ISmart Riyaj

ISmart Riyaj Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from ISmart Riyaj, Arts and entertainment, KOLKATA.

-: ঘড়ি রহস্য :- ( দ্বিতীয় পর্ব ) বলে উনি কর্নেলের দিকে ঘুরে বসলেন। আগে আমার নাম-ঠিকানা বলি। আমার নাম প্রাণনাথ রায়। সাতাশ...
27/10/2025

-: ঘড়ি রহস্য :- ( দ্বিতীয় পর্ব )

বলে উনি কর্নেলের দিকে ঘুরে বসলেন। আগে আমার নাম-ঠিকানা বলি। আমার নাম প্রাণনাথ রায়। সাতাশ বাই তিন, নকুড় মিস্ত্রি লেনে একটা মেসবাড়িতে একখানা আলাদা ছোট্ট ঘরে থাকি। চাকরি করি মতিলাল ট্রেডিং কোম্পানিতে। তো কিছুদিন থেকে একটা ভূতুড়ে ঘটনা লক্ষ করছি। ধরুন, টেবিলে যে পাঁজিখানা যেখানে রেখে বেরিয়েছিলাম, বাসায় ফিরে দেখি, সেখানা ঠিক সেইখানে নেই। কিংবা ধরুন, যে শার্টটা হ্যাঙারে যেভাবে ঝুলিয়ে রেখেছিলাম, ফিরে এসে, দেখি, সেটা সেইভাবে ঝোলানো নেই। একটা কাঠের ছোট্ট আলমারি আছে। তার তালা তেমনই আটকানো। অথচ ভেতরকার জিনিসপত্র এদিক-ওদিক হয়ে আছে। রোজ বিকেলে ছড়ি হাতে পার্কে বেড়াতে যাওয়ার অভ্যাস। কাল ছড়িটা দেখি, ব্র্যাকেটের যেখানে ঝুলিয়ে রেখেছিলাম, সেখানে নেই। এইরকম অসংখ্য ব্যাপার প্রতিদিন ঘটছে। আমি এর মাথামুণ্ডু কিছুই বুঝতে পারছি না। চোর ঢুকলে তো সে কিছু চুরি করত। কিন্তু এ-পর্যন্ত কিছুই চুরি যায়নি। আমার সন্দেহ হয়েছিল, কেউ বজ্জাতি করে আমাকে তাড়াতে চাইছে। কিন্তু গত রাত্রে হঠাৎ একটি শব্দে ঘুম ভেঙে যেতেই টেবিলবাতি জ্বেলে দেখি কাঠের আলমারিটা নড়ছিল। সদ্য থেমে গেল। আতঙ্কে সারা রাত্রি আর ঘুম হয়নি। তো টাইম ইজ মানি। আর দেরি করা চলে না। আপনার শরণাপন্ন না হয়ে উপায় ছিল না।

কর্নেল চুপচাপ শুনছিলেন। এতক্ষণে বললেন, আপনার ঘরে কোনও দামি জিনিস আছে?

নাহ। যৎসামান্য টাকাকড়ি ব্যাঙ্কে রাখি। এই রিস্টওয়াচটা যদি দামি বলেন, এটা প্রায় সারাক্ষণ আমার হাতে বাঁধা থাকে। শুধু স্নানের সময় টেবিলে খুলে রেখে যাই। কিন্তু এটা চুরি হয়নি।

আপনার দাদার নাম কী?

আমার দাদার নাম ছিল হরনাথ রায়।

তিনি বেঁচে নেই?

আজ্ঞে না। এখন আমি মেসবাড়ির যে-ঘরে থাকি, দাদা সেখানেই থাকতেন। বাউণ্ডুলে ছন্নছাড়া প্রকৃতির মানুষ ছিলেন। বিয়ে করেননি। আমার সঙ্গে বহু বছর দাদার কোনও যোগাযোগ ছিল না। হঠাৎ দুমাস আগে টেলিগ্রাম পেলাম, হার্ট অ্যাটাক হয়ে দাদা হাসপাতালে আছেন। সঙ্গে

সঙ্গে ছুটে এলাম কলকাতা।

আপনি কোথায় ছিলেন তখন?

সাহেবগঞ্জে। আমার কোম্পানির একটা ব্রাঞ্চ আছে সেখানে। আমাদের পৈতৃক বাড়িও সেখানে। আমার ফ্যামিলি এখনও সাহেবগঞ্জে আছে।

তারপর কী হল বলুন।

হাসপাতালে দাদা তখন মরণাপন্ন। আমাকে চিনতে পেরে শুধু বললেন, পানু! উইম ইজ মানি। কথাটা মনে রাখিস! ব্যস! ওই শেষ কথা।

কথাটা একটা ইংরেজি প্রবচন। যাই হোক, তারপর?

দাদার শেষকৃত্য করে কোম্পানির হেড অফিসে গেলাম। আমার অনেকদিনের ইচ্ছে ছিল কলকাতায় বদলি হওয়ার। হেড অফিসে থাকলে অনেক সুযোগসুবিধে, বুঝলেন তো?

বুঝলাম। কোম্পানি তা হলে আপনাকে কলকাতায় বদলি করল?

আজ্ঞে। দাদার সঙ্গে মেসের ম্যানেজার প্রভাতবাবুর বন্ধু ছিল। তাই দাদার ঘরটা আমাকে একই ভাড়ায় ছেড়ে দিলেন।

ওই ঘরে তো আপনার দাদার জিনিসপত্র ছিল?

ছিল। একটা তক্তাপোশ, বিছানাপত্তর, চেয়ার টেবিল, একটা সুটকেস, একটা ছোট্ট কাঠের আলমারি—এইসব।

আর কিছু?

প্রাণনাথবাবু একটু ভেবে নিয়ে বললেন, আর তেমন কিছু—হ্যাঁ! একটা প্রকাণ্ড দেওয়ালঘড়ি। ঘড়িটা অচল। দাদা কেন ওটা কিনেছিলেন, কেনই বা আর সারাননি, কে জানে! আমি ওটা বেচে দেব ভেবেছিলাম। কিন্তু দাদার স্মৃতি।

কর্নেল হাসলেন। হ্যাঁ। টাইম ইজ মানি।

প্রাণনাথবাবু সায় দেওয়ার ভঙ্গিতে বললেন, কথাটা দাদা বলেছিলেন। সেই থেকে কেন কে জানে কথাটা আমাকে ভূতের মতো পেয়ে বসেছে।

আমাকেও। বলে কর্নেল চুরুট ধরালেন। একরাশ ধোঁয়া ছেড়ে ফের বললেন, আপনার ঘরের ভূতুড়ে ঘটনার কথা কি ম্যানেজার প্রভাতবাবু কিংবা আর কাউকে বলেছেন?

প্রভাতবাবুকে বলেছিলাম।

উনি কী বলেছিলেন?

উনি হেসে উড়িয়ে দিলেন। বললেন, আপনার দাদাও ঠিক একই কথা বলতেন।

প্রাণনাথবাবু এবার চাপা গলায় বললেন, ওই মেসবাড়িতে যাওয়ার পরদিন মেসের একজন বোর্ডার ননীবাবু আমাকে বলেছিলেন, ওই ঘরে নাকি ভূত আছে। বহুবছর আগে কে নাকি আত্মহত্যা করেছিল।

ঠিক আছে। টাইম ইজ মানি। আমরা আজ বিকেল পাঁচটা নাগাদ আপনার বাসায় যাব। তবে আপনি যেন কথাটা গোপন রাখবেন। আমরা আপনার কোম্পানির অফিসার হিসেবে যাব।

প্রাণনাথবাবু আশ্বস্ত হয়ে বেরিয়ে গেলেন। কর্নেল অভ্যাসমতো টাকে হাত বুলিয়ে বললেন, কী বুঝলে জয়ন্ত?।ম্যানেজার ওঁকে তাড়াতে চাইছেন। কারণ নতুন বোর্ডার ঢোকাতে পারলে বেশি ভাড়া এবং সেলামিও পাবেন।

তাড়াতে চাইলে হরনাথবাবুর মৃত্যুর পর ওঁকে একই ভাড়ায় থাকতে দিলেন কেন?

তা হলে কোনও বোর্ডার—ধরুন, এই ননীবাবু ঘরটা পাওয়ার জন্য ওঁর পেছনে লেগেছেন।

কর্নেল হাসলেন। টাইম ইজ মানি। কথাটা গুরুত্বপূর্ণ ডার্লিং!

বিরক্ত হয়ে বললাম, কথাটা দেখছি সত্যিই ভূতের মতো আপনাকে পেয়ে বসেছে।

হ্যাঁ। ওটাই আসলে ভূত। সেই ভূতের উপদ্রব ঘটেছে প্রাণনাথবাবুর ডেরায়। বলে কর্নেল উঠে দাঁড়ালেন। নিচের ফ্ল্যাটের লিন্ডার দাদা গোর্সকে দিয়ে ষষ্ঠীর ওষুধগুলো আনিয়ে নিই। তুমি বোসো। দুজনে আজ রান্নাবান্না করব। তারপর বিকেলে নকুড় মিস্ত্রি লেনে যাব।

দোতলা মেসবাড়িটা খুঁজে বের করতে অসুবিধে হয়নি। ঘিঞ্জি গলির বাঁকের মুখে একটা ছোট্ট পার্ক দেখা যাচ্ছিল। প্রাণনাথবাবু নিচে আমাদের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। বাড়ির একতলায় দোকানপাট। দোতলায় মেস। শেষপ্রান্তে প্রাণনাথবাবুর ডেরা। তার লাগোয়া ম্যনেজারের ঘর। সেই ঘরের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় প্রাণনাথবাবু ম্যানেজার প্রভাতবাবুকে জানিয়ে গেলেন, ওঁর কোম্পানির অফিসাররা ইমপর্ট্যান্ট কাজে এসেছেন। প্রভাতবাবু চেয়ারে বসেই করজোড়ে নমস্কার করলেন। ভদ্রলোক রোগা এবং বেঁটে। মুখে অমায়িক ভাব। তালা খুলে প্রাণনাথবাবু বললেন, আপনারা দয়া করে একটু বসুন। আমি চায়ের ব্যবস্থা করে আসি।

টাইম ইজ মানি! বলে কর্নেল দেওয়ালঘড়িটার দিকে এগিয়ে গেলেন। তারপর নিষ্পলক চোখে তাকিয়ে রইলেন। ঘড়ির কাঁটা বারোটা তিরিশে থেমে আছে।

বললাম, একেই বলে বারোটা বেজে যাওয়া।

কর্নেল আমার রসিকতায় কান দিলেন না। একটা চেয়ার টেনে নিয়ে গিয়ে তার ওপর উঠে আতস কাচ বের করলেন। একটু পরে বললেন, ডায়ালে কিছু কথা লেখা ছিল। ঘষে ফেলা হয়েছে। তবে ঘড়িটা বিলিতি এবং খুব দামি। হরনাথ কিংবা তার পূর্বপুরুষকে কেউ হয়তো উপহার দিয়েছিল।

চেয়ার থেকে নেমে কর্নেল চেয়ারটা আগের জায়গায় রেখে কাঠের আলমারিটার কাছে গেলেন। উঁকি মেরে পেছন দিক দেখে আপন মনে বললেন, সত্যিই এটা নাড়ানো হয়েছে। ডান দিকের দুটো পায়া ইঞ্চিটাক সরে এসেছে।

এইসময় প্রাণনাথবাবু ফিরে এলেন। তাঁর হাতে চায়ের দুটো কাপপ্লেট। বললেন, আগে চা খেয়ে নিন আপনারা। তারপর সব দেখাচ্ছি।

কর্নেল বললেন, আপনি এই আলমারিটা খুলুন।

খুলছি। ওতে দাদার জামাকাপড় আর বইপত্তর ছাড়া কিছু নেই।

প্রাণনাথবাবু কাঠের আলমারিটা খুলে দিলেন। কর্নেল আলমারির ভেতর যেন তল্লাশ শুরু করলেন, আপনার দাদার সেই সুটকেসটা দেখতে চাই।

চামড়ার সুটকেসেও কিছু জামাকাপড় আর-একটা ফাইল পাওয়া গেল। ফাইলের কাগজপত্র দেখে কর্নেল বললেন, আপনার দাদা দেখছি শেয়ার মার্কেট ব্রোকার ছিলেন!

তাই বুঝি? আমি কিন্তু দাদার কোনও কাগজপত্র এখনও খুঁটিয়ে দেখিনি।

আপনি ম্যানেজার প্রভাতবাবুকে ডাকুন। ওঁর সঙ্গে দু-একটা কথা বলতে চাই।

প্রাণনাথবাবু অবাক হয়ে বললেন, ওঁকে ডাকা কি ঠিক হবে?

আপনি ওঁকে ডাকুন।

কর্নেলের কণ্ঠস্বরে দৃঢ়তা ছিল। প্রাণনাথবাবু বেরিয়ে গেলেন। কিন্তু উনি বেরিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ওঁকে পাশ কাটিয়ে প্রভাতবাবুর আবির্ভাব হল। প্রাণনাথও ফিরে এলেন। আমার সন্দেহ হল, প্রভাতবাবু দরজার পাশেই হয়তো আড়ি পেতে দাঁড়িয়েছিলেন। কর্নেল বললেন, আসুন প্রভাতবাবু, আপনার সঙ্গে কিছু কথা আছে।

প্রভাতবাবু মিটিমিটি হেসে বললেন, আমি বুঝতে পেরেছি, আপনারা লালবাজার থেকে এসেছেন। তবে সার, বড্ড দেরি করে এসেছেন। মরার আগে হরনাথ চোরাই জিনিস হাফিজ করে গেছে।কর্নেল বললেন, চোরাই জিনিস। তার মানে?

মানে আপনারা ভালোই জানেন। তবে আমি সার ওসব সাতে-পাঁচে ছিলাম না। হরনাথ আমাকে বলত বটে, খদ্দের দেখে দাও। সিকিভাগ তোমার। আমি ওকে পাত্তা দিইনি।

কিন্তু জিনিসটা কী?

খুলে কিছু বলেনি হরনাথ। কাজেই জিনিসটা কী আমি জানি না। শুধু এইটুকু জানি, জিনিসের দাম ছিল বড্ড বেশি। হরনাথ আভাস দিয়েছিল লাখের ওপরে দাম। আমার মালিক ভদ্রলোক, যাঁর এই মেসবাড়ি, তিনি কোটিপতি লোক। হরনাথ গোপনে তার কাছেও গিয়েছিল। কিন্তু তিনিও কিনতে সাহস পাননি। আমাকে বলেছিলেন, ওই লোকটাকে তাড়াও। কিন্তু তাড়াব কী করে? এ পাড়ার সব গুণ্ডা, বদমাশ ছিল হরনাথের হাতে।

প্রাণনাথ ক্ষুব্ধ হয়ে বললেন, এসব কী বলছ প্রভাতদা! আমার দাদা–

প্রভাতবাবু তাকে থামিয়ে দিয়ে বললেন, খাল কেটে কুমির এনেছ। এখন তুমিই ঠেলা সামলাও পানু! আমাকে এসব ব্যাপারে জড়িয়ো না। বলে উনি ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন। প্রাণনাথবাবু ধপাস করে বিছানায় বসে বলেন, আমি তো কিছু বুঝতে পারছি না। আমার দাদা বাউন্ডুলে ছন্নছাড়া ছিলেন বটে, কিন্তু ওঁকে চোর অপবাদ কেউ কস্মিনকালে দেয়নি। আর দামি চোরাই জিনিস যদি ওঁর কাছে থাকবে, আমি তার খোঁজ পাব না? যদি বেচে দিয়েও থাকেন, সেই টাকাই বা গেল কোথায়?

কর্নেল চুরুট ধরালেন। আমি বললাম, এবার মনে হচ্ছে, আপনার ঘরে কেউ আপনার দাদার চোরাই জিনিস বা তা বিক্রি করা টাকা খুঁজতেই ঢোকে।

প্রাণনাথবাবু প্রায় আর্তনাদ করলেন, তেমন কিছু এ ঘরে নেই।

কর্নেল ঘড়িটার দিকে তাকিয়ে ছিলেন। বললেন, আপনার দাদা বলেছিলেন টাইম ইজ মানি। তাই না?

আজ্ঞে হ্যাঁ।

টাইমের সঙ্গে ঘড়ির সম্পর্ক আছে। আপনি ঘড়িটা সারাতে দিচ্ছেন না কেন?

সারাতে অনেক টাকা লাগবে। অত টাকা পাব কোথায়?

আমি নিজের খরচে সারিয়ে দেব। আমার ধারণা, ঘড়িটা চালু হলে আপনার ঘরে আর ভূতের উপদ্রব হবে না। ওই অচল ঘড়িই আপনার ঘরে ভূত ডেকে আনছে।

প্রাণনাথবাবু ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইলেন।

কর্নেল চেয়ার টেনে নিয়ে দেওয়ালঘড়ির তলায় গেলেন। তারপর চেয়ারে উঠে প্রকাণ্ড ঘড়িটা নামিয়ে আনলেন। বললেন, দিনসাতেক পরে আমার কাছ থেকে এটা ফেরত দিয়ে আসবেন। কোনও বড় কোম্পানিতে এটা সারাতে দেব।



ইলিয়ট রোডে তিনতলার অ্যাপার্টমেন্টে ফিরে কর্নেল ঘড়িটা খুলতে শুরু করলেন। বললাম, সব ছেড়ে এই ঘড়ি নিয়ে পড়লেন কেন?

কর্নেল হাসলেন, কারণ টাইম ইজ মানি।

কর্নেল! আমার ভয় হচ্ছে এই অচল ঘড়ি আপনার মগজও অচল করে দিয়েছে।

ডায়ালের কাচ খুলে আতস কাচ রেখে কী দেখতে দেখতে কর্নেল বললেন, এবার স্পষ্ট পড়া যাচ্ছে। প্রেজেন্টেড টু মিঃ জয়গোবিন্দ রায় ফর হিজ সিনসিয়ার সার্ভিস অ্যান্ড অনেস্টি, অন দা অকেশন অব কুমারবাহাদুর প্রমথনারায়ণ চৌধুরিস সেভেনটি ফার্স্ট বার্থ অ্যানিভার্সারি…

চমকে উঠলাম। কর্নেল! এটা তো তা হলে সৈদাবাদ রাজবাড়ির উপহার। এই উপহার হরনাথের হাতে গেল কী করে?

ডার্লিং! হরনাথই জয়গোবিন্দ। হরনাথের সুটকেসের ভেতর কয়েকটা পুরনো নেমকার্ড খুঁজে পেয়েছি। এই দ্যাখো, হরনাথ নাম ভঁড়িয়ে রাজবাড়িতে কেয়ারটেকারের চাকরি জুটিয়েছিল।

বুঝেছি। কিন্তু জড়োয়া নেকলেসটা গেল কোথায়?

ভুলে যাচ্ছ জয়ন্ত! মৃত্যুর সময় হরনাথ বলেছিল, পানু! টাইম ইজ মানি। কথাটা মনে রাখিস। পানুবাবু সূত্রটা বুঝতে পারেননি। নেকলেস চুরি যায় রাত সাড়ে বারোটায়। এই ঘড়ির কাল তাই সাড়ে বারোটায় রেখেছিল হরনাথ। আর নেকলেসটা— বলে কর্নেল ডায়াল খুলে ফেললেন এবং ভেতর থেকে একটা লাল ভেলভেটে মোড়া প্যাকেট বের করলেন। প্যাকেট খুলতেই দেখা গেল ঝলমলে হিরে-মুক্তোবসানো সোনার ঝালর দেওয়া একটা জড়োয়া নেকলেস। কর্নেল মিটিমিটি হেসে ফের বললেন, টাইম ইজ মানি! তবে হরনাথ কীভাবে নেকলেসটা চুরি করেছিল, এখন বুঝতে পারছি। এই দ্যাখো, পিঠের দিকে নেকলেসটার ক্লিপ ঠিকভাবে আঁটা নেই। সহজেই খোলা যায় কিংবা নিজে থেকেও খুলে পড়তে পারে। বিয়ের পার্টিতে নতুন বউমা নিশ্চয়। ঘুমে ঢুলছিলেন। সেই সময় নেকলেস খসে পড়ে থাকবে। কেয়ারটেকার উপহারসামগ্রীর দায়িত্বে ছিল। সে সুযোগটা ছাড়েনি। ক্লিয়ার?

সায় দিয়ে বললাম, অল ক্লিয়ার। টাইম ইজ মানি, এটাও ক্লিয়ার।
**** সমাপ্ত ****

-: घड़ी का रहस्य :- (भाग दो)उसने कहा और कर्नल की ओर मुड़ा। पहले मैं आपको अपना नाम और पता बता दूँ। मेरा नाम प्राणनाथ रॉय ...
27/10/2025

-: घड़ी का रहस्य :- (भाग दो)

उसने कहा और कर्नल की ओर मुड़ा। पहले मैं आपको अपना नाम और पता बता दूँ। मेरा नाम प्राणनाथ रॉय है। मैं सत्साश्य त्रिन, नकुर मिस्त्री लेन स्थित एक मेस हाउस में एक छोटे से अलग कमरे में रहता हूँ। मैं मोतीलाल ट्रेडिंग कंपनी में काम करता हूँ। तो, पिछले कुछ समय से मुझे एक भूतिया घटना दिखाई दे रही है। मान लीजिए, घर लौटने पर जिस मेज़ पर कैलेंडर रखा था, वह ठीक उसी जगह नहीं है जहाँ वह था। या मान लीजिए, जिस कमीज़ को मैंने हैंगर पर टांगा था, लौटने पर वह उस तरह नहीं लटकी है जैसी वह थी। एक छोटी सी लकड़ी की अलमारी है। उसका ताला वैसे ही लगा है। हालाँकि, अंदर का सामान इधर-उधर बिखरा पड़ा है। हर दोपहर, मुझे छड़ी लेकर पार्क में घूमने की आदत है। कल मैंने छड़ी देखी, लेकिन वह वहाँ नहीं थी जहाँ मैंने उसे ब्रैकेट पर टांगा था। ऐसी अनगिनत घटनाएँ रोज़ होती हैं। मुझे पूरी कहानी समझ नहीं आ रही है। अगर कोई चोर घुसता, तो कुछ न कुछ चुरा लेता। लेकिन अभी तक कुछ भी चोरी नहीं हुआ है। मुझे शक था कि कोई मुझे भगाने की कोशिश कर रहा है। लेकिन कल रात, जब अचानक एक आवाज़ से मेरी नींद खुली, तो मैंने टेबल लैंप जलाया और देखा कि लकड़ी की अलमारी हिल रही थी। बस रुक गई। मैं डर के मारे पूरी रात सो नहीं पाया। तो समय ही पैसा है। अब और देर करने का कोई रास्ता नहीं था। तुम्हारी शरण में जाने से बचने का कोई रास्ता नहीं था।

कर्नल चुपचाप सुन रहा था। अब तक उसने पूछा, क्या तुम्हारे घर में कोई कीमती सामान है?

नहीं। मैं बैंक में थोड़ा पैसा रखता हूँ। अगर तुम इस कलाई घड़ी को कीमती कहते हो, तो यह लगभग हर समय मेरे हाथ से बंधी रहती है। मैं इसे सिर्फ़ नहाते समय ही मेज़ पर खुला छोड़ देता हूँ। लेकिन यह चोरी नहीं हुई।

तुम्हारे दादा का नाम क्या है?

मेरे दादा का नाम हरनाथ रॉय था।

क्या वह जीवित हैं?

नहीं, साहब। मेरे दादाजी मेसबारी में उस घर में रहते थे जहाँ मैं अब रहता हूँ। वह बौंडुल में एकांतप्रिय व्यक्ति थे। उन्होंने कभी शादी नहीं की। मेरे दादाजी का कई सालों तक मुझसे कोई संपर्क नहीं था। अचानक, दो महीने पहले, मुझे एक टेलीग्राम मिला कि मेरे दादाजी दिल का दौरा पड़ने के बाद अस्पताल में हैं।

मैं उन्हें लेकर कोलकाता भागा।

तब तुम कहाँ थे?

साहेबगंज में। मेरी कंपनी की एक शाखा वहाँ है। हमारा पुश्तैनी घर भी वहीं है। मेरा परिवार अभी भी साहेबगंज में है।

बताओ, तब क्या हुआ था?

मेरे दादाजी अस्पताल में मर रहे थे। जब उन्होंने मुझे पहचाना, तो उन्होंने बस इतना कहा, "पानु! विम इज़ मनी।" याद है! बस! यही आखिरी शब्द है।

यह शब्द एक अंग्रेज़ी कहावत है। खैर, फिर?

दादाजी के अंतिम संस्कार के बाद, मैं कंपनी के मुख्यालय गया। मैं लंबे समय से कोलकाता तबादला चाहता था। मुख्यालय में रहने से मुझे कई मौके मिलते हैं, समझ रहे हो?

समझ गया। तो कंपनी ने तुम्हारा तबादला कोलकाता कर दिया?

हे भगवान! मेरे दादाजी मेस मैनेजर प्रभात बाबू के दोस्त थे। इसलिए उन्होंने मुझे उसी दाम पर मेरे दादाजी का कमरा किराए पर दे दिया।

क्या उस कमरे में तुम्हारे दादाजी का सामान था?

था। एक चादर, एक चादर, एक कुर्सी, एक मेज़, एक सूटकेस, एक छोटी लकड़ी की अलमारी—ये सब।

और कुछ?

प्राणनाथबाबू ने एक पल सोचा और कहा, और कुछ ऐसा ही—हाँ! एक बड़ी दीवार घड़ी। घड़ी टूटी हुई है। दादाजी ने इसे क्यों खरीदा, उन्होंने इसे ठीक क्यों नहीं करवाया, कौन जाने! मैंने सोचा था कि मैं इसे बेच दूँगा। लेकिन दादाजी की यादें।

कर्नल मुस्कुराए। हाँ। समय ही धन है।

प्राणनाथबाबू ने सहमति भरे अंदाज़ में कहा, दादाजी ने यही कहा था। कौन जाने तब से यह मुझे भूत की तरह क्यों सता रहा है।

मैं भी। यह कहकर कर्नल ने एक सिगार सुलगाया। खूब धुआँ छोड़ते हुए उन्होंने फिर पूछा, क्या तुमने मैनेजर प्रभातबाबू या किसी और को अपने कमरे में हुई भूतिया घटना के बारे में बताया?

मैंने प्रभातबाबू को बताया।

उन्होंने क्या कहा?

वह हँसा और बात को हवा में उड़ा दिया। उसने कहा, तुम्हारे दादाजी भी यही कहते थे।

प्राणनाथबाबू ने अब धीमी आवाज़ में कहा, जिस दिन मैं उस मेस हाउस में गया था, उसके अगले दिन मेस के एक किरायेदार, नानीबाबू ने मुझे बताया था कि उस कमरे में एक भूत है। कई साल पहले किसी ने आत्महत्या कर ली थी।

ठीक है। समय ही पैसा है। हम आज शाम पाँच बजे तक तुम्हारे घर पहुँच जाएँगे। लेकिन तुम्हें यह बात राज़ रखनी होगी। हम तुम्हारी कंपनी के अधिकारी बनकर जाएँगे।

प्राणनाथबाबू आश्वस्त होकर चले गए। कर्नल ने हमेशा की तरह उन्हें थपथपाया और कहा, "क्या मतलब है, जयंत?"

मैनेजर उसे भगाना चाहता है। क्योंकि अगर उसे नया किरायेदार मिल गया, तो उसे ज़्यादा किराया और सलामी मिलेगी।

अगर उसे भगाना ही था, तो हरनाथबाबू के मरने के बाद उसे उसी किराए पर क्यों रहने दिया?

फिर एक किरायेदार—मान लीजिए, ये नानीबाबू घर हथियाने के लिए उसके पीछे पड़े हैं।

कर्नल मुस्कुराए। समय ही पैसा है। यही तो ज़रूरी है, डार्लिंग!

मैंने झुंझलाकर कहा, मैं देख रहा हूँ कि इसने तुम्हें सचमुच भूत बना दिया है।

हाँ। वो असल में भूत है। वो भूत प्राणनाथबाबू के लॉज में भटक रहा है। ये कहकर कर्नल उठ खड़े हुए। मैं नीचे वाले फ्लैट में लिंडा के भाई गोरसे से षष्ठी की दवाइयाँ ले आता हूँ। तुम बैठो। आज हम खाना बनाएंगे। फिर दोपहर में नाकुर मिस्त्री लेन चलेंगे।

दो मंज़िला मेस हाउस ढूँढ़ना मुश्किल नहीं था। भीड़-भाड़ वाली गली के मोड़ पर एक छोटा सा पार्क दिखाई दे रहा था। प्राणनाथबाबू नीचे हमारा इंतज़ार कर रहे थे। घर की पहली मंज़िल पर दुकानें। दूसरी मंज़िल पर मेस। सबसे आखिर में प्राणनाथबाबू का अड्डा। उसके बगल में मैनेजर का कमरा। उस कमरे के सामने से गुज़रते हुए प्राणनाथबाबू ने मैनेजर प्रभातबाबू को बताया कि उनकी कंपनी के अधिकारी ज़रूरी काम से आए हैं। प्रभातबाबू कुर्सी पर बैठ गए और हाथ जोड़कर उनका अभिवादन किया। वह सज्जन दुबले-पतले और छोटे कद के थे। उनके चेहरे पर दोस्ताना भाव था। ताला खोलते हुए प्राणनाथबाबू बोले, "ज़रा बैठिए। मैं चाय का इंतज़ाम करता हूँ।"

"समय ही धन है!" कहते हुए कर्नल दीवार घड़ी की ओर बढ़े। फिर बिना पलक झपकाए उसे घूरते रहे। घड़ी की सुइयाँ साढ़े बारह पर रुक गई थीं।

मैंने कहा, "बस, बारह बज गए।"

कर्नल ने मेरा मज़ाक नहीं सुना। उन्होंने एक कुर्सी खींची, उस पर खड़े हुए और एक गिलास शराब निकाली। थोड़ी देर बाद उसने कहा, "डायल पर कुछ लिखा था। घिस गया है।" लेकिन घड़ी महँगी है, बहुत महँगी। किसी ने इसे हरनाथ या उसके पूर्वजों को दिया होगा।

कुर्सी से उतरकर कर्नल साहब कुर्सी को वहीं छोड़कर लकड़ी की अलमारी के पास गए। उन्होंने पीछे की ओर देखा और मन ही मन कहा, यह सचमुच हिल गई है। दाहिनी ओर के दोनों पैर एक इंच हिल गए हैं।

तभी प्राणनाथबाबू लौट आए। उनके हाथ में दो कप चाय थी। उन्होंने कहा, "पहले तुम लोग चाय पियो। फिर मैं तुम्हें सब कुछ दिखा दूँगा।"

कर्नल साहब बोले, "तुम यह अलमारी खोलो।"

मैं इसे खोल रहा हूँ। इसमें दादाजी के कपड़ों और किताबों के अलावा कुछ नहीं है।

प्राणनाथबाबू ने लकड़ी की अलमारी खोली। कर्नल साहब अलमारी के अंदर ढूँढ़ने लगे, "मुझे तुम्हारे दादाजी का सूटकेस देखना है।"

चमड़े के सूटकेस में कुछ कपड़े और एक फाइल भी मिली। कर्नल ने फ़ाइल में रखे दस्तावेज़ों को देखते हुए कहा, "देख रहा हूँ तुम्हारे दादा शेयर बाज़ार के दलाल थे!"

समझे? लेकिन मैंने अभी तक अपने दादा के किसी भी दस्तावेज़ को नहीं देखा है।

तुम मैनेजर प्रभातबाबू को बुलाओ। मैं उनसे कुछ बातें करना चाहता हूँ।

प्राणनाथबाबू हैरान हुए और बोले, "क्या उन्हें बुलाना ठीक रहेगा?"

तुम उन्हें बुलाओ।"

कर्नल का स्वर दृढ़ था। प्राणनाथबाबू चले गए। लेकिन उनके जाते ही प्रभातबाबू उनके पास से गुज़रते हुए प्रकट हुए। प्राणनाथ भी लौट आए। मुझे शक हुआ कि प्रभातबाबू दरवाज़े पर खड़े होकर सुन रहे होंगे। कर्नल ने कहा, "आइए प्रभातबाबू, मुझे आपसे कुछ बात करनी है।"

प्रभातबाबू थोड़े से मुस्कुराए और बोले, "मैं समझता हूँ कि तुम लालबाज़ार से आए हो। लेकिन साहब, तुम बहुत देर से आए हो। हरनाथ ने मरने से पहले ही चोरी का माल याद कर लिया था।"

कर्नल ने कहा, चोरी का माल। इसका क्या मतलब है?

मतलब, तुम अच्छी तरह जानते हो। लेकिन मैं उन सात-पाँच लोगों में नहीं था। हरनाथ मुझसे कहता था, ग्राहक को दिखाओ। तुम्हारा स्वागत है। मैंने उसकी बात पर ध्यान नहीं दिया।

लेकिन वह चीज़ क्या थी?

हरनाथ ने कुछ नहीं कहा। इसलिए मुझे नहीं पता कि वह चीज़ क्या थी। मुझे बस इतना पता है कि उस चीज़ की कीमत बहुत ज़्यादा थी। हरनाथ ने एक लाख से ज़्यादा की कीमत का इशारा किया था। मेरे मालिक, इस मेस के मालिक, करोड़पति हैं। हरनाथ भी चुपके से उनके पास गए। लेकिन उन्होंने भी इसे खरीदने की हिम्मत नहीं की। उन्होंने मुझे उस आदमी को भगाने के लिए कहा। लेकिन मैं उसे कैसे भगाऊँ? इस मोहल्ले के सारे गुंडे-बदमाश हरनाथ के कब्ज़े में थे।

प्रणनाथ गुस्से से बोले, "क्या कह रहे हो प्रभात दा! मेरे दादा-

प्रभात बाबू ने उन्हें रोका और कहा, "तुम नहर काटकर मगरमच्छ ले आए।" अब तुम गाड़ी संभालो, पानू! मुझे इन मामलों में मत उलझाओ। उन्होंने कहा और कमरे से बाहर चले गए। प्राणनाथबाबू बिस्तर पर बैठ गए और बोले, "मुझे कुछ समझ नहीं आ रहा। मेरे दादाजी आवारा थे, पर किसी ने उन पर कभी चोर होने का आरोप नहीं लगाया। और अगर उनके पास चोरी का कीमती सामान है, तो क्या मैं उसे ढूँढ़ नहीं सकता? अगर उन्होंने उसे बेच भी दिया, तो पैसे कहाँ गए?"

कर्नल ने एक सिगरेट ली। मैंने कहा, "अब तो ऐसा लग रहा है कि कोई तुम्हारे घर में तुम्हारे दादाजी के चोरी के सामान या उन्हें बेचने के पैसे ढूँढ़ने घुसा है।"

प्राणनाथबाबू लगभग चीख पड़े, "इस घर में ऐसा कुछ नहीं है।"

कर्नल घड़ी देख रहे थे। उन्होंने कहा, "तुम्हारे दादाजी कहते थे कि समय ही पैसा है। है ना?"

जी हाँ, सर।

समय और घड़ी का एक रिश्ता है। तुम मुझे घड़ी ठीक करने क्यों नहीं देते?

इसे ठीक करने में बहुत पैसा लगेगा। मैं इतना पैसा कहाँ से लाऊँगा?

मैं इसे अपने खर्चे पर ठीक करवा दूँगा। मुझे लगता है कि अगर घड़ी चालू हो जाए, तो तुम्हारे घर में भूत-प्रेत नहीं रहेंगे। यह स्थिर घड़ी ही तुम्हारे घर में भूत ला रही है।

प्राणनाथबाबू भावशून्य भाव से देखते रहे।

कर्नल ने एक कुर्सी खींची और दीवार घड़ी के नीचे गए। फिर वे कुर्सी पर बैठे और उस विशाल घड़ी को नीचे उतारा। उन्होंने कहा, "तुम इसे एक-दो दिन में मुझसे वापस कर दोगे। मैं किसी बड़ी कंपनी से इसकी मरम्मत करवा दूँगा।"

एलियट रोड स्थित तीसरी मंजिल के अपार्टमेंट में लौटकर कर्नल ने घड़ी खोलनी शुरू की। मैंने कहा, "तुम सब कुछ छोड़कर यह घड़ी क्यों ले गए?"

कर्नल हँसे, क्योंकि समय ही पैसा है।

कर्नल! मुझे डर है कि इस स्थिर घड़ी ने तुम्हारे दिमाग को भी लकवाग्रस्त कर दिया है।

कर्नल ने डायल का शीशा खोला और शीशा लगाकर देखा कि क्या दिखाई दे रहा है, और कहा, "अब यह साफ़-साफ़ पढ़ा जा सकता है।" कुमार बहादुर प्रमथनारायण चौधरी की सत्तरवीं जयंती के अवसर पर, श्री जयगोबिंद राय को उनकी सच्ची सेवा और ईमानदारी के लिए भेंट किया गया...

मैं हैरान रह गया। कर्नल! यह सैदाबाद महल से एक उपहार है। यह उपहार हरनाथ के हाथों में कैसे पहुँचा?

प्रिय! हरनाथ जयगोबिंद है। मुझे हरनाथ के सूटकेस में कुछ पुराने नाम कार्ड मिले। देखो, हरनाथ ने अपना नाम बदलकर महल में केयरटेकर की नौकरी पा ली थी।

मैं समझ गया। लेकिन हार कहाँ गया?

तुम भूल रहे हो, जयंत! हरनाथ ने अपनी मृत्यु के समय कहा था, पनु! समय ही धन है। याद रखो। पनुबाबू को सूत्र समझ नहीं आया। हार रात के साढ़े बारह बजे चोरी हुआ था। इसीलिए हरनाथ ने इसे साढ़े बारह बजे इसी घड़ी में छोड़ दिया था। और हार— कर्नल ने घड़ी खोलते हुए और अंदर से लाल मखमल में लिपटा एक पैकेट निकालते हुए कहा। पैकेट खोलते ही, हीरे-मोतियों से जड़ा एक सोने की किनारी वाला, चमकते हुए हार नज़र आया। कर्नल हल्के से मुस्कुराए और फिर बोले, "समय ही धन है!" लेकिन अब समझ आया कि हरनाथ ने हार कैसे चुराया। देखो, हार के पीछे वाला क्लिप ठीक से नहीं लगा है। इसे आसानी से खोला जा सकता है या यह अपने आप निकल भी सकता है। नई दुल्हन शादी की पार्टी में रही होगी। वह सो रही होगी। उसी समय हार गिर गया होगा। केयरटेकर उपहारों की देखभाल कर रही थी। उसने मौका नहीं गंवाया। समझ गया?

मैंने सिर हिलाया, सब साफ़ है। समय ही धन है, यह भी साफ़ है।
**** समाप्त****

-: గడియార రహస్యం :- (రెండవ భాగం) అని చెప్పి అతను కల్నల్ వైపు తిరిగింది. ముందుగా, నా పేరు మరియు చిరునామా చెబుతాను. నా పేర...
27/10/2025

-: గడియార రహస్యం :- (రెండవ భాగం)

అని చెప్పి అతను కల్నల్ వైపు తిరిగింది. ముందుగా, నా పేరు మరియు చిరునామా చెబుతాను. నా పేరు ప్రణత్ రాయ్. నేను నకుర్ మిస్త్రీ లేన్‌లోని సత్శశ్య త్రిన్‌లోని ఒక మెస్ హౌస్‌లో ఒక చిన్న ప్రత్యేక గదిలో నివసిస్తున్నాను. నేను మోతీలాల్ ట్రేడింగ్ కంపెనీలో పనిచేస్తున్నాను. కాబట్టి, కొంతకాలంగా, నేను ఒక దెయ్యం సంఘటనను గమనిస్తున్నాను. నేను ఇంటికి తిరిగి వచ్చినప్పుడు దానిని వదిలిపెట్టిన టేబుల్‌పై ఉన్న క్యాలెండర్ సరిగ్గా ఉన్న చోట లేదని అనుకుందాం. లేదా నేను తిరిగి వచ్చినప్పుడు హ్యాంగర్‌పై వేలాడదీసిన చొక్కా ఉన్న విధంగా వేలాడదీయబడలేదని అనుకుందాం. ఒక చిన్న చెక్క అల్మారా ఉంది. దాని తాళం అలా లాక్ చేయబడింది. అయితే, లోపల ఉన్న వస్తువులు ఇక్కడ మరియు అక్కడ చెల్లాచెదురుగా ఉంటాయి. ప్రతి మధ్యాహ్నం, నాకు కర్రతో పార్కులో నడిచే అలవాటు ఉంది. నిన్న, నేను కర్రను చూశాను, కానీ నేను దానిని బ్రాకెట్‌లో వేలాడదీసిన చోట కాదు. లెక్కలేనన్ని ఇలాంటివి ప్రతిరోజూ జరుగుతాయి. నాకు మొత్తం కథ అర్థం కాలేదు. ఒక దొంగ ప్రవేశించి ఉంటే, అతను ఏదైనా దొంగిలించి ఉండేవాడు. కానీ ఇప్పటివరకు, ఏమీ దొంగిలించబడలేదు. ఎవరో నన్ను తరిమికొట్టడానికి ప్రయత్నిస్తున్నారని నాకు అనుమానం వచ్చింది. కానీ నిన్న రాత్రి, అకస్మాత్తుగా శబ్దం విని నేను టేబుల్ ల్యాంప్ ఆన్ చేసి, చెక్క అల్మారా కదులుతున్నట్లు చూశాను. అది ఆగిపోయింది. భయంతో నేను రాత్రంతా నిద్రపోలేకపోయాను. కాబట్టి సమయం డబ్బు. ఇక ఆలస్యం చేయడానికి మార్గం లేదు. మిమ్మల్ని ఆశ్రయించకుండా ఉండటానికి మార్గం లేదు.

కల్నల్ నిశ్శబ్దంగా వింటున్నాడు. ఇప్పటికి అతను, మీ ఇంట్లో ఏవైనా విలువైన వస్తువులు ఉన్నాయా?

లేదు. నేను బ్యాంకులో కొంత డబ్బు ఉంచుతాను. మీరు ఈ చేతి గడియారాన్ని విలువైనదిగా పిలిస్తే, అది దాదాపు అన్ని సమయాలలో నా చేతికి కట్టబడి ఉంటుంది. నేను స్నానం చేసేటప్పుడు మాత్రమే టేబుల్ మీద తెరిచి ఉంచుతాను. కానీ అది దొంగిలించబడలేదు.

మీ తాత పేరు ఏమిటి?

నా తాత పేరు హర్నాథ్ రాయ్.

అతను బతికే ఉన్నాడా?

లేదు సార్. నా తాతగారు ఇప్పుడు మెస్బరిలో నివసిస్తున్న ఇంట్లో నివసించేవారు. అతను బౌండుల్‌లో ఒంటరి వ్యక్తి. అతను ఎప్పుడూ వివాహం చేసుకోలేదు. నా తాతకు చాలా సంవత్సరాలుగా నాతో ఎటువంటి సంబంధం లేదు. రెండు నెలల క్రితం అకస్మాత్తుగా, నా తాతగారు గుండెపోటుతో ఆసుపత్రిలో ఉన్నారని నాకు టెలిగ్రామ్ వచ్చింది.

నేను అతనితో కలిసి కోల్‌కతాకు పరుగెత్తాను.

అప్పుడు మీరు ఎక్కడ ఉన్నారు?

సాహెబ్‌గంజ్‌లో. నా కంపెనీకి అక్కడ ఒక శాఖ ఉంది. మా పూర్వీకుల ఇల్లు కూడా అక్కడే ఉంది. నా కుటుంబం ఇప్పటికీ సాహెబ్‌గంజ్‌లోనే ఉంది.

అప్పుడు ఏమి జరిగిందో చెప్పు.

నా తాతగారు ఆసుపత్రిలో చనిపోతున్నాడు. నన్ను గుర్తించినప్పుడు, అతను "పాను! డబ్బు అంటే డబ్బు" అని అన్నాడు. అది గుర్తుందా! అంతే! అదే చివరి మాట.

ఆ పదం ఒక ఆంగ్ల సామెత. ఏమైనా, అప్పుడు?

నా తాతగారి అంత్యక్రియల తర్వాత, నేను కంపెనీ ప్రధాన కార్యాలయానికి వెళ్ళాను. నేను చాలా కాలంగా కోల్‌కతాకు బదిలీ కావాలని కోరుకున్నాను. ప్రధాన కార్యాలయంలో ఉండటం నాకు చాలా అవకాశాలను ఇస్తుంది, మీకు అర్థమైందా?

నాకు అర్థమైంది. కాబట్టి కంపెనీ మిమ్మల్ని కోల్‌కతాకు బదిలీ చేసింది?

ఓరి దేవుడా. నా తాతగారు మెస్ మేనేజర్ ప్రభాత్ బాబుతో స్నేహితులు. కాబట్టి అతను నా తాతగారి గదిని అదే ధరకు అద్దెకు ఇచ్చాడు.

ఆ గదిలో మీ తాతగారి వస్తువులు ఉన్నాయా?

ఉన్నాయి. ఒక బెడ్‌స్ప్రెడ్, ఒక బెడ్‌స్ప్రెడ్, ఒక కుర్చీ, ఒక టేబుల్, ఒక సూట్‌కేస్, ఒక చిన్న చెక్క అల్మారా - అవి.

ఇంకేమైనా ఉందా?

ప్రణత్‌బాబు ఒక్క క్షణం ఆలోచించి, అలాంటిదే అన్నాడు - అవును! ఒక పెద్ద గోడ గడియారం. గడియారం విరిగిపోయింది. తాత ఎందుకు కొన్నాడు, ఎందుకు సరిచేయలేదు, ఎవరికి తెలుసు! నేను దానిని అమ్మేస్తానని అనుకున్నాను. కానీ తాత జ్ఞాపకం.

కల్నల్ నవ్వాడు. అవును. సమయం డబ్బు.

ప్రణత్‌బాబు ఆమోదయోగ్యమైన రీతిలో అన్నాడు, తాతగారు అదే అన్నారు. అప్పటి నుండి అది నన్ను దెయ్యంలా వెంటాడుతోందని ఎవరికి తెలుసు.

నేను కూడా. అలా చెబుతూ, కల్నల్ సిగార్ వెలిగించాడు. చాలా పొగలు వదలుతూ, అతను మళ్ళీ అన్నాడు, మీ గదిలో జరిగిన దెయ్యాల సంఘటన గురించి మీరు మేనేజర్ ప్రభాత్‌బాబుకు లేదా మరెవరికైనా చెప్పారా?

నేను ప్రభాత్‌బాబుకు చెప్పాను.

అతను ఏమి చెప్పాడు?

అతను నవ్వుతూ ఊదరగొట్టాడు. అతను అన్నాడు, మీ తాత కూడా అదే మాట అనేవాడు.

నేను ఆ మెస్ హౌస్ కి వెళ్ళిన మరుసటి రోజు, మెస్ లో బోర్డర్ గా ఉన్న నానిబాబు ఆ గదిలో దెయ్యం ఉందని చెప్పాడు, ప్రణత్ బాబు ఇప్పుడు తక్కువ స్వరంతో. చాలా సంవత్సరాల క్రితం ఎవరో ఆత్మహత్య చేసుకున్నారు.

సరే. సమయం డబ్బు. ఈ మధ్యాహ్నం ఐదు గంటలలోపు మనం మీ ఇంటికి వెళ్తాము. కానీ నువ్వు దానిని రహస్యంగా ఉంచాలి. మనం నీ కంపెనీ అధికారులుగా వెళ్తాము.

ధైర్యంగా ప్రణత్ బాబు వెళ్ళిపోయాడు. కల్నల్ ఎప్పటిలాగే అతనిని తట్టి, "జయంత్, నీ ఉద్దేశ్యం ఏమిటి?" అన్నాడు.
మేనేజర్ అతన్ని తరిమికొట్టాలనుకుంటున్నాడు. ఎందుకంటే అతను కొత్త బోర్డర్‌ను పొందగలిగితే, అతనికి ఎక్కువ అద్దె మరియు సలామీ లభిస్తుంది.

అతన్ని తరిమికొట్టాలనుకుంటే, హరనాథ్‌బాబు మరణం తర్వాత అతను అతన్ని అదే అద్దెకు ఎందుకు ఉండనిచ్చాడు?

అప్పుడు ఒక బోర్డర్ - ఇల్లు తీసుకోవడానికి ఈ నానిబాబు అతని వెంట పడుతున్నాడని అనుకుందాం.

కల్నల్ నవ్వాడు. సమయం డబ్బు. ఇది ముఖ్యం, ప్రియతమా!

నేను కోపంగా అన్నాను, ఇది నిజంగా నిన్ను దెయ్యంలా వెంటాడిందని నేను చూస్తున్నాను.

అవును. అది నిజానికి దెయ్యం. ఆ దెయ్యం ప్రన్నత్‌బాబు లాడ్జిని వెంటాడుతోంది. ఇలా చెబుతూ, కల్నల్ లేచి నిలబడ్డాడు. నేను కింద ఫ్లాట్‌లో ఉన్న లిండా సోదరుడు గోర్స్ నుండి షష్టి మందులు తీసుకుంటాను. మీరు కూర్చోండి. ఈ రోజు మనం వంట చేస్తాము. అప్పుడు మధ్యాహ్నం మనం నకుర్ మిస్త్రీ లేన్‌కి వెళ్తాము.

రెండంతస్తుల మెస్ హౌస్‌ను కనుగొనడం కష్టం కాలేదు. రద్దీగా ఉన్న వీధి వంపు వద్ద ఒక చిన్న పార్క్ కనిపించింది. ప్రణత్‌బాబు మా కోసం కింద ఎదురు చూస్తున్నాడు. ఇంటి మొదటి అంతస్తులో దుకాణాలు. రెండవ అంతస్తులో గజిబిజి. చివరన ప్రణత్‌బాబు గుహ. దాని పక్కనే మేనేజర్ గది. ఆ గది ముందు నుండి వెళుతుండగా, ప్రణత్‌బాబు మేనేజర్ ప్రభత్‌బాబుకు తన కంపెనీ అధికారులు ముఖ్యమైన పని మీద వచ్చారని సమాచారం ఇచ్చాడు. ప్రభత్‌బాబు కుర్చీలో కూర్చుని చేతులు ముడుచుకుని పలకరించాడు. ఆ పెద్దమనిషి సన్నగా, పొట్టిగా ఉన్నాడు. అతని ముఖంలో స్నేహపూర్వక భావాలు కనిపించాయి. తాళం తెరిచి, ప్రణత్‌బాబు, "దయచేసి ఒక్క క్షణం కూర్చోండి. నేను టీ ఏర్పాటు చేస్తాను" అన్నాడు.

"సమయం డబ్బు!" అని చెప్పి, కల్నల్ గోడ గడియారం వైపు నడిచాడు. తర్వాత అతను కళ్ళు రెప్పవేయకుండా చూశాడు. గడియారం ముళ్ళు పన్నెండు ముప్పైకి ఆగిపోయాయి.

నేను, "అంతే, పన్నెండు గంటలు" అని అన్నాను.

కల్నల్ నా జోక్ వినలేదు. అతను ఒక కుర్చీ తీసి, దానిపై నిలబడి, ఒక గ్లాసు వైన్ తీసుకున్నాడు. కొద్దిసేపటి తర్వాత, అతను ఇలా అన్నాడు, "డయల్ మీద ఏదో రాసి ఉంది. అది తుడిచివేయబడింది." కానీ ఆ గడియారం ఖరీదైనది మరియు చాలా ఖరీదైనది. ఎవరో దానిని హరనాథ్ లేదా అతని పూర్వీకులకు ఇచ్చి ఉండాలి.

కుర్చీ నుండి దిగి, కల్నల్ కుర్చీని దాని అసలు స్థానంలో వదిలి చెక్క అల్మారా వద్దకు వెళ్ళాడు. అతను వెనుక వైపు చూస్తూ, అది నిజంగా కదిలిందని తనలో తాను చెప్పుకున్నాడు. కుడి వైపున ఉన్న రెండు కాళ్ళు ఒక అంగుళం కదిలాయి.

ఈ సమయంలో, ప్రణత్ బాబు తిరిగి వచ్చాడు. అతని చేతిలో రెండు కప్పుల టీ ఉంది. అతను, "ముందు, మీరు టీ తాగండి. అప్పుడు నేను మీకు అన్నీ చూపిస్తాను" అని అన్నాడు.

కల్నల్, "మీరు ఈ అల్మారా తెరవండి" అని అన్నాడు.

నేను దానిని తెరుస్తున్నాను. అందులో తాత బట్టలు మరియు పుస్తకాలు తప్ప మరేమీ లేదు.

ప్రణత్ బాబు చెక్క అల్మారాను తెరిచాడు. కల్నల్ అల్మారా లోపల వెతకడం ప్రారంభించినట్లు అనిపించింది, "నేను మీ తాత సూట్‌కేస్‌ను చూడాలనుకుంటున్నాను."

తోలు సూట్‌కేస్‌లో కొన్ని బట్టలు మరియు ఒక ఫైల్ కూడా కనుగొనబడ్డాయి. ఫైల్‌లోని పత్రాలను చూస్తూ, కల్నల్, "మీ తాతగారు స్టాక్ మార్కెట్ బ్రోకర్ అని నాకు అర్థమైంది!" అన్నాడు.

అర్థమైందా? కానీ నేను ఇంకా నా తాతగారి పత్రాలను పరిశీలించలేదు.

మేనేజర్ ప్రభాత్‌బాబుకు ఫోన్ చేయి. నేను అతనితో ఒకటి లేదా రెండు మాటలు మాట్లాడాలనుకుంటున్నాను.

ప్రణాత్‌బాబు ఆశ్చర్యపోయి, "అతన్ని పిలవడం సరైందేనా?" అన్నాడు.

మీరు అతన్ని పిలవండి."

కల్నల్ గొంతు దృఢంగా ఉంది. ప్రణాత్‌బాబు వెళ్ళిపోయాడు. కానీ అతను వెళ్ళగానే, ప్రభాత్‌బాబు అతనిని దాటి వచ్చాడు. ప్రణాత్ కూడా తిరిగి వచ్చాడు. ప్రణాత్‌బాబు తలుపు దగ్గర నిలబడి వింటూ ఉంటాడని నేను అనుమానించాను. కల్నల్, "రండి, ప్రభాత్‌బాబు, నేను మీతో ఏదో మాట్లాడాలి" అన్నాడు.

ప్రభాత్‌బాబు క్లుప్తంగా నవ్వి, "మీరు లాల్‌బజార్ నుండి వచ్చారని నాకు అర్థమైంది. కానీ సార్, మీరు చాలా ఆలస్యంగా వచ్చారు. హరనాథ్ చనిపోయే ముందు దొంగిలించబడిన వస్తువులను గుర్తుంచుకున్నాడు."

కల్నల్ అన్నాడు, "దొంగిలించబడిన వస్తువులు. దాని అర్థం ఏమిటి?"

అంటే, నీకు బాగా తెలుసు. కానీ నేను ఆ ఏడు-ఐదులలో లేను. హరనాథ్ నాకు చెప్పేవాడు, కస్టమర్‌కి చూపించు. స్వాగతం. నేను అతని మాట పట్టించుకోలేదు.

కానీ విషయం ఏమిటి?

హరనాథ్ ఏమీ అనలేదు. కాబట్టి ఆ వస్తువు ఏమిటో నాకు తెలియదు. నాకు తెలిసినదల్లా ఆ వస్తువు ధర చాలా ఎక్కువగా ఉందని మాత్రమే. హరనాథ్ లక్షకు పైగా ధర గురించి సూచించాడు. ఈ గూటి యజమాని అయిన నా యజమాని కోటీశ్వరుడు. హరనాథ్ కూడా రహస్యంగా అతని దగ్గరకు వెళ్ళాడు. కానీ అతను కూడా దానిని కొనడానికి ధైర్యం చేయలేదు. ఆ వ్యక్తిని తరిమికొట్టమని చెప్పాడు. కానీ నేను అతన్ని ఎలా తరిమికొట్టగలను? ఈ పరిసరాల్లోని అందరు గూండాలు మరియు దుష్టులు హర్నాథ్ చేతుల్లో ఉన్నారు.

ప్రణత్ కోపంగా అన్నాడు, "నువ్వు ఏం చెబుతున్నావు ప్రభత్దా! నా తాత-

ప్రభాత్‌బాబు అతన్ని ఆపి, నువ్వు కాలువ కోసి మొసళ్లను తెచ్చావు" అన్నాడు. ఇప్పుడు నువ్వు బండి పట్టుకో, పను! ఈ విషయాల్లో నన్ను ఇరికించకు. అని చెప్పి గది నుండి వెళ్ళిపోయాడు. ప్రణత్ బాబు మంచం మీద కూర్చుని, "నాకు ఏమీ అర్థం కాలేదు. నా తాత ఒక దేశదిమ్మరి, కానీ ఎవరూ అతన్ని దొంగ అని నిందించలేదు. మరియు అతని వద్ద విలువైన దొంగిలించబడిన వస్తువులు ఉంటే, నాకు అవి దొరకలేదా? అతను వాటిని అమ్మినా, డబ్బు ఎక్కడికి పోయింది?"

కల్నల్ సిగరెట్ తీసుకున్నాడు. నేను, "ఇప్పుడు మీ తాత దొంగిలించిన వస్తువులను లేదా అతను వాటిని అమ్మిన డబ్బు కోసం ఎవరో మీ ఇంట్లోకి ప్రవేశించినట్లు అనిపిస్తుంది" అని అన్నాను.

ప్రణత్ బాబు దాదాపుగా "ఈ ఇంట్లో అలాంటిదేమీ లేదు" అని అరిచాడు.

కల్నల్ గడియారం వైపు చూస్తున్నాడు. అతను, "మీ తాత సమయం డబ్బు అని చెప్పాడు. కాదా?"

అవును సార్.

సమయానికి మరియు గడియారానికి మధ్య సంబంధం ఉంది. మీరు నన్ను గడియారం సరిచేయనివ్వరు?

దాన్ని సరిచేయడానికి చాలా డబ్బు ఖర్చవుతుంది. నాకు అంత డబ్బు ఎక్కడ లభిస్తుంది?

నా ఖర్చుతోనే దాన్ని నేను సరిచేస్తాను. గడియారం ఆన్ చేస్తే, మీ ఇంట్లో ఇక దెయ్యాలు ఉండవని నేను అనుకుంటున్నాను. ఆ కదలని గడియారమే మీ ఇంటికి దయ్యాలను తీసుకువస్తోంది.

ప్రణత్‌బాబు ఖాళీగా చూస్తూ ఉండిపోయాడు.

కల్నల్ ఒక కుర్చీని లాగి గోడ గడియారం కిందికి వెళ్ళాడు. తర్వాత అతను కుర్చీపైకి ఎక్కి ఆ భారీ గడియారాన్ని కిందకు దించాడు. "నువ్వు ఒకటి లేదా రెండు రోజుల్లో నా దగ్గర నుండి దానిని తిరిగి ఇస్తావు. నేను ఒక పెద్ద కంపెనీకి దాన్ని మరమ్మతు చేయిస్తాను" అని అన్నాడు.

ఎలియట్ రోడ్‌లోని మూడవ అంతస్తు అపార్ట్‌మెంట్‌కు తిరిగి వచ్చి, కల్నల్ గడియారాన్ని తెరవడం ప్రారంభించాడు. నేను, "నువ్వు అన్నీ వదిలి ఈ గడియారాన్ని ఎందుకు తీసుకున్నావు?" అని అన్నాను.

కల్నల్ నవ్వాడు, ఎందుకంటే సమయం డబ్బు.

కల్నల్! ఈ కదలని గడియారం మీ మెదడును కూడా స్తంభింపజేసిందని నేను భయపడుతున్నాను.

కల్నల్ డయల్ గ్లాస్ తెరిచి, తాను ఏమి చూడగలడో చూడటానికి గ్లాసులో పెట్టి, "ఇప్పుడు అది స్పష్టంగా చదవగలిగేలా ఉంది" అని అన్నాడు. కుమార్ బహదూర్ ప్రమథనారాయణ చౌదరి డెబ్బై ఒకటవ జన్మదినోత్సవం సందర్భంగా, ఆయన నిజాయితీ మరియు నిజాయితీకి గాను శ్రీ జయగోబింద్ రాయ్ కు బహుకరించబడింది...

నేను ఆశ్చర్యపోయాను. కల్నల్! ఇది సైదాబాద్ ప్యాలెస్ నుండి వచ్చిన బహుమతి. ఈ బహుమతి హర్నాథ్ చేతుల్లోకి ఎలా వచ్చింది?

డార్లింగ్! హర్నాథ్ అంటే జయగోబింద్. హర్నాథ్ సూట్‌కేస్‌లో కొన్ని పాత నేమ్ కార్డులు నాకు దొరికాయి. చూడు, హర్నాథ్ తన పేరు మార్చుకోవడం ద్వారా ప్యాలెస్‌లో కేర్‌టేకర్‌గా ఉద్యోగం పొందాడు.

నాకు అర్థమైంది. కానీ నెక్లెస్ ఎక్కడికి పోయింది?

నువ్వు మర్చిపోతున్నావు, జయంత్! హర్నాథ్ మరణించినప్పుడు, పాను! సమయం డబ్బు అని అన్నాడు. గుర్తుంచుకోండి. పానుబాబుకు ఫార్ములా అర్థం కాలేదు. నెక్లెస్ రాత్రి 12:30 గంటలకు దొంగిలించబడింది. అందుకే హర్నాథ్ దానిని 12:30 గంటలకు ఈ గడియారంలో ఉంచాడు. మరియు నెక్లెస్— అని కల్నల్ డయల్ తెరిచి లోపల నుండి ఎర్ర వెల్వెట్ చుట్టిన ప్యాకెట్‌ను బయటకు తీశాడు. ప్యాకెట్ తెరవగానే, మెరిసే వజ్రాలు మరియు ముత్యాలు ఉన్న బంగారు అంచుగల హారము కనిపించింది. కల్నల్ చిన్నగా నవ్వి మళ్ళీ అన్నాడు, "సమయం డబ్బు!" కానీ ఇప్పుడు నాకు అర్థమైంది హరనాథ్ ఆ హారాన్ని ఎలా దొంగిలించాడో. చూడండి, హారము వెనుక ఉన్న క్లిప్ సరిగ్గా జతచేయబడలేదు. దానిని సులభంగా తెరవవచ్చు లేదా అది దానంతట అదే రావచ్చు. కొత్త వధువు పెళ్లి పార్టీలో ఉండాలి. ఆమె నిద్రపోతోంది. ఆ సమయంలో, హారము పడిపోయి ఉండాలి. బహుమతుల బాధ్యత కేర్ టేకర్ చూసుకునేది. ఆమె ఆ అవకాశాన్ని వదులుకోలేదు. స్పష్టంగా ఉందా?

నేను తల ఊపాను, అంతా స్పష్టంగా ఉంది. సమయం డబ్బు, ఇది కూడా స్పష్టంగా ఉంది.
**** ముగిసింది ****

Address

Kolkata

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when ISmart Riyaj posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share