17/03/2026
এই পৃথিবীতে এত কিছু হওয়ার আছে তাও কিছু মানুষ শুধু অতিচালক হবে বলেই জন্মায়। তাতে আমার অবশ্য কিছু যায় আসেনা কিন্তু ওনারা আমাকে সিরিয়াসলি নিতে শুরু করলেই আমার আবার মন খারাপ হয়ে যায়। এদের মতো গর্বিত প্রাণী পৃথিবীর বুকেবে বেঁচে আছে বলেই দিনের বেলা আমি আবার তেনাদের ভয় পাই না। রাতে অবশ্য সব নিয়ম সবার জন্য নয়! মেয়েরাই ভালো জানে। আমার তো মাঝে মাঝে মনে হয় 'সাধারণ-এর বিপরীত শব্দ 'অসাধারণ' না হয়ে 'অতিচালক' হতে পারতো, তাতে মানুষের একটু সুবিধাই হতো তাই না? সব সময় শুদু-মুদু ঠেকে শেখার কোনো মানে হয়! কিছু কথা খোলাখুলি ছোটো থেকে শিখিয়ে দিলেই পারত। এক্ষুনি তেড়ে আসবে সমজের বুকে বোঝা হয়ে ঘুরে বেড়ানো পচা আলুর বস্তা। বলবে তুমি অসভ্য, সমাজের একটা আবরু আছে, ঢেকে ঢেকে রাখো। যে ছেলেটা বা মেয়েটা তা খুলে ফেলতে চায় তাকে চোখে চোখে রাখো।
যাই হোক চোখে চোখ রাখতেই রেল গাড়ির কামরায় হঠাৎ দেখা... ঠিক বিপরীতেই। বহু বছর পর। দেখেই অখুশি হয়ে গেলাম। সাধারণত ট্রেনে-বাসে-মেট্রোতে এরকম অপ্রয়োজনীয় লোকজন দেখলেই আমি বুঝে যাই আবার হেসে হেসে মাথা গরম হয়ে যাবে। সব প্রশ্নের যথাযথ উত্তর দিতে হবে। কেন মোটা হলাম, কেন পিম্পল এলো, বাবা কেন বিয়ে বাড়ি যায়নি ইত্যাদি ইত্যাদি। বেসিক্যালি আমি এসব জানতে বা জানাতে বিন্দুমাত্র ইন্টারেস্টেড নই, কিন্তু মা বাবাই ছোট থেকে প্যাটার্নে ফেলে দিয়েছেন। বেরোতে একটু টাইম লাগবে আর কী! যদি অনেক দূর থেকে দেখে নেওয়া যায় তাহলে আমার সময় নেই তাই বিনয় করতে পারলাম না টাইপ হাসিতে বেড়িয়ে যাওয়াটা আমার ফেভারিট। বা রাস্তায় বড় গাড়ির সামনে আমি বোকা হয়ে যাই তাই পৃথিবীতে তুমি আছো চোখে পড়েনি - এটা আরো ভালো। কিন্তু এবার তো চোখ খুললেই সামনে সয়ং চিত্রগুপ্ত। আমি ইনফরমেশন দেব আর টপাটপ খাবে। সবথেকে ডিসগাস্টিং মোমেন্টেও হাসতে হবে এক্কেবারে মিষ্টি-ই করে।
দেবী এলেন বাঁকা রুটের হাসি আমি তোমায় ভালোবাসি নিয়ে। রাস্তায় রাস্তায় আমাকেই নাকি খুঁজছিলেন। তাও আবার তিনটে ব্যাগ নিয়ে। ভাবা যায়! ভালোবাসার ছলেই ছলাকলা শুরু - "দাদাকে দেখলাম তো সেদিন।"
আমি সম্মতিসূচক হাসি দিলাম, এ মা ধরা পড়ে গেছি টাইপ।
সুযোগের সদ্ব্যবহার করে বসলেন "কি নাম গো?" আমি যদিও ভাবার আগে বলি না তাও না ভেবেই বলে দিলাম "ইকবাল, ইকবাল আলী।"
বেশ বুঝলাম ওনার কর্নিয়াজোড়া পিং পং বল হবে হবে করছে, কিন্তু হতে পারছে না। পাঁচ সেকেন্ডের পজ নিয়েই "কি করে?"
"ব্যাবসা।"
এবার পজ তিন সেকেন্ডের "কিসের?"
মাঝে শুধু অর্ধেক সেকেন্ড সময় নিয়েছি "মাছের।"
ভ্রু কুঁচকে গেল। আমি বুঝে গেলাম ওনার সমস্যা হচ্ছে। সফ্টয়্যার আপডেট নিতে পারছে না। বুঝিয়ে দিলাম "বাজারে মাছ কাটে।"
আমার শান্ত নদীর মতো গলায় বাজারের গল্প শোনামাত্রই সোজা হয় বসলেন। গন্ধ-টন্ধ পেলেন কিনা কে জানে! জানলা দিয় বাইরে তাকালেন আর তাকিয়েই থাকলেন...।
বসন্তের সে কী শোভা... সবুজ মাঠের কোনে লাল শিমুল ফুটে আছে...
বলেই বসলাম "এই বলো না বলো না কী ভাবছো.. বলো না বলো না.. "