15/07/2026
আমাদের বিশ্বাস,থিয়েটারের একটা গুরুত্বপুর্ণ অংশ কবিতা।
কবিতা নিয়ে গতকাল আমাদের সঙ্গে কথা বলতে এলেন,কবিতা কিভাবে পড়তে হয়,ভালোবাসতে হয় বলতে এলেন ,আমাদের বন্ধু জগন্নাথ দা।
পার্বতী দাস বাউলের দেওয়া এক সাক্ষাৎকার, সেখানে তিনি তাঁর গুরু সনাতন দাস বাউলকে নিয়ে বলতে গিয়ে বললেন, "বাবা বারবার বলতেন— যেদিন ভিতরের একতারাটি বেজে উঠবে, সেদিন আর অন্য কোনো যন্ত্রের প্রয়োজন নেই। সারাজীবন সুর খোঁজা, ঘর ভাঙা কার জন্যে? ওই ভিতরের একতারাটিতে টান দেওয়ার জন্যেই তো।"
জগন্নাথদা ঠিক এমনই এক স্বপ্নের কথা বললেন, কলেজবেলায় দেখা। সেখানে একজন মানুষ, মোটা গাঁদা ফুলের মালা পরে আছেন আর তাঁর নীচের অংশ অর্থাৎ কোমর থেকে আর দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না; সেখানে দেখা যাচ্ছে একটা শ্রীখোলের অংশ একেবারে সেই মানুষের শরীরের সঙ্গে জাপটে আছে। তারপরে জগন্নাথদা বললেন, "ওই মানুষটি আর শ্রীখোল আলাদা নয়, ওরা একে অপরকে বাজায় অর্থাৎ নিজেরা নিজেদেরকেই বাজায়।"
জগন্নাথদা কবি মানুষ, লেখক মানুষ, আবার কথক মানুষও বটে। তাই একবার কথা ছুটলে আর তো কোনো দিকে খেয়াল থাকে না, আপন মনে একতারা বাজতে শুরু করে। চাঁদবণিকের পালার চাঁদ সওদাগর বলে ওঠে— "পাড়ি দেও, পাড়ি দেও", আর আমরা সকলে মিলে ভেলায় উঠে পাড়ি দিই এক অন্য দেশে।
যেখানে রবীন্দ্রনাথ, জীবনানন্দ, ভাস্কর, শক্তি, সুনীল, শঙ্খ, জয় গোস্বামী, চৈতন্য, মনসামঙ্গল কাব্য, মেঘনাদবধ, মুড়ি, লাল চা, বেহুলা, লখিন্দর আর আমরা সকলে এক ভেলায় করে ভাসি... আমাদের কোনো গন্তব্য নেই, আমরা সবাই ভেসে যাওয়ার আনন্দে ভাসি।
এই পৃথিবী যা যা পদার্থ দিয়ে তৈরি, তাই তাই দিয়ে আমরাও তৈরি। তাই যখন আমরা কিছু জানি বা বুঝি, এই পৃথিবীও আমাদের ভিতর দিয়ে ক্রমাগত নতুন এক পথ নিতে থাকে। এই পথ চলতেই থাকে। ওই একই— আমরাই পৃথিবীকে জানার চেষ্টা করি, আবার পৃথিবীও আমাদের কে জানার চেষ্টা করে। কে কাকে বাজায় আর কেই বা বেজে ওঠে, কে জানে?
তাই এই ভেলায় যখন একবার পাড়ি দেওয়া গেছে, আশা করি একদিন কোনো একটা গন্তব্য ঠিক পাবো; আর যদি নাও পাই তাহলেও অসুবিধা নেই। কারণ ওই যে—
"আমরা এমনি এসে ভেসে যাই"
জগন্নাথদা এই এমনি এমনি ভেসে যাওয়া ভেলার কাণ্ডারী... জগন্নাথদা আমাদের ভাসিয়ে দিয়েছেন। এইবার ওই ভেলায় আমরা ভাসতে ভাসতে দু-দশটা মাঠ পেরিয়ে গভীর থেকে আরও গভীরে ডুব দিতে থাকি। গল্প বলা, গল্প পড়া, গল্প পড়তে শেখা, গল্প দেখা— সবই চলুক। অনেক না পাওয়ার মধ্যে, অনেক যুদ্ধ-হানাহানির মধ্যে পৃথিবীর সমস্ত 'সা রে গা মা পা' পেরিয়ে জগন্নাথদার ভেলা ভেসে চলুক, আমরাও ভাসতে থাকি।