26/10/2024
এই ছবিটি দেখে মনে হতে পারে এটা আবার কি?
তাদেরকে বলি, বাংলার জনপ্রিয় দক্ষিণা কালী দেবীর মূর্তি প্রতিষ্ঠার এটা একটা জীবিত দলিল।
কাহিনীটা তাহলে শুনুন...
সপ্তদশ শতকে নদীয়ার নবদ্বীপে সম্ভবত 1600 থেকে 1610 খ্রিষ্টাব্দ কালীন সময়ে একজন মহান সাধকের জন্ম হয় যার নাম ছিলেন কৃষ্ণানন্দ আগমবাগিস।
বাংলা তথা ভারতের তখনো দেবী কালীকে অতি উগ্র স্বভাবা দেবী হিসেবে কোন গৃহে তাকে পূজা করা হতোনা। তার কোন সাকার রূপ তৈরি হয়নি, দেবীর পূজা হতো যন্ত্রমে, শিলা খন্ডে, গহর অরণ্যে, গ্রামের মোড়ে, কিংবা কোন নদী উপকূলে। তখনো দেবী কালী ঘরের মেয়ে হয়ে উঠতে পারেনি বাংলার। এই কাহিনীটা তন্ত্রের সেই উগ্র দেবীকালী থেকে বাংলার ঘরের মেয়ে হয়ে ওঠার কাহিনী।
মহা সাধক কৃষ্ণানন্দ চেয়েছিলেন, দেবীকে নিরাকার থেকে আকার দিতে। কিন্তু উনি বুঝে উঠতে পারছিলেন মাতৃমূর্তির রূপ কিরকম হতে পারে, যতদিন গড়াচ্ছিল সাধক শুধুমাত্র মায়ের রূপ দেখার জন্য উদগ্রীব হয়ে উঠছিল। সারাদিন রাত ধরে শুধু মায়ের কাছে একটাই প্রার্থনা মা আমি তোমাকে সাকারে চাই। তোমার রূপ দর্শন করতে চাই।
সন্তানের আকুতি মা ফেলতে পারলেন না। কোন এক রাতে অর্ধ ঘুমন্ত অবস্থায় দৈব বাণী হলো , মহানিশার অবসানে প্রাতঃমুহূর্তে কৃষ্ণানন্দ প্রথম যে নারীমূর্তি দর্শন করবেন, সেই মূর্তিই হবে ইচ্ছাময়ীর যথার্থ সাকার মূর্তি।
পরের দিন ভোরে গঙ্গাস্নানে বেরিয়ে কৃষ্ণানন্দ দেখলেন, এক দরিদ্র বধূ গাছের গুঁড়ির উপর নিবিষ্ট মনে ঘুঁটে দিচ্ছেন। বাঁ হাতে গোবরের মস্ত তাল, ডান হাত উঁচুতে তুলে ঘুঁটে দিচ্ছে। নিম্নবর্গীয় কন্যা, গাত্রবর্ণ কালো, বসন আলুথালু, পিঠে আলুলায়িত কুন্তল, কনুই দিয়ে কপালের ঘাম মুছতে গিয়ে সিঁদুর লেপ্টে গেছে।
এ হেন অবস্থায় পরপুরুষ কৃষ্ণানন্দকে দেখে লজ্জায় জিভ কাটলেন সেই বধু।— এই ছবিটিই মানসপটে এঁকে গঙ্গামাটি নিয়ে মূর্তি গড়তে বসলেন কৃষ্ণানন্দ। কৃষ্ণানন্দের এই মূর্তিই পরবর্তীতে দুই বাংলায় জনপ্রিয় হয়ে উঠল।
জয় মা ভবতারিণী 🌺👏🌺👏🌺👏🌺👏🌺
জয় মা আগমেশ্বরী 🌺👏🌺👏🌺👏🌺👏🌺