11/01/2026
গল্প: দ্বিতীয় বিয়ে
রাহুল বিশ্বাস করত, কিছু ভাঙন আর কখনো জোড়া লাগে না।
তার প্রথম বিয়ে তাকে শুধু একা করেনি, ভেতর থেকে নিঃস্ব করে দিয়েছিল। বিশ্বাস, স্বপ্ন, নিজের ওপর ভরসা—সব যেন ধীরে ধীরে মরে গিয়েছিল।
রাতে ঘুমানোর আগে সে প্রায়ই ভাবত,
“আমি কি আর কখনো কাউকে ভালোবাসতে পারব? নাকি ভালোবাসা শুধু একবারই আসে?”
ঠিক তখনই জীবনে এলো নীলা।
নীলাও ভাঙা মানুষ। স্বামীর অবহেলায় সে শিখে ফেলেছিল—চুপচাপ কাঁদতে হয়, কাউকে বোঝাতে নেই। কিন্তু তার চোখে ছিল একরকম নরম আলো, যেন সে জানে কষ্ট কী, তবু সে ভালোবাসাকে ঘৃণা করতে শেখেনি।
হাসপাতালের করিডরে প্রথম দেখা। রাহুলের মা ভর্তি, নীলার বাবাও। অপেক্ষার সেই দীর্ঘ সময়ে দু’জন পাশাপাশি বসেছিল নীরবে। হঠাৎ নীলা বলেছিল,
“অপেক্ষা সবচেয়ে কষ্টের… কারণ তখন মনে হয় আমরা কিছুই করতে পারছি না।”
রাহুল তাকিয়ে দেখেছিল, কথাটা শুধু পরিস্থিতির নয়, জীবনেরও।
সেদিন থেকে কথা শুরু। ধীরে ধীরে জানা গেল দু’জনেই হারানো মানুষ। রাহুল বলেছিল,
“আমার বিয়ে আমাকে শিখিয়েছে, মানুষ কতটা নিষ্ঠুর হতে পারে।”
নীলা চোখ নামিয়ে বলেছিল,
“আর আমারটা শিখিয়েছে, ভালো মেয়েরা অনেক সময় বেশি সহ্য করে ফেলে।”
এই কথাগুলোর ভেতরেই জন্ম নিল এক অদ্ভুত বন্ধন—যেখানে কেউ কাউকে বদলাতে চায় না, শুধু বুঝতে চায়।
একদিন নীলা হঠাৎ জিজ্ঞেস করেছিল,
“তুমি কি আবার বিয়ে করতে পারবে?”
রাহুল হাসতে চেয়েছিল, কিন্তু চোখ ভিজে গিয়েছিল।
“আমি ভয় পাই… আবার যদি ভেঙে যাই?”
নীলা খুব শান্ত গলায় বলেছিল,
“তুমি একা ভাঙবে না। এইবার আমরা দু’জনে একসঙ্গে শক্ত হব।”
এই বাক্যটাই রাহুলকে কাঁদিয়েছিল। কারণ এতদিন কেউ তাকে বলেনি—“তুমি একা নও।”
দ্বিতীয় বিয়ের দিন রাহুলের হাত কাঁপছিল। নীলা পাশে এসে আলতো করে বলল,
“প্রথম বিয়েতে আমরা স্বপ্ন নিয়ে গিয়েছিলাম, অভিজ্ঞতা ছাড়া।
এইবার আমরা অভিজ্ঞতা নিয়ে যাচ্ছি, অহংকার ছাড়া।”
ফেরার সময় রাহুল বুঝেছিল—
দ্বিতীয় বিয়ে মানে আগের ভুল ঢেকে ফেলা নয়,
দ্বিতীয় বিয়ে মানে—
আরেকটা মানুষের ভাঙা হৃদয়কে নিজের বুকের ভেতর আশ্রয় দেওয়া।
কিছু ভালোবাসা প্রথমবার আসে,
আর কিছু ভালোবাসা আসে—
যেন বলার জন্য,
“তুমি এখনও শেষ হয়ে যাওনি।”
Bandhura Valo lagle comment karo # din aro valo akta galpo niye asbo .......@