07/01/2025
আশীর্বাদ ছবির সেটে কিছুদিন থেকেই বিষয়টি খেয়াল করেছেন তাপস পাল। তবে সব কথা জিজ্ঞাসা করা যায় না। দাদার কীর্তি ছবির সময় থেকে দুজনে অনেক ছবি করেছেন একসঙ্গে। আড্ডা দিয়েছেন, বিমানে বা গাড়ীতে পাশাপাশি বসে বহুদূর যাত্রা করেছেন। তবুও একটু ইতস্তত করছিলেন তাপস। এমন সময় চায়ের বিরতিতে মহুয়া বাইরে এসে বসলেন তাপসের পাশে। সিগারেট খাবেন বলে তাপস বাইরে এসেছিলেন। মহুয়ার চোখের দিকে তাকিয়ে তাপস কিছু একটা বলতে যাবেন এমন সময় মহুয়া বললেন, "এই গন্ধটা আমার ভালো লাগে"। তাপস বললেন "একটা খেয়ে দেখবে নাকি?" একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে মহুয়া বললেন, "থাক, এ নিয়েও কথা হবে"।
তাপসের মনে হল তিনি কথা বলার সূত্র পেয়ে গেছেন। বিষয়টি প্রথম নজরে এসেছিল অঞ্জন চৌধুরীর বাড়িতে। মেয়ের জন্মদিনের পার্টি দিয়েছিলেন অঞ্জন চৌধুরী। অনেকটা পান করার পর মহুয়া যখন চলে যাচ্ছেন তখন অঞ্জন চৌধুরী তাপসকে বলেন মহুয়াকে একটু পৌঁছে দিতে। একই বাড়ীতে উপরে আর নীচের ফ্ল্যাটে থাকেন মহুয়া আর অঞ্জন চৌধুরী। তাপস মহুয়ার সঙ্গে নেমে এলেন সিঁড়ি দিয়ে। মহুয়ার স্বামী তিলকের সঙ্গে তাপসের অনেকদিনের পরিচয়। তিলকের দাদা বেশ কয়েকটি ছবি পরিচালনা করেছেন। দাদার সমস্ত কাজকর্ম তিলক ই দেখতেন। সেই সূত্রেই তাপসের সঙ্গে আলাপ গভীর হয়। সেদিন ডোরবেল বাজাতেই দরজা খুলে তিলক কিছু একটা বলতে যাচ্ছিলেন কিন্তু তাপসকে দেখেই একটা অনিচ্ছার হাসি দিতেই তাপস বলেছিলেন "আমি চলি"। মুখের ভাব, চোখের চাহনি দেখে সেদিন অস্বস্তি হয়েছিল তাপসের। তাই আজ প্রশ্ন করেই ফেললেন, "তোমার কি মন খারাপ?" বেশ কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন মহুয়া। তাপসের মনে হল, এটা খোলা জায়গা তাই মহুয়া কাঁদতে পারছেন না। একসময় ধীরে ধীরে মহুয়া বললেন, "আমি ভালো নেই তাপস, বাবা, বর কেউ আমার ভালো চায়না। সবাই আমার টাকা চায়, ক্ষমতা চায়। আমাকে কেউ চায়না। শুধু ছেলেটার মুখ চেয়ে নিজেকে বোঝাই। নইলে..
অঞ্জন চৌধুরীর শত্রু ছবির শুটিংয়ের সময় দুটো গুজব শুনেছিলেন তাপস পাল। অঞ্জন চৌধুরীর সঙ্গে মহুয়ার একটা সম্পর্ক আছে। বিষয়টির জোরে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেছিলেন মহুয়া। টালিগঞ্জ পাড়ায় এরকম গুজব অনেক শুনেছেন তাপস তাই পাত্তা দেননি।
আজ মহুয়ার চোখের দিকে তাকিয়ে তাপসের সন্দেহ হল, মহুয়া কিছু করে বসবে না তো! এমন সময় আশীর্বাদ ছবির পরিচালক বীরেশ চট্টোপাধ্যায় এসে মহুয়াকে বললেন, "কাল আউটডোর, মনে আছে তো?"
#দীপপ্রকাশন