু খোঁজ করিস তো। আসলে রশিদ দিবে, টাকা দিয়ে দিস।"

কথাটুকু বলে বাবা উঠলেন। উঠে সাথে সাথে চলে গেলেন না। একটু দাঁড়িয়ে থেকে আবার বললেন,

"রাত একটা বেজে যাচ্ছে। জেগে থাকিস না, ঘুমিয়ে পড়। সকালে আড়ৎ এ যাবি।"

বাবা ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন। আমি চেয়ার আগের জায়গায় নিয়ে এলাম। আজ আর 'তন্দ্রা বিলাস' পড়ে শেষ করা হবে না। বিছানায় গা এলিয়ে দিলাম।

ঠিক এক সপ্তাহ পরে বাবা হঠাৎ মারা গেলেন। আমি আড়ৎ এ ছিলাম। খবর পেয়ে ছুটে এসেছি বাড়িতে। বাড়ি ভর্তি মানুষ। কেউ মারা গেলে পরিচিত সবাই শেষ দেখা দেখতে আসে। মা বিলাপ করে কান্না করছেন। মায়ের মুখেই শুনতে পেলাম, সকালে শুধু বলেছিলেন বুকটা ব্যথা করে। মা ভেবেছেন খাওয়ার পর হয়তো এমনিতেই ব্যথা করছে। তাছাড়া ব্যথা ততোটা বেশিও না। কিছু না বলে বাবা দুনিয়া ছেড়ে চলে গেলেন। আমার মাথার উপর বটগাছের ছায়া ছিলেন। নিজেকে খুব অসহায় লাগছে। এত বড়ো পৃথিবীতে নিজেকে একা লাগছে। আমার দুই চোখ বেয়ে অঝরে পানি পড়ছে। সান্ত্বনা দিতে এগিয়ে এলেন এলাকার কয়েকজন। মানুষের সামনে কান্না করাটা অন্যসময় হলে লজ্জাকর পরিস্থিতী হতো। কিন্তু এখন লজ্জা লাগছে না। শুধু পানি পড়ছে। এক এক করে সব আত্মীয় স্বজন এলো। শেষ বিদায়ের আয়োজন চলছে। বরই পাতার গরম পানি বসানো হয়েছে। কবর খুঁড়তে লোক গেছে কবরস্থানে। পাশের বাড়ির একজন আমাকে সাথে করে নিয়ে গেলেন কাফনের কাপড় কিনতে। এ যেন এক অনুষ্ঠান চলছে। শেষ বিদায়ের অনুষ্ঠান।

বাবা মারা যাওয়ার মাস পেরিয়ে যাচ্ছে। আমি আড়ৎ এ বসে আছি। বাবার অবর্তমানে দায়িত্ব বেড়ে গেছে। হঠাৎ আমার অবচেতন মনে ক্ষানিকটা ধাক্কা লাগল। ফাল্গুনী!
আমার একটা মাত্র বোন। বাবার মেয়ে। তাকে তো খবর দেওয়া হয়নি। আমার কাছে তো ফোন নাম্বারও নেই। বাড়িও চিনি না কোন গ্রামে থাকে! বাবাকে শেষ দেখা হয়নি তার। এটা তো তার প্রতি মস্ত বড়ো অন্যায় হয়েছে। মায়ের কাছে কি আপুদের বাড়ির ঠিকানা আছে? না, মা'কে কিছু বলা যাবে না। দাদার বাড়ির কেউ কি জানে?
ভাবতে ভাবতে হঠাৎ মনে পড়ল, বাবা বলেছিলেন ফাল্গুনী আপু নরসিংদী সরকারী কলেজ থেকে এবার অনার্স শেষ করবেন। আমি বসা থেকে উঠে দাঁড়ালাম। একটা বড্ড ভুল হয়ে গেল। আপুকে বাবার মৃত্যু সংবাদ জানানোটা দরকার ছিল।

নরসিংদী সরকারি কলেজের দক্ষিন দিকে অনার্স ভবন। আমার পরিচিত কেউ নেই এখানে। অনার্স ভবনের সামনে অনেকেই আছে। আমি এগিয়ে গেলাম। সবাই বয়সে আমার বড়ো। একসাথে তিন চারজন কথা বলছে দাঁড়িয়ে। আমি গিয়ে সালাম দিলাম। জানতে চাইলাম, অনার্স শেষ বর্ষের ফাল্গুনী নামের কাউকে চিনে কি-না! সাথে সাথে একজন ডানদিকে তাকিয়ে একটু গলাটা উঁচিয়ে বলল,

"এই ফাল্গুনী, তোকে কেউ খুঁজতে আসছে।"

আমার চোখদুটো যেন অপেক্ষা সইছে না। কেউ একজন এগিয়ে আসছে। আমার তিন চার বছরের বড়ো হতে পারে। দেখতে খুবই সুন্দর। ইচ্ছে করছে এখনি চিৎকার করে বলি, আপু আমি তোমার একমাত্র ভাই শাওন। কিন্তু বলতে পারিনি। আমার গলার স্বর কি ভেজা? বুঝতে পারছি না।

"আমাকে খুঁজছ? কে তুমি?"

আপুর কথায় কী বলব ভেবে পাচ্ছি না। আসলে কে আমি? পরিচয়ের শুরুটা কীভাবে করব? মুখ ফুটে বললাম,

"আপু, আপনার সাথে কিছু কথা আছে। খুব জরুরী। একটু এদিকে আসবেন?"

অনার্স ভবনের সামনে দুর্বা ঘাসে শীতল পাটির মতো বিছানা পাতা। আমি আর আপু ঘাস মাড়িয়ে মাঠের মাঝখানটায় গেলাম। আপুর কৌতূহলী চোখ। হঠাৎ বললাম,

"আমি চিনিশপুর থেকে এসেছি। আমার নাম শাওন।"

কথাটুকু বলে আপুর দিকে তাকালাম। আপু নির্বাক। চোখের পলক পড়ছে না। চোখদুটো ভিজে উঠল আমার সামনে। আরেকটু এগিয়ে এসে আপু আমার কাঁধে হাত রাখল। তারপর মাথায়, তারপর গালে। এই স্পর্শ কত শীতল, কত মায়ায় ভরা। টলমল চোখ, ভেজা গলায় আপু বলল,

"তোমাকে দেখার ইচ্ছে ছোটোবেলা থেকে। আমার একটা ভাই আছে, আর তাকে আমি কখনো দেখিনি। এই কষ্টটা আমার অনেক বছরের। কত বড়ো হয়ে গেছো তুমি।"

আমার দৃষ্টি নিচের দিকে। ইচ্ছে করছে নিজের চোখের সাথে যুদ্ধ ঘোষণা করি। আমার চোখ থেকে এখন যেন কোনো পানি না পড়ে। আমি শত বৃথা চেষ্টা করে যাচ্ছি আটকাতে। আটকাতে আর পারলাম কই! এরই মধ্যে আপু আবার বলল,

"বাবা মারা যাওয়ার দিন গিয়েছিলাম তোমাদের বাড়িতে। আড়ৎ থেকে আওলাদ নামের কেউ একজন ফোন করেছিল। তোমাদের বাড়ির ঠিকানা নিয়ে গিয়েছিলাম। বিশ মিনিটের মতো ছিলাম। সবাই কান্না করছে। মানুষের ভীড়ে আমিও বাবার মুখখানি শেষবারের মতো দেখে নিয়েছি। দেখে কান্নাও করেছি। কিন্তু কেউ জানে না আমি কে!
তোমাকেও খুঁজেছি। জিজ্ঞেস করিনি কারো কাছে। কে কবর খুঁড়তে গেল, কে বাজারে গেল! এসব বলার সময় শুনলাম তোমার নাম। কেউ একজন বলছে শাওন কাফনের কাপড় কিনতে গেছে। আমি আর সেখানে থাকিনি, চলে এসেছি।"

মাথা তুলে তাকাতে খুব ইচ্ছে করছে। কিন্তু চোখের পানি লুকাতে পারব না। টপ করে নিচে পড়বে। আপু আমার থুতনি ধরে মাথাটা উপরের দিকে তুললেন। টপ করে চোখের পানি আপুর কব্জিতে পড়ল। আপু আমার চোখের পানি মুছে দিচ্ছেন। বড়ো বোনের বুঝি এত মমতা থাকে? এত আদর থাকে?
আপু আমার চোখের পানি মুছে দিয়ে মাথার চুল নাড়িয়ে বললেন,

" তুমি ছোটো হলেও এখন তোমার দায়িত্ব অনেক। মায়ের দিকে খেয়াল রেখো।"

আমি আড়ৎ থেকে আসার সময় বিশ হাজার টাকা নিয়ে এসেছি পকেটে ভরে। টাকাটা বের করে আপুর হাতে দিয়ে বললাম,

"আমি এখন আর ছোটো নই আপু। অনেক বড়ো হয়েছি। মায়ের খেয়াল যেমন রাখতে পারব, তেমনি আপুর জন্যও এই ভাইটি আছে।"

আপু একটু চমকালেন বোধ হয়। তারপর টাকাটা আমার হাতে দিয়ে বললেন,

"আমি তোমার চেয়েও বড়ো। এখন আমার টাকা লাগবে না। মামার বাড়িতে থাকি এখন।"

আমি টাকা ফেরত না নিয়ে বললাম,

"টাকা নিতেই হবে। আপুর সব দায়িত্ব এখন থেকে তার ভাইয়ের। বাবা শুধু আমার একার নয়, তোমারও বাবা। তোমারও অধিকার আছে। আমাকে শুধু আপু ডাকতে দিও, বঞ্চিত করো না।"

অনার্স ভবনের মাঠের দুর্বা ঘাস সাক্ষী হচ্ছে দুই ভাই বোনের চোখ থেকে গড়িয়ে পড়া পানির। ঘাস মাড়িয়ে সামনে এগুচ্ছি। আড়ৎ এ যেতে হবে। আড়ৎ থেকে বাড়িতে। মা কয়েকদিন ধরে মনমরা থাকে। মায়ের কাছাকাছি থাকাটা দরকার। গল্প করা দরকার। সব দায়িত্ব এখন আমাকেই পালন করতে হবে। রিকশায় উঠে কিছু দূর এসে পেছন ফিরে দেখি, আপু তখনো আমার চলে আসা দাঁড়িয়ে দেখছে। যেন ভাইকে বিদায় দিতে মন চাচ্ছে না।
আকাশে মেঘ জমেছে। গুড়মুড় শব্দ হচ্ছে। এক পশলা বৃষ্টি হলে মন্দ হয় না।

সমাপ্ত...

#গল্প_সংসর্গ
#লেখনিতে_ওমর_ফারুক_শ্রাবণ



#অনুগল্প

জীবনের ২৬ বসন্ত পার হবার পর মায়ের মৃত্যুর দিন বাবার খোঁজ পেলো স্নেহা।জানতে পারলো তার বাবা বেচে আছে।স্নেহা ঢাকা শহরেই বড...
26/10/2024

জীবনের ২৬ বসন্ত পার হবার পর মায়ের মৃত্যুর দিন বাবার খোঁজ পেলো স্নেহা।
জানতে পারলো তার বাবা বেচে আছে।

স্নেহা ঢাকা শহরেই বড় কোম্পানিতে চাকরি করে।মা অনেক কষ্ট করে তাকে পড়িয়েছে।গ্রামের কয়েক শতক জমি বিক্রি করে ব্যাবসা শুরু করে স্নেহার মা।তারপর কাপড়ের ব্যাবসা করেন তিনি।

মায়ের অসুস্থতার খবর পেয়ে স্নেহা চলে আসে গ্রামে।অসুস্থতার তিন দিনের মাথায় মারা যায় তার মা।মারা যাওয়ার আগে বলে,
__তোমাকে এতদিন আমি মিথ্যে বলেছি মা।তোমার বাবা বেচে আছে।কিন্তু কখনও আমাদের খোঁজ নিতেন না।উনি কেমন আছে জানতে খুব ইচ্ছে হতো।অনেক খুঁজেছি তোমার বাবাকে।তোমার যখন বয়স পাঁচ তখন আমি তার খোঁজ পাই।কিন্তু আমার যে দেরি হয়ে যায় মা।তোমার বাবা আরেক বিয়ে করেছেন।সন্তান আছে তার।তাকে আমি বলিনি তোমার কথা।আমি চেয়েছিলাম তুমি প্রতিষ্ঠিত হলে তোমাকে তার সামনে নিয়ে যাবো।আমি মনে হয় বাঁচবো না।তোমার বাবার পরিচয় পত্র এবং কোথায় থাকেন সব কিছু আমার ডায়েরিতে আছে মা।

মায়ের কবর জিয়ারত করা ও বিভিন্ন কাজ শেষে মায়ের ঘরে আসে স্নেহা।ডায়েরি হাতে নিয়ে পড়তে থাকে।ডায়েরি পড়ে জানতে পারে বাবা মায়ের বিয়ে ছিলো ভালোবাসার বিয়ে।স্নেহার দাদা দাদী মেনে নেয় না আরো অনেক কিছু।ডায়েরির শেষের পাতায় বাবার যুবক বয়সের ছবি দেখলো স্নেহা।চোখ বেয়ে পড়লো কয়েক ফোঁটা পানি।এক প্রথম দেখলো বাবার ছবি।

এক সপ্তাহ পর রওনা দিলো ঢাকার পথে স্নেহা।গন্তব্য বাবা নামক অচেনা লোককে দেখার।পেয়ে গেলো সকল ঠিকানা।পৌঁছে গেলো বাবার বাড়িতে।গিয়ে দেখলো একটি জয়েন্ট ফ্যামিলি।সবাই কত হাসিখুশি আছে।সবাই সুখে আছে শুধু সুখে নেই স্নেহা।না এত সুখ তো তাদের দেওয়া যাবে না।তার মা তো তাকে অনেক কষ্ট করে মানুষ করেছে।কতশত রাত্রিতে তার মা নীরবে কান্না করে গেছে। নিঃস্ব জীবন যাপন ছিলো স্নেহার মায়ের।এর শাস্তি তো স্নেহার বাবাকে দিতেই হবে।বাবা বলে পার পাবে না লোকটি।বাবা যেমন তার রক্তের মা তো তার গর্ভে ধারণ করেছে।

চলে গেলো বাবার সামনে।লোকটি চিনলো না মেয়েটিকে।স্নেহা বললো,
__চিনতে পারছেন না নিশ্চয়ই আমাকে।
__না মা কে তুমি?
__তা চিনবেন কেনো বউ বাচ্চা গ্রামে রেখে এসে বড়লোক বাড়ির মেয়েকে বিয়ে করে ফুর্তি করছেন তো।জীবনটা রঙিন কাগজে মুড়িয়ে নিয়ে আমার মায়ের জীবন রংহীন করে এখন তো সন্তানকে চিনবেন না।মেয়েরা নাকি বাবার চেহারা পায় তো বলুনতো আমি কার মত হয়েছি?আপনার মত নাকি আমার মা নিশি আক্তারের মত?

নিশি নামটি শুনেই বুকের ভিতর কম্পন দিলো লোকটির।তাকালো স্নেহার দিকে।অবাক হলো পরিবারের সকল সদস্য।আজ পরিবারের বড় মেয়ের বিয়ে।সম্পর্কে স্নেহার সৎ বোন।স্নেহার বাবা বললেন,
__তুমি আমার আর নিশির মেয়ে?
স্মিত হাসলো স্নেহা তাকালো বাবার দিকে সেই বাবা যাকে সে কোনোদিন দেখেনি।উপলব্ধি করলো বাবা তার বাবা।কিন্তু মন টানে এই বাবার প্রতি কিভাবে টানতে মন লোকটি যে প্রতারক।
__হ্যা দুর্ভাগ্য বসত আপনার মত নির্দয় ব্যাক্তি যার কোনো মনসত্ববোধ নেই যে পারেনি তার প্রথম বউকে নিয়ে সংসার করতে যে পারেনি তার প্রথম সন্তানকে স্বীকৃতি দিতে আমি তারই মেয়ে স্নেহা।
সবাই তাকিয়ে আছে স্নেহার দিকে বরপক্ষরা ক্ষিপ্ত হলো স্নেহার বাবার উপর।নির্দয় লোক এই লোকের তো ব্যাকগ্রাউন্ড ভালো না। যার বাবা কুমর্ম করে তার মেয়ে কেমন শিক্ষায় শিক্ষিত হতে পারে এমন ধারণা দিয়ে বিয়ে ভাঙলো তারা।আশেপাশের প্রতিবেশীরা ছিঃ ছিঃ করতেছে তাদের নিয়ে।অসহায় হয়ে পড়লো স্নেহার বাবার পরিবার সহ্য স্নেহার বাবা।তাকিয়ে তাকিয়ে দেখলো স্নেহা।বললো,
__পাপ কাউকে ছাড়েনা আজ যেটা হলো আপনার কর্মের ফল।আজ আমি এখান থেকে চলে যাচ্ছি। আর আমি জানি আমি এখান থেকে গেলে পুরো সমাজ আপনাকে আর আপনার এই বড়লোকি পরিবার নিয়ে কি কি মন্তব্য রাখবে।আমি এতেই তৃপ্তি,পুরুষ বলে এক অসহায় নারীকে তিক্ত জীবন দিয়েছিলেন আপনি আজ আপনার রক্ত আপনাকে তিক্ত জীবন দিলো।ভালো থাকবেন না না ভালো থাকার ব্যবস্থা তো আমি শেষ করে দিলাম।
বলেই চলে গেলো স্নেহা।স্নেহার যাওয়ার পর অনেকে অনেক কথা বলছে তাদের পরিবারকে।সহ্য করতে পারলো না লোকটি হাঁটু গীরে বসে পড়লো ফ্লোরে কেউ আসলো না তার কাছে কে আসবে সবাই যে শোকে আছে সবার মুখে এক কথা কর্মফল পেয়েছে তিনি ঠিক করেছে প্রতিবাদী মেয়েটা একদম ঠিক।

#অনুগল্প
#কর্মফল



তুমি যদি ভেবে থাকো কেউ তোমার জীবনে আসবে এবং তা তেমন করেই গুছিয়ে নিবে যেভাবে তুমি চাও। তাইলে ধরে নাও এই পৃথিবীর সবচেয়ে বো...
26/10/2024

তুমি যদি ভেবে থাকো কেউ তোমার জীবনে আসবে এবং তা তেমন করেই গুছিয়ে নিবে যেভাবে তুমি চাও। তাইলে ধরে নাও এই পৃথিবীর সবচেয়ে বোকার রাজ্যে তোমার বাস!

জানো তো, এই তিক্তময় বাস্তবতার শহরে ‘তোমার তুুমি’ ছাড়া তোমাকে বোঝার মতন কেউ থাকে না। কেউ নেই যে কিনা তোমার চোখ দেখে বলে ফেলতে পারবে তোমার বুকের ভেতরের অস্থিরতা। গলা শুনে বলে দিতে পারবে ওটা ঘুমে জড়ানো কন্ঠ নয় বরং সদ্য কান্না শেষ করা ভাঙা জড়িয়ে যাওয়া কণ্ঠ। জোড় করে হাসির চেষ্টাটা কেউ ধরতেই পারবে না এখানে। এই যে চোখ দেখে মন পড়ে ফেলা, ভাঙা কন্ঠ শুনে মন খারাপ বোঝা, নীরবতা দেখে বিষণ্ণতা ধরে ফেলা ওসব তো গল্প কাহিনি বইয়েই মানায়। বাস্তবতায় ওসবের ছিটেফোঁটা লেশমাত্র পাওয়া যায় না।

বাস্তবতার চিত্রটা পুরোটা আলাদাই হয় বোকা। এখানে হাতে ধরে বুঝিয়ে দিলেও কেউ বুঝবে না তোমার বুকের ভেতরের বেদনা, নির্ঘুম রাতের গভীরতা, দুশ্চিন্তায় মাথার যন্ত্রণা।
এখানে চুক্তি নামায় যতই লেখা হোক না কেন ভালো রাখার, মন বুঝে ফেলার। বাস্তবে কেউই কাউকে বুঝতে পারে না, মন পড়তে পারে না।....
যেহেতু নিজেকে বোঝার ক্ষমতা ‘তোমার তুমির’ বাইরে কারো থাকে না, সেহেতু মনকে ভালো রাখার পথটা নিজেকে খুঁজেই নিয়ে তাকে ভালো রাখতে হয়, যত্নে সামলাতে হয়।

_ নাবিলা তাসনিম



আমার অবাক লাগে—তুমি তো আর ঈশ্বর নও, তবুও কিভাবে যেনো বুঝে যাও আমার যাবতীয় মন খারাপ, চাকরির হতাশা আর পকেটের দুর্ভিক্ষ।আশ্...
25/10/2024

আমার অবাক লাগে—
তুমি তো আর ঈশ্বর নও, তবুও কিভাবে যেনো বুঝে যাও আমার যাবতীয় মন খারাপ, চাকরির হতাশা আর পকেটের দুর্ভিক্ষ।

আশ্চর্য হই ভীষণ —
তুমি তো অন্তর্যামী নও, তবুও কীভাবে যেনো টের পেয়ে যাও আমার রাত জাগা, সস্তা কলা রুটি আর অতিরিক্ত চা খেয়ে লিভার ফাংশে গ্যাস্টিকের জমাট বাঁধার কথা।

অদ্ভুত লাগে—
তুমি তো আর যাদুকর নও, তবুও কেমন করে যেন কন্ঠস্বর শুনে বুঝে যাও সুসময় না আসলেও তোমার আমার কাছে আসাটা জরুরি, জরুরি দেখাসাক্ষাৎ।

মানুষ তো অনেকেরই আছে—
প্রতিবার ব্যর্থ হয়ে সুসাইড নোট লিখে ফেলা আত্মহত্যা প্রবণ একটা মানুষের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে সুস্থ করে তোলার মত অমন ম্যাজিকাল একটা প্রেমিকা /প্রেমিক ক'জনের আছে?

|| 'তুমি তো ঈশ্বর নও' ||

🖊️আরিফ হুসাইন



Address

Kolkata
Kolkata
700118

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Bini Sutor Mala posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share