বেণুদার বৈঠকখানা - Benudar Boithawk’khana

  • Home
  • India
  • KOLKATA
  • বেণুদার বৈঠকখানা - Benudar Boithawk’khana

বেণুদার বৈঠকখানা - Benudar Boithawk’khana সাহিত্য , সিনেমা . . আর সঙ্গীত

৪ঠা জুলাই : স্বামী বিবেকানন্দের তিরোধান — এক মহাজীবনের শেষ প্রহরের ইতিহাস ভারতবর্ষের ইতিহাসে এমন কিছু দিন আছে , যা কেবল ...
04/07/2026

৪ঠা জুলাই : স্বামী বিবেকানন্দের তিরোধান — এক মহাজীবনের শেষ প্রহরের ইতিহাস

ভারতবর্ষের ইতিহাসে এমন কিছু দিন আছে , যা কেবল একটি তারিখ নয় — এক একটি যুগের সমাপ্তি , এবং নতুন যুগের সূচনার প্রতীক। ১৯০২ সালের ৪ জুলাই ছিল তেমনই একটি দিন।
সেদিন সন্ধ্যায় বেলুড় মঠের গঙ্গাতীরে নিভে গিয়েছিল এক উজ্জ্বল প্রদীপ। মাত্র ঊনচল্লিশ বছর বয়সে মহাসমাধিতে লীন হন স্বামী বিবেকানন্দ। কিন্তু তাঁর দেহাবসান কোনো সমাপ্তি নয় — বরং তাঁর ভাবনা, আদর্শ এবং কর্মের এক নতুন অভিযাত্রার সূচনা।

স্বামীজী বহুবার ঘনিষ্ঠ শিষ্যদের কাছে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে তিনি দীর্ঘ জীবন লাভ করবেন না। তাঁর একটি বিশেষ বিখ্যাত উক্তি— " আমি চল্লিশ বছর পার করব না . ." তখন অনেকে একে কেবল ভবিষ্যদ্বাণী ভেবেছিলেন। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় , তিনি সত্যিই ৩৯ বছর ৫ মাস ২৪ দিন বয়সে দেহত্যাগ করেন।

১৯০২ সালের ৪ জুলাই সকালটি ছিল অত্যন্ত শান্ত। বেলুড় মঠে তিনি স্বাভাবিক নিয়মেই দিন শুরু করেন। ধ্যান ও প্রার্থনার পর শিষ্যদের সঙ্গে সংস্কৃত ব্যাকরণ এবং বেদান্ত নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ থেকে জানা যায় , সেদিন তাঁর কণ্ঠে ছিল অদ্ভুত প্রশান্তি এবং মুখে এক অনাবিল দীপ্তি। দুপুরে তিনি সন্ন্যাসী ও ব্রহ্মচারীদের সঙ্গে আহার করেন এবং মঠের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও কথা বলেন।

বিকেলে তিনি বেলুড় মঠ প্রাঙ্গণে কিছুক্ষণ হেঁটে বেড়ান। গঙ্গার ধারে দাঁড়িয়ে তিনি নীরবে প্রকৃতিকে দেখছিলেন। যেন এক দীর্ঘ কর্মজীবনের শেষে অন্তরের গভীরে প্রস্তুত হচ্ছিলেন এক মহাযাত্রার জন্য।

সন্ধ্যার আগে তিনি নিজের কক্ষে প্রবেশ করেন। ধ্যানে বসেন। উপস্থিত সন্ন্যাসীদের বর্ণনায় জানা যায় , ধ্যানের এক পর্যায়ে তিনি শয্যায় শায়িত হন। কিছুক্ষণ পর একটি গভীর নিশ্বাস নেন , তারপর আরেকটি। এরপর সমস্ত শরীর নিস্তব্ধ হয়ে যায়। সময় তখন প্রায় রাত ৯টা ১০ মিনিট। চিকিৎসকদের ধারণা ছিল , মস্তিষ্কের একটি রক্তনালী ফেটে যাওয়ায় তাঁর মৃত্যু ঘটে। তবে রামকৃষ্ণ পরম্পরায় বিশ্বাস করা হয় যে তিনি গভীর যোগসাধনার মাধ্যমে সচেতনভাবেই মহাসমাধি লাভ করেছিলেন।

পরদিন তাঁর দেহ গঙ্গাতীরে চন্দনকাঠের চিতায় দাহ করা হয়। আজ সেই স্থানেই বেলুড় মঠে তাঁর স্মৃতিমন্দির প্রতিষ্ঠিত , যেখানে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ শ্রদ্ধা নিবেদন করতে আসেন।

ঐতিহাসিক গবেষণায় দেখা যায় , স্বামী বিবেকানন্দের জীবনের শেষ কয়েক বছর ছিল শারীরিকভাবে অত্যন্ত কষ্টকর। ডায়াবেটিস , হাঁপানি , স্নায়বিক সমস্যা এবং অনিদ্রায় তিনি ভুগছিলেন। তবুও তিনি দেশ-বিদেশে বক্তৃতা , শিক্ষা , সমাজসেবা এবং রামকৃষ্ণ মিশনের সাংগঠনিক কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখেননি। তাঁর কাছে ব্যক্তিগত কষ্টের চেয়ে জাতির জাগরণ ছিল অনেক বড়।

তাঁর তিরোধানের তাৎপর্য কেবল ধর্মীয় নয় ; এটি ভারতীয় নবজাগরণের ইতিহাসেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তিনি ভারতবাসীকে আত্মবিশ্বাস , মানবসেবা , শিক্ষা , বিজ্ঞানমনস্কতা এবং ধর্মীয় সহিষ্ণুতার শিক্ষা দিয়েছিলেন। তাঁর সেই আহ্বান— " উঠো , জাগো , এবং লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত থেমো না ! "—আজও লক্ষ লক্ষ তরুণের প্রেরণার উৎস।

৪ জুলাইয়ের একটি আশ্চর্য ঐতিহাসিক তাৎপর্যও রয়েছে। যে দিনে আমেরিকা স্বাধীনতা লাভ করেছিল , সেই দিনেই আমেরিকায় ভারতীয় দর্শনের অন্যতম প্রধান দূত স্বামী বিবেকানন্দ দেহত্যাগ করেন। অনেক গবেষক এটিকে নিছক কাকতালীয় ঘটনা হিসেবে দেখলেও , অনেকে এর মধ্যে প্রতীকী অর্থ খুঁজে পান — বিশেষ করে পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে যে সেতুবন্ধন তিনি নির্মাণ করেছিলেন, তারই এক গভীর স্মারক যেন এই তারিখ।

আজ , তাঁর তিরোধান দিবসে আমরা কেবল এক মহান সন্ন্যাসীকে স্মরণ করি না ; স্মরণ করি এক দার্শনিক , এক দেশপ্রেমিক , এক মানবতাবাদী এবং এক বিশ্বনাগরিক’কে। তাঁর জীবন আমাদের শেখায় — মানুষের প্রকৃত শক্তি তার আত্মবিশ্বাসে , তার সেবায় এবং তার চরিত্রে।

স্বামী বিবেকানন্দের দেহ একদিন বিলীন হয়েছে , কিন্তু তাঁর আদর্শ আজও জীবন্ত। গঙ্গার ঢেউ যেমন অবিরাম বহমান , তেমনি তাঁর বাণীও যুগে যুগে নতুন প্রজন্মকে জাগিয়ে তুলবে। তাই ৪ঠা জুলাই কোনো শোকের দিন নয় , বরং এটি আত্মজাগরণ , কর্ম এবং মানবসেবার এক অনন্ত আহ্বানের দিন।

© বেণুদার বৈঠকখানা - Benudar Boithawk’khana

জন্মদিনের পাশাপাশি আজকে আপনার তিরোধান দিবস হলেও , বৈঠকখানার সকল আড্ডাবাজ সদস্য আপনার জন্মদিনটিকেই মন-মগজে রেখে পালন করবে...
01/07/2026

জন্মদিনের পাশাপাশি আজকে আপনার তিরোধান দিবস হলেও , বৈঠকখানার সকল আড্ডাবাজ সদস্য আপনার জন্মদিনটিকেই মন-মগজে রেখে পালন করবে। আপনাকে স্মরণ করবে। আপনার চরণে নতমস্তকে প্রণাম করবে। কারন আমরা বিশ্বাস করি , নক্ষত্রের মরন হয়না। নক্ষত্রের বিনাশ নেই। আপনি থেকে যাবেন আজীবন। বাংলার ইতিহাসে। ভারতবর্ষের ইতিহাসে। শুভ জন্মদিন বাংলার রুপকার। শুভ জন্মদিন বিধান ডাক্তার। প্রণাম , আর শ্রদ্ধা . . ❤️

সংখ্যার জাদুকর — ডক্টর প্রশান্ত চন্দ্র মহলানবীশকিছু মানুষ শুধু নিজের সময়কেই বদলান না , ভবিষ্যতের পথও আলোকিত করে যান। শ্...
28/06/2026

সংখ্যার জাদুকর — ডক্টর প্রশান্ত চন্দ্র মহলানবীশ

কিছু মানুষ শুধু নিজের সময়কেই বদলান না , ভবিষ্যতের পথও আলোকিত করে যান। শ্রী প্রশান্ত চন্দ্র মহলানবীশ ছিলেন তেমনই একজন মানুষ। তিনি ছিলেন সংখ্যার জাদুকর , পরিসংখ্যানের পথিকৃৎ এবং আধুনিক ভারতের পরিকল্পনার অন্যতম স্থপতি।

১৮৯৩ সালের ২৯ জুন , কলকাতার এক শিক্ষিত ও সংস্কৃতিমনা পরিবারে তাঁর জন্ম। ছোটবেলা থেকেই তাঁর কৌতূহল ছিল অসাধারণ। চারপাশের পৃথিবীকে তিনি শুধু চোখ দিয়ে দেখতেন না — বুঝতে চাইতেন গভীরভাবে। স্কুলজীবন শেষ করে , তিনি পড়াশোনার জন্য পাড়ি জমান ইংল্যান্ডের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানে পদার্থবিজ্ঞান নিয়ে পড়ার সময়ই তাঁর হাতে আসে একটি পরিসংখ্যান বিষয়ক সাময়িকী। সেই ছোট্ট ঘটনাই যেন তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

অনেকেই সংখ্যাকে শুধু অঙ্কের খেলা মনে করেন। কিন্তু ডক্টর মহলানবীশ বুঝেছিলেন , সংখ্যার মধ্যেই লুকিয়ে থাকে মানুষের জীবন , সমাজ ও দেশের প্রকৃত চিত্র। তিনি বিশ্বাস করতেন , সঠিক তথ্য ও বিশ্লেষণ ছাড়া কোনো দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়।

দেশে ফিরে তিনি প্রেসিডেন্সি কলেজে অধ্যাপনা শুরু করেন। কিন্তু তাঁর স্বপ্ন ছিল আরও বড়। ১৯৩১ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউট বা আইএসআই। তখন হয়তো খুব কম মানুষই বুঝতে পেরেছিলেন , এই প্রতিষ্ঠান একদিন বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ পরিসংখ্যান গবেষণা কেন্দ্রে পরিণত হবে।

ডক্টর মহলানবীশের সবচেয়ে বড় অবদান ছিল ' নমুনা সমীক্ষা ' বা Sample Survey পদ্ধতির উন্নয়ন। তিনি দেখিয়েছিলেন , দেশের প্রতিটি মানুষের তথ্য সংগ্রহ না করেও একটি ছোট , বৈজ্ঞানিকভাবে নির্বাচিত নমুনা থেকে পুরো দেশের অবস্থা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য ধারণা পাওয়া যায়। আজ বিশ্বের অসংখ্য গবেষণা , জনগণনা ও অর্থনৈতিক সমীক্ষায় এই পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়।

স্বাধীনতার পর ভারতবর্ষের উন্নয়ন পরিকল্পনাতেও তাঁর ভূমিকা ছিল অনন্য। তিনি দেশের দ্বিতীয় পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার মূল রূপকারদের একজন ছিলেন। তাঁর চিন্তাধারা ছিল স্পষ্ট —ভারতকে এগিয়ে নিতে হলে শিল্প , বিজ্ঞান ও তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনার ওপর জোর দিতে হবে। তাঁর প্রস্তাবিত " মহলানবিশ মডেল " দীর্ঘদিন ভারতের অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

তবে তাঁর সাফল্যের গল্প শুধু গবেষণাগার বা সরকারি নথির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি ছিলেন এক দূরদর্শী চিন্তাবিদ , যিনি বিজ্ঞানের শক্তিকে মানুষের কল্যাণে ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন। তাঁর কাছে পরিসংখ্যান ছিল কেবল সংখ্যার হিসাব নয় — ছিল সমাজকে বোঝার একটি শক্তিশালী ভাষা।

১৯৭২ সালে আজকের দিনে , অর্থাৎ ২৮শে জুন তিনি পৃথিবী ছেড়ে পরলোকে যাত্রা করেন। কিন্তু তাঁর রেখে যাওয়া কাজ আজও জীবন্ত। ভারতের জাতীয় পরিসংখ্যান দিবস তাঁর জন্মদিন অর্থাৎ ২৯শে জুন , উপলক্ষে পালন করা হয়। এটি শুধু একজন বিজ্ঞানীকে স্মরণ করার দিন নয় ; এটি তথ্য , যুক্তি ও বৈজ্ঞানিক চিন্তার গুরুত্বকে সম্মান জানানোর দিন।

ড. প্রশান্ত চন্দ্র মহলানবীশ আমাদের শিখিয়েছেন যে বড় পরিবর্তন আনতে সবসময় বড় শক্তির প্রয়োজন হয় না। কখনও কখনও একটি সংখ্যা , একটি তথ্য কিংবা একটি সঠিক বিশ্লেষণই বদলে দিতে পারে একটি দেশের ভবিষ্যৎ। তাই তিনি শুধু একজন পরিসংখ্যানবিদ নন . . তিনি ছিলেন আধুনিক ভারতের স্বপ্ন নির্মাতাদের অন্যতম।

আজও যখন আমরা কোনো সমীক্ষার ফলাফল দেখি , কোনো অর্থনৈতিক পরিকল্পনার কথা শুনি কিংবা তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্তের গুরুত্ব উপলব্ধি করি , তখন নীরবে স্মরণ করি সেই মানুষটিকে —যিনি সংখ্যাকে দিয়েছিলেন জীবনের স্পন্দন , আর তথ্যকে করেছিলেন জাতি গঠনের হাতিয়ার।

© বেণুদার বৈঠকখানা - Benudar Boithawk’khana

বিশ্বসাহিত্যের আকাশে বেশ কিছু নক্ষত্র আছে , যাদের আলো শুধু সাহিত্যকেই আলোকিত করে না , বরং সময় , সমাজ এবং ইতিহাসকেও প্রশ...
19/06/2026

বিশ্বসাহিত্যের আকাশে বেশ কিছু নক্ষত্র আছে , যাদের আলো শুধু সাহিত্যকেই আলোকিত করে না , বরং সময় , সমাজ এবং ইতিহাসকেও প্রশ্ন করতে শেখায়। সালমান রুশদি সেই বিরল নক্ষত্রদের একজন। তাঁর জীবন যেন এক মহাকাব্যিক চলচ্চিত্র — যেখানে আছে স্বপ্ন , সৃজনশীলতা , বিতর্ক , নির্বাসন , আঘাত এবং শেষ পর্যন্ত এক অবিচল প্রত্যাবর্তনের গল্প।

সালমান রুশদির জীবন আমাদের শেখায় যে শব্দের শক্তি কখনও তলোয়ারের চেয়ে কম নয়। একজন লেখক কেবল গল্প বলেন না — তিনি সময়কে প্রশ্ন করেন , ইতিহাসকে পুনরায় পড়েন এবং মানুষের চিন্তার সীমানাকে প্রসারিত করেন। তাই রুশদিকে শুধুমাত্র একজন ঔপন্যাসিক বলা যায় না। বরং তিনি সাহস , স্বাধীনতা এবং কল্পনার এক জীবন্ত প্রতীক।

শুভ জন্মদিন ফিনিক্স পাখি। শুভ জন্মদিন আহমেদ সলমন রুশদি। একাত্তরে আপনাকে স্বাগত। ভালো থাকবেন স্যার . .

Salman Rushdie

© বেণুদার বৈঠকখানা - Benudar Boithawk’khana

সিগারেটটা অ্যাস করে অরূণোদয় বললো —" কিন্তু সকালে যে মৃদুলদের পার্টি অফিসের সামনে দেখলাম বড়ো করে চে-এর একটা পোস্টার লাগ...
14/06/2026

সিগারেটটা অ্যাস করে অরূণোদয় বললো —

" কিন্তু সকালে যে মৃদুলদের পার্টি অফিসের সামনে দেখলাম বড়ো করে চে-এর একটা পোস্টার লাগিয়ে জন্মদিন পালন করা হচ্ছে? "

কথার রেশ ধরে সৌহার্দ্য বললো —
" গোটা ফেসবুক জুড়ে দেখছি চে-এর জন্মদিন উপলক্ষে হাজার একটা পোষ্ট , আর তুমি বলছো চে-এর জন্মদিন চলে গ্যাছে? তাও এক মাস আগে?‌ উইকিপিডিয়াকে ভুল প্রমাণ করতে চাইছো তুমি? "

কথা হচ্ছিলো বেণুদার বৈঠকখানায় বসে। আজ রোববার। ফলে সকলেরই হালকা ঝাড়া হাত-পা অবস্থা। সন্ধ্যাবেলায় বেণুদার বাড়ি ঢুকতেই বুঝতে পেরে গিয়েছিলাম , আজ অনেকটা দেরি হয়ে গ্যাছে। সকলের উপস্থিতিতে একেবারে আড্ডার মাঝখানে ঢুকে যখন বুঝতে পারলাম আজকের টপিক চে গ্যেভারা , তখনই আন্দাজ করে নিয়েছিলাম , আজ হয়তো একটা হিস্টোরিক্যাল ট্রিপ হতে পারে।

বৈঠকখানার প্রকান্ড জানলাটার দিকে দাঁড়িয়ে আছে বেণুদা। এই জানলা দিয়ে বড়ো রাস্তার দিকটা দ্যাখা যায়। সৌহার্দ্যর কথার পরিপ্রেক্ষিতে বাইরের দিকে তাকিয়েই বেণুদা বললো —

" সবাই যেই ভুলটা করে , তোরা ক্যানো করবি। পড়াশোনা জানা ছেলে তোরা। উইকিপিডিয়াটাও তো মানুষের তৈরি। তা মানুষের যেখানে ভুল হয় , উইকিপিডিয়ার ভুল হওয়াটাও তো একটা অ্যাকসেপ্টেবল ঘটনা হতে পারে ! "

অর্কপ্রভ বললো —
" তাহলে আসল জন্মদিনটা কবে?‌ না , মানে তোর কথা অনুযায়ী আমি যদি মেনেও নি , চে গ্যেভারার জন্মদিন আজ , মানে জুন মাসের চৌদ্দ তারিখ নয় . . তাহলে ওঁর অ্যাকচুয়াল জন্মদিনটা কবে? "

- " ক্যানো? চৌদ্দই মে ! ঠিক এক মাস আগে ! "
বেণুদা বললো। ওর স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে।

গোটা বৈঠকখানা জুড়ে পিন-পড়া নিস্তব্ধতা। বাইরে থেকে আসা গাড়ির ভ্যাঁপ্পর-ভ্যাপ হর্ণ ছাড়া আর তেমন কিছুই কানে আসছে না কারোর। জানলা থেকে মুখ ঘোরালো বেণুদা। সটান এসে সোফায় বসেই ওর শেষ বলা কথাটা রিপিট করলো আরো একবার —

" চৌদ্দই মে , ১৯২৮ সাল . . ভেবে দ্যাখ , এটা এমন একটা সময় , যখন ইতালিতে মুসোলিনির ফ্যাসিবাদী সরকার আরও শক্তিশালী হচ্ছে। বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিকে দমন করার পাশাপাশি রাষ্ট্রের উপর একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া দ্রুততর হচ্ছে ক্রমশ। ওদিকে জাপানে , সম্রাট হিরোহিটো ওনার শাসনকে আনুষ্ঠানিকভাবে সুদৃঢ় করার প্রস্তুতি করে চলেছে। ঠিক এমনই একটা সময় , এই ধর আমরা এখন যেখানে বসে আছি , সেখান থেকে প্রায় ১৭০০০ কিলোমিটার দূরে আর্জেন্টিনার রোজারিও শহরে জন্ম নিলেন এরনেস্তো গ্যেভারা দে লা সের্না। যিনি পরবর্তীকালে সংগ্রামী বিপ্লবের অন্যতম চেনা মুখ এবং আদর্শের অন্যতম প্রতিক হিসেবে বিরাজমান হতে চলেছিলেন।

আর্জেন্টিনায় ' চে ' শব্দটি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্বোধন হিসেবে ব্যবহৃত হয় , এই ধর যেমন বাংলায় আমরা বলি "এই শোন তো ! " কিংবা " ওই বন্ধু "। এরনেস্তো কথাবার্তায় এই শব্দটি বারবার ব্যবহার করতেন বলে তাঁর সহযোদ্ধারা তাঁকে ' চে ' নামে সম্বোধন করতেন।

ভেবে দ্যাখ , একজন পেশাগত চিকিৎসক , একজন অসামান্য লেখক , বিশেষ করে ডাইরী লেখনীতে যাঁর জুরি মেলা ভার , তাঁকে আমরা চিনলাম কি হিসেবে? না একজন বিপ্লবী , চিন্তাবিদ এবং গেরিলা যোদ্ধা হিসেবে। ভদ্রলোক তাঁর যুবক বয়সে লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশে মোটরসাইকেলে ভ্রমণ করবার সময় চরম দারিদ্র্যতা , শোষণ এবং সামাজিক বৈষম্যের নির্মম চিত্র প্রত্যক্ষ করেন। আর বলা বাহুল্য , তাঁর এই অভিজ্ঞতাই তাঁর রাজনৈতিক চেতনার ভিত্তি গড়ে তুলতে সাংঘাতিক রকমের সাহায্য করে। ১৯৫২ সালের এই ভ্রমণের অভিজ্ঞতা পরবর্তীতে বিখ্যাত বই ' The Motorcycle Diaries ' -এ লিপিবদ্ধ হয়। "

হঠাৎ করে একপ্রকার বিরক্তির সুরেই অরুণোদয় বলে উঠলো —
" তা আসল কথাটাই তো তুমি বলছো না। তারিখের ব্যপারটা? সেটাই তো বেমালুম চেপে দিয়ে হুট করে একটা ইতিহাসের ক্লাস করাতে শুরু করে দিলে ! "

সৌহার্দ্য অরূণোদয়কে থামালো। কড়া এক ধমক দিয়ে বললো —
" তোর এই একটা ব্যামো জানিস তো? যেই মুহুর্তেই আসরটা জমা শুরু করে , অ্যামন একটা আলটপকা মন্তব্য করিস , গুলিয়ে গুবলেট হয়ে যায়। ফের করে দ্যাখ , দেবো এক গাট্টা ! "

অর্কপ্রভ অ্যাতক্ষণ চুপ করে গোটাটা শুনছিলো। হঠাৎ করে এক ঝটকায় সোফা ছেড়ে উঠে ওর সেই অতিপরিচিত বাজখাঁই গলায় একটা হুংকার ছেড়ে বললো —
" অ্যাই থামবি তোরা? থাম ! চোপ , একদম চোপ ! বেণু . . ইউ কন্টিনিউ ! "

ঝড়ের গতিতে পরপর অ্যাত কিছু ঘটে যাওয়ায় বেণুদাকে দেখে মনে হলো হালকা গুম্ মেরে গ্যাছে। ও আসলে আশা করতে পারেনি সবাই একসাথে উত্তেজিত হয়ে উঠলে বৈঠকখানার চেহাড়াটা ক্যামন জানি তিন’শো ষাট ডিগ্রী ঘুরে যায়। তা যাই হোক , বাক্স থেকে একটা সিগারেট বার করে , বার তিনেক টোকা মেরে সিগারেটটা ধরিয়ে , ঝড়-পরবর্তী শান্তির আবহাওয়ার মতোন বেণুদা আবার শুরু করলো —

" চে গ্যেভারাকে নিয়ে যে কটা বই , বিশেষ করে আত্মজীবনীমূলক যে কটা বই লেখা লেখা হয়েছে , তার মধ্যে সবচেয়ে বাস্তবসম্মত , তথ্যকেন্দ্রিক এবং বেস্টসেলার বইটির নাম হলো — চে গ্যেভারা : আ রেভলিউশনারি লাইফ ! "

আমি বললাম — " জন লি অ্যান্ডারসন? মানে সেই আমেরিকান সাংবাদিক? "

বেণুদা একটা গর্বের হাসি হেসে বললো —
" Exactly your honour! পড়া আছে নাকি? "

অপ্রস্তুত হয়ে বললাম —
" ছোটোমামার বাড়ি বইটা দেখেছি। আর জন লি অ্যান্ডারসনের বেশ কিছু লেখা , যেমন ধরো কিছু আর্টিকেল আমাকে পড়তে হয়েছে , গ্র্যাজুয়েশনের সময়। "

বেণুদা উত্তর দিলো —
" ভেরি গুড , তাহলে আর দেরি না করে ছোটোমামার থেকে গোল্ডমাইনটা নিয়ে পড়ে ফ্যাল জলদি। এসব বই , ওই আসলে কি বলতো , গরম কচুরির মতোন। পাতে রাখতে নেই বেশিক্ষণ। গরম গরম চালান করে ফেলতে হয়। সে যাকগ্গে , কোথায় ছিলাম যেন ? "

গোটা বৈঠকখানা কাঁপিয়ে একসাথে চারজন বলে উঠলো —
" জন লি অ্যান্ডারসন !! "

- " আজ্ঞে , হ্যাঁ !
তা লেখক মহাশয় বইয়ের শুরুতেই একটা চমকপ্রদ বিষয়ের ওপর আলোকপাত করেছিলেন। যা না পড়লে , বা না দেখলে এই ব্যাপারে আমি জানতে পারতাম না কোনোদিন।

চে গ্যেভারা মা ছিলেন সেলিয়া গ্যেভারা। ওনার এক ঘনিষ্ঠ জ্যোতিষ বন্ধু হিসেব কষে বলেছিলেন যে , চে গ্যেভারার জীবন হবে এক্কেবারে সাদামাটা — আর পাঁচজন মানুষের মতোই। বর্ণহীন , অ্যাডভেঞ্চারহীন। ম্যাড়মেড়ে। ১৯২৮ সালের ১৪ই জুন জন্ম ন্যাওয়া চে , যেহেতু মিথুন রাশির জনক , সেহেতু সেই জ্যোতিষী বন্ধুটির হিসেবটাই হয়তো মাথা পেতে ন্যাওয়া যায়। কিন্তু আমারা জানি , আমরা বলাটা ভুল হবে , মিস্টার অ্যান্ডারসন বুঝেছিলেন , বাস্তবটা একেবারেই আলাদা। ক্যাননা , সেলিয়া গ্যেভারার সেই বন্ধুটির হিসেব পরবর্তীকালে চে গ্যেভারা একেবারেই ভুল প্রমাণ করেন। কারন আদতেই তাঁর জীবনকে আর পাঁচটা সাধারণ জীবনের সাথে তুলনা করা যায় না। "

এখানেই বিরতি নিয়ে বেণুদা উঠে দাঁড়ালো। জানলাটার সামনে গিয়ে স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে একটা সিগারেট ধরিয়ে আবার শুরু করলো —

" অ্যান্ডারসনের এই নোটগুলো যখন সেলিয়া গ্যেভারার সামনে আনা হয় , তখন প্রায় প্রকাশ্যেই ওনাকে বলা হয়েছিল যে নয় এই গণণা ভুল , অথবা সেই জ্যোতিষ বন্ধু ভাগ্য গণনার কিছুই জানত না , অথবা চে-র জন্মদিনটিই ছিল ভুলে ভরা।

আর ঠিক এমন সময় , হেসে ফেলে , সেলিয়া বিশ্ব দরবারের কাছে তিরিশ বছর ধরে লুকিয়ে রাখা গোপন সত্যটা গড়গড় করে আওড়ে ফ্যালেন। তিনি বলেন , চে-এর জন্ম আসলে ১৪ই জুন নয়। ১৪ই মে। কাজেই সে মিথুন নয় — বৃষ রাশির জাতক! আসলে বিয়ের সময় সেলিয়া গ্যেভারা ছিলেন তিন মাসের গর্ভবতী। অতএব এ কথা প্রকাশ্যে জানাজানি হওয়াটা কিঞ্চিত ঝামেলার বটে। সেহেতু সেই পুরনো যুগের মানুষের কথা এড়ানোর জন্য , তাঁর ডাক্তার বন্ধু চে -এর জন্মদিনটা একমাস কমিয়ে , মে-এর জায়গায় জুন মাসে লিখে দ্যান . . ওই ধরে নে , কিছুটা বার্থ সার্টিফিকেটের মতোন ! "

বৈঠকখানায় চা সিঙারা এলো। সকলের মুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছে যে আজকের আড্ডাটা একটা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল। যে জন্মতারিখ নিয়ে আজকের আড্ডাটা , বলা চলে যে তর্ক শুরু হয়েছিল , তার ক্লাইম্যাক্সটা হলো ভারি সুন্দরভাবে। সুষ্ঠুভাবে। সুতরাং . . রোববার জমজমাট ! এবার বরং চা , আর সিঙারায় কনসেন্ট্রেট করি . . ঠান্ডা হয়ে গ্যালে ঠিক জমবে না , ওই ঠিক বেণুদার ভাষায় অ্যান্ডারসনের লেখা চে গ্যেভারা - আ রেভলিউশনারি লাইফ ’এর মতোন . .

© বেণুদার বৈঠকখানা - Benudar Boithawk’khana


আর কয়েক ঘন্টা।‌ রাত পোহালেই ২৩তম ফিফা বিশ্বকাপের সূচনা। ফিফা বিশ্বকাপ কেবল একটি ফুটবল প্রতিযোগিতার নাম নয় - এ যেন বিংশ...
10/06/2026

আর কয়েক ঘন্টা।‌ রাত পোহালেই ২৩তম ফিফা বিশ্বকাপের সূচনা।

ফিফা বিশ্বকাপ কেবল একটি ফুটবল প্রতিযোগিতার নাম নয় - এ যেন বিংশ ও একবিংশ শতাব্দীর মানবসভ্যতার এক চলমান মহাকাব্য। ১৯৩০ সালে উরুগুয়ের মাটিতে যখন প্রথম বিশ্বকাপের সূচনা হয় , পৃথিবী তখনও প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ক্ষত বহন করছে এবং নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে চলেছে। সেই ছোট্ট সূচনা আজ এমন এক বৈশ্বিক উৎসবে পরিণত হয়েছে , যার আবেগ ভাষা, জাতি, ধর্ম ও সীমান্তের সমস্ত বিভাজন অতিক্রম করে মানুষের হৃদয়কে একসূত্রে বেঁধে দেয়।

বিশ্বকাপের ইতিহাসের সঙ্গে রাজনীতির সম্পর্কও গভীর। ১৯৩৪ ও ১৯৩৮ সালের বিশ্বকাপ আসরে ইউরোপীয় স্বৈরতান্ত্রিক শক্তিগুলি নিজেদের জাতীয় মর্যাদা ও ক্ষমতার প্রচারের হাতিয়ার হিসেবে ফুটবলকে ব্যবহার করেছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে ১৯৪২ ও ১৯৪৬ সালের বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিতই হতে পারেনি , যা প্রমাণ করে যে পৃথিবীর বৃহত্তর রাজনৈতিক অস্থিরতা ক্রীড়াঙ্গনকেও স্পর্শ করে।

১৯৭৮ সালের আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ সামরিক শাসনের ছায়ায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল , আর ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে রাশিয়া ও ২০২২ -এ কাতার বিশ্বকাপও আন্তর্জাতিক রাজনীতি , মানবাধিকার ও কূটনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে অবস্থান করেছিল। ফলে বিশ্বকাপ শুধুমাত্র খেলার মঞ্চ নয় , বর্তমান এবং অতীতের রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতারও এক আয়না।

এই দীর্ঘ ইতিহাসে অসংখ্য স্মরণীয় ঘটনা কিংবদন্তির মর্যাদা পেয়েছে। ১৯৫০ সালে মারাকানা স্টেডিয়ামে উরুগুয়ের কাছে ব্রাজিলের অবিশ্বাস্য পরাজয় , যা " মারাকানাজো " নামে পরিচিত , আজও ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম নাটকীয় অধ্যায়। ১৯৮৬ সালে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক দিয়েগো মারাদোনার " হ্যান্ড অব গড " গোল এবং তার কয়েক মিনিট পরেই করা " শতাব্দীর সেরা গোল " বিশ্বকাপকে এক অনন্য নাটকীয়তা উপহার দেয়। ১৯৯৮ সালে ফ্রান্সের প্রথম শিরোপা জয় , ২০১৪ সালে জার্মানির ঐতিহাসিক ৭-১ ব্যবধানে ব্রাজিলকে পরাজিত করা , কিংবা ২০২২ সালে লিওনেল মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনার বিশ্বজয় — প্রতিটি ঘটনাই বিশ্বকাপের মহাকাব্যে নতুন নতুন অধ্যায় যুক্ত করেছে . .

আমি নিজে একজন ব্রাজিল সমর্থক। তাই , বিশ্বকাপের ইতিহাসে ব্রাজিলের তাৎপর্য নিয়ে কয়েকটি কথা বলে রাখতে চাই!

ফুটবলের ইতিহাসে ব্রাজিল যেন এক অনিবার্য মহাকাব্যের নাম। পৃথিবীর নানা দেশের পতাকা যখন বিশ্বকাপের আকাশে উড়েছে , তখন ব্রাজিলের হলুদ-সবুজ জার্সি যেন সেই আকাশেরই এক চির-চেনা রং হয়ে উঠেছে। ১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে অনুষ্ঠিত প্রথম ফিফা বিশ্বকাপ থেকেই ব্রাজিলের যাত্রা শুরু , আর তারপর থেকে এমন কোনো বিশ্বকাপ নেই যেখানে তারা অনুপস্থিত ছিল। এই ধারাবাহিক উপস্থিতি শুধু একটি পরিসংখ্যান নয় — এটি ফুটবলের প্রতি এক জাতির গভীর প্রেম, আত্মপরিচয় এবং সাংস্কৃতিক গর্বের প্রতীক।

বিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে ব্রাজিল যখন অর্থনৈতিক বৈষম্য , রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সামাজিক টানাপোড়েনের ভেতর দিয়ে এগোচ্ছিল , তখন ফুটবল হয়ে উঠেছিল সাধারণ মানুষের আশা ও আনন্দের আশ্রয়।

" মারাকানাজোর " কথা তো এর আগেই বললাম। তবে মনে রাখতে হবে , ব্রাজিলের গল্প কিন্তু পরাজয়ের মধ্যে থেমে থাকেনি। ১৯৬২, ১৯৭০, ১৯৯৪ এবং ২০০২—মোট পাঁচবার বিশ্বকাপ জিতে ব্রাজিল পৃথিবীর সবচেয়ে সফল বিশ্বকাপ দল হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

ব্রাজিলের বিশ্বকাপ ইতিহাসের সঙ্গে রাজনীতির সম্পর্কও কম নয়। ১৯৭০ সালের বিশ্বকাপের সময় দেশটি সামরিক শাসনের অধীনে ছিল। সরকার সেই সাফল্যকে জাতীয় ঐক্য ও রাজনৈতিক বৈধতার প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করেছিল। ফুটবল মাঠের বিজয় তাই কখনও কখনও রাষ্ট্রশক্তির প্রচারণার অংশও হয়ে উঠেছিল। তবুও সাধারণ মানুষের কাছে ফুটবল ছিল ক্ষমতার নয় , আবেগের ভাষা।

ব্রাজিলের এই দীর্ঘ যাত্রাপথে অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্ত জন্ম নিয়েছে। ১৯৫৮ সালে পেলের কান্নাভেজা মুখ , ১৯৭০ সালে ইতালির বিরুদ্ধে দৃষ্টিনন্দন ফাইনাল , ১৯৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে টাইব্রেকারে জয় , কিংবা ২০০২ সালের প্রত্যাবর্তনের মহাকাব্য — সবটাই বিশ্বকাপের ইতিহাসে উজ্জ্বল অধ্যায়। আবার ২০১৪ সালে নিজ দেশের মাটিতে জার্মানির কাছে ৭–১ ব্যবধানে পরাজয়ও ব্রাজিলের ইতিহাসে এক গভীর ক্ষতচিহ্ন হয়ে রয়েছে , যা পূর্বে উল্লেখিত ১৯৫০ সালের মারাকানাজোর স্মৃতিকে নতুন করে জাগিয়ে তুলেছিল!

তবু ব্রাজিলের বিশ্বকাপ-গাথার প্রকৃত তাৎপর্য কেবল ট্রফির সংখ্যায় নয়। এটি এমন এক দেশের কাহিনি , যেখানে বস্তির সরু গলি থেকে শুরু করে সমুদ্রতীরের বালুকাবেলা পর্যন্ত ফুটবল মানুষের স্বপ্নকে রূপ দেয়। বিশ্বকাপের মঞ্চে ব্রাজিল তাই শুধু একটি দল নয়; সে এক সংস্কৃতি , এক আবেগ , এক সঙ্গীতের মতো প্রবহমান ঐতিহ্য , যার ছন্দে প্রজন্মের পর প্রজন্ম নিজেদের পরিচয় খুঁজে পেয়েছে।

সর্বশেষে , বিশ্বকাপের তাৎপর্য এই যে, এটি কেবল বিজয়ী নির্ধারণ করে না — এটি মানুষের স্বপ্ন , আশা , পরিচয় ও জাতীয় গৌরবের এক বিশাল উৎসব। চার বছর অন্তর পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষ যখন একটি বলের গতিপথ অনুসরণ করে , তখন মনে হয় মানবজাতি সাময়িকভাবে তার সমস্ত বিভেদ ভুলে এক অভিন্ন আবেগে মগ্ন হয়েছে। সেই কারণেই ফিফা বিশ্বকাপ কেবল একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয় — এটি ইতিহাস , রাজনীতি , সংস্কৃতি ও মানবিক আবেগের এক অপূর্ব সম্মিলন , যা যুগের পর যুগ ধরে পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ বৈশ্বিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে।

অতএব? রাত জাগা শুরু হোক? নাকি ?

© বেণুদার বৈঠকখানা - Benudar Boithawk’khana

FIFA World Cup FIFA

আড্ডাবাজ বন্ধুদের সুপ্রভাত —বৈঠকখানায় আসা হচ্ছে না বহুদিন হলো। বেশ কিছু ঝামেলায় ফেঁসে গিয়ে মিস হয়ে যাচ্ছে বৈঠকি আড্ড...
10/06/2026

আড্ডাবাজ বন্ধুদের সুপ্রভাত —

বৈঠকখানায় আসা হচ্ছে না বহুদিন হলো। বেশ কিছু ঝামেলায় ফেঁসে গিয়ে মিস হয়ে যাচ্ছে বৈঠকি আড্ডাগুলো। সীমাহীন ব্যস্ততা আর ব্যক্তিগত কিছু ঝুটঝামেলায় জর্জরিত হয়ে সপ্তাখানেক হয়ে গ্যালো নতুন কিছু লেখা হয়নি। তবে কথা দিচ্ছি , আজ সন্ধ্যায় ফিরছি। তোমরাও আসো আমার বৈঠকখানায়। দ্যাখা হচ্ছে।

শুভ জন্মদিন গৌতম চট্টোপাধ্যায় . . বিপ্লব দীর্ঘজীবী হোক !     © বেণুদার বৈঠকখানা - Benudar Boithawk’khana
01/06/2026

শুভ জন্মদিন গৌতম চট্টোপাধ্যায় . . বিপ্লব দীর্ঘজীবী হোক !



© বেণুদার বৈঠকখানা - Benudar Boithawk’khana

🥚
30/05/2026

🥚

Address

Tollygunge
Kolkata
700040

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when বেণুদার বৈঠকখানা - Benudar Boithawk’khana posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share