29/10/2023
Ar8চালার পক্ষ থেকে সকলকে be lated লক্ষীপুজার শুভেচ্ছা ..🙏🙏
এই নজরকারা মা লক্ষীদেবীর ছবিটি একটি বটতলা প্রিন্ট এর ছবি। কিন্তু কি এই বটতলা প্রিন্ট ?! আসুন জেনে নেই।
ইংরেজ শাসনকালে, বিদেশ থেকে প্রথমবারের জন্য প্রিন্টিং প্রেস মেশিন আসে দক্ষিণ ভারতে, বিশেষত খ্রিস্টানিটি প্রচার ও সরকারি কাজের সুবিধার্থে। কিন্তু ক্রমে তা মাদ্রাস প্রেসিডেন্সি ঘুরে বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি তে এসে থিতু হয়।
এইরকম অভিনব একটা জিনিস, দেশীয় বাঙালি হিন্দুদের কাছে খুবই আকর্ষণীয় একটি বিষয় হয়ে দাড়ায়। যে জিনিষ ইশতেহার করে হাতে লিখতে বেশি সময় নিত, সেখানে কাঠের ব্লকের অক্ষর খোদাই করে, তাতে কালি মাখিয়ে ছাপতে অনেক কম সময় লাগে। ফলে, বহু স্বাদেশিরা প্রিন্টিং প্রেস মেশিন কিনে ছবি প্রিন্ট করা শুরু করে। প্রথম প্রথম শুধু লেখাপত্র ছাপা হলেও, পরবর্তী কালে কাঠের ব্লকের ওপর কাঠ খোদাই করে ছবিও বাজারে আসতে শুরু করে। সেইসব ছবির মাধুর্য সবাইকে অভিভূত করে ফেলতে লাগলো সহজেই...প্রতিটি বাঙালির হাতের মুঠোয় চলে আসতে থাকে রংবেরংয়ের ছবি, প্রিন্ট, আরও কত কি। ধীরে ধীরে বেশ কয়েক ঘর বাঙালিরা কলিকাতার শেয়ালদহ অঞ্চলের বৈঠকখানা বাজারের বটতলায় বসে এই প্রিন্টিং এর ব্যবসা শুরু করে। প্রিন্টিং প্রেস বলতে তখন খর টালির চাল দেওয়া অস্থাই কিছু দোকানঘর, যা পরবর্তীকালে পরিচিত হয় "বটতলা প্রিন্ট" নামে।
বিভিন্ন প্রকার বই প্রিন্ট করে থাকতো তারা... ছবি, বেদ, পুরান থেকে শুরু করে পদ্য,কবিতা, পঞ্জিকা, ব্যানার, পোস্টার, থিয়েটারের ছবি, এমনকি একটু পরের দিকে বড়দের erotic বইও ছাপা হতো..তবে বেশিরভাগ ধর্মকেন্দ্রিক বই পত্র ও দেব দেবীর প্রতিকৃতিই বেশি করে ছাপা হতো এই স্থানে। প্রিন্ট আসার পর, ক্ষীণ হয়ে আসতে থাকে কালীঘাটের পটুয়াদের দিন, কারণ যে ছবি হাতে আঁকতে সময় লাগে, তা অনায়াসে ছাপিয়ে মানুষের কাছে পৌঁছানো যায়। ফলে ধীরে ধীরে সেই পটের চাহিদা কমে আসে..আবার photography আসার পর, এই সব প্রিন্টের ছবি হারিয়ে যেতে থাকে সময়ের কালচক্রে।
বটতলার প্রিন্ট আজ ইতিহাস, কিন্তু আজও একটু বৈঠকখানার আসে পাশে খোঁজ নিলেই শুনতে পাবেন পিদিমের মতন টিমটিম করে জ্বলতে থাকা প্রিন্টিং প্রেসের টরেতক্কা আওয়াজ, কাগজের ফরফর শব্দ আর হারানো সেই বটগাছ..
...Ar8চালার সঙ্গে থাকুন, সুস্থ থাকুন 🙏🙏