13/09/2026
|| ঊর্মি মালা ||
১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যাটি এক রূপকথায় মোড়া সন্ধ্যা হয়ে স্মৃতিতে অমলিন থাকবে। 'সময়চারী'-র উদ্যোগে আমার ও রুবাইয়ের যৌথ গুরুপ্রণাম অনুষ্ঠিত হল গতকাল ICCR প্রেক্ষাগৃহের যামিনী রায় আর্ট গ্যালারিতে প্রবাদপ্রতিম শিল্পী শ্রীমতী ঊর্মিমালা বসুকে ঘিরে, তাঁর জন্মদিনের প্রাক্কালে। 'আশি' কেবল সংখ্যা মাত্র! বা, দিদির নিজের কথায় 'আশি' আসলে আঠারো বছর বয়সের সঙ্গে মাত্র বাষট্টি বছরের অভিজ্ঞতার সঞ্চয়! সেই অভিজ্ঞতার ফসল একজন কিংবদন্তী, যাঁর পরিচয় ঊর্মিমালা বসু। কেক কেটে জন্মদিন পালন নয়, মিষ্টি, পায়েস আর ফুলের আঘ্রাণে সেই জন্মোৎসবের সূচনা। সঙ্গে ছিল জগন্নাথ বসুর আশীর্বাণী।
কবি অদিতি বসুরায় বলেছিলেন ঊর্মিদির আশি হতে পারে না! তিনি তো আসলে চিরদিনের রাইকিশোরী! সেই কিশোরীর আখ্যানে মেয়েবেলা, যৌবন, বিবাহ, সংসার, আর্মহার্স্ট স্ট্রিট, টালা পার্ক সব উঠে এল স্মৃতির ফ্রেম থেকে অন্তরঙ্গ আলাপচারিতায়। শিল্পী সুজয় প্রসাদ চট্টোপাধ্যায় কথায় কথায় আহরণ করে আনলেন 'ত্রাতা', 'আকরিক', 'অলকানন্দার পুত্রকন্যা'-র ঊর্মিমালাকে যিনি মঞ্চের অভিব্যক্তিময়ী শিল্পী, একজন স্বকীয় সত্ত্বাধিকারী অভিনেত্রী -- কেবল পরিপূরক নন; বোধ ও সাধনার সংমিশ্রণে যিনি আজকের কিংবদন্তী । আমি একজন গুণমুগ্ধ ছাত্র হিসেবে ফিরে দেখতে চাইলাম 'কথানদী'-র শিক্ষার দিনগুলি। শ্রুতিনাটক শিল্পের অতীত ও বর্তমান মিলেমিশে গেল ঊর্মিমুখরতায়।
কিংবদন্তীর শ্রুতিনাট্যরূপে স্বপ্নময় চক্রবর্তীর 'গিরিবালার গল্প' অভিনীত হল, যেখানে সময়চারী প্রণত হল কথানদীর আঙিনায়। সৌমিত্র বসুর নাটক 'পড়ন্তবেলায়' -এর অভিনয়ে কথানদী শিল্পীদল ছুঁয়ে গেলেন কিংবদন্তীর সেই জীবন-সম্পৃক্ত অর্জনকে। আর, শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের গল্প অবলম্বনে দিদির নাট্যরূপে 'ভূত-ভবিষ্যৎ' আদতে সময়চারীর শ্রদ্ধার্ঘ্য সেই বহমানতার প্রতি।
ধ্বণি প্রক্ষেপণে সিংহ ইলেকট্রিক্সের হয়ে অসিত দাস, আবহপ্রয়োগে প্রণব দত্ত আর চলমান মুহূর্তকে ধরে রাখার কাজে রাজর্ষি মিত্র অনবদ্য ভূমিকা পালন করলেন।
সবটুকু যে এত সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে উপস্থাপিত হল তার সব কৃতিত্ব মেহেন্দি চক্রবর্তী ও তার দলের ছেলেমেয়েগুলির -- রাহুল, দেবলীনা, রেশমি, অর্শিয়াদের। ব্যবস্থাপনা ও আয়োজন যে কতটা নান্দনিক হতে পারে তার পরিচায়ক এই ছবিগুলি।
আর, ম্যান অব দ্য ম্যাচ দর্শক-শ্রোতারা, যাঁরা তিন ঘন্টা ধরে ধৈর্য আর ভরপুর আনন্দ নিয়ে পূর্ণ প্রেক্ষাগৃহে করতালি আর উষ্ণতায় ভরিয়ে রাখলেন। ক্ষমাপ্রার্থী আমরা তাঁদের কাছে যাঁরা দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে অনুষ্ঠান দেখেছেন, শুনেছেন।
আর কি কখনো কবে, এমন সন্ধ্যা হবে ?
ছবি-ঋণ : মেহেন্দি চক্রবর্তী