05/03/2026
স্মৃতির পাতায় চাড়ালখালি শিক্ষা ভবন
আগে মাধ্যমিক পরীক্ষার পর অধিকাংশ সময় আনন্দবাজার পত্রিকায় হিঙ্গলগঞ্জ ব্লকের মধ্যে একমাত্র চাড়ালখালি শিক্ষা ভবনের নাম খবরে থাকত কৃতী ছাত্রছাত্রীদের জন্য। মালেকান ঘুমটি, শ্রীধরকাটি, গোবিন্দকাটি, যোগেশগঞ্জ, দেউলী, দুলদুলী, সাহেবখালি এমনকি মালঞ্চ থেকেও ছাত্রছাত্রীরা চাড়ালখালি পড়তে আসত। চাড়ালখালি র প্রাক্তনীরাই ডব্লসিএস অফিসার, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার, ডাক্তার, প্রফেসর, নার্স, পদ্মশ্রী প্রাপক, পুলিশ, রেল স্টাফ, ট্যুরিস্ট গাইড, ব্যাংক,বীমা, বিদ্যুৎ বিভাগে কর্মরত আর শিক্ষকতার সাথে যুক্ত তো কয়েক শত - স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে সফলতার সাথে কাজ করছে। যাদের প্রত্যেকের মূল শিকড়টা কিন্তু ওই চাড়ালখালি তেই। সেদিনের সেইসব ছোট ছাত্রছাত্রীরা আজ সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। তখন স্কুলে কারেন্ট ছিল না, এমনকি স্কুলে পায়খানাও ছিল না । আর এখন স্কুলে সবই আছে, নেই শুধু কৃতী ছাত্র ছাত্রীরা। কোনো ছাত্র ছাত্রীরা স্টার হয়ে জন্মায় না, তাদেরকে তৈরি করেছিল চাড়ালখালি শিক্ষা ভবনের শিক্ষকরা; স্যাররা আপ্রাণ চেষ্টা করত, নেপথ্যের কারিগর তাঁরাই। আর এখন স্কুলে পার্টির ক্যাডার সিভিক টিচারাই পড়াচ্ছে। এ কথা ভাবার কোনো কারণ নেই যে তখন সব স্থানীয় স্যাররা ছিল, অমল বেরা স্যার, দুলাল স্যার তাদের জীবনটাই কেটেছে ওই চাড়ালখালি তেই। তাছাড়া তমালি দি, রেজাউল স্যার, সুধাংশু স্যার তো ছিলই। ঝন্টু স্যার আসে অনেক পরে। এখন গরমে রাস্তায় যদি কেউ ৩- সাড়ে ৩ ঘণ্টা রেগুরাল জার্নি করে গরম তো লাগবেই। ১৫দিন স্কুলে বা স্কুলের পাশে শিক্ষকদের নিজেদের মত অস্থায়ী থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করলে তো হয়ে যায় কেননা ওটা প্রফেশন। এখন বি এস এফ রাও যদি বলে খুব গরম পড়েছে সীমান্তে পাহারা দেবো না সেটা কি চলতে পারে? রেল গ্রুপ ডি এর মত বিভিন্ন ক্ষেত্রে অন্য প্রফেশনের কথা একটু ভাবলে গরম কিন্তু সবার লাগে তাই বলে তারা কি কাজ বন্ধ রেখেছে?? ছাত্রছাত্রীদের স্কুলটাই ভালো লাগে, পূজার সময় একটানা ২০-২৫ দিন ছুটিটা বিরক্ত লাগতো। না তখনও কিন্তু মিড ডে মিল সেই ভাবে চালু হয়নি । কয়েক মাস পর পর চাল আর মাঝে মাঝে সেদ্ধ ডিম দেওয়া হত। আর বর্ষায় কাঁচা রাস্তায় এক হাঁটু পাক হত ।তারপর হলো ইট পরে সিমেন্টের ঢালাই। এখন সরকারের পুরো শিক্ষা দপ্তর জেলে , নিজেরা চুরি করল আর শিক্ষকরা হল "চোর ডাকাত "চিরকুটে চাকরি পাওয়া " শিক্ষকরা যাতে DA আন্দোলন নিয়ে একজায়গায় বসে "ঘেউ ঘেউ" করতে না পারে তাই পরিকল্পনা মাফিক শিক্ষকদেরও বাড়িতে বসিয়ে রাখতে চাইছে সরকার। এক ঢিলে দুই পাখি আর কি, যাতে ছাত্রছাত্রীদের পড়াশুনার প্রতি আগ্রহ কম হয়, যত ড্রপ আউট হবে তত দলের ঝান্ডা ধারী বাড়বে আর নতুন স্টাফ নিয়োগ করতে হবে না...