23/03/2026
# # প্রাপ্তি
# # প্রাপ্তি শব্দটি বেশ গোলমেলে। অনেকেই টাকা পয়সা দিয়ে বা কিছু বস্তু দিয়ে পরিমাপ বা ওজন করে থাকেন। অনেকেই আবার আর একটু অন্যরকম ভাবে প্রাপ্তিকে ভাবেন।
প্রাপ্তির ভাবনা নানাজনের কাছে নানারকম এই ব্যাপারে কোনো দ্বিমত বা দ্বিধা নেই। আমার কাছে প্রাপ্তি হলো ছোট ছোট খুশির মুহূর্ত । বৃষ্টির উপর ফোঁটা ফোঁটা বাবল তৈরি হতে দেখেছি। মুগ্ধ হয়ে চেয়ে থেকেছি। মিলিয়ে যাক। মিলিয়ে তো যাবেই। তবুও কি মধুর ছবি।
যাক,ধান ভানতে শিবের গীত করতে ইচ্ছে করছে না। আসল কথায় আসি। এই প্রথম যখন স্মার্টফোন পেয়ে ফেসবুক খুললাম,কি যে ভয় করতো তা বোঝানো কঠিন। এপাশ ওপাশ থেকে ভয় ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে, খবরদার, ফেসবুক কিন্তু খতরনক জায়গা। সাবধান এবং সাবধান।
তা ভয়ে ভয়ে লিখছি। ভালো লাগছে। খুব সাধারণ মানুষ আমি। ঘর সংসারের কাজ সেরে একটু আধটু লিখি। খবরের কাগজে লেখা পাঠিয়ে হা পিত্যেস হয়ে বসে বসে অপেক্ষা করা, তারপর হয় ছাপবে,না হলে ছাপবে না,তার থেকে কী ভালো যে হলো, লেখার সঙ্গে সঙ্গে ছাপা অক্ষরে দেখতে পাচ্ছি। চোখের পলক পড়ার চেয়েও কম সময়ে দুনিয়া ঘুরে বেড়াচ্ছে। কী মজা! কী মজা! দুই চার জন পড়ছেন। এটাও কি কম প্রাপ্তি নাকি ?
তেমনই এক প্রাপ্তির কথা আজ বলতে ইচ্ছে করছে, বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও লেখক (ওকালতির বই ) শ্রদ্ধেয় আবদুর রহমান মহাশয় দাদার সঙ্গে পরিচয় হওয়া। দাদা আমার লেখা পড়েন। বাংলাদেশ থেকে ঘরে বসেই পড়া সম্ভব হয় এই নেটওয়ার্কের জন্য। করোনার সময় আসতে পারছেন না এদেশে। তবুও একজন নাট্যকার দাদার মারফত আমার লেখা উপন্যাস **নদীর নাম ঈশানী** ও **ঈশানী নদীর বাঁকে** সংগ্রহ করেছেন। তবে আনন্দের ব্যাপার সেই বই দাদার হাতে অনেক কয়েকমাস পর পৌঁছায় অনেকের পড়ার পর।
আর দাদার ইচ্ছে ছিল কলকাতায় ডাক্তার দেখাতে এলে অবশ্যই আমার সঙ্গে দেখা করবেন। গতবছর এসেছিলেন আনন্দ প্রকাশনের স্টলে। আমিও গিয়েছিলাম দেখা করতে। কিছু ছবি তোলা হলো। খুব সুন্দর মুহূর্ত কাটালাম। প্রাপ্তির ঝুলি কিছুটা ভর্তি হলো।
আর আজকের কথাটা বলি, হঠাৎ কিছুদিন আগে জানান, দাদা কলকাতায় আসছেন। আমিও এখন উত্তরপাড়ায় আছি। কাজেই আনন্দ প্রকাশনের স্টলে দাদা এসেছিলেন আমার লেখা পরবর্তী দুটি উপন্যাস সংগ্রহ করার জন্য।
আমিও গিয়েছিলাম।
কলোজস্ট্রিট বর্ণপরিচয় মার্কেটের দোতলায় আনন্দ প্রকাশনের স্টলে আজ বিকালে খুব সুন্দর মুহূর্ত কাটালাম। ছবি তুললাম। প্রাপ্তি হলো এক অকল্পনীয় আনন্দ। আমার সন্তান যাচ্ছে বাংলাদেশে।তাও আবার বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও লেখক দাদার কাছে। এই প্রাপ্তি অমূল্য আমার কাছে।
আপনমনে দিনের শেষে যা মনে আসে তাই লিখি। ঈশানী সিরিজের বীণা সেই ছোট্ট থেকে বড়ো হয় রাঢ় বাংলার জনজাতির মধ্যে, তাদের মাঝে তাদের মতো হয়েও তাদের মতো না,অদম্য ইচ্ছা শক্তি কাজে লাগিয়ে হায়ার সেকেন্ডারি পাশ করে কলকাতায় চলে আসে পড়তে ঈশানী নদী পার হয়ে। বীণার বেড়ে ওঠার মাঝে ঘটে যায় কত কী ...!
জানতে গেলে তো অবশ্যই পড়তে হবে ঈশানী সিরিজের চারটি বই।
সেই ঈশানী যখন রীতিমতো তৃতীয় মুদ্রণে পা বাড়িয়েছে, পাঠকের অন্তরে ঢুকেছে, তার থেকে বড়ো প্রাপ্তি আর কি হতে পারে? শান্তি শান্তি শান্তি। জীবনে যা কিছু প্রাপ্তি তা যদি শান্তি এনে দেয় তা তো স্বর্গীয় উপহার।
কথা বলতে ভালোবাসি।বকবক করতে ভালোবাসি। এর থেকে বেশি লিখলে সত্যিই পাঠক নামের ঈশ্বরের কানে তালা ধরে যাবে,থুড়ি,কানে নয়, মনে বিরক্ত এসে যাবে। মানে মানে কেটে পড়ি,কেটে আর কোথায় পড়বো? কয়েকটি ছবি দিয়ে শেষ করছি।
ভালো থাকুক পৃথিবীর সবাই।
মালা মুখোপাধ্যায়
২৩.৩.২৬.