10/11/2024
৪০৭২.
পারিবারিক অশান্তি থাকলে, প্রতিভা, পরিশ্রম কাজে দেয়না। কিছু একটা গড়তে গেলে শান্তি প্রয়োজন। বাস্তবে সবচেয়ে বেশি সেটাই প্রয়োজন। অনটন থাকলে লড়া যায়, সুবিধা না থাকলে কষ্ট করে হলেও সেটা পাওয়া যায়। কিন্তু স্বাচ্ছল্য আছে কিন্তু পারিবারিক শান্তি নেই, এই পরিস্থিতির থেকে পেরে ওঠা শক্ত। কারণ এক্ষেত্রে মনটাই ক্ষত বিক্ষত হয়ে থাকে, সে লড়বে কোথা থেকে!
তাও যারা পারে, একটু একটু করে রসদ সঞ্চয় করে তীব্র মানসিক প্রতিরোধের বিরুদ্ধে গিয়ে একটা জায়গায় পৌঁছায়, তাদের সাফল্য অন্যান্যভাবে কষ্ট করে উঠে আসা মানুষদের থেকে কোনো অংশে কম নয়। কারণ স্বাচ্ছল্য থাকার একটা বিড়ম্বনা হলো, মানুষ ধরেই নেয় যে এ সোনার চামচ হাতে নিয়ে জন্মেছে। তার লড়াইটা, তীব্রভাবে একলা টিকে থাকাটা মানুষ তো বুঝতে পারেই না, অনেকক্ষেত্রে তাদের সম্পর্কে বক্র মন্তব্য করতেও ছাড়ে না।
তবু তারা পারে। কারণ, এই একটাই অর্জন তাদের মনের ভীষণ শান্তির কারণ হয়। তারা আসলে তখন শুধু সাফল্যের জন্য পরিশ্রম করে না, চেষ্টা করে শান্তি পেতে। আত্ন অর্জনের, আত্ম প্রতিষ্ঠার।
তাই সমাজে সমস্ত আত্মিক প্রয়াস প্রশংসিত হওয়া উচিত। স্বাচ্ছল্য আছে মানে লড়াই নেই, এই ধারণা সবসময় সবক্ষেত্রে ঠিক নয়। আন্ডারডগদের উত্থানের উল্লাসে অভ্যস্ত এই সমাজ, তাদের লড়াই গুলোকে বিবেচনার যোগ্য বলেই মনে করে না, যারা সমস্ত সুবিধাযুক্ত একটা ঘরে দিনের পর দিন দাঁতে দাঁত চেপে লড়ে যাচ্ছে।
এদের সবার জন্য মন থেকে প্রার্থণা করি, এরা সবাই পেরে যাক। সাফল্যের জন্য নয়, আরো একটু স্বাচ্ছল্যের জন্য নয়। প্রার্থণা করি এই কারণে, যাতে সেটুকু অর্জনের দ্বারা তারা প্রত্যেকে শান্তি পায়।
এই দুনিয়ার প্রতিটা নিষ্ঠাবান প্রয়াসী লেগে থাকুক। প্রত্যেকে তাদের কাঙ্খিত লক্ষ্যের জেদে থাকুক।
© অরিন্দম দে / বাবাই