26/10/2022
কালীপুজোর কদিন আগে থেকেই, বিকেলটা ছোটো হয়ে আসে। গাছের পাতায় পাতায় অন্ধকার জমা হয়, জলাশয়ের ওপরে আবছা ধোঁয়ার মতো কিছু দেখা যায়। ঝুপ করে সন্ধে নেমে আসার সাথে সাথে দূরের কোন বাড়ি থেকে ভেসে আসে শঙ্খের আওয়াজ। হাইস্কুলের অন্ধকার বারান্দা থেকে নেমে আসা লম্বা সিঁড়ির দিকে তাকিয়ে গা টা ছমছম করে ওঠে। সিঁড়ির দুপাশে দাঁড়িয়ে দেবদারু গাছ দুটো যেন নিজেদের মধ্যে ফিসফিসিয়ে কথা বলে ওঠে। এতক্ষণ কিচির মিচির করে ক্লান্ত হয়ে পাখিগুলো ঘুমিয়ে পড়ে গাছের আড়ালে। ঠিক সেই সময় একটা হালকা ঠান্ডা হাওয়া বয়ে যায় ধুলো উড়িয়ে। পুকুর পাড়ে খেজুর গাছের পাতাগুলো হঠাৎ নড়ে ওঠে, ওপারের ঘাটের সিঁড়িতে কারো পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়, ইচ্ছা হয় এগিয়ে গিয়ে দেখতে....ঠিক তক্ষুনি ঝোপঝাড় নাড়িয়ে একটা ছোট্ট শিয়াল দৌড়ে পালায়। একটা হাল্কা শীতলতা আচ্ছন্ন করে ফেলে ধীরে ধীরে, ভয় হয়, মনে হয়, আর ফেরা হবে না।
মাঠের প্রান্তে ধুলো ধুলো রাস্তায় হাঁটতে ইচ্ছা করে না। অনেক দূরের বাড়িগুলোয় জ্বলে ওঠা আলো আবছা ভাবে চোখে পড়ে। অনেকদিন আগে বন্ধ হয়েও একা দাঁড়িয়ে থাকা ঝুপড়ি দোকানটা যেন হাতছানি দিয়ে ডাকে। মাঠের মধ্যে পায়ে চলা রাস্তায় কেউ বহুদূর থেকে লন্ঠন হাতে হেঁটে আসে। হঠাৎ পিছন থেকে কেউ স্পর্শ করে যায়। কাউকে দেখা যায়না। চারিদিকে অসংখ্য ছায়া ছায়া অবয়ব ভেসে ওঠে কুয়াশার সঙ্গে। দূর থেকে পুরোনো রেডিওর আওয়াজ পাওয়া যায়। একটা নাম না জানা বিষন্নতা আচ্ছন্ন করে ফেলে। কুয়াশায় আবছা হয়ে যাওয়া কোন পুরোনো বাড়ির বারান্দায় আবছায়া নারীমূর্তিকে দেখে বুকটা কেঁপে ওঠে।
ছায়ামূর্তির শরীরে, কতগুলি হাত দেখা যায় যেন.....?
Artwork by Demion