12/11/2024
#স্পর্শ ও পুরুষ
#সর্বানী দাস
১২/১১/২৪
সদ্য মাস খানেকের ফুটফুটে মেয়েকে তার পাড়ার এক দাদু আদর করায় শিশুটি চিৎকার করে কেঁদে উঠলো,
অবোধ শিশু মায়ের দিকে তাকিয়ে তার খারাপ স্পর্শটাকে বোঝাতে পারলো না।
ফ্রক পরে খেলতে খেলতে হঠাৎ ফ্রকে টান পড়া একটা অদ্ভুত স্পর্শে একটা সাত বছরের বাচ্চা মেয়ের ও গা ঘিনঘিন করে ওঠে, ভয়ে শিউরে ওঠে।
বয়স দশের মেয়েকে যখন মামা, কাকা বা অঙ্কের মাস্টারমশাই পাশে বসে পিঠে হাত বুলিয়ে পড়া বোঝাতে চায় বা চকলেট দেয়, সেই হাতের স্পর্শটাও মেয়েটির শরীরকে গুলিয়ে দেয়, সে কুঁকড়ে যায়।
সদ্য ঋতুবতী মেয়েটি স্কুলের বাস থেকে নেমে চুপ হয়ে যায়, বায়না করে মাকে স্কুলে দিয়ে আসার জন্য, বাস কাকুর খালি বাসে মেয়েটিকে স্পর্শ করা যখন তার ভালো লাগেনা, তখন সে নিজেকে গুটিয়ে নেয়।
বালিকা বিদ্যালয় থেকে যখন কেউ বেণীমাধবের প্রেমে পড়ে, তার দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে তাকে ছুঁয়ে গিয়ে অধরা বেনীমাধবের স্পর্শটাকে তার ঘৃণা হয়, অনুশোচনা জাগে।
সদ্য বিবাহিতা স্ত্রীকে তার অনুমতি ছাড়াই যখন তাকে শয্যা আলোকিত করতে বাধ্য করা হয়, তার বেড়ে ওঠার আগেই তার কাঁধে সন্তানের দায়িত্ব এনে দেওয়া পুরুষটির উপর ও তার ঘৃণা হয়। তখন সে অসহায় বোধ করে।
একজন নারী ট্রেনে ট্রামে বাসে চলতে চলতে প্রতি মুহূর্তে পুরুষের হাতে ধর্ষিত হয়, কখনো তাদের নোংরা স্পর্শে, কখনোবা গিলে খাওয়া চাহুনিতে।
মানুষের অন্ধ বিশ্বাস আর কুসংস্কারের নির্বুদ্ধিতায় যখন কোন আশ্রমের বাবা গুরুজি বা ফকিরের চামড়ের স্পর্শে কোন মেয়ে বউকে স্বামীর সন্তান জন্ম দেয়ার অক্ষমতাকে ঢাকতে হয় , তখন হাত ধরে স্বপ্ন দেখার পুরুষটিকে সে ঘৃণা করে। এই বাবাজি টাইপের বর্বর পুরুষের স্পর্শের আগুনে ছুঁড়ে ফেলার ফেলে দেওয়ার জন্য।
মেয়েরা ভীষণ স্পর্শকাতর। ভালো মন্দ স্পর্শ তারা ঠিক চিনে নেয়। মেয়েরা কখনো লিপ্সার বস্তু নয়। একবার স্নেহের হাত কেউ মাথায় বুলিয়ে দিলে সে বাবাই হোক বা দাদা বা প্রেমিক তার অনুভূতি তাকে নতুন জীবন দান করে।