03/09/2014
সারদা-কাণ্ড: সিবিআইয়ের নজর আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে!
কলকাতা: সারদা চিটফান্ড-কাণ্ডের তদন্তে এবার নয়া মোড়৷ তদন্তের গতির মোড় ঘুরিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই৷ আর সিবিআইকে সেই মোড়ের পথ দেখালেন তারা টিভি চ্যানেলের প্রাক্তন কর্ণধার স্টারখ্যাত সাংবাদিক রথিকান্ত সেনগুপ্ত৷
সারদা-কাণ্ডের তদন্তে তপসিয়া থেকে আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের দিকে নজর ঘোরাল সিবিআই৷ সুদীপ্ত সেনের শত কোটি টাকার আর্থিক কেলেঙ্কারির সঙ্গে এবার জড়িয়ে পড়তে চলেছে রাজ্য সিপিএমের কমপক্ষে তিনজন প্রভাবশালী নেতা৷ মঙ্গলবার সিবিআইয়ের ম্যারাথন জেরায় এই চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস করলেন তারার ‘তারা’ রথিকান্ত৷ সিবিআইয়ের গোয়েন্দা জেরায় মুখে আনলেন তিন সিপিএম নেতার নাম৷ যারা তৃণমূলের সাংসদ-সাংবাদিক কুণাল ঘোষের সঙ্গে সুদীপ্ত সেনের কাছে চ্যানেল বিক্রি করার জন্য রীতিমত চাপ সৃষ্টি করেছিলেন৷ এতে কুণাল এক কোটি টাকা হাতিয়ে নিলেন বাকি তিন সিপিএম কিন্তু খালি হাতে ফেরেন বলেই গোয়েন্দাদের কাছে তথ্য ফাঁস করেছেন রতিকান্ত৷
সিবিআইয়ের একটি সুত্রে জানা গিয়েছে, তারার দু’টি চ্যানেলের বিক্রির করা কোনও ইচ্ছেই ছিল না রথিকান্তের৷ তিনি স্পষ্ট ভাষায় একথাটাই বলেছেন গোয়েন্দাদের কাছে৷ তাঁর দাবি এবং অভিযোগ, সারদা গোষ্ঠীর কাছে তারার দু’টি চ্যানেল বিক্রি করার জন্য তাঁর ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল৷ আর তাঁকে এই চাপ সৃষ্টি করেছিল কুণাল ছাড়াও বেশ কয়েকজন সিপিএম নেতা৷
কারা এই সিপিএম নেতা? সিপিআই সুত্রে খবর, রতিকান্তে মুখে আনা তিন সিপিএম নেতার একজন দলের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য রয়েছেন৷ সুদীপ্ত সেন তৃণমূলের প্রাক্তন সংসদ সদস্য কুণাল ঘোষের মধ্যস্থতায় ওই তিন সিপিএম নেতা রতিকান্তকে তারা’র দু’টি চ্যানেল বিক্রি করতে চাপ সৃষ্টি করে বলে সিবিআই জানতে পেরেছে৷ টাক মাথার এক সিপিএম নেতা মাধ্যমেই কুণাল রতিকান্তের কাছে পৌঁছয়৷ রতিকান্ত সিবিআইয়ের কাছে জানিয়েছেন, এর জন্য সুদীপ্ত সেনের কাছ থেকে কুণাল এক কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়৷ রতিকান্ত-সুদীপ্ত তারা চ্যানেল বিক্রির ‘ড্রিল’ পাকা করতে সিপিএমের আরও দুই রাজ্য কমিটির সদস্য বড়সড় ভুমিকা নিয়েছিল বলে জানা যাচ্ছে৷ রতিকান্তের দেওয়া বয়ান অনুযায়ী, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের দুই সিপিএম নেতা, টাকমাথার এক সিপিএম রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর এক সদস্যেরস সঙ্গে তিনবার মিটিং করে সুদীপ্ত৷ সেই তিনটে মিটিং হয় সল্টলেকের মিডল্যান্ড পার্কে৷
সিবিআইয়ের জেরার মুখে রথিকান্ত অন্য দুই সিপিএম নেতার নামও ফাঁস করে দিয়েছেন৷ মঙ্গলবার রথিকান্তের দেওয়া বয়ান খতিয়ে দেখছে সিবিআই৷ গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রে খবর, রথিকান্তের মুখে আনা সিপিএম নেতার নামগুলিকে খতিয়ে দেখছে তারা৷ রথিকান্তের দেওয়া বয়ানে আংশিক সত্যতা থাকলে, সিপিএমের রাজ্য কমিটির সদস্যদের সিজিও কমপ্লেক্সে তলব করতে চায় সিবিআই৷ সিবিআই আরও জানতে পেরেছে, সুদীপ্ত সেনের তারা’র দু’টি চ্যানেল কেনাবেচায় বড়সড় ড্রিল হয়েছিল৷ আরই ড্রিলে লেনদেন হয়েছে বহু কোটি টাকা৷ তার একটা অংশও পেয়েছিল মধ্যস্থতাকারীরা৷ তাই, গোয়েন্দারা কোনওভাবেই রতিকান্তের বয়ান থেকে মুখ ঘুরিয়ে নিচ্ছে না৷ বরং তারা এবার তপসিয়া থেকে ঘুরিয়ে নজর দিচ্ছে আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের দিকে৷ যা রীতিমত বিব্রত করতে চলেছে বিমান-বুদ্ধ-সূর্যকান্তদের