26/02/2025
আজ মহা শিবরাত্রি। প্রায় প্রতিমাসেই শিবরাত্রি পালিত হলেও, মহা শিবরাত্রি বছরে আসে একটি বার। আজকের এই শুভ দিনে সমগ্র ভারতবর্ষ ব্যাপী সকল হিন্দু নারী নিজ স্বামীর কল্যাণে উপবাস রাখেন এবং শিবলিঙ্গে দুধ বা জল ঢেলে ভগবান শিবের আরাধনা করেন।
কথিত, আজকের রাতে দেবাদিদেব মহাদেব তাণ্ডব নৃত্য করেন, যা কিনা ধ্বংস ও সৃষ্টির প্রতীক। তবে মহা শিবরাত্রি উদযাপনের প্রধান কারণ ভগবান শিব ও দেবী পার্বতীর বিবাহ। দেবী সতীর মৃত্যুর পর মহাদেব যখন মনোকষ্টে কৈলাশ ত্যাগ দিলেন, সেই সুযোগের ব্যবহার করে তারকাশুর ব্রহ্মা দেবের থেকে বরপ্রাপ্ত হন যে কেবল মহাদেবের পুত্রের হাতেই তার মৃত্যু হবে। পত্নীর মৃত্যুতে শোকাহত মহাদেব যখন ধ্যানমগ্ন তখন প্রায় অমর বরপ্রাপ্ত তারকাশুর হয়ে উঠল অত্যাচারী। ইতিমধ্যে হিমালয় গৃহে মাতা সতী জন্মগ্রহণ করলেন পার্বতী রূপে। মহাদেবকে স্বামী হিসেবে পাওয়ার জন্যে তপস্যায় ব্রতী হলেন তিনি। তারকাসুরের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে সমগ্র দেবকুল কামদেবের ওপর দায়িত্ব দেন মহাদেবের হৃদয়ে প্রেমের বীজ স্থাপনের। কিন্তু, সে গুড়ে বালি। মহাদেবের ক্রোধে ভস্ম হন কামদেব। তবে মাতা পার্বতীর কঠিন তপস্যা দেখে মহাদেব বেশিদিন মুখ ফিরিয়ে থাকতে পারেননি।
একদিন এক সন্ন্যাসীর বেশে দেবী পার্বতীর সামনে উপস্থিত হন মহাদেব। নিজের সম্পর্কে অসংখ্য কটূক্তি করতে থাকেন তিনি। স্বামীর নামে কটূক্তি সহ্য করতে না পেরে দেবী পার্বতী ক্রোধে ফেটে পড়েন। অবশেষে শক্তির প্রেম ও ভক্তিতে বাধা পড়েন শিব। তবে বিবাহের দিন শিবের ছাই মাখা চেহারা ও বেশভুষা দেখে ভয় পেয়ে যান সকলে। স্বামীর মান রক্ষার্থে দেবী পার্বতী চন্দ্রঘন্টা রূপ ধারণ করেন।
এও কথিত যে শিব ও পার্বতীর বিবাহের সাক্ষী হতে সমগ্র পৃথিবী উত্তরে গমন করায় পৃথিবীর ভারসাম্য নষ্ট হয়। তা দেখে, পৃথিবীর ভারসাম্য রক্ষার্থে মহাদেব অগস্থ মুনিকে দক্ষিণে যাওয়ার নির্দেশ দেন। শিব ও শক্তির এই ঐতিহাসিক মিলনের সাক্ষী হতে না পারায় অগস্থ মুনি শোকাহত হলে ভগবান শিব তাকে বরদান দেন, যখনই তিনি স্মরণ করবেন তখনই শিব ও পার্বতী তার সামনে অবতীর্ণ হবেন। শিব ও শক্তির এই অমর ঐশ্বরিক মিলনের তিথিকেই আমরা মহা শিবরাত্রি হিসেবে পালন করে থাকি।
কলমে ~ #বৃষ্টি ✍️
ডিজিটাল আর্টে~ #অনিকেত 🖌️
#মনমর্জিয়া ❤️
#শুভ_মহাশিবরাত্রি