02/12/2025
#শিশুর_আচরণ
#ঘটনা_২
তৃতীয় পর্যায় ক্রমিক মূল্যায়নের প্রথম দিন। বাংলা পরীক্ষা। পরীক্ষা শেষে মেয়েটির বাবা স্কুলে নিতে এসে আবদার করলেন, প্রশ্নগুলো যদি what's app group এ দিয়ে দেন তাহলে মেয়ে কি কি ঠিক করেছে বা ভুল করেছে তা দেখতে পাওয়া যাবে।
যথারীতি, স্কুলের নিয়ম অনুযায়ী তাকে জানানো হলো, display board এ প্রশ্ন দেওয়া হয়েছে, সেখান থেকেই তাকে দেখে নিতে হবে।
তিনি তা মেনে নওতে মোবাইলে বেশকিছু ছবি তুলে নিয়ে মেয়েকে নিয়ে বাড়ি চলে গেলেন।
দুপুর ২টো ২০ মিনিট নাগাদ ক্লাস টিচারকে ফোন করে জানালেন, তার মেয়ে পরীক্ষার খাতায় যা লিখেছে অন্য একটি ছেলে এসে মুছে দিয়েছে।
বেশ উদ্বেগের সাথে তিনি কথা গুলো বললেন, তাহলে মেয়ে কিভাবে নম্বর পাবে?
ক্লাস টিচার তার নিজস্ব স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে শান্ত কন্ঠস্বরে জানালেন, প্রত্যেকে ঘরে তো আলাদা আলাদা শিক্ষক ছিলেন। এমন ঘটনা ঘটার কথা নয়, তবুও যদি ঘটে থাকে তাহলে যিনি ছিলেন তার সাথে কথা বলে বিষয় টি জানবেন।
উত্তর মনোঃপুত না হওয়ায় তিনি স্কুলের প্রধান শিক্ষিকাকে ফোন করে আবারও একই অভিযোগ করলেন।
যেহেতু ফোনটা যখন এসেছিল তখন সমস্ত শিক্ষক শিক্ষিকা দের টিফিন চলছিল এবং একই জায়গায় বসে তারা টিফিন করছিলেন তাই ঘটনা টি প্রধান শিক্ষিকার কানে এসেছে।
তারপরও তার কাছে ফোন আাসায় তিনি জানালেন, ফোনে তো সব কথা বোঝানো সম্ভব নয়,আপনি আগামীকাল স্কুলে আসুন সকলের সামনে বাচ্চাটির সাথে এবং যিনি guard দিয়েছেন সেই শিক্ষকের সাথে কথা বলে বিষয়টি মিটিয়ে দেবেন।
এবারেও উত্তর পছন্দ হলো না মেয়েটির বাবার।
তিনি ফোন করলেন সেই শিক্ষককে যিনি guard এ ছিলেন।
বিষয়টি বিস্তারিত জানালেন মাস্টার মহাশয়। তিনি জানালেন, মেয়েটি উত্তর পারছিল না বলে কান্না করছিল, তাই কিছু কিছু উত্তর বুঝতে এবং করতে সাহায্য করেন স্যার। কিন্তু উত্তর বলে দিলেও দুটো উত্তরে ভুল বানান লেখায় তিনি দেখিয়ে দেন ভুল বানান গুলো। সেই বানান গুলো মেয়েটি মোছে, কিন্তু লেখার আগেই সময় শেষ হয়ে যায়। খাতা নিয়ে নেন শিক্ষক।
ফোনে কথাগুলো শুনেই মেয়েকে ধরিয়ে দেন ফোনটা---
২য় শ্রেণীর বাচ্চা মেয়ে, সম্পূর্ণ অস্বীকার করে ঘটনা টি-- সে নাকি কোনো কান্না করেই নি, সব উত্তর তার জানা ছিল।
ফোনের এপার থেকে আমরা বোঝানোর চেষ্টা করি--- পেনসিলে লেখা মুছলে বোঝা যাবেই-- তাছাড়া ওর পাশে চতুর্থ শ্রেণীর বাচ্চার সিট পড়েছিল। তাই কোনোভাবে ঘটনাটি অন্য রকম কিছু। ফোনেই শুনতে পাই মেয়েকে অশ্রাব্য ভাষায় গাল দিচ্ছেন বাবা।
আমরা বলি দেখা করার জন্য। কারণ সমস্যাটা গভীর বলেই মনে হয় আমার। একটি ২য় শ্রেণীর বাচ্চা কেনই বা বারবার মিথ্যে বলবে!!
এর আগে ক্লাস টেস্টের খাতায় লালকালিতে পাওয়া ৯ এর বাঁদিকে নীল কালি দিয়ে ১ লিখে ১৯ করে বাড়িতে দেখিয়েছে।
ছেলে মানুষী বুদ্ধিতে যেটুকু কুলিয়েছে সেটুকুই করেছে সে---
রাত তখন ৯টা, আমার কাছে ফোন আসে-- ম্যাম, মেয়োকে খুব পিটিয়েছি, মেয়ে সব সত্যি স্বীকার করেছে।
কিন্তু বিষয় টা কি এতটাই স্বাভাবিক?
এতটাই সরল?
সত্যি কি মিটলো??
আর কু সে বলবে না মিথ্যা?
কেন সে বলছে?
কিসের ভয় সে পাচ্ছে?
ভবিষ্যতে আর কি ধরনের মিথ্যার আশ্রয় নিতে পারে??
প্রশ্ন গুলো আপনাদের কাছে রইলো--
সমাধান জানা থাকলে অবশ্যই কমেন্ট করবেন।
আমরা সর্বদা আপনাদের মতামতের গুরুত্ব দিয়ে থাকি।
( যদিও এরপরও আছে --- শুনতে চাইলে আর একদিন)
Jayati Chatterjee
Anchita Chatterjee
Sima Banerjee