29/12/2020
স্নেহনীড় পার্ট ১
"বুয়া দা এবার ৫ মিনিট এর বিশ্রাম । আর পারছিনা ।", বলে উঠলো সোনাই । বুয়া দা , মানে আমার ছোড়দা , বরাবর ফাঁকিবাজি এক দম নিতে পারেনা , তার উপর এসেই বলে দিয়েছে আজ রাতে ফিরে যাবে , তাই ১২ টার মধ্যে সব কাজ শেষ করা জরুরি । সোনাই বুঝলো ছোড়দা র থেকে কোনো উত্তর আসবে না , তাই আমাকে দল এ নেবার চেষ্টা করলো , বললো, "টয় দা চলো ব্যাডমিন্টন দেখে আসি ।" ছোড়দা কড়া চোখে তাকালে ও , একটা প্রশয় দেয়া হাসি হাসলো । আর দেরি না করে আমরা রেস্ট নেবার নাম করে ব্যাডমিন্টন খেলা দেখতে চললাম ।
আসলে অনেক দিন পর আমরা তিন ভাই এক সাথে হয়েছি , আর কারণ টা ও একটু অন্য রকম ।
আমরা ৩ ভাই নিজেরা নিজেদের মতো করে প্রতিষ্ঠিত হলে ও , মনের মধ্যে থেকে যাওয়া একটা সুপ্ত বাসনা কে চরিতার্থ করার চেষ্টাই ব্রতী হয়েছি । হঠাৎ ই এক দিন ভাই ফোঁটা র দিন ছোড়দা প্রস্তাব টা নিয়ে এলো, গরিব হতদরিদ্র মানুষগুলোর জন্য কিছু করার , একটা এনজিও প্রতিষ্ঠা করার , আমরা দুই ভাই প্রস্তাবটা প্রায় লুফে নিলাম ।
সোনাই নিজস্ব কিছু চেনা জানা দিয়ে শুরু , আমরা পেয়ে গেলাম সেরকম ই একটা ঠিকানা , 'গদাধরের পাঠশালা '। সুন্দরবন এর পাশে একটা ছোট্ট গ্রাম ।
শুরু হয়ে গেলো আমাদের প্রস্তুতি , ছোড়দার পরিকল্পনা মত ২৫শে ডিসেম্বর ঠিক হলো আমাদের সেই কাঙ্খিত দিন ।
তাই আজ তার ই চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছে । অন্তত ১৫ রকম এর জিনিস একশো টি বাচ্চার জন্য ব্যবস্থা করা যে এতটা কষ্টের হবে তা আমরা বুঝতেই পারিনি । ১০ জনের করে সোনাই পুরোপুরি ক্লান্ত , আমি ২০ টা অব্দি টানতে পারলাম । এর পর এ এলো সোনাই এর আবদার, "একটু রেস্ট দাও বুয়া দা । আর পারছি না " বা "দলের লোক বাড়াও , ১০০ জনের আমাদের ক্ষমতা নেই , ৩০ জন অব্দি ঠিক আছে ।"
নিচ থেকে ব্যাডমিন্টন খেলা দেখে উপরে এসে দেখলাম ছোড়দা একাই অনেকটা গুছিয়ে ফেলেছে । আমরা ও খাবার কথা ভুলে তাড়াতাড়ি কাজে হাত লাগালাম ।
কিন্তু ক্ষিদে টা এতো লাগামছাড়া হয়ে গেলো , সুন্দর বিরিয়ানির গন্ধে , আর না বলে থাকতে পারলাম না , "ছোড়দা চল এবার খেয়ে নিই ।"
ছোড়দা র ঠান্ডা মাথার হাসি দেখে আর দেরি না করে খেতে বসে গেলাম । কিন্তু খাবার পর ই হলো আসল চাপ । শরীর আর নড়তে চাইছিলো না । কিন্তু শেষ করতে তো হতো , তাই লেগে পড়লাম কাজে | রাত ৩ টা অব্দি কাজ করে যখন ৩ জন এ শুতে গেলাম , কারোর ই মনে হচ্ছিলো না পরের দিন সকালে যাওয়া সম্ভব হবে ।
তবে ছোড়দা সবসময় ই একটু অন্যরকম । নিজে ঠিক ৬টার সময় উঠে পড়লো । তবে আমাদের ভাগ্য ভালো ছিল , আমাদের ঘুম থেকে তুলে রেডি হতে বলে নিজে বাড়ি গেলো মেয়ের সাথে দেখা করতে , আর ফ্রেশ হতে ।
ছোড়দা বেরিয়ে যেতে দেরি না করে আমরা আবার লেপ চাপা দিয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম । প্রাকৃতিক টানে আমি যখন চোখ খুললাম , দেখলাম ৭ টা বেজে গেছে । সকাল এর কাজ কর্ম সেরে সবে খবরের কাগজ টা চোখ বোলাতে যাবো , বেল বেজে উঠলো । ভয় এ সোফা থেকে লাফিয়ে উঠলাম , সোনাই কে ও দেখলাম , বিছানায় উঠে বসেছে । ছোড়দা এসে গেছে ।
আমরা ভেবেছিলাম একটা ফোন নিশ্চয় করবে বেরোনোর আগে । কিন্তু বেটা একটা ও ফোন না করেই চলে এসেছে ।
বেশ কিছু বকুনি , রাগ মুহূর্তের মধ্যে আমাদের উপর নেমে এলো । আমি দ্রুত জামা কাপড় পড়তে চলে গেলাম , আর সোনাই বেচারা ব্রাশ টুকু ও করার সময় পেলো না । যাহোক করে লেপ থেকে উঠে প্যান্ট গলিয়ে এ বেরিয়ে পড়লো ।
এর পর এক প্রস্ত গেলো জিনিস তোলা গাড়িতে , সেটা ও কম ঝক্কির ছিল না । গাড়িতে যাহোক করে জিনিস ভরে যখন আমরা রওনা দিতে পারলাম, তখন অন্ততঃ ৮:৩০ বেজে গেছে ।
পুলিশ এর ঝক্কি না পোহাতে হলে ও , আমরা খাওয়া দাওয়া নিয়ে বেশ টেনশন এই ছিলাম । জামতলা পৌঁছনোর পর আমরা খাবার খুঁজতে বেরোলাম । খুব তাড়াতাড়ি একটা পরোটা দোকান পেয়ে গেলাম । পেটায় পরোটা , বেশ অনেকটা করেই সবাই খেয়ে নিলাম , যাতে অন্ততঃ বিকাল ৩-৪ তে অব্দি কোনো খিদে না পাই ।
পরোটা খাবার পর আবার বেরিয়ে পড়লাম সেই গদাধর এর পাঠশালার উদ্দেশ্যে । যাই হোক খুব বেশি দূর যেতে হলো না, কিছু টা যাবার পর ই , ওদের লোক এসে আমাদের কে নিয়ে গেলো ।
ভীষণ অলি গলির রাস্তা যা আমাদের পক্ষে বুঝে যাওয়া বেশ চাপের । কিন্তু আসল স্কুল টির সামনে যখন উপস্থিত হলাম , অত গুলো শিশু আর তাদের মা বাবাদের কোলাহল এ মন টা ভীষণ ভাবে ভোরে গেলো ।
তাহলে আমরা সত্যি পারলাম , এখানে সবাই যেন আমাদের জন্য ই অপেক্ষা করে ছিল । মানুষ গুলো অত গরীব , তবু কোথাও যেন কি ভীষণ আত্মিক বোধ আছে । খুব দ্রুত তাদের খুব কাছের লোক হয়ে গেলাম ।
সোনাই বললো স্নেহনীড় সম্বন্ধে কিছু বলতে । না মাইক্রোফোন , না কিছু প্রস্তুতি , কোথাও যেন নিজের মন থেকেই কিছু কথা বেরিয়ে এলো । যা মানুষ গুলো কে বলার মধ্যেই অদ্ভুত এক শান্তি বিরাজ করছিলো । আমি অবাক হয়ে গেলাম , বনের মধু বা মাছ ধরে যে মানুষ গুলো জীবন নির্বাহ করে , তারা কি ভীষণ শান্ত হয়ে আমাদের কথা শুনলো । ছোট ছোট শিশু গুলো কি যেন বিশাল কিছু পাবার আশায় লাইন দিয়ে চুপ করে দাঁড়িয়ে আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে ।
এর পর এলো সেই সময় , যখন জিনিস গুলো ওদের হাতে তুলে দেবার সময় , আমরা চেয়েছিলাম ছোড়দা ই তুলে দিক সবার হাতে , কিন্তু ছোড়দা সরাসরি না বলে দিলো । ও ওদের একটি ছেলে কে ডেকে নিয়ে তার হাত দিয়ে সব শিশু দের হাতে তুলে দিলো আমাদের আনা ওই কটা সামান্য জিনিস ।
জিনিস গুলোর পাবার পর স্নেহনীড় এর ব্যাগ হাতে তাদের ফটো তোলার বহর দেখে যতটা না হাসি পেলো , তার থেকে অনেক বেশি মন টা ভোরে গেলো এক অনাবিল আনন্দে । জীবন এই অনুভূতি হয়তো অনেকটাই অন্যরকম , যা ভাষায় ব্যাখ্যা করা হয়তো কিঞ্চিৎ শক্ত ।
সমস্ত জিনিস সবাই কে দিয়ে দেবার পর আমরা ৩ জন রওনা হলাম নদী দেখতে । কাছেই সুন্দরবন আর জঙ্গল । তাই দেখার লোভ সামলাতে পারলাম না ।
কিন্তু গ্রামের রাস্তা বুঝতে পারা শক্ত , তাই একটি ছোট ছেলে কে বললাম দেখিয়ে দিতে । সে এক কোথায় রাজি হয়ে গেলো ।
ছেলেটির নাম শুভ , এদিকে এতটা ভদ্রস্থ নাম শুনে বেশ ভালো লাগলো । তাকে জিজ্ঞেস করে জানতে পারলাম , ছেলে টি পড়াশোনা করে , গল্পের বই পড়ে , যা আর পাঁচটা গ্রামের ছেলের তুলনায় একটু আলাদা , আমাদের কে ওখানকার অনেক গল্প বলতে লাগলো ।
সুন্দরবন মানেই সবাই বাঘের গল্প ই শুনতে চাই , ছোট ছেলে , তাই খুব গুছিয়ে বলতে না পারলে ও , এটুকু বুঝলাম ওর কোনো এক পোষ্য আছে, ছাগল , কিছুদিন আগে তার মা কে নাকি বাঘে নিয়ে গেছে । তাই ওর ওই বাঘ টা র উপর ভীষণ রাগ । পেলে মেরেই দেবে ।
গল্প টা শুনে আমরা হাসতে লাগলাম , আর শুভর পিছনে লাগতে লাগলাম । কিন্তু এই হাসির মধ্যে যে আমাদের সত্যিকারের এরকম এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হবে স্বপ্নে ও ভাবিনি ।
সবে নদীর দিকে কিছুদূর এগিয়েছি , সামনে থেকে কিছু লোক কে দেখলাম আমাদের দিকে দৌড়ে আসছে , আর বলছে চলে যান এখান থেকে । শুভর দিকে এক নজর এ তাকাতে, ও বলে উঠলো , "এসেছে বেটা এসেছে , আজ আমি ওকে কিছুতেই ছাড়বো না ।" বলে চিৎকার করে দৌড় লাগালো । আমরা অনেক চেষ্টা করে ও ওকে ধরে রাখতে পারলাম না ।
আমরা ভয় এ পিছিয়ে এলাম , গ্রামবাসী রা ও বললো , আপনারা এখানেই থাকুন , কিছু হবে না । বাঘ এরকম আসে আবার চলে ও যাই । শুধু ওর সামনে কেউ না গেলেই হলো ।
আমি আসতে আসতে এক বার বলে উঠলাম , "শুভর কি হবে ?"
ছোড়দা আমাকে চুপ করতে বললো , আর গ্রামের লোকেরা বললো , "চিন্তা করবেন না, ও গ্রামের ছেলে তো , এসব প্রচুর দেখেছে ।"
তিন জন সামনের দিকে অবাক দৃষ্টি তে দেখতে থাকলাম , আমরা শহরে যেমন ভাবে কুকুর তারায় , অনেকটা সেই ভাবেই বাঘ টা কে উদ্দেশ্য করে শুভ ঢিল মারতে লাগলো ।
দূরে হাঁটতে থাকা বাঘ কে দেখে আমাদের অবস্থা আরো খারাপ হয়ে গেলো । গ্রামবাসীরা কেউ লাঠি , কেউ বা কুড়াল , কেউ বা আগুন এর মশাল হাতে দাঁড়িয়ে আছে । ছোড়দা যখন বললো আপনারা যান ওই ছোট ছেলে টিকে বাঁচান । তখন গ্রামবাসীরা অদ্ভুত এক নীরবতা পালন করলো , "বললো অপেক্ষা করুন , বাঘ টি যদি ভয় এ পালিয়ে যাই , তাহলে ওকে বিরক্ত করে কোনো লাভ নেই ।"
কিন্তু বাঘ টি ভয় এ পালালো না । বরং ছেলেটির দিকে এগিয়ে আসতে থাকলো । এবার দেখলাম একটি ছেলে দেরি না করে , বাঘ টির দিকে একটা লাঠি ছুড়ে দিলো । বাঘ টি একটু ঘাবড়ে গিয়ে , দূরে সরে গেলো । আর সেই ফাঁকে শুভর ছোঁড়া একটা মোটা ইঁট বাঘ টির ঠিক মাথায় লাগলো ।মুহূর্তের মধ্যে বাঘ টি একটি নৌকার পিছনে লুকিয়ে পড়লো । আর মনে হলো যেন বাঘ টির সামনে এর একটি কিছু কালো মতো জন্তু ছুট লাগালো ।
সেই বাঘের কাছ থেকে পালিয়ে আসা জন্তু টি যে শুভর সেই নিজের পোষ্য, সেটা বুঝতে দেরি লাগলো না , যখন সে দৌড়ে শুভর কাছে চলে এলো । ছাগল টি বাঘের হাত থেকে ছাড়া পেয়ে প্রাণ প্রনে দৌড়োতে লাগলো , পিছন পিছন শুভ ও দৌড় লাগালো , হয়তো মনের অনাবিল খুশি আর অদম্য সাহস তাকে সাহায্য করলো ওই ছোট ছাগল টিকে বাঁচাতে । কিন্তু নিজেকে নয় ।
এই অদ্ভুত দৃশ্য দেখে আমাদের সাথে গ্রামবাসীরা ও যখন বিহ্বল , সবাই যখন শুভর সাহসিকতার নিদর্শন দেখে অভিভূত , তখন এ পিছন থেকে এলো সেই রয়্যাল বেঙ্গল এর থাবা । ঘাড়ের উপর না পরে থাবা টা শুভর পা এর উপর এসে পড়লো । গ্রামবাসীরা সচেতন হয়ে যতক্ষণ আগুন বা লাঠি এসব ছুঁড়তে শুরু করলো , ততক্ষন বাঘ টি অন্তিম চেষ্টা করে গেলো শুভ কে বাগে আনার ।
অসম্ভব সাহসী ছেলে টি হাতে ধরা একটি ছোট লাঠি নিয়ে অনবরত বাঘটিকে বাধা সৃষ্টি করতে লাগলো , কারণ সে জঙ্গল এর ছেলে, ভালো করেই জানে বাঘ যদি ঘাড় না ধরতে পারে , তাকে কিছুতেই টেনে নিয়ে যেতে পারবে না ।
এর মধ্যে প্রচুর গ্রামবাসি এসে হাজির হয়ে গেলো , সবাই এর চেঁচামেচি , আগুন আর লাঠির খোঁচায় , বাঘ বেশ কিছু টা পিছু হটলো । শেষ পর্যন্ত শুভর পা ধরে টেনে নিয়ে যাবার চেষ্টা করলো , কিন্তু তাতে ও যখন দেখলো পেরে উঠছে না , সে রণে ভঙ্গ দিলো ।
পালিয়ে গিয়ে জল এ ঝাঁপ দিলো , জঙ্গল এর দিকে চলে গেলো ।
বাঘ চলে যাবার পর আমরা তিন জন দৌড়ে গেলাম, শুভ একটি পা প্রায় পুরোটাই নষ্ট হয়ে গেছে । অসম্ভব রক্ত বেরোচ্ছে তার, যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছে । গ্রামবাসীরা সবাই মিলে ওকে গ্রামীণ হাসপাতাল এ নিয়ে যাবার তোড়জোড় শুরু করলো । সাথে সাথে কোথা থেকে একটি মটর ভ্যান এসে গেলো , তাতে করে শুভ কে নিয়ে ওরা চলে গেলো ।
কিছুক্ষন এর জন্য আমরা পুরোপুরি বাকরুদ্ধ হয়ে গেলাম । এই কিছুক্ষন আগেই যে ছেলেটিকে আমরা হাতে করে স্নেহনীড় এর ব্যাগ তুলে দিলাম , এখন সে মৃত্যুর সাথে লড়াই করছে । যে ছেলেটি আমাদের কে নদীর রাস্তা দেখিয়ে এগিয়ে আসছিলো , যার ছোট ছোট কথা শুনে আমরা মজা করছিলাম , সে এমন এক সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে , নিজের ছোট পোষ্য কে বাঁচানোর জন্য জীবন বাজি দিয়ে দেবে , আমরা মুহূর্তের জন্য ও ভাবতে পারিনি ।
মনের একটা অজানা মন খারাপ আর অসম্ভব সাহসী একটি ছেলের তার নিজের পোষ্যর প্রতি প্রেম দেখে আমরা ধন্য । যে উদ্দেশ্য নিয়েই আজ এখানে এসে থাকি , সব কিছুই অতি নগণ্য হয়ে গেলো এই ঘটনাটির কাছে । গাড়িতে উঠে এলাকা ছেড়ে যখন বেরিয়ে আসছি , মনের আনাচে কানাচে কোথায় যেন শুভ ই খেলা করতে লাগলো, তার সেই কথাবার্তা , সরল হাসি , খালি পায়ে হেঁটে যাওয়া , আর নির্বোধ পশুর প্রতি ভালোবাসা ।
জানিনা শুভ বাঁচবে কিনা , আবার তার সাথে কোনো দিন দেখা হবে কিনা , তার যন্ত্রনা ভরা মুখে নিজের পোষ্য টির দিকে তাকিয়ে মুখের মধ্যে খেলে যাওয়া হালকা হাসি , সব ই যেন অন্যরকম ।
স্নেহনীড় কে নিয়ে হয়তো আমরা আরো পথ এগোবো , জীবনে আরো অনেক মানুষ এর কাছে যাবার সুযোগ আসবে । কিন্তু আমাদের এই স্নেহনীড় টিম কোনোদিন ভুলবে না এই গ্রামের কথা , ওই গদাধরের পাঠশালার কথা , আর সর্বপরি শুভর কথা ।
আমাদের এই ছোট্ট প্রচেষ্টার এক বড় নিদর্শন হয়ে থাকলো শুভর আত্মত্যাগ । ব্র্যাভো শুভ । সুস্থ থাকো , ভালো থাকো । হয়তো আবার দেখা হবে , কারণ এই দুনিয়াতে সাহসী , সরল মানুষ খুব ই কম ।