12/12/2025
--বসতি--
✒️ অঙ্কুশ
ভিটে মাটি আঁখড়া নিলামে ওঠে সবটা,
জমি-জমা, গোরু-মহিষ খামার গুদাম ঘরটা।
হরিচরণের ডান হাতে পোটলা তাতে
ছেঁড়া নোংরা দু পাঁচটা জামা,
দু সিকি পয়সা, কাঁধে ঝোলানো গামছা।
পৌঢ় ফ্যাকাশে পাকা চুল খামখেয়ালি বামুন,
দেনা পাওনা হিসাব নিকাশের কাঙ্গালিপনা।
হাতে না হয় ছিল গোনা কয়েক পয়সা,
ফাটকাবাজিতে তাও নয় ছয় হয়েছে হাতছাড়া।
নয়া বসতির বৃথা খোঁজে দুরান্ত ভিটে ছেড়ে,
দুর্বার স্বপ্ন নিয়ে ফিরিতেছে কূলে এ-কূলে।
একদা বটবৃক্ষের তলে এসে দাঁড়িয়ে,
পোড়া কপালের শত দোষ ভাবি ছিল মনে।
ছেলেবেলার কত স্মৃতি কথা এই বক্ষ তলে
চক্ষুদ্বয় জুড়াইয়া যায়
ক্রমে ক্রমে আবেগে ভাসায়।
তারপর হারিয়ে যায় নিষ্ঠুর বর্তমান,
অবর্ণনীয় চিরন্তন অতীত সম্মুখে দাঁড়ায়।
ইছামতির গা বেয়ে টলটল জলরাশি,
এইখানে খেলা করিত ভানু, দ্বিগবিজয়, অনন্ত আর আমি।
আম আঁটির ভেঁপু, ডাঙ্গুলী, লাট্টু, ছিপ ফেলা যত-
পুঁটি, বাছা, রুই ভুরি ভুরি শত।
আঙ্গন প্রাঙ্গণে ধুলো মেখে পড়ে থাকা-
ছেলেবেলা কৌশরে কাঁটা বিঁধেছে বিলাসবহুল অট্টালিকা।
দূরে সেই সর্ষে ক্ষেতের দিগন্তরেখা
ভাগ বাটোয়ারা দখলের অস্পষ্ট সীমারেখা।
বাল্যকালের হইচই রব ধ্বনী কানে
সুমধুর লাগে চঞ্চলতায় আকুল মন টানে।
ঠাকুমার আদর আর সুরসুরি মখমলের মতো
আদর আবদারের ফুলঝুরি তত।
সেখান থেকে বাঁক নিত করুন দিঘি
বর্ষাকালে টইটুম্বুর ফুলে ফেঁপে থাকতো বৈকি
ল্যাটা, কই, জিওল পাক থেকে তুলি-
বন্ধু-বান্ধব মারামারি ফুর্তি আর সন্ধি।
আলু সেদ্ধ, পান্তা, জুজু বুড়ির গপ্পো
মায়ের বকুনি আর বেত ডান্ডার শব্দ।
পলকের নিমেষে হারায়া গেছে সব
চতুর্দিকে হরিচরণের মতো হাহাকার কলরব।
#বসতি