17/03/2026
্টওয়ার্ক
েখনী
#অন্য বসন্ত
শীতের শেষে গাছ তার সকল অভিমান শুকনো পাতায় লিখে নিজেকে রিক্ত করে নিয়েছে। গত বসন্তে সমগ্র মন জুড়ে এক উদাস বিকেল বিচ্ছেদের কবিতা লিখেছে। আজ মানুষটা একই আছে, শুধু বসন্তটা একটু আলাদা, এ যেন ভালোবাসার অন্য বসন্ত।
রিকি আর শুভ সদ্য বিবাহিত, বাড়ি জুড়ে এখনো জুঁই আর চন্দ্রমল্লিকার সুবাস ওদের সত্যি হওয়া স্বপ্নের প্রমাণ দিচ্ছে। স্বপ্নই তো, বাস্তবে কখনও চারপাশ এত রঙিন হয়ে আসে? ব্যাকগ্রাউণ্ডে বাজতে থাকে? “তোমাকেই ভালো লেগেছে, তাই তোমার উঠোন সাজিয়ে দিলাম মন ভালো করা আলোয় ”।
রিকি – চুলের জলের কয়েকফোঁটা মুখে ছিটিয়ে দেবো,ওঠ বলছি। এবার কিন্তু সত্যি দেরি হয়ে যাচ্ছে।
শুভ – স্বপ্নে তোকে আরও সুন্দর লাগে রে। খোলা চুল, কানের পাশে কাঠগোলাপ।
রিকি - আর কী দেখলি?
শুভ - জীবনানন্দ দাশের কবিতার মত নেশা ওই দুটো চোখে।
রিকি - ছাড় বলছি, স্বপ্নই দেখ। ঘড়িতে কটা বাজে দেখ।
শুভ - সময় কি আর আবেগের ব্যাথা বোঝে রে?
রিকি – তুই যে এত কথার জাল বুনতে পারিস,জানতাম না তো।
শুভ – শোন, আলগা পিঠে জল আলপনা আঁকতে চাওয়া মন কি আর এখন সময়ের রসহীন তত্বকথা বুঝতে চায়?
রিকি – এই যে আমায় আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে আছিস, তোর নিশ্বাসের কি ভীষণ উষ্ণতা। কেমন সোনালী আভা দেখ, মনে হচ্ছে একরাশ রঙিন প্রজাপতিরা আমাদের ভালোবাসার সাক্ষী হতে এসেছে।
শুভ – তবে, মাঝে এই কয়েক মিটারের দূরত্ব কেন?কাছে আয় আরও, ততটা, যতটা দূরত্বের অভাবে বাতাস বইতে গিয়েও অভিমানে গাল ফুলিয়ে ফিরে যায়।
রিকি – এবার কিন্তু তুই আর অফিস যেতে পারবি না।
ভালোবাসার আকাশ সিঁদুরে লাল হয়ে আসে। দুটো ঠোঁট মিলে যায়, ঠিক যেন দিগন্তরেখা। দীর্ঘকাল ধরে এক হওয়ার অপেক্ষায় ছিল।
কলমে : জয়ত্রী
অঙ্কনে: মানসী
#একক