Demons Castle

Demons Castle Horror And Gothic Dark Fantacy Art
I am Avishek, from kolkata(India)

W E N D I G O ওয়েনন্ডিগো প্রধানত একপ্রকার নরখাদক দানব, যারা  বাস করে গভীর অরণ্যে | অরণ্যে ভ্রমণ করতে অনেকেই পছন্দ করেন, ...
19/05/2026

W E N D I G O

ওয়েনন্ডিগো প্রধানত একপ্রকার নরখাদক দানব, যারা বাস করে গভীর অরণ্যে | অরণ্যে ভ্রমণ করতে অনেকেই পছন্দ করেন, আর এই গভীর অরণ্যেই লুকিয়ে থাকে এই শয়তান | এরা শক্তিশালী হওয়ার সাথে সাথে প্রচুর চতুর প্রকৃতির হয় | একাধিক জন্তুর সাথে সাথে এরা মানুষের গলাও হুবহু নকল করতে পারে |

ধরুন, আপনি গভীর জঙ্গলে আপনার বন্ধুর সাথে ঘুরছেন আর হঠাৎ করেই আপনার বন্ধুকে আর দেখতে পারছেন না বা তাকে হারিয়ে ফেললেন۔۔۔۔এমন সময় জঙ্গলের আরও গভীর থেকে আপনার বন্ধুর ডাক ভেসে আসছে | আপনি ভাবলেন আপনার বন্ধু হয়তো আরও এগিয়ে বহুদূর চলে গেছে, সেই ডাকের পিছু নিতে নিতে আপনি উপস্থিত হলেন এমন এক স্থানে যেখান থেকে ফেরার কোনো রাস্তা নেই | আর হঠাৎ খেয়াল করলেন, আপনার দিকে হরিনের শিঙওয়ালা, অদ্ভুত জন্তু ও মানুষের সংমিশ্রনের এক প্রাণী ধেয়ে আসছে, যার উচ্চতা প্রায় নয় ফুটের উপরে | তখন আপনি দৌড়ে পালাতে চেষ্টা করলেও পারবেন না | যতোই জোরে দৌড়ান, এই শয়তান দানব আপনাকে ধরে ফেলবে আর নিজের খাদ্যে পরিণত করবে |

এই ওয়েনন্ডিগো সর্বদাই সন্ধান করে কাঁচা মাংসের, মানুষের মাংস এদের প্রিয় খাদ্য এরা চায় মানুষের মাংস খেয়ে আরও বলশালী হতে | মনে করা হয় আমেরিকার উত্তর বনাঞ্চলে শীতল এলাকায় ও কানাডার বনাঞ্চলগুলিতে এদের বসবাস | তবে পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গার গভীর বনাঞ্চলের বনকর্মীরা ওয়েনন্ডিগো সম্পর্কে তাদের অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন | সেরকমই একটি অভিজ্ঞতার কথা ভাগ করবো আপনাদের সাথেl

ওয়েনন্ডিগো সম্পর্কে আজ একটি ঘটনা আপনাদের সাথে ভাগ করে নেবো |

জনবহুল একটি শহরের এক ভাড়া বাড়িতে ইভা নামে একটি মেয়ে বাস করতো ( শহরের নাম ও স্থান উল্লেখ করবো না) | যে বাড়িতে সে বাস করতো, সেটি ছিলো জরাজীর্ণ ও বেশ পুরোনো | এই মেয়েটি ছিলো অনাথ | আমাদের প্রত্যেক মানুষেরই স্বপ্ন থাকে জীবনে নিজের একটা বাড়ি বানানোর | ঠিক তারও একই স্বপ্ন ছিল | সে পড়াশোনার পাশাপাশি বাড়িতে বসে কিছু কাজও করতো, খুব কম তাকে অফিস যেতে হতো | কিছু নিজের জমানো টাকা আর মা বাবার রেখে যাওয়া কিছু টাকা থেকে সে একদিন পরিকল্পনা করেই ফেললো যে সে নিজের একটা বাড়ি করবে |

ঠিক এমন সময় একটি বাড়ির সন্ধান সে পেলো | তবে বাড়িটি ছিলো শহরের বাইরে একটি জঙ্গল ঘেরা স্থানে | যদিও সেখান থেকে শহরে যাওয়ার সুন্দর রাস্তা আছে | একদিন সে বাড়িটির পরিদর্শনে গেলো ۔۔۔এবং অবাক হলো যে এটা আদতে কোনো বাড়ি না এটা অনেকটা প্যালেসের মতো | ইভা প্রথমেই ভেবে নিলো যে এই বাড়িটি তার পক্ষে কেনা অসম্ভব | কিন্তু বাড়ির মালিকের মুখে বাড়ির দাম শুনে সে অবাক !! তার বাজেটের মধ্যেই সে এই বাড়িটি পেয়ে যাচ্ছে, তবে সমস্যা হলো এই বাড়িতে মাত্র দুইবার জল আসবে আর তার মধ্যেই তাকে সমস্ত কাজ সেরে নিতে হবে আর তার সাথে রাতের বেলা খুব অন্ধকার আর পাশে জনবসতিও খুব কম , সে একা থাকবে এত্ত বড়ো ঘরে তাই রাতে কোনো সমস্যা হলে সাহায্যের কেউ নেই | তবে এর মধ্যেও ইভার কাছে স্বস্তির বিষয় হলো প্রায় কিছুটা দূরেই এলাকার থানা | তাই নিরাপত্তাজনিত সমস্যায় ভোগার কথা তার নয় | তার মধ্যে ফরেস্ট অফিসাররাও আছেন, তাকে সাহায্য করার জন্যে |

বেশ ভালো ভাবেই তার দিন কাটতে লাগলো, কিন্তু সমস্যা আসলো একদিন | ইভা একটি ঘরে বসে তার কাজের কিছু লেখালেখি করছিলো, হঠাৎ করেই বাইরের থেকে এক মহিলার চিৎকার সে শুনতে পেলো | মহিলাটি খুব জোরে জোরে চিৎকার করে বলছে তাকে প্রাণে বাঁচাতে আর সমানে ইভার বাড়ির দরজা ধাক্কে যাচ্ছে | এই শুনে ইভা সাথে সাথে গিয়ে দরজা খুললো | মেয়েটিকে জিজ্ঞাসা করলো কি হয়েছে তোমার ? এর উত্তরে মেয়েটি বললো তাকে একজন অপরাধী লোক কুড়াল নিয়ে মারতে আসছে, কারণ এর আগে সে দুই - তিনজনকে একইভাবে মেরেছে ۔۔ও মেয়েটি সেটা দেখে নিয়েছে | ইভা তাকে ঘরে এনে সান্তনা দিলো ও জল খাওয়ালো , তার মনে ভরসা আনার চেষ্টা করলো |

হঠাৎ করেই ইভা টের পেলো কেউ যেনো দরজা ধাক্কা দিচ্ছে, ইভা সাহস করে এগিয়ে গিয়ে দেখলো একজন লোক দাঁড়ানো তার হাতে কুড়াল | লোকটি জিজ্ঞাসা করলো, এখানে কি কেউ এসেছে ? ইভা না বলায় লোকটি বললো সে চলে যাচ্ছে, তবে ইভা যদি মিথ্যা বলে ۔۔সে ইভা কে মেরে দু টুকরো করবে | ইভা তাড়াতাড়ি দরজা বন্ধ করে স্থানীয় পুলিশ স্টেশন এ ফোন করে তার নিজের ঠিকানা জানালো আর বললো যে এখানে একজন অপরাধী কুড়াল নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে আর তাদের মারার চেষ্টা করছে | এর মাঝখানে কিছুই ঘটলো না, প্রায় পনেরো মিনিট পর কলিং বেলের আওয়াজ আসলো | বেশ কিছুটা ভয়ের সাথে ইভা বললো কে ?

বাইরে থেকে উত্তর আসলো আমি ইন্সপেক্টর ডি ফ্রান্সিস ۔۔۔ইভা দরজা খোলার পর ইন্সপেক্টর ফ্রান্সিস ঘরে প্রবেশ করলো ও তাদের সবকথা শুনলো | কিছু সময় পরেই তারা বুঝতে পারলো যে দরজাটি কেউ কুড়াল দিয়ে বার বার বারি মেরে ভাঙার চেষ্টা করছে, ও সেটি একসময় ভেঙেও পড়লো | ফ্রান্সিস তার বন্দুকটি উঁচু করে অপরাধী লোকটির সামনে দাঁড়ালো ও বললো লোকটি যদি কোনো প্রকার খারাপ কিছু করতে চায় তৎক্ষনাৎ সে লোকটিকে গুলি করবে | এই কথায় সামনের অপরাধীটি হাসলো, আর কুড়াল নিয়ে এগিয়ে আসতে লাগলো | ফ্রান্সিস সেই অপরাধীকে লক্ষ করে গুলি ছুঁড়লো, গুলিটি সোজা এসে অপরাধীটির বুকে লাগলো, ও সে মাটিতে লুটিয়ে পড়লো | এতো বড়ো একটা ঘটনা হয়ে যাওয়াতে ইভা ও সেই মেয়েটি দুজনেই ভয়ে চিৎকার করে উঠলো !! তারা ভাবলো অবশেষে সব সমস্যার সমাধান এবার হয়েছে |

কিন্তু না, সমাধান হয়নি ۔۔۔অপরাধী মানুষটি আস্তে আস্তে নড়াচড়া করতে লাগলো | এই দৃশ্য দেখে সবাই স্তম্ভিত !! এটা কিভাবে সম্ভব ? গুলির আঘাত সত্ত্বেও কিভাবে একজন আবার বেঁচে উঠতে পারে ? ফ্রান্সিস এই দৃশ্য দেখামাত্রই তার থানায় ফোন করে বেশ কিছু পুলিশ পাঠাতে বললো | এই সময় সেই গুলি খাওয়া অপরাধী আবার উঠে দাঁড়ালো ও তার কুড়ুল নিয়ে ইন্সপেক্টর ফ্রান্সিস এর উপর চড়াও হলো | ফ্রান্সিস আরোও তিনটি গুলি করলো পরপর | কিন্তু অপরাধিটির কিছুই হলো না ۔۔۔শুধুমাত্র তার হাতে থাকা কুড়ুলটি পরে গেলো মাটিতে | সে দৌড়ে এসে ফ্রান্সিস এর উপর আছড়ে পড়লো | ফ্রান্সিস ও অপরাধীটির মধ্যে শুরু হলো জোর লড়াই | কিন্তু এতে ইন্সপেক্টর ফ্রান্সিস বিশেষভাবে আহত হচ্ছিলেন | এমন সময় পুলিশের জীপগাড়ি এসে উপস্থিত হলো ইভার বাড়ির সামনে۔۔۔তারা দেখতে পেলো দরজা খোলা ও চিৎকারের আওয়াজ হচ্ছে | ফ্রান্সিস খুব আহত হওয়া সত্ত্বেও দুটি মেয়েকে বাঁচানোর জন্যে প্রানপনে লড়ে যাচ্ছিলেন |

অন্য পুলিশরা ঘটনাস্থলে এসে হাজির হলো ও এক সময়ে অপরাধীটি অন্য পুলিশদেরকে দেখতে পেয়ে একছুটে পালালো | ফ্রান্সিস চিৎকার করে তার সহ-পুলিশ ও কন্সটেবলদের উদেশ্যে বললো যেকোনো ভাবে সেই অপরাধীকে ধরতেই হবে | নাহলে সেই অপরাধী অন্যান্য মানুষদেরও অতিষ্ট করবে, আর এটা এখানকার স্থানীয় মানুষদের জন্যেও বিপদসীমার মধ্যে থাকার সমান, এই ভেবে তারাও ছুট দিলো | অতো গভীর জঙ্গলের মাঝে গাছে ঢাকা এলাকায় জীপ গাড়ি নিয়ে যাওয়ার চেয়ে, তারা মনে করলো টর্চ নিয়ে সেই অপরাধীকে দৌড়ে ধাওয়া করাই বেশী ভালো | চারিদিক থেকে তারা সেই অপরাধীটির উদেশ্যে দৌড়ানো শুরু করলো |

এইদিকে সেই ভয় পাওয়া মেয়েটিও এবার ইভা এর উদেশ্যে বললো , ইন্সপেক্টর ফ্রান্সিস তাদেরকে বাঁচিয়েছে ۔۔তাই তাদেরও উচিত তাকে সাহায্য করা | ইভা এই কথায় প্রথমে সম্মতি না জানালেও সেই মেয়েটির বারবার কাকুতিমিনতিতে রাজি হলো ও তারাও চললো পুলিশদের সাহায্যের উদেশ্যে | অবশেষে দীর্ঘ দৌড়ের পর পুলিশেরা খুঁজে পেলো সেই অপরাধীটিকে ۔۔۔সব পুলিশ একই স্থানে এসে উপস্থিত হলো | কিন্তু সেই অপরাধী এখনো হেসেই চলেছে | সেই দৃশ্যে প্রচন্ড রাগে ইন্সপেক্টর ফ্রান্সিস, সজোরে এক ঘুসি কষালো অপরাধীটির মুখে | সেই সময়েই ঘটনাস্থলে হঠাৎ করেই উপস্থিত হলো ইভা ও তার পিছনে সেই মেয়েটি |

কিন্তু এর পর যা হলো তা আমাদের কল্পনার বাইরে !! অপরাধীটির দেহ ধীরে ধীরে পরিবর্তন হতে শুরু করলো ۔۔۔তার দেহ প্রায় নয় ফুট উচ্চতায় পৌঁছে গেলো, সাথে সাথে তার মাথায় হরিনের মতো শিঙ এর উদয় হলো, সে হয়ে উঠলো একটা মানুষ ও পশুর সংমিশ্রণ | তার তীব্র আওয়াজে চারিদিক থেকে আসা তারই মতো ওয়েনন্ডিগোরা ঘিরে ধরতে লাগলো পুলিশদের | ধীরে ধীরে সেই মেয়েটিরও রূপ পরিবর্তন হতে শুরু করলো, সেও ওয়েনন্ডিগোতে রূপান্তরিত হলো | এই দৃশ্যে ইভা ভয়ে বিস্ময়ে অবাক !!

এবার সেই অপরাধী মানুষ সেজে থাকা ওয়েনন্ডিগো বলতে শুরু করলো ۔۔۔আমরা ইভা কে অনেকদিন আগেই মারতে পারতাম, ভক্ষন করতে পারতাম !! কিন্তু তাতে আমরা কতটুকুই বা মাংস আর রক্ত পেতাম, আমাদের ক্ষিদে মিটতো না তাতে | আমরা চেয়েছিলাম আমাদের এক সপ্তাহের খাবারের ব্যাবস্থা করতে | এই বলা মাত্রই সেই ওয়েনন্ডিগোদের মুখ থেকে লোভে লালা ঝড়তে লাগলো | তার সাথেই তাদের মুখ ও দেহ থেকে আসা নোংরা দুর্গন্ধে পুলিশদের থাকাই দুর্বিসহ হয়ে উঠলো | ফ্রান্সিস সহ অন্য পুলিশেরা তাদের বন্দুক থেকে গুলিবর্ষণ করতে লাগলো ওয়েনন্ডিগোদের উপর, কিন্তু এতে আগের মতোই তাদের কিছুই যায় আসলো না ۔۔মনে করুন আগেও কিন্তু সেই মানুষ অপরাধীটির গায়ে গুলি লাগা সত্ত্বেও সে মরেনি |

ঠিক যেমনভাবে আমরা কাগজের পাতা ছিঁড়ে ফেলি, ঠিক সেইভাবেই ওয়েনন্ডিগোরাও পুলিশদের হাত পা ছিঁড়তে লাগলো | কোনো ওয়েনন্ডিগো ঝাঁপিয়ে পরে জ্যান্ত একটা মানুষের মাথা ধড় থেকে আলাদা করে সেই মাথাই চিবিয়ে খেতে লাগলো | কেউ দৌড়ে প্রাণে বাঁচার জন্যে পালানোর চেষ্টা করলো কিন্তু দীর্ঘদেহী ওয়েনন্ডিগোদের গতির সাথে তারা পারলো না, কারণ এই ওয়েনন্ডিগোরা হাওয়ার সাথে দৌড়ায় | এক এক করে চলতে লাগলো মানব সংহার ۔۔۔۔তাদের হাত পা ছিঁড়ে প্রবল উল্লাসে চলতে লাগলো ওয়েনন্ডিগোদের রাতের খাদ্যউৎসব | তাদের রক্তেতৃষ্ণা পরিতৃপ্ত হতে লাগলো মানুষের রক্তে | মানুষের তীব্র মৃত্যু হাহাকারে কেঁপে উঠলো আকাশ বাতাস | কিন্তু কেউ বুঝলো না যে গভীর জঙ্গলের ভিতরে ঠিক কী মৃত্যুযজ্ঞ চলছে |

নিখোঁজ হওয়া ইভা ও পুলিশদের সন্ধান চলতে লাগলো, বেশ কিছুদিন পর বনকর্মীরা জঙ্গলের খুব গভীরে সেই নিখোঁজ মানুষদের সন্ধানের উদ্দেশ্যে ঢুকে পড়লো, এই গভীর জঙ্গলে বনকর্মীরা দিনের বেলাতেও খুব কম আসে | তারা দেখতে পেলো বেশ কিছু মানুষের হাড়গোড়, মাথার ভাঙা খুলি পরে আছে ۔۔খুঁজে পেলো ফ্রান্সিস এর আইডিকার্ড | পুরোনো রক্তের দাগও তারা লক্ষ করলো | তারা দেখলো কিছুস্থানে পরে আছে মাংসপিন্ড তাতে বসা মাছির দল আর তা থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে খুব | বনকর্মীরা কিছুটা অনুমান করতে পারলো যে এটা কাদের কাজ হতে পারে | কিন্তু, মানুষ যাতে না ভয় পায় আর এই দানবদের দেখার উদ্যেশ্যে এই জঙ্গলে যাতে কোনো বিশেষ কৌতূহলী মানুষ না আসে ঠিক সেই কারণে তারা সবাইকে প্রচার করলো এক অপরাধীকে ধরার জন্যে পুলিশেরা এই ঘন জঙ্গলে এসে উপস্থিত হয়েছিল আর কিছু হিংস্র ভয়ানক পশুর কবলে পরে তারা মারা গেছে একই সাথে এই পশুর আক্রমণে ইভা এর ও মৃত্যু হয়েছে , তাই এই জঙ্গলের গভীরে যাতে কেউ না ঢোকে | আস্তে আস্তে বিষয়টি এইভাবেই ধামাচাপা পরে গেলো |

এবার সবার মধ্যেই প্রশ্ন জাগবে যে এই ওয়েনন্ডিগো কোথা থেকে সৃষ্টি হলো ও তাদের মারার কি কোনো উপায় নেই ? এর উত্তর হলো কিছু খারাপ মানুষ বিশেষ নিম্নশক্তি পাওয়ার আশায় এক শয়তানি শক্তির আরাধনা করতে লাগলো, তারা মানুষ হয়েও মানুষেরই মাংসই ভক্ষন করতে লাগলো | শয়তান তার বরদান স্বরূপ তাদেরকে ওয়েনন্ডিগোতে পরিণত করলেন, আর এইখানথেকেই সৃষ্টি হলো এই দানবের | আর তাদের আপনি হয়তো মারতেও সক্ষম হবেন না কিন্তু আপনার কাছে মশালের ভয়ানক আগুন থাকলে আপনি এই দানবদের পিছু হটাতে সক্ষম হবেন | অবশ্য এরা কতোটা চালাক তা আগেই বলেছি ۔۔۔এরা বহুদিন আগেই ইভা কে মারতে পারতো ۔۔۔কিন্তু তা না করে এরা আরোও বড়ো কিছুর পরিকল্পনা করেছিল |

আজকের লেখাটি একটি লোককথার মতো, আপনি গল্পের মতো নিতে পারেন।

(অনুগ্রহ করে লেখাটি ও আঁকাটি কেমন লাগলো সেটি আমায় জানাবেন, ভালো লাগলে পোস্টটি শেয়ার করে পেজটির পাশে থাকবেন, ধন্যবাদ।)

A S M O D E U Sঅ্যাসমোডিয়াস নরকের সাত রাজার মধ্যে অন্যতম, তিনি অ্যাশমেদাই নামেও পরিচিত | হিব্রু বাইবেল এবং "লেসার কি অফ...
16/05/2026

A S M O D E U S

অ্যাসমোডিয়াস নরকের সাত রাজার মধ্যে অন্যতম, তিনি অ্যাশমেদাই নামেও পরিচিত | হিব্রু বাইবেল এবং "লেসার কি অফ সলোমন" এবং দানব সংক্রান্ত বিভিন্ন বইতে তার উল্লেখ আছে | নরকের সাতজন দানব রাজা কিছু না কিছু খারাপ শক্তির জন্যে পরিচিত, অ্যাসমোডিয়াস এমন এক শয়তানি শক্তি যিনি পরিচিত - অভিলাষ, আকাঙ্ক্ষা এবং হিংসা সম্পর্কিত বিষয়ের জন্যে | তিনি মানুষের ভিতর খারাপ খারাপ কামনা বাসনা নিয়ে আসেন | তার এবং দানবী লিলিথের মিলনের ফলে অসংখ্য শক্তিশালী দানবের সৃষ্টি হয়েছিল, যারা ঈশ্বরের শত্রু | তার শক্তির মধ্যে অন্যতম হতো দ্রুত রূপ বদল ও একস্থান থেকে অন্যস্থানে দ্রুত যাওয়ার ক্ষমতা, যেকোনো মানবী কে ভুলিয়ে তার কামনার ফাঁদে ফেলার ক্ষমতা |

ঈশ্বর তাকে সৃষ্টি করেছিলেন, কিন্তু তিনি ঈশ্বরের বিরুদ্ধে লুসিফারের হয়ে যুদ্ধে অবতীর্ণ হন ও খুব খারাপভাবে হেরে যান | যখন তিনি দেবদূত ছিলেন তখন তিনি ছিলেন খুব সুদর্শন | যুদ্ধের পর তিনি গুরুতরভাবে আহত হন | অ্যাসমোডিয়াসের বিভিন্ন চিত্র বিভিন্ন সময়ের শিল্পীরা এঁকেছেন তার মধ্যে বিশেষ উল্লেখযোগ্য হলো একটি চিত্র যেখানে তার তিনটি মাথা দেখানো হয়েছে (মানুষ, ছাগল এবং ষাঁড়) |

অ্যাসমোডিয়াস যখন দেবদূত ছিলেন ঠিক তখন থেকেই সারাহ নামের এক নারীকে ভালোবাসতেন কিন্তু সারাহ তাকে পছন্দ করতেন না তাই সারাহ যাকেই ভালোবেসে বিয়ে করতেন , অ্যাসমোডিয়াস বিয়ের রাতেই সারাহ এর স্বামীদের মেরে ফেলতেন | এইভাবে সাতবার তিনি সারাহ এর সাত স্বামীকে হত্যা করেছিলেন | কিন্তু অষ্টমবার সারাহ এর বিয়ের রাতে দেবদূত রাফায়েল এক অসম্ভবকে সম্ভব করেন | তিনি একটি মাছের লিভার ব্যবহার করে এক অদ্ভুত ধোঁয়া সৃষ্টি করেন এবং এই অসহ্য ধোঁয়ার ফলে দানব অ্যাসমোডিয়াস সেখান থেকে সরে যেতে বাধ্য হন এবং সারাহ এর স্বামী টোবিয়াস সেই যাত্রায় প্রাণে বেঁচে যান |

অ্যাসমোডিয়াসকে ঘিরে আরো একটি কাহিনী আছে | রাজা সলোমন এক মন্দির বানানোর জন্যে দেবতাদের শরণাপন্ন হন এই মন্দির বানানোর কাজে বারবার তিনি বিভিন্ন দানবদের থেকে বাধা পাচ্ছিলেন | অবশেষে দেবতাদের দেওয়া এক বিশেষ আংটির সাহায্যে অ্যাসমোডিয়াস কে তিনি নিজের গোলাম বানান | লোহা এবং হীরা কাটার জন্যে এক বিশেষ ধরণের পাথর ব্যবহার হয় যার নাম "সামির স্টোন " কিন্তু এই পাথর খোঁজা প্রায় অসম্ভব ছিল | অ্যাসমোডিয়াস এক পাখির বাসা থেকে সেই বিশেষ পাথর খুঁজে পান এবং মন্দির গড়ে তোলার কাজে রাজা সলোমনকে সাহায্য করেন |

কিন্তু মন্দির বানানোর পরেও রাজা সলোমন, অ্যাসমোডিয়াসকে তার গোলামী থেকে নিষ্কৃতি দেননি | সলমনের ভিতর অ্যাসমোডিয়াসকে ঘিরে এক অন্য মনোভাব তৈরী হয় ۔۔তিনি ভাবতে থাকেন অ্যাসমোডিয়াস হয়তো অতোটাও শক্তিশালী দানব নন | ঠিক তখনি অ্যাসমোডিয়াস রাজা সলোমন কে বলেন শুধুমাত্র একবার সেই বিশেষ আংটির বন্ধন থেকে তাকে মুক্ত করতে তারপর সে দেখাবে সে কতোটা শক্তিশালী | রাজা সলমন, দানব অ্যাসমোডিয়াসকে সেই আংটির বন্ধন থেকে মুক্ত করা মাত্রই অ্যাসমোডিয়াস রাজা সলমনকে প্রায় 1500 মাইল দূরে ছুঁড়ে ফেলে দেন | অ্যাসমোডিয়াস এর অন্যতম শক্তি ছিল নিজের রূপ ও আকার পরিবর্তন সেই শক্তিবলে তিনি রাজা সলোমন এর বেশে প্রায় তিন বছর রাজত্ব করেন | প্রায় তিন বছর পর রাজা সলোমন ফিরে আসেন ! কিন্তু এতদিন তার রাজ্যের কেউ বুঝতেও পারেনি এতোদিন যে রাজা ছিল সে আদতে এক শক্তিশালী মহাদানব |

এই দানব নভেম্বর মাসে বিশেষ শক্তিশালী হয়ে ওঠেন | তার দ্রুত স্থান পরিবর্তন ও দ্রুত রূপ বদলানোর ক্ষমতা তাকে নরকের অন্যতম শক্তিশালী রাজা বানিয়েছে | তিনি লুসিফারের পরমবন্ধু ও প্রায় 72 জন শক্তিশালী দানব তার অধীনস্ত | তার সৌন্দর্যে যে কোনো নারীই মুগ্ধ হয়ে তার কাম বাসনার ফাঁদে আটকা পরতো | এমনকি তার সাধনা করেও কোনো শয়তানি সাধক যেকোনো মেয়েকে এই খারাপ জালে আটকে ফেলতে পারে | চেষ্টা করলাম এই নরকের রাজাকে নিজের মতো করে কিছুটা আঁকতে, ভুল ত্রুটি মার্জনীয় 🙏🏾

(আজকের লেখা ও আঁকা কেমন লাগলো জানাবেন, ভালো লাগলে পোস্টটি share করে পেজটির পাশে থাকবেন | )

G R I M   R E A P E Rআপনারা হয়তো মনে করেন মৃত্যুই শেষ? না মৃত্যু শেষ নয়, মৃত্যুর পরেও আরেকটা দুনিয়া আছে, যেই দুনিয়ায় নিয়...
12/05/2026

G R I M R E A P E R

আপনারা হয়তো মনে করেন মৃত্যুই শেষ? না মৃত্যু শেষ নয়, মৃত্যুর পরেও আরেকটা দুনিয়া আছে, যেই দুনিয়ায় নিয়ে যাওয়া তাদের কাজ। গ্রিক পুরানের মৃত্যুদূত"চ্যারণ" যেমন মানুষের মৃত্যুর পর এক নৌকায় করে তাদের আত্মাদের মরণের ওপারে পৌঁছে দেয়, কোরিয়া পুরানের মৃত্যুদুত নিদারওয়ার্ল্ড ইমেশারির কাজ যেমন মৃত মানুষদের আত্মাদের সংগ্রহ করা ও একত্রিত করা ঠিক একইভাবে সনাতনী পুরানে ও বৌদ্ধ গ্রন্থে উল্লেখিত মৃত্যুর দেবতা যম এর কাজ মৃত মানুষদের আত্মাদের নিয়ে যাওয়া, এদের সবার সাথেই গ্রিম রিপার এর মিল পাওয়া যায়। গ্রিম রিপার মৃত মানুষদের আত্মাদের সংগ্রহ করে তাদের নিয়ে যায় মরণের পরবর্তী স্তরে।

এক্ষেত্রে আপনাদের প্রশ্ন আসতে পারে গ্রিম রিপার দেখতে কেমন? গ্রিম রিপার এক মানুষের নরকঙ্কালের মতো দেখতে তার পরনে কালো চাদর ও তার হাতে থাকে লম্বা হাতলওয়ালা কাস্তে।এবার প্রশ্ন আসে এমন কঙ্কালসার ভয়ঙ্কর মৃত্যুদূতের উৎস ঠিক কোথা থেকে আসলো? প্রথমেই বলি গ্রিম রিপার এর উল্লেখ বাইবেল গ্রন্থের কোথাও নেই। ইসলামিক গ্রন্থে মৃত্যুরদূত আজরায়েল এর উল্লেখ আছে, যার চেহারার বিবরণের সাথে গ্রিম রিপারের সামান্য মিল থাকলেও আজরায়েল শরীর বিশাল, তার সারা শরীর জুড়ে প্রায় চার হাজার ডানা এবং অসংখ্য চোখ ও ঠোঁট দিয়ে ভর্তি। গ্রিম রিপার কিন্তু দেখতে একদমই সেরকম নয়।"The Bible Book Of Revaluation" বইটিতে চারজন ঘোরসওয়ার এর উল্লেখ আছে। তাঁরা হলেন যথাক্রমে -পেস্টিলিনস, ওয়ার, ফেমিন, ডেথ। এই চারজনের মধ্যে ডেথ এর সাথে গ্রিম রিপার এর মিল পাওয়া যায়। কিন্তু এই বইতে ডেথ এর চেহারার কোনো বর্ণনা না থাকলেও এই বইটি ছিল গ্রিক ভাষায় লেখা এবং সেখানে সেই চতুর্থ ঘোরসওয়ার এর নাম ছিল থানাটোস, এই থানাটোস হলেন গ্রিক মৃত্যুর দেবতা তাই সেইদিক থেকে বলা যেতে পারে এই গ্রিম রিপার কিন্তু আদেও সেই বইতে উল্লেখিত চতুর্থ ঘোরসওয়ার ডেথ নন। গ্রিম রিপার চরিত্রটি ইউরোপে প্রচলিত নানা ধরণের লোককথা থেকে নেওয়া হয়েছে।

নেদারল্যান্ড এর লোককথায় বর্ণিত মেগেরের চেহারা সাথে গ্রিম রিপার এর মিল পাওয়া যায় এই মেগেরের শরীর পুরোটাই কঙ্কাল, যে রোগ, ব্যাধি ও মৃত্যুর সময় মানুষকে দেখা দেয়। তবে এর থেকেও সেল্টিক লোককথায় বর্ণিত আনকউ এর সাথে গ্রিম রিপার এর মিল আছে। এই আনকউ এর শরীর নরকঙ্কালের মতো, তার পরনে থাকে কালো বা গাঢ় নীল রঙের চাদর, তার মাথায় এক মস্ত টুপি যেই টুপি দিয়ে সে নিজের মুখ আড়াল করে এবং তার হাতে থাকে লম্বা হাতলওয়ালা কাস্তে। কখনো তাকে এক কাঠের বাক্সর ভিতর এক ছায়ারূপেও দেখা যায়। আনকউ কবরস্থানের আশেপাশে থেকে খেয়াল রাখে মৃতদেহর উপর ও সেই মৃতদেহর আত্মা নিজের সাথে করে নিয়ে চলে যায়। তবে সবথেকে অবাক করার বিষয় কি জানেন এক বিখ্যাত খ্রিস্টান কিংবদন্তী অনুযায়ী আনকউ হলেন পৃথিবীর প্রথম মানব ও মানবী অ্যাডাম এবং ইভের প্রথম সন্তান।
অনেকের মতে গ্রিম রিপার এর আলোচনা শুরু হয় ১৪ শতকের ইউরোপে যখন সেখানে নানা প্রকার রোগের তান্ডব শুরু হয়। ১৩৪৬ সালে এই রোগ শুরু হয়েছিলো এশিয়া থেকে এবং পরবর্তীকালে এই রোগ ইউরোপেও ছড়িয়ে পরে এবং এই মহামারীর নাম দেওয়া হয়েছিলো "ব্ল্যাক ডেথ"। সেই সময় মানুষ ভাবতে শুরু করেছিল এই মহামারীর ফলে পুরো মানব সভ্যতার বিনাশ ঘটবে। ১৩৪৬-১৩৫৩ এর মধ্যে ইউরোপের প্রায় ৬০% মানুষ এই মহামারীর ফলে মারা যায়।এই ব্ল্যাক ডেথ মহামারীর ফলে পৃথিবীর জনসংখ্যা ৪৭৫ মিলিয়ন থেকে কমে ৩৫০ মিলিয়ন হয়ে যায়। এই সময়কার শিল্প ও সাহিত্যেও এর গভীর প্রভাব পরেছিল। ডান্স অফ ডেথ এর একটি চিত্রে মৃত্যুর নৃত্য দেখা গিয়েছিলো। মৃত্যু যার কোনো ধর্ম, জাতি, উচ্চ, নীচ,ভালো, খারাপ ভেদাভেদ নেই। সবাই যার করালগ্রাসের শিকার হতো। যে সবার মধ্যেই ছড়িয়ে পরছিলো খুব সহজ ভাবেই। আর এই মৃত্যুর নাচ থেকে নানা লোককথা ছড়িয়ে পরে। আর এখান থেকেই শুরু হয় এক কঙ্কালসার কিংবদন্তীর যার নাম গ্রিম রিপার।তার পর থেকেই গ্রিম রিপার মানুষের মন, মস্তিস্ক ও দুঃস্বপ্ন তে সামিল হয়। পশ্চিমের পপ সংস্কৃতিতে গ্রিম রিপারকে কিন্তু পুরুষ হিসেবেই দেখানো হয়েছে। কিন্তু লাতিন আমেরিকার লোককথাতে এমন অনেকটা গ্রিম রিপার এর মতোই কঙ্কালসার দেখতে এক মহিলা কিংবদন্তীর সন্ধান মেলে যার নাম লা সান্তা মুআর্ত। ঠিক সেরকমই পোল্যান্ড এর ডেথ অফ স্মিয়ার্ক যে কিনা গ্রিম রিপার এর মতোই দেখতে কিন্তু তিনিও মহিলা, পার্থক্য একটাই গ্রিম রিপার কালো চাদর পরে থাকে আর এই স্মিয়ার্ক পরে সাদা চাদর।

কিন্তু যাইহোক গ্রিম রিপার পুরুষ হোক বা মহিলা তার ভয় কিন্তু ভবিষ্যতেও থাকবে মানুষের মনে, আর সে না ভালো না খারাপ তার কাজ মৃত মানুষদের আত্মাদের তার সাথে নিয়ে গিয়ে পৃথিবীর ভারসাম্য বজায় রাখা।

(আজকের লেখা ও আঁকা কেমন লাগলো জানাবেন, আপনারা আমার লেখা গুলো সময় নিয়ে পড়েন ও আঁকা গুলি দেখেন বলে অনেক ভালোবাসা রইলো। আজকের পোস্টটি ভালো লাগলে share করে পেজটির পাশে থাকবেন।)

S U K I M A  O N N Aআপনি ঘরে একা বসে ল্যাপটপে কাজ করছেন, বা ফোনে কোনো ভিডিও দেখছেন, বা আনমনে কারোর সাথে কথা বলছেন, বা দা...
09/05/2026

S U K I M A O N N A

আপনি ঘরে একা বসে ল্যাপটপে কাজ করছেন, বা ফোনে কোনো ভিডিও দেখছেন, বা আনমনে কারোর সাথে কথা বলছেন, বা দাঁড়িয়ে রান্না করছেন কিন্তু আপনার মনে হচ্ছে আপনার দিকে কেউ একভাবে তাকিয়ে দেখছে আপনাকে | কিছুক্ষন পর আপনার মনে হবে এটা হয়তো আপনার নিজেরই মনের ভুল | কিন্তু সবই কি মনের ভুল ?

জাপানের অন্যান্য শহরের মতোই ওসাকা শহরটিও বেশ উন্নত, এই শহরেই ইসামু নামের একজন যুবক কাজের টানে এসে বাস করতে থাকে | সে একটি ফাঁকা বাড়িতে একাই থাকতো এবং এখান থেকেই রোজ অফিস যাতায়াত করতো | ছুটির দিনে ঘরে একা বসে সে কোনো কাজ করছিলো কিন্তু সে ক্রমশ অনুভব করলো, যে অন্য কেউ এই ঘরের মধ্যেই আছে ও তার দিকে তাকিয়ে আছে | সে চারপাশে তাকালো তবে ঘরে কাউকেই দেখতে পেলো না |অবশ্য সে ছাড়া এই ফাঁকা ঘরে এখন অন্য কারোর থাকার কথাও ছিল না। কিন্তু তবুও তার অনুভব হতে লাগলো কেউ তার দিকে তাকিয়ে আছে |

ইসামু তার ঘরটি অনুসন্ধান করতে লাগলো কিন্তু সে কিছুই খুঁজে পেল না। আর এটাও সম্ভব নয় যে, কেউ বাইরে থেকে তার ঘরে উঁকি দিচ্ছিল, কারণ তার ঘরের জানালার পর্দা বন্ধ করা ছিল, তাই ঘরের ভিতর তাকে দেখার কোনও উপায়ও ছিল না | কিন্তু ধীরে ধীরে সে আরও বেশি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিল এবং যত্ন সহকারে তার ঘরের প্রতিটি ইঞ্চি অনুসন্ধান করছিল | তারপরে তার দৃষ্টি যায় তার ঘরের আলমারি এবং টেবিলের মাঝে থাকা একটি ফাঁকা অংশের দিকে | অদ্ভুত বড়ো বড়ো চোখে একটি মেয়ে তার দিকে তাকিয়ে আছে | সেই মেয়েটির চোখ বেশ মায়াবী | সেই মেয়েটি ইসামুর দিকে চেয়ে হেসে ওঠে ও তার সাথে হাইড এন্ড সিক গেম খেলার কথা বলে | এই দৃশ্য দেখার পর সে ভয়ে চিৎকার করে ওঠে ও তার মনে পরে যায় "সুকিমা ওনার " কথা |

দীর্ঘদিন সে অফিস যাচ্ছিলো না তাই তার সহকর্মীগন বিচলিত হয়ে একদিন তার বাড়িতে আসে, সে কেমন আছে সেই খবর নেওয়ার জন্যে | তারা এসে দেখে ইসামু তার খাটের তলায় লুকিয়ে আছে, যেনো মনে হচ্ছে সে কিছু দেখে তীব্র ভয় পেয়ে এখানে লুকিয়ে আছে, তার ভয়ার্ত মুখ, বিস্ফারিত চোখ | তার ঘরটির ছোট্ট ছোট্ট ফাঁকা অংশ টেপ দিয়ে ঘেরা | এই দৃশ্য দেখার পর তার অফিসের সহকর্মীগণের মনে হয় সে হয়তো মানসিকভাবে অসুস্হ হয়ে পড়েছে | তারা তৎক্ষনাৎ এই স্থান থেকে ইসামু কে অনত্র নিয়ে যেতে চায় | কিন্তু ইসামু বলে - এই ঘর থেকে সে কখনোই বেরোতে পারবে না কারণ সেই মেয়েটি চায় না যে, সে এই ঘর থেকে বেরোক | এই মেয়েটি এই ঘর থেকে তাকে কোথাও যেতে দেবে না | ইসামুর এই কথা শোনার পর তার অফিসের সহকর্মীরা জিজ্ঞাসা করে সেই মেয়েটি এখন কোথায় ? ইসামু ঘরের একটি জায়গার দিকে আঙ্গুল নির্দেশ করে দেখায় ও বলে দেখো সেই মেয়েটি এখন তোমাদের দিকেই তাকিয়ে আছে | তার সহকর্মীরা এই ব্যাপারটাকে কেউ এত্ত গুরুত্ব দেয়নি তারা ভেবেছিলো এই পুরো বিষয়টাই ইসামুর মনের ভুল | কিন্তু তারা ইসামুর ঘরের ওই বিশেষ জায়গাটায় যাওয়ার পর এমন দৃশ্য দেখে যা দেখার পর তারা দিক-বিদিক জ্ঞানশুন্য হয়ে ভয়ে দৌড়াতে শুরু করে | তারা সেইমুহূর্তেই ইসামুর ঘর ছেড়ে পালিয়ে যায়, ও সেই ঘরে একা পরে থাকে ইসামু | আর কিছুদিন পর সেও কেমন অদ্ভুতভাবে নিখোঁজ হয়ে যায়, তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায় না | এমনকি ধীরে ধীরে তার সেই অফিসের কলিগেরা যারা তাকে দেখতে এসেছিলো তার বাড়িতে তারাও নিখোঁজ হওয়া শুরু করে ۔۔তাদের আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যায় না | বলা যায় ইসামুর ঘরে থাকা সেই মেয়েটি তাদের দেখার সাথে সাথেই তাদের পিছু পিছু যায় ও তাদেরও ঘরে প্রবেশ করে |

জাপানি লোককথায় "সুকিমা-ওনা" হলো একপ্রকার "ইউকাই" (শয়তানি প্রেত) যার আরেক নাম হলো " The girl in the gap" | জাপানের সাধারণ মানুষদের মতে সুকিমা-ওনা বাস করে ঘরের ছোট্ট, বড়ো ফাঁক ফোকরের মধ্যে, সে আপনাকে রোজ দেখতে থাকবে সেখান থেকেই |যদি আপনি কিছু অনুভব করে অনেক খোঁজাখুজির পর তাকে দেখতে পান বা তার দিকে মনোযোগী হন তবে সে হাসবে | ধীরে ধীরে আপনার মনে হবে সে আপনার সাথে সাথেই চলছে আপনার ভাবনায় আপনার মনে সে ভয়ের অনুপ্রবেশ ঘটাবে আপনি ক্লান্ত হয়ে পড়বেন আর আপনার মস্তিস্ককে গ্রাস করে সে আপনাকে পাগলে পরিণত করবে আর একদিন আপনাকে ঘরের এই ফাঁকগুলির মধ্যে থেকেই নিয়ে যাবে এমন একটি জগতে যেই জগৎ থেকে আপনি আর কোনোদিনই ফিরে আসতে পারবেন না বা অন্যভাবে বলতে গেলে সে আপনাকে নিয়ে যাবে মৃতদের জগতে | অবশ্য এই শয়তানি প্রেতের হাত থেকে বাঁচার তেমন কোনো বিশেষ উপায় নেই | একটাই উপায় ঘরে ফাঁক-ফোঁকর গুলি টেপ দিয়ে বন্ধ করে দাও বা এর থেকেও ভালো উপায় যদি মনে হয় কেউ ঘরের কোনো বিশেষ জায়গা থেকে তোমার দিকে তাঁকিয়ে আছে তবে সেই জায়গার দিকে ভ্রূক্ষেপ না করে সেখান থেকে চলে যাও | বা কোনো অদ্ভুত স্বরে ফাঁকা ঘরে কেউ তোমাকে ডাকলে বা হাইড এন্ড সিক গেম খেলতে বললে তার কোনো উত্তর দিও না বা এমন ভাব দেখাও যে তুমি কিছুই শোনোনি কিছুই দেখোনি | কখনোও কখনোও ভয় অসীম হয় ভয় অপ্রতিরোধ্য হয় তাই আপনাকে ভয় পেতে হবে |

এটি একটি জাপানের লোককথা, এর সাথে বাস্তবের মিল না থাকতেও পারে।

( আজকের লেখা ও আঁকা কেমন লাগলো জানাবেন | চেষ্টা করলাম একটু অন্যরকমভাবে ছবিটি আঁকতে | ভালো লাগলে পোস্টটি share করে পেজটির পাশে থাকবেন |)

J H I K I N I N G K Iজাপানের লোককথায় এমন কিছু কিংবদন্তীর উল্লেখ আছে যাদের গল্প সত্যিই অবাক করে দেওয়ার মতো। ঝিকিনিংকি এমন...
04/05/2026

J H I K I N I N G K I

জাপানের লোককথায় এমন কিছু কিংবদন্তীর উল্লেখ আছে যাদের গল্প সত্যিই অবাক করে দেওয়ার মতো। ঝিকিনিংকি এমন এক ভুতুড়ে কিংবদন্তী যাদের সাথে কবরস্থানের মরা খাওয়া ঘুলের বেশ কিছুটা মিল আছে। এবার কথা হলো এই মরা খেতে কি ঝিকিনিংকির ভালো লাগে? নাকি এই সবই সবই হয় অভিশাপের ফলে। আর যদি হয় অভিশাপের ফলে তবে তার কারণ কি? আর ঝিকিনিংকি কে নিয়ে জাপানের প্রচলিত কাহিনী কি? সেটিই আজ জানাবো। সারাজীবন পাপ করা মানুষ এক কঠিন অভিশাপের ফলে তার পরের জন্মে হয় ঝিকিনিংকি। প্রথমেই একটি কথা বলা প্রয়োজন কোনো ঝিকিনিংকি মৃত মরা খেয়ে খুশি থাকে না তাকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে তার বেঁচে থাকার জন্যে এমন করতে হয়। সে মানুষের ভিড়ে মানুষের মতোই থাকে কিন্তু মৃত মানুষের কাঁচা মাংস খাওয়ার জন্যে তার দাঁত অনেক তীক্ষ্ণ থাকে, আর এটাই তাকে চেনার একমাত্র উপায়।

মুসোকুকুশি নামের একজন সন্ন্যাসী মিনো নামের এক পাহাড়ি রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন। বেশ কিছুটা রাস্তা যাওয়ার পর তিনি বুঝতে পারলেন তিনি রাস্তা হারিয়ে ফেলেছেন। সন্ধ্যা হতে শুরু করেছিল আর অনেক খোঁজার পরও তিনি কোনো ঠিক রাস্তার সন্ধান না পেয়ে নিজের উপর আস্থা হারিয়ে ফেলছিলেন। অবশেষে পাহাড়ের চূড়ায় তিনি পথচারীদের জন্যে একটি বিশ্রামাগারের মতো ছোট্ট বাড়ি দেখতে পান। সেখানে তিনি একজন বৃদ্ধ সন্ন্যাসীকে দেখতে পান, সেই বৃদ্ধ সন্ন্যাসীর কাছে তিনি সেই বাড়িতে আশ্রয়দানের সাহায্য প্রার্থনা করেন। কিন্তু সেই বৃদ্ধ সরাসরি তাকে আশ্রয় দিতে মানা করে দেন। বৃদ্ধ সামনের একটি ছোট্ট গ্রামের রাস্তার খোঁজ দেন মুসো কে। সেই রাস্তামতো মুসো রাতের মধ্যে সেই ছোট্ট গ্রামে এসে হাজির হন।সেই গ্রামের প্রধান, মুসো কে স্বাগতম জানান,বেশ আপ্যায়ন করেন তাকে ও রাতে থেকে যাওয়ার জন্যে জন্যে একটা ঘরের ব্যাবস্থা করে দেন। রাতে খাওয়ার পর মুসো সেই ঘরেই ঘুমিয়ে পরেন কিন্তু মধ্য রাতে পাশের কুটির ঘরের বেশ কিছু মানুষের কান্নার শব্দে তার ঘুম ভেঙে যায়। সে ঘুম ভেঙে দেখে পাশের ঘরের থেকে কিছু লোক হ্যারিকেন নিয়ে তার ঘরে এসেছে। তার বলার কিছু আগেই সেই মানুষগুলো বলে ওঠে -তাদের গ্রামের একজন বৃদ্ধ মানুষ মারা গেছেন, এবং তাদের গ্রামের নিয়ম হলো কেউ মারা গেলে তার মৃত শরীরকে একা রেখে গ্রামের সবাই পাশের গ্রামে চলে যায়। আর এই নিয়ম মান্য না করলে এক শয়তানি শক্তির সম্মুখীন হতে হবে এই গ্রামবাসীদের। তাই গ্রামবাসিরা মুসোর কাছে অনুরোধ জানায় যে, মুসো যেহেতু সন্ন্যাসী তাই তার ক্ষমতা আছে এই মৃত লাশ পাহারা দেওয়ার। এই বলে গ্রামের সব মানুষ পাশের গ্রামে চলে যায়। তাদের যাওয়ার পর মুসো পাশের ঘরে ধ্যানে বসে। কিন্তু কিছুক্ষন পর সে বুঝতে পারে ভয়াল দর্শনের কোনো এক অদ্ভুত প্রাণী যে অনেকটা মানুষের মতোই দেখতে সে সেই মৃত দেহটিকে টুকরো টুকরো করে খাচ্ছে। এই দেখা মাত্র মুসো এগিয়ে যেতে গেলে সে দেখতে পায় যে সে তার স্থান থেকে সামান্যও নড়তে পারছে না। মৃত দেহটিকে খাওয়ার পর সেই প্রাণী হঠাৎ নিজে থেকেই অদৃশ্য হয়ে যায়।

তার পরের দিন সব গ্রামবাসী গ্রামে ফিরে এলে মুসো পুরো ঘটনাটা গ্রামবাসীদের জানায়। কিন্তু পুরো ঘটনা শোনার পর গ্রামবাসীদের কেউ অবাক হয় না। গ্রামের প্রধানের মতে এটা কোনো আশ্চর্যের বিষয় নয়, বরং গ্রামে বহুদিন ধরেই এমন ঘটনা হয়ে আসছে। গ্রামের কেউ মারা গেলে গ্রামের সবাই ভয়ে অন্য গ্রামে চলে যায় কারণ তারা মনে করে এই অদ্ভুত প্রাণীর মতো দেখতে শয়তানি শক্তি তাদের জীবন্ত গ্রামবাসীদেরকেও চিবিয়ে খেতে পারে। তখন মুসো গ্রামবাসীদের প্রশ্ন করে এই গ্রামের পাশেই পথচারীদের বিশ্রামগার কক্ষে এক বৃদ্ধ সন্ন্যাসী থাকেন, গ্রামবাসিরা কেন তার সাহায্য নেয়নি? তখন গ্রামবাসীরা বলেন যে এই গ্রামে তাদেরকে সাহায্যের জন্যে কোনো সন্ন্যাসীই আসতে চাননা। তাই তাদেরকে সাহায্য করার মতো কেউ নেই।

মুসো সেই গ্রাম থেকে ফিরে সেই আগের বিশ্রামগার বাড়িটি খুঁজতে থাকেন এবং কিছু খোঁজার পর পেয়েও যান। কিন্তু এইবার সেই বাড়ির ভিতর থাকা সন্ন্যাসী তাকে আপ্যায়ন করে তার ঘরে ঢুকতে বলেন ও মুসোর কাছে ক্ষমা চান। মুসো ভাবেন সেই বৃদ্ধ সন্ন্যাসীর ক্ষমা চাওয়ার কারণ তার আগের দিন তিনি তাকে আশ্রয় দেননি তাই। কিন্তু এবার বৃদ্ধ সন্ন্যাসী বলেন আগের দিন রাতে পাশের গ্রামের একটি বাড়িতে মুসোর সামনেই তিনি এক মৃত দেহ টুকরো টুকরো করে খেয়েছেন যেই দৃশ্যটি ছিল ভয়ানক তাই তিনি মুসোর কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। এই কথা শোনার পর মুসো মাথা ঘুরে মাটিতে পরে যায়।

মুসোকে সুস্থ করে সেই বৃদ্ধ সন্ন্যাসী জানায় যে বহুবছর আগে এই পাহাড়ের চূড়াতেই তিনি বাস করতেন এবং তিনি ছিলেন একজন সন্ন্যাসী। এই প্রদেশের আশেপাশে কোনো সন্ন্যাসী না থাকায় সব গ্রামবাসী তাদের সবরকম আচার অনুষ্ঠান তাকে দিয়েই করাতেন। এইসব আচার অনুষ্ঠান করানোর বদলে তিনি প্রচুর অর্থ আয় করতেন। দিনের পর দিন এই ভাবে আয় বাড়তে লাগলে তার অর্থের প্রতি লোভ বেড়ে যায়। এই লোভের বশে তিনি শুধুমাত্র অর্থের লোভেই গ্রামের মানুষদের আচার অনুষ্ঠান করিয়ে দিতেন। তার মনে থাকা লোভ ও পাপ এতোটাই ভারী পরে যায় তার উপর যে তার পরের জন্মে ঈশ্বরের অভিশাপে এক ঝিকিনিংকি রূপেই তার আবারও জন্ম হয়। একজন ঝিকিনিংকি শুধুমাত্র মৃতদেহের লাশ খেয়েই বেঁচে থাকে, তার কাছে আর অন্য কোনো বিকল্প থাকে না।
এই বলে বৃদ্ধ সন্ন্যাসী মুসোর কাছে অনুরোধ করে একমাত্র "সেদাকি সেবা" কর্মের মধ্যে দিয়েই তার এই অভিশপ্ত জীবনের ইতি ঘটবে।
সেই বৃদ্ধ ইচ্ছা করেই মুসোকে আগের রাতে সেই গ্রামটিতে পাঠিয়েছিলেন যাতে সে বুঝতে পারে যে ঝিকিনিংকিদের নিজেদের অভিশপ্ত জীবনের জন্যে কতোটা নোংরা কাজ করতে হয়। তিনি জানতেন যদি মুসো এর মতো একজন পবিত্র সন্ন্যাসী সেদাকি সেবাকর্ম করে তবেই তার মুক্তি সম্ভব। সে তাই এমন পরিকল্পনা আগেই করেছিল যাতে মুসো তাকে সাহায্য করে।

শেষে দেখা যায় মুসো সেই বৃদ্ধ সন্ন্যাসীর সাহায্য করে ও তার অভিশপ্ত জীবনের ইতি ঘটায়। কাহিনীর শেষে বোঝা যায় যে ঝিকিনিংকি কোনো দানব নয়, সে হলো এক অভিশপ্ত সত্তা। এবার এই কাহিনী পড়ার পর সবার মনে একটাই প্রশ্ন আসবে যে ঝিকিনিংকির কাহিনী কি আদেও সত্য? ঝিকিনিংকির কাহিনীর প্রথম বিবরণ পাওয়া যায় লাভসাদিয়া হিরান এর লেখা কোআইদান বইতে। তার পরেই এই কাহিনী লোকমুখে ছড়িয়ে পরে। কেউ লোভ করলে ও পাপ করলে তার ফল কি মারাত্মক হয় সেই সম্পর্কে সবাইকে অবহিত করার জন্যেই এই কাহিনী। তাই আমার মতে জাপানের লোকমুখে ছড়িয়ে পরা এই কাহিনী শুধুমাত্র একটি লোককাহিনী। কিন্তু জাপানের লোককাহিনীতে এই কাহিনী বেশ জনপ্রিয়।

( আজকের লেখা ও আঁকা কেমন লাগলো জানাবেন, ভালো লাগলে পোস্টটি share করে পেজটির পাশে থাকবেন। )

L A M B I   D E H A R   M I N E S আজকে শ্রমিক দিবস উপলক্ষে বিশেষ একটি পোস্ট.....কিছুস্থানকে মানুষের তার নিজের মতোই ছেড়ে ...
01/05/2026

L A M B I D E H A R M I N E S

আজকে শ্রমিক দিবস উপলক্ষে বিশেষ একটি পোস্ট.....

কিছুস্থানকে মানুষের তার নিজের মতোই ছেড়ে দেওয়া উচিত۔۔۔তাকে ঘিরে তীব্র কৌতূহল হয়তো মানুষের জীবনে এমন কিছু আনতে পারে যার চাপ সারাজীবন রয়ে যায়। ভারতের রাজ্য উত্তরাখণ্ডের রাজধানী দেরাদুনে অবস্থিত "লাম্বি দেহার মাইনস" চুনা পাথর ও মার্বেলের মতো অমূল্য খনিজ সম্পদের খনি যা মুসৌরি থেকে মাত্র 10 কিমি দূরে অবস্থিত। দেশ স্বাধীনের আগে ব্রিটিশেরা এখান থেকে পুরো পৃথিবীতে চুনা পাথর ও মার্বেল রপ্তানি করে ফুলে ফেঁপে উঠেছিল।
তার বিনিময়ে ভারতীয় খনিজ মজদুরদের জুটতো ব্রিটিশ মালিকের বুটের লাথি আর চাবুকের মার। দেশ স্বাধীন হলো কিন্তু কালোবাজারি কমলো না, একইভাবে চলতে লাগলো সম্পূর্ণ বেআইনি উপায়ে ত্রুটিপূর্ণ খনির অনুশীলন| কম পয়সার বিনিময়ে গরিব শ্রমিক ও মজদুরেরা এখানে প্রচন্ড ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করতো| তারা জানতো যে এর ফল একদিন মারাত্মক হতে পারে, কিন্তু তাও পাপী পেটের টান বলে কথা!

এর পরে যা হলো তা শোনা দুর্বল হৃদয়ের মানুষের জন্যে নয়, 1990 সালে ত্রুটিপূর্ণ খনির অনুশীলনের কারণে এখানে ভূমিধস নামে এবং প্রায় 50,000 শ্রমিক, তাদের পরিবার, এমিনকী ইনচার্জ, অফিসার, মালিক সহ সবাই আটকা পরে যায় এই অঞ্চলের ভিতরেই | প্রচন্ড শাসকষ্ট ও নাক মুখ থেকে রক্তক্ষরণের ফলে তাদের মৃত্যু হয়| ভাবুন, পঞ্চাশ বা একশজন মানুষ নয় প্রায় 50,000 মানুষের একইসাথে ভয়ানক ও কষ্টদায়ক মৃত্যু হয়েছিল, আর এই ঘটনা হওয়ার পরেই ভারত সরকার এই বিষয়ে নজর দেয় ও এই খনিজ অঞ্চলটি বন্ধ করে এটিকে পরিত্যক্ত বলে ঘোষণা করা হয়|
এর পর থেকেই এই অঞ্চলে শুরু হয় নানা ধরণের ভুতুড়ে উপদ্রব| এখানকার স্থানীয় মানুষদের মতে রাতের বেলা এই অঞ্চল থেকে নানা চিৎকার, হাহাকারের শব্দ ভেসে আসে, স্থানীয় মানুষদের মতে এই চিৎকার হলো আসলে সেই অতৃপ্ত আত্মাদের চিৎকার যাদের বহুবছরপূর্বে এই খনি অঞ্চলে খুব ভয়ানক ও কষ্টদায়ক মৃত্যু হয়েছিল ۔۔۔অর্থাৎ এখানে কোনো একটা বা দুটো নয় প্রায় 50,000 অতৃপ্ত আত্মারা বাস করে| "ইন্ডিয়ান প্যারানরমাল সোসাইটি" এই স্থানে রাতের বেলা প্যারানরমাল ইনভেস্টিগেশন করেছিল ও তাদের সাথে থাকা কিছু অত্যাধুনিক প্যারানরমাল যন্ত্রের সাহায্যে এখানে থাকা অতৃপ্ত আত্মাদের সাথে তারা সংযোগ স্থাপন করেছিল, শেষে তারা স্বীকার করেছিল যে এখানে কিন্তু সত্যিই প্রচুর অতৃপ্ত আত্মারা বসবাস করে| সকালে সূর্যের আলোয় এই স্থানের পরিবেশ সবাইকে আকর্ষিত করে ۔۔শীতপ্রধান এলাকা ও মনোরম পরিবেশ হওয়ায় এই স্থানে প্রচুর মানুষ আসে আড্ডা দিতে, কেউ পিকনিক করতে আবার কেউ দম্পতি বা প্রেমযুগল কিন্তু সন্ধ্যা হতে হতেই তারা চলে যায়۔۔কেউ এখানে থাকে না| আর এর সাথে এটাও বলে রাখা ভালো যেই স্থানে তারা আসে সেটি আদতে ম্যানেজমেন্ট অফিস সেটি আসল লাম্বি দেহার মাইনস নয় !

প্রকৃত লাম্বি দেহার মাইনস এ এসেছিলেন প্যারানরমাল বিষয়ে চর্চা করা সাগর তেওয়ারি, তিনি তার অভিজ্ঞতার কথা বলছিলেন যে এখানে আসলে প্রচুর নেগেটিভ লাগবে নিজেকে, প্রবল মাথা যন্ত্রনার সাথে মনে হবে চারপাশ থেকে কেউ বা করা আপনাকে দেখছে۔۔۔প্রচুর জঙ্গল ও আগাছার এই স্থানে কোনো সাপকোপ থাকতে পারে| তার সাথে থাকা বিশেষ যন্ত্র জানান দিচ্ছিলো যে এখানে একাধিক অতৃপ্ত আত্মার উপস্থিতি আছে, তিনি তাদের সাথে যোগাযোগ কিছুটা করতে পেরেছিলেন কিন্তু তার সাথে থাকা ক্যামেরাম্যান উপলব্ধি করেন বেশ দূরে থাকা হলুদ দুই চোখ| তারা উভয়েই সেটিকে "ব্ল্যাক পান্থর" মনে করে তৎক্ষনাৎ সেই স্থান পরিত্যাগ করেন| অবশ্য কিছু দূরেই লোকালয়ে যাবার পর তাদের সাথে থাকা ভারী টর্চের আলো শেষ হয়ে যায়۔۔۔তাই সাগর তিওয়ারির মতে এটি আদতে ঈশ্বরের আশীর্বাদ ۔۔কারণ ঠিক সময়ে যদি তারা সেই স্থান পরিত্যাগ না করতেন তাহলে তারা বিপদে পরে যেতেন| অবশ্য তার ভিডিওতে তিনি পরিষ্কারভাবে আসল লাম্বি দেহার মাইনস এর অফিস আর সেখানে থাকা বেশ কিছু অংশ যেগুলি এখন আগাছায় ঢাকা, যেখানে খনি শ্রমিকেরা কাজ করতো সেইগুলি দেখিয়েছেন|

মুসৌরিতে ঘুরতে আসা একটি স্কুলের বেশ কিছু দুষ্টু বালক রাতের বেলায় এই স্থানে এসেছিলো দেখতে যে আদেও এখানে কিছু আছে কিনা ۔۔কিছু শ্রমিক তাদেরকে উদ্ধারের জন্যে সাহায্য প্রার্থনা করেছিলো ۔۔۔কিছু পরেই সেই বালকগুলি বুঝতে পেরেছিলো যে এরা আদতে মানুষ নয় এরা হলো সেই খনি অঞ্চলে বহুদিন আগে মারা যাওয়া অতৃপ্ত আত্মা| এর পর তারা দৌড়ে সেই স্থান পরিত্যাগ করে, তারা আর কখনো এই স্থানে আসেনি|

একদল বন্ধুরা মুসৌরি ভ্রমণে এসেছিলো, তারা সবাই খুব ধনি পরিবার থেকে ছিল ও তারা ঈশ্বর বা ভুত প্রেত কিছুতেই বিশ্বাস করতো না۔۔সব কিছুই হাসি বা মজাচ্ছলে নিতো۔۔۔মুসৌরি আসার পর তারা এই স্থানের বিষয়ে জানতে পারে ও শেষে তারা ঠিক করেছিল যে রাতের বেলা এখানে থাকবে ও দেখবে এখানে আদেও কিছু আছে কি না ? বেশ রাতে তারা এই স্থানে আসে, তীব্র হাড়কাঁপানো ঠান্ডা অনুভব করে আর তার সাথে বিশেষ নেগেটিভ কিছুর। তাদের হালকা ভয় লাগতে থাকে কিন্তু তারা ভেবেছিলো যে এখানে কিছুই নেই কারণ পুরো স্থান ফাঁকা ছিল কেউ নেই এখানে, বেশ কিছু পরেই একদল শ্রমিক এসে তাদের সাথে থাকা সরঞ্জাম কেড়ে নিতে চায় এমনকি তাদের জামা কাপড় ছিড়ে তাদের কামড়াতে যায় পশুর মতো| তারা ভাবে এরা হয়তো পাগল নয়তো সন্ত্রাসবাদী বা ডাকাত | কিন্তু পরে তাদের মনে পরে বহু বছর পূর্বে হয়ে যাওয়া সেই ঘটনার কথা তৎক্ষনাৎ বন্ধুদের দল সেই স্থান থেকে দৌড়ে প্রাণে বাঁচে| তারা বেশ কিছু দূরে দাঁড়িয়ে দেখে নোংরা পোশাক পড়া শ্রমিকেরা একে অন্যের গলায় কামড় দিয়ে মাংস চিবিয়ে খাচ্ছে,একে অন্যের হাত থেকে ছিড়ে নিচ্ছে মাংসপিন্ড, গড়িয়ে পড়ছে রক্তের ধারা কিন্তু কেউ মরছে না| তারা বুঝতে পেরেছিলো মানুষ যখন দীর্ঘদিন অভুক্ত থাকে, তখন যা পায় তাই খায়, তাই সেই শ্রমিকেরা দীর্ঘদিন কোনো খাবার ও জল না পেয়ে একে অন্যকে এভাবেই খেয়েছিলো ও শেষে সবাই মারা গেছিলো| তারা এই ঘটনা দেখার সাথে সাথেই পুরো ভ্রমণে ইতি টেনে তৎক্ষনাৎ বাড়ি ফিরে যায় আর সাথে নিয়ে যায় এমন এক অভিজ্ঞতা যার ক্ষত তাদের সারাজীবন বইতে হবে|

এই স্থান এতোটাই ভুতুড়ে ও কুখ্যাত যে এখানকার স্থানীয় মানুষদের মতে যেই স্থানেই যান কিন্তু এই "লাম্বি দেহার মাইনস" অঞ্চলে যাবেন না| কিন্তু মানুষ ভয় পেতে ভালোবাসে অজানা বিপদকে দেখতে ভালোবাসে তাই কৌতূহলের বশেই কিছু ভ্রমণার্থী নিজেদের বিপদ ডেকে আনে| এই স্থানের কথা কোনো গল্প বা লোককথা নয় সত্যিকারের ঘটনা| আপনারা গুগল এ এই স্থানটির নাম লিখলেই চলে আসবে এই স্থানকে ঘিরে বেশ কিছু তথ্য যা আমাদের কল্পনার বাইরে যা ভুতুড়ে| তাই শুধু গল্প বা কল্পনা নয় এই স্থানটি ভারতের কুখ্যাত ভুতুড়ে স্থানগুলির মধ্যে অন্যতম|

(অনুগ্রহ করে লেখাটি ও আঁকাটি কেমন লাগলো সেটি আমায় জানাবেন, ভালো লাগলে share করবেন | পেজটির পাশে থাকবেন, ধন্যবাদ|)

Address

Kolkata
700113

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Demons Castle posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category