23/05/2026
পঞ্চম বর্ষপূর্তি সমারোহ
অন্বেষণ ২০২৬
সালটা ছিল ২০২১ , ৩ - রা জানুয়ারি , মাত্র দুজনকে নিয়ে বাচিক শিল্পকে সঙ্গ করে কবিতার সত্য-শুদ্ধ-শব্দের ডানায় ভর করে সৃষ্টি সুখের নৈসর্গিক খোঁজে আমাদের যে অন্বেষণ শুরু হয়েছিল , তার পঞ্চম বর্ষপূর্তি সমারোহ অনুষ্ঠিত হয়েছে এবছর ১০ ই জানুয়ারি ।
পাঁচটা বছর বাচিক শিল্পের নানা দিককে কেন্দ্র করে কবিতা-আবৃত্তি, শ্রুতি নাটক, শ্রুতি দৃশ্যায়ন প্রভৃতি নানা বিষয়ের মধ্যে দিয়ে আমাদের যে বাচনিক চর্চা তার প্রতিফলন এই অন্বেষণ ২০২৬ ।
কাব্যকুঞ্জের এই পাঁচ বছরের যাত্রায় এবং টানা সাড়ে পাঁচ ঘন্টার একটা অনুষ্ঠানে আমি পলাশ দে, কাব্যকুঞ্জের অধ্যক্ষ হিসেবে বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গের কাছে আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ ।
আমি আমার হৃদয়ের অন্তস্থল থেকে কৃতজ্ঞতা জানাই আমার বিভিন্ন ক্ষেত্রের গুরুদের , যাদের আশীর্বাদ ছাড়া এই অনুষ্ঠানটি আমি সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে পারতাম না । তাঁদের আশীর্বাদ ও ভালোবাসা আমার পাথেয় ।
কাব্যকুঞ্জ আবৃত্তির সংস্থার শুধুমাত্র একটা প্রতিষ্ঠান নয়, এটা একটা পরিবার । আর তাই আমি চির কৃতজ্ঞ এই সংস্থার শিক্ষার্থী সকলের অভিভাবক এবং অভিভাবিকা দের কাছে । তাঁদের আমার প্রতি আস্থা ও ভালবাসা আমাকে সাহস ও ভরসা যুগিয়েছে । এই সমস্ত অনুষ্ঠানটা তাঁদের সহযোগিতা ছাড়া আমি করতেই পারতাম না । ( এভাবেই তোমরা পাশে থেকো )
আমি কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা জানাই সঞ্চালক তাপস দা ও পারমিতা দিকে । তাদের সঞ্চালনায় সমস্ত অনুষ্ঠানটা এক সূত্রে গেঁথে উঠেছিল ।
কল্লোল দা ও আমার খুব কাছের বন্ধু-ভাই অরিজিতের তবলা ও কণ্ঠের অপূর্ব মেলবন্ধনে শ্রুতি দৃশ্যায়ন " শক্তি আবহান "যেন অন্য মাত্রা পেয়েছিল সেদিন । তোমাদের প্রতি আমার এক আকাশ ভালোবাসা রইলো । এভাবেই পাশে থেকো ।
ভাই অঙ্কুরের ক্রিয়েটিভ ভাবনায় যেমন কাব্যকুঞ্জ তার পাঁচ বছরের লোগোতে ছড়িয়েছিল নতুনত্বের ছোঁয়া, ঠিক তেমনি "নবাঙ্কু দা পারফরমিং আর্ট"-এর
" লাভ " মুখাভিনয় যেন এক নতুন অন্বেষণের কথাই বলেছে বারবার ।
এই অনুষ্ঠানে সুশান্তদার "কাব্যকুঞ্জ" কে নিয়ে নিজের স্বরচিত কবিতা লেখার মধ্যে দিয়ে কাব্যকুঞ্জের প্রতি তাঁর যে অকৃত্রিম ভালোবাসা সেদিন প্রতিফলিত হয়েছে, তাতে দাদার লিখন শৈলীর প্রতি আমরা প্রত্যেকেই মুগ্ধ হয়ে উঠেছি । দাদার প্রতি রইল ভালোবাসা ।
বাচিক শিল্পী তথা আমার গুরু শ্রীমতি চায়না চট্টোপাধ্যায়ের একক বাচিক উপস্থাপনা ছিল এই অনুষ্ঠানের অলংকার ।
নৃত্যশিল্পী আমার বন্ধু রাজীবের অসাধারণ কত্থক নিত্য এই অনুষ্ঠানে হৃদয়ে যেন একটা পালক ছুঁয়ে দিয়েছিল । তাঁর নৃত্যের মধ্যে দিয়ে ফুটে উঠেছিল ঈশ্বরের প্রতি অসীম প্রেম এবং নৃত্যের প্রতি অন্বেষণ ।
এছাড়াও সমস্ত অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছিল মঞ্চ শয্যায়, মিউজিক সিস্টেম এবং আলোক শিল্পের শৈল্পিক নিপুণতায় । প্রত্যেক বিভাগের যারা দায়িত্বে ছিলেন তাদের প্রত্যেকের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা রইলো।
সর্বোপরি কৃতজ্ঞতা জানাই এই দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ ঘণ্টার অনুষ্ঠান যাদের ছাড়া অসম্ভব ছিল , যারা শিল্পকে ভালোবেসে , আমাকে ভালোবেসে , অনুষ্ঠানের সৃজনশীলতাকে ভালোবেসে পুরোটা সময়
"অন্বেষণ ২০২৬ " কে উপভোগ করেছেন সেই সকল অতিথি তথা দর্শক-শ্রোতা দের কাছে। আপনারা এভাবেই পাশে থাকবেন এর পরেও এই আশা সব সময় থাকবে ।
আর সবশেষে বলি তাদের কথা, যাদের ছাড়া অনুষ্ঠানটা কখনোই উপস্থাপন করা সম্ভব ছিলনা আমার, যাদের নিরলস পরিশ্রমে জন্যই এই অনুষ্ঠানটি আমি করতে পেরেছি তারা আমার
কাব্যকুঞ্জের শিক্ষার্থীরা । "অন্বেষণ ২০২৬"-এ অংশগ্রহণকারী তিন থেকে তিয়াত্তর সকল বয়সের সৃজনশীল মনের অধিকারী সকল শিক্ষার্থীদের প্রতি আমার অন্তরের অন্তস্থল থেকে রইল ভালোবাসা । তোমরা ছাড়া আমি কিন্তু অসম্পূর্ণ..
তুমি-আমি-আমরা সকলে মিলে আবার আরো একটি অন্বেষণের যাত্রায় এগিয়ে যাব...
" চলো কবিতায় ঘর বাঁধি "
#কবিতা