13/07/2022
ALMA MATER
তিলধারণের জায়গা নেই সিঁড়ি তে। গোটা স্কুলটাই মনে হয় হামলে পড়েছে নীচে। বেথুন স্কুল থেকে সরস্বতী পূজো র নিমন্ত্রণ জানাতে হেড মিস্ট্রেস এসেছেন আর সঙ্গে এসেছে গুটিকতক লাল ফিতে সাদা মোজা। ব্যস স্কটিশ চার্চ কলেজিয়েট স্কুল এর বুভুক্ষু ছেলেগুলোর বুকে তখন নচিকেতা লাফাচ্ছে। নাইন্টিজ এর পতাকাবাহক আর সেই দশকের স্কুলছাত্র, এটা কে ভবিষ্যৎ কোন কম্বিনেশনে ফেলবে জানি না তবে আমরাই হ্যালির ধূমকেতু থেকে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ সবটাই গ্রহণ করেছি সানন্দে।
আমাদের সময় স্কুলে প্রবেশ করতে পরীক্ষা দিতে হতো। এখন যেমন বাবা মা মৌখিক পরীক্ষা দেয় সেরকম নয়। লেখা পরীক্ষা । সে এক যুদ্ধ বটে। সেই যুদ্ধ জয় করে আমি যখন মায়ের হাত ধরে মানিকতলায় বাস থেকে নামছি প্রথম দিন, বেশ অদ্ভুত একটা অনুভূতি হয়েছিলো । প্রাথমিক পেরিয়ে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গন্তব্যস্থল হাতিবাগান। বাসস্থান থেকে স্কুল যাওয়ার বাসও পালটে গেল। ততদিনে বেশকিছু বন্ধুত্বের শিকড় গজিয়েছে। এবার তারা ডালপালা মেলবে৷ বলা বাহুল্য আরও অজস্র নতুন বন্ধুও হবে৷৫০ পয়সার বাসভাড়া থেকে ১ টাকার কুলের আচার, রেডিয়াম স্টিকার, কাগজের বল আর পিচবোর্ড এর ব্যাট এর ছক্কায় বন্ধু চল, বলটা দে বলতেই হেডস্যারের চোখরাঙানি৷
আর ছিলেন আমাদের শিক্ষকেরা,স্বমহিমায়। নিজ নিজ শিল্পকলায় পারদর্শী তাঁরা সেই অমর শিল্পকলা প্রয়োগ করেছেন আমাদের ওপর। নিপুণ কৌশলে ডাস্টার ছোড়া হোক বা হাতের আঙুল মুচড়ে দেওয়া কিংবা তিনটে স্কেল একসাথে করে তার মোটা দিক দিয়ে আক্রমণ, সমস্ত কিছুর গিনিপিগ ছিলাম আমরা। তখন খুব রাগ হলেও এখন মনে হয় ওঁরা ছিলেন বলেই আমাদের মতো গিনিপিগদের মানুষ করতে পেরেছিলেন।
পাশ করে স্কুল ছেড়েছি একুশ বছর। কিন্তু স্কুল আমাকে ছাড়েনি৷ হাতিবাগান চত্বরের আশেপাশে গেলেই সে জানান দেয় তার অভ্যন্তরীণ আজীবন উপস্থিতি। যদিও আমি তাকে প্রশয়েই আশ্রয় দিয়েছি। এখনও স্কুলের সামনের দোকানটা আছে, গেটের বাইরে মায়েদের মেগাসিরিয়াল আছে, বৃষ্টিতে জল জমে যাওয়া আছে। নেই শুধু সেই ইউনিফর্মটা যেটা পরে স্কুলের গেট পেরিয়ে তরতরিয়ে সিঁড়ি বেয়ে উঠে যাওয়া যেত। আর বসে পড়া যেত প্রিয় বন্ধুর পাশে। টিফিন ব্রেকে খেলা দিয়ে খিদে মিটিয়ে ছুটির সময় মায়ের কাছে আবদার করে কিছু একটা খেতে খেতে ফেরা, সেই দিনগুলোয় ফেরা হবে না আর।
Happy birthday Scottish Church Collegiate School
©️ সৌরভ ঘোষ