09/10/2021
ইউনিভার্সিটির গেটের বাইরে অভিষেক খানিক চমকে, খানিক বিস্ময়ে কেমন যেন দিব্যজ্ঞানশুন্য হয়ে দাঁড়িয়ে- কিছুদূরে ফুটপাথে ল্যাম্পপোস্টের তলায় বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটির দিকে হাঁ করে তাকিয়ে থাকল। ওর মনে হল তাকে বহুদিন ধরে চেনে, বেশ চেনা মনে হল মুখটা।
হৃদয়ের কোনো অন্ধ কুঠুরিতে আটকে থাকা বহুদিনের সুপ্ত বাসনা যেন হঠাৎ বাঁচার তাগিদ খুঁজে পেয়েছে। গলা শুকিয়ে আসছিল, নিজের চোখকে সে বিশ্বাস করতে পারছিল না। ওকে ঘিরে থাকা পৃথিবীটাকে আধো ঘুমে জড়ানো স্বপ্নের অবাস্তবতা বলে মনে হল।
কিন্তু... কিন্তু না!
হ্যাঁ, ঠিক তো! তনুশ্রী না? নাম ধরে ডাকতে ভরসা হল না; মেয়েটির দিকে দৌড়ে গেল সে। কিন্তু তখনই মেয়েটি হাত দেখিয়ে একটা বাসে উঠে পড়ল।
অভিষেক পরের দিন ঠিক একই সময় সেখানে অপেক্ষা করতে থাকে। এদিক ওদিক তাকানোর পর দেখতে পায় - তনুশ্রী কিছুদূরে দাঁড়িয়ে।
"হ্যাঁ, ওইতো!" সে সেদিকে এগোয়।
তনুশ্রী প্রথমে চিনতে না পারলেও, পরে চিনতে পারে।
― "তনুশ্রী না? কেমন আছিস?"
― "অভি তুই? কতদিন পর দেখা!"
― "যাক্, ভাবলাম চিনতেই পারবি না হয়তো।"
― "সিরিয়াসলি, দাঁড়িটা আর একটু বড়ো হলে সত্যিই চিনতে পারতাম না!"
― "কেমন আছিস?"
মুখের হাসিটা খানিক ম্লান হয়ে তারপর উত্তর এলো- "এই তো! তোর কথা বল।"
― "সিরিয়াসলি! আগের থেকে কত বদলে গেছিস!"
― "তাই নাকি? তা কি করে বুঝলি?"
― "তা জানি না।"
কথা বলতে বলতে ফুটপাথ ধরে হাঁটতে থাকে দু'জনে। সন্ধে নেমে আসছে। সন্ধের শহরে জ্বলে ওঠা ম্লান বাতিগুলো ভেজা রাস্তার প্রতিবিম্বে যেন এক অন্য শহর সাজিয়েছে। শুকনো বাস্তবের শব্দকে চিরে কত স্বপ্নের ভীড়ে উজ্জ্বল সে শহর। রাস্তার দু'পাশে জ্বলতে থাকা ল্যাম্পপোস্টের সারি যেন অন্ধকার এই শহরের কত বিবর্ন ইচ্ছেগুলোকে জ্বালিয়ে রেখেছে, আর তার বিন্দু বিন্দু আলোরচ্ছটায় গড়ে ওঠা আর এক শহর, তার মাঝে হেঁটে চলা দু'জনকে যেন না চাইতেও অতীতের কত স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়।
ওরা হাঁটতে হাঁটতে শহরের কিছুটা বাইরে, যেখানে কিছুটা সবুজ উঁকি দিচ্ছে, যেখান থেকে দেখা যায় দূরের দিগন্তরেখায় আকাশ, মেঘ সবকিছুকে রাঙিয়ে সূর্য অস্ত যাচ্ছে, সেখানে গিয়ে পৌঁছায়।
― "সত্যি! সময় কত তাড়াতাড়ি চলে যায়। তাই না? কলেজের তিনটে বছর যে কীভাবে কেটে গেল, টেরই পেলাম না।"
― " যা কিছু ভাল, তা চিরকালই স্বল্পস্থায়ী হয়।"
― "কলেজের পর কেরিয়ার নিয়ে বিজি হয়ে গেলাম। তারপর প্রায় একটা বছর আর দেখাই হয়নি তোর সাথে।"
― "থাম্ থাম্। আর সময়ের অজুহাত দিতে হবে না, কেরিয়ার তো সবারই আছে। বাট্ চাইলেই কি যোগাযোগ করা যেত না?"
― "ও, তা তোর সত্যিই যোগাযোগ রাখার ইচ্ছা ছিল? আমি তো ভেবেছিলাম ভুলেই গেছিস!"
― "তোর ছিল না বুঝি? ঠিক্ আছে। আমি চললাম।" বলে তনুশ্রী উঠে যায়, অভিষেক তার হাত টেনে ধরে।
― "দাঁড়া, সত্যিই চলে যাবি?... সত্যি বলতে কী, ইচ্ছে থাকলেও সাহস পাইনি। অ্যাম সরি তনু, আমি হয়তো তোকে বুঝতে পারিনি। তাই কোনোদিন খুলে তোকে কিছু বলতে পারিনি। কিন্তু পরে বুঝলাম... তোকে ভুলে থাকাটা কত কঠিন, হাজার চেষ্টা করেও পারিনি। অ্যাম রিয়েলি সরি!"
― "যা হোক্, সত্যিই বুঝেছিস?"
― "হ্যাঁ"
― "কী বুঝলি?"
― "প্লিজ, আজ আর কথা ঘোরাস না। অবুঝের ভান করিস না।"
― "তাহলে এতদিন কোনো যোগাযোগ করিসনি কেন?"
― "ভাবতাম আমাদের বন্ধুত্বটা হয়তো অতটা গভীরে পৌঁছায়নি। তাই তোকে কিছু খুলে বলতে পারিনি।"
― "কিন্তু, আজ পারবি তো?"
― "আমি নিশ্চিত। নয়তো এতদিন পর তোকে খুঁজে পাওয়ার ইচ্ছেটাও থাকতো কী? ...আই লাভ ইউ তনু। আই রিয়েলি লাভ ইউ।"
তনুশ্রী কোনো কথা বলল না। ওরা আগেও একসাথে ঘুরেছে, গল্প করেছে, সময় কাটিয়েছে। কিন্তু, আজ অভির চোখে তাকিয়ে সে এক অদ্ভুদ আগুন দেখতে পেল, যা সে আগে কখনো দেখেনি। কোথাও একটা অভাবের যন্ত্রনা অদ্ভুদভাবে তাকে তৃষ্ণার্ত করে তুলল। সে অনুভব প্রকাশ করা খুবই কঠিন। দূরে বলাকার দল উড়তে উড়তে বেলাশেষে সূর্যের আভায় মিলিয়ে যাচ্ছে।
✒️ কলমে ~ অর্কপ্রভ মান্না
🖌️ ডিজিটাল আর্টিস্ট ~ ঋজু হালদার
Follow Riju 👉 : https://www.facebook.com/rahul.halder.564
Follow us on Instagram : https://instagram.com/kalpa_jhuri_production?igshid=105174gn3kj8o
Subscribe us on YouTube : https://www.youtube.com/channel/UCkQqkOLp_zUFKbFcbGHZA_w