আড্ডায় সারাদিন

আড্ডায় সারাদিন Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from আড্ডায় সারাদিন, Art, Radhanagar para, Burdwan.

☕ কথা, কফি আর কিস্সায় মাখানো দিন
📚 নস্টালজিয়া থেকে নতুন ভাবনা — সব একসাথে
😂 হালকা হাসি, 🧐 গাঢ় চিন্তা, ❤️ গভীর অনুভব
🎭 আড্ডা যেখানে থামে না, মন যেখানে ফুরোয় না!
#আড্ডায়_সারাদিন

১৯ শে ডিসেম্বর ২০২৫ শুক্রবার দুপুর ২-৫ টা আড্ডায় সারাদিন এর কলকাতায় গ্রুপ meet হবে নন্দনে। সবার আসার আমন্ত্রণ জানাই। অনে...
07/12/2025

১৯ শে ডিসেম্বর ২০২৫ শুক্রবার দুপুর ২-৫ টা আড্ডায় সারাদিন এর কলকাতায় গ্রুপ meet হবে নন্দনে। সবার আসার আমন্ত্রণ জানাই। অনেক জানা - অজানার মাঝে আছি আমরা। আপনাদের সাথে দেখা করে সেই সব জিজ্ঞাস্যা থাকবে নিজেদের মধ্যে। আমি তো আসছি ✋ আপনারা আসছেন তো...!!! কমেন্ট কন্ফার্ম করুন

22/11/2025

#রহস্য গল্প : শেষ ফোনকল
কলমে : Purabi Ganguly
কণ্ঠ : Arpita Biswas
প্রথমবার চেষ্টা করেছে অর্পিতা। কেমন লাগলো কমেন্টের মাধ্যমে জানাবেন।

প্লুটোর পৃষ্ঠে এমন কিছু জিনিস দেখা গেছে, যা আমাদের সৌরজগতের অন্য কোথাও দেখা যায়নি। - এগুলো আসলে বরফের পাহাড়! শুনতে অদ্ভ...
28/09/2025

প্লুটোর পৃষ্ঠে এমন কিছু জিনিস দেখা গেছে, যা আমাদের সৌরজগতের অন্য কোথাও দেখা যায়নি।

- এগুলো আসলে বরফের পাহাড়! শুনতে অদ্ভুত লাগছে, তাই না? কিন্তু এগুলো কোনো পাথর বা মাটির পাহাড় নয়, বরং পুরোপুরি বরফের তৈরি! তবে, এটা আমাদের পান করার মতো সাধারণ বরফ নয়। প্লুটোর চরম ঠান্ডায় ($ -232°C$ বা $ -387°F$ ), জলীয় বাষ্প বা বরফ এতটাই শক্ত হয়ে যায় যে, পাথরের মতোই আচরণ করে। তাই এই বরফের পাহাড়গুলো আমাদের পৃথিবীর গ্রানাইট বা বেসাল্টের মতোই মজবুত।

- প্লুটোর সবচেয়ে উঁচু বরফের পাহাড়ের নাম হল টেনজিং মন্টেস (Tenzing Montes)। এর সর্বোচ্চ চূড়ার উচ্চতা প্রায় ৬.২ কিলোমিটার, যা আমাদের পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বত এভারেস্টের (৮.৮ কিলোমিটার) চেয়ে সামান্য কম হলেও, প্লুটোর আকারের তুলনায় এটি অনেক বিশাল। ভাবো, প্লুটোর ব্যাস মাত্র ২,৩৭৬ কিলোমিটার, সেখানে ৬.২ কিলোমিটার উঁচু পাহাড় থাকাটা সত্যিই অবাক করা!

- প্লুটোর পাহাড়ের চূড়ায় সাদা আস্তরণ দেখা যায়, যা দেখতে আমাদের পৃথিবীর বরফাবৃত চূড়ার মতোই। কিন্তু এখানেও রয়েছে একটি বড় পার্থক্য। পৃথিবীর পাহাড়ের চূড়ায় বরফ জমে কারণ উপরের বায়ুমণ্ডল ঠান্ডা থাকে। কিন্তু প্লুটোর ক্ষেত্রে উল্টোটা ঘটে। প্লুটোর বায়ুমণ্ডল উপরের দিকে উষ্ণ থাকে এবং সেখানে মিথেন গ্যাসের ঘনত্ব বেশি। যখন এই মিথেন গ্যাস পর্বতের চূড়ায় পৌঁছায়, তখন এটি ঠান্ডা হয়ে সাদা বরফের মতো জমে যায়।

- প্লুটোর কিছু পাহাড়ের চূড়ায় বড় বড় জ্বালামুখ বা গর্ত দেখা গেছে, যা থেকে বিজ্ঞানীরা মনে করেন এগুলো ক্রায়ো-ভলকানোস (Cryovolcanoes) বা বরফের আগ্নেয়গিরি। এই আগ্নেয়গিরিগুলো থেকে লাভা বা গলিত শিলা বের হয় না, বরং তরল বাষ্পযুক্ত পানি, অ্যামোনিয়া এবং মিথেন এর মিশ্রণ উদগীরণ হয়। এটি পৃথিবীর আগ্নেয়গিরির চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন, কিন্তু একই ধরনের পর্বত তৈরি করতে পারে!

- প্লুটোর এই পাহাড়গুলো তৈরি হয়েছে তুলনামূলকভাবে নতুন সময়ে অনুমান করা হয় এই পাহাড়গুলো প্রায় ১০০ মিলিয়ন বছর আগে তৈরি হয়েছে, যা সৌরজগতের ৪.৫ বিলিয়ন বছরের ইতিহাসে খুব সাম্প্রতিক ঘটনা। এর মানে, প্লুটোর ভূতাত্ত্বিক কার্যকলাপ আজও চলছে।

- পাহাড়গুলো একা থাকে না, একটা সীমানার মতো আছে! প্লুটোর বিখ্যাত স্পুটনিক প্ল্যানিটিয়া (Sputnik Planitia) নামে একটি বরফের সমভূমি আছে, যা প্লুটোর হৃদয়ের আকৃতি তৈরি করে। এই সমভূমির চারপাশে, বিশেষ করে দক্ষিণ-পশ্চিমে, টেনজিং মন্টেস এবং হিলারি মন্টেস নামে দুটি বিশাল বরফের পর্বতমালা আছে।

- প্লুটোর তাপমাত্রা এতই কম হলেও, কিছু কিছু জায়গায় নাইট্রোজেন বরফের হিমবাহ (glacier) দেখা যায়। এই হিমবাহগুলো ধীরে ধীরে প্রবাহিত হয়ে স্পুটনিক প্ল্যানিটিয়ার সমভূমিতে মিশে যাচ্ছে। এটা অনেকটা আমাদের পৃথিবীর হিমবাহের মতো, যা পাহাড় থেকে নেমে আসে।

- প্লুটোর পৃষ্ঠে মাধ্যাকর্ষণ শক্তি পৃথিবীর মাত্র ৬%। এর অর্থ হল, প্লুটোর পাহাড়ে আরোহণ করা পৃথিবীর তুলনায় অনেক সহজ হবে। আপনি যদি প্লুটোতে একটি পাহাড়ে লাফিয়ে উঠতে চান, তাহলে আপনি হয়তো পৃথিবীর চেয়ে অনেক বেশি উপরে লাফ দিতে পারবেন!

- প্লুটোর কিছু পর্বতের গায়ে অদ্ভুত কিছু খাঁজ বা ফাটল দেখা যায়। এই খাঁজগুলোকে বিজ্ঞানীরা পেনিটেন্টস (Penitentes) নামে চেনেন। এগুলো আসলে বরফের তৈরি তীক্ষ্ণ স্তম্ভের মতো কাঠামো। প্লুটোতে এগুলো অনেক বড়, প্রায় ৫০০ মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে!

- এতদিন প্লুটোকে একটি হিমশীতল, নিষ্ক্রিয় জগৎ মনে করা হত। কিন্তু এই বরফের পাহাড়, আগ্নেয়গিরি এবং হিমবাহের আবিষ্কার প্রমাণ করেছে যে প্লুটোর অভ্যন্তরে তাপ উৎপন্ন হয় এবং সেখানে ভূতাত্ত্বিক কার্যকলাপ চলে। 👍👍👍👍
#সংগৃহিত

“আলো খোঁজা ছেলে”✍️ Purabi Ganguly ১৮২০ সালের এক ভোরে, বীরসিংহ গ্রামে জন্ম হলো এক দরিদ্র পরিবারের সন্তান। নাম রাখা হলো ঈশ...
26/09/2025

“আলো খোঁজা ছেলে”

✍️ Purabi Ganguly

১৮২০ সালের এক ভোরে, বীরসিংহ গ্রামে জন্ম হলো এক দরিদ্র পরিবারের সন্তান। নাম রাখা হলো ঈশ্বরচন্দ্র। গ্রামের মাটির কুঁড়েঘর, বাবা ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামান্য আয়, তবুও ছেলেটির চোখে এক অদ্ভুত দীপ্তি।

একদিন ছোট ঈশ্বরচন্দ্রকে মা ভগবতী দেবী পাঠালেন বাজারে তেল আনতে। হাতে দিলেন কেবল দুই আনা টাকা। পথে সে দেখতে পেল, পথের ধারে এক পুঁথি বিক্রি হচ্ছে—“বেতাল পঞ্চবিংশতি”। বইয়ের পাতা উল্টে ঈশ্বরচন্দ্রের চোখ জ্বলে উঠলো। সে দ্বিধা না করে তেলের টাকা দিয়ে বই কিনে নিলো।

বাড়ি ফিরে মা রাগে গজগজ করলেন, “তুই তেল আনলি না, বই কিনলি?”
ছেলেটা মাথা নিচু করে বলল,
—“মা, তেল দিয়ে প্রদীপ জ্বাললে আলো একদিনে নিভে যাবে। কিন্তু এই বই দিয়ে যে আলো জ্বলবে, তা সারাজীবন থাকবে।”

মা অবাক হয়ে গেলেন। সেই দিন থেকেই গ্রামজুড়ে ছেলেটি পেল নতুন নাম—“বিদ্যাসাগর”।

“মানুষ বিদ্যাসাগর”

একবার কলকাতায় শীতকালে কনকনে হাওয়া বইছে। বিদ্যাসাগর বাবু তখন কলেজের কাজে যাচ্ছেন। রাস্তায় দেখলেন, এক গরিব বৃদ্ধ ঠান্ডায় কাঁপছে, গায়ে কোনো চাদর নেই। বিদ্যাসাগর বাবু নিজের উলের চাদর খুলে বৃদ্ধের কাঁধে জড়িয়ে দিলেন।

সঙ্গীরা বলল—
—“বাবু, আপনি কী করলেন! এখন তো আপনিই ঠান্ডায় জমে যাবেন।”
তিনি হেসে বললেন—
—“আমি এক রাত ঠান্ডা সহ্য করতে পারব, কিন্তু ও তো না খেয়ে-না পরেই দিন কাটায়।”

“অপরাজেয় দৃঢ়তা”

সংস্কৃত কলেজে পড়াশোনার সময়, অর্থাভাব চরমে। বই কেনার টাকা নেই। তিনি শীতের রাতে রাস্তার বাতির নিচে বসে পড়তেন। সহপাঠীরা মজা করে বলত—
—“ওই ছেলেটা পাগল!”
কিন্তু সেই “পাগল ছেলে” একদিন হয়ে উঠলো বাংলা শিক্ষার দিগন্ত উন্মোচক, বিধবা বিবাহ প্রচলনের নায়ক, সমাজ সংস্কারের আলোকবর্তিকা।

শেষকথা

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কেবল জ্ঞানী ছিলেন না, তিনি ছিলেন অপরিসীম মানবপ্রেমিক। বইয়ের আলোয় বড়ো হওয়া সেই ছেলেটি একদিন লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবনে আলো জ্বেলে দিয়েছিলেন।

19/09/2025

ছোটগল্প

মালতী দেবী
Purabi Ganguly
18/09/25
==============
আমার নাম মালতী দেবী। বয়স এখন পঁচাত্তরের কাছাকাছি। কপালে দাগ পড়েছে, হাঁটুতে ব্যথা নিয়ে হাঁটি, হাঁপানি মাঝে মাঝে পেয়ে বসে। তবু সকাল হলেই আমি এখনও ঘুম ভাঙি ভোর পাঁচটায়। নাতি-নাতনিদের জন্য টিফিন বানাতে বসে যাই। ছেলে-বৌমা দুজনেই ব্যস্ত মানুষ। ছেলে রাহুল বড় ইঞ্জিনিয়ার, নামডাক আছে শহরে। বৌমা ডাক্তার, শহরের নামকরা নার্সিংহোমে কাজ করে। সংসারে তাদের সবার ঈর্ষণীয় পরিচিতি।

আমি? আমি যেন ছায়া। সংসারে থেকেও কেউ আমার দিকে খুব একটা তাকায় না। তবু মনে মনে ভাবি—ভাগ্যিস ছেলে আমায় বৃদ্ধাশ্রমে পাঠায়নি। নিজের ঘরেই রেখেছে, এটুকুই বা কম কী!

আমার স্বামী নির্মল ছিল একেবারে অন্য ধাঁচের মানুষ। ছোট্ট এক প্রাইভেট স্কুলে মাস্টারি করত। খুব বেশি রোজগার ছিল না, কিন্তু সংসার চলত শান্তিতে। আমি তখন কচি বয়সের বউ, স্বপ্নে ভরা জীবন। আমাদের দুটো সন্তান—ছেলে রাহুল, মেয়ে সীমা।

কিন্তু সেই সুখ বেশিদিন টিকল না। এক বর্ষার দিনে স্কুল থেকে ফেরার পথে বজ্রপাত পড়ে গেল নির্মলের ওপরে। সবাই বলল, “অল্পে বেঁচে গেছে।” কিন্তু আস্তে আস্তে শারীরিক সমস্যা দেখা দিল। তিন মাসের মধ্যেই একরকম হঠাৎ করেই চলে গেল মানুষটা। আমি তখন মাত্র তিরিশ।

ওই মুহূর্তটা আমি কোনোদিন ভুলতে পারব না। শেষ সময়ে নির্মল আমার হাত ধরে বলেছিল—
“মালতী, আমাদের ছেলে-মেয়েদের দেখো। ওদের মানুষ করো। আমি কিছু রেখে যেতে পারলাম না, শুধু এই কথাটা রেখে যাচ্ছি।”

তারপর থেকেই আমার যুদ্ধ শুরু।

আমি তখন একেবারে শূন্য হাতে দাঁড়ালাম। শ্বশুরবাড়ির লোকজন মুখ ফিরিয়ে নিল। সবাই বলল, “এই দুটো সন্তান নিয়ে কতদিন টানবে? আবার বিয়ে করে নাও।”

কিন্তু আমার মন মানল না। নির্মলের মুখ যেন সবসময় চোখে ভেসে বেড়াত। ওর সেই শেষ অনুরোধই আমার বাঁচার লক্ষ্য হয়ে গেল।

পেটের দায়ে শুরু করলাম সেলাইয়ের কাজ। লোকজন কাপড় আনত, আমি রাত জেগে সেলাই করতাম। পরে এক পাড়ার স্কুলে টিউশন নিতে শুরু করি। ভোরে মানুষজনের বাসন মাজতাম, দুপুরে সেলাই, বিকেলে টিউশন। ঘুম ছিল কম, কষ্ট ছিল প্রচুর, কিন্তু আমি হাল ছাড়িনি।

আমার ছেলেটা খুব মেধাবী ছিল। আমি যতই খেটে খাই, ওর পড়াশোনার খরচটা জোগাড় করতাম। অনেক সময় নিজের জন্য নতুন শাড়ি কিনিনি, কিন্তু ওর বই-খাতা কখনো বন্ধ হয়নি। মেয়ে সীমাকেও স্কুলে রেখেছিলাম।

রাহুল পড়াশোনায় সবসময় প্রথম হতো। মাস্টারমশাইরা বলতেন, “এই ছেলেটা একদিন অনেক বড় হবে।” তখনই মনে মনে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম—আমার ছেলেকে আমি বড় মানুষ বানাবো।

বছরের পর বছর কেটে গেল। আমি দিনে দিনে বুড়ো হতে লাগলাম, আর ছেলে দিনে দিনে বড় হতে লাগল। রাহুল বৃত্তি পেয়ে পড়াশোনা করল। কলেজে উঠল, তারপর ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে গেল। আমি প্রতিদিনের খরচ সামলাতাম হিসেব কষে।

মাঝে মাঝে পাড়া-প্রতিবেশীরা বিদ্রুপ করত—
“এত কষ্ট করে কী হবে? এক ছেলে মানুষ করলে কী আর সংসার হয়?”
“ছেলেকে ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার বানালে মা-কে তো কেউ দেখে না।”

কথাগুলো কানে যেত, মনে ব্যথা দিত। তবু আমি থামিনি।

একদিন শুনলাম, রাহুল বিদেশে চাকরির অফার পেয়েছে। আমার বুক কেঁপে উঠল। আমি তো কখনো দেশ ছেড়ে যাইনি, একা একা কী করে থাকব! কিন্তু ও বলল, “মা, তুমি চিন্তা করো না। আমি সব সামলে নেব।”

সত্যিই সামলে নিল। বিদেশ না গিয়ে দেশেই থেকে গেল ছেলে। বলল, “তুমি একা হয়ে যাবে মা, আমি তোকে ফেলে যেতে পারব না।” সেই মুহূর্তে মনে হয়েছিল—আমার এত বছরের কষ্ট বৃথা যায়নি।

আজ আমার ছেলে নামকরা ইঞ্জিনিয়ার। বড় ফ্ল্যাট কিনেছে, গাড়ি কিনেছে। সমাজে তার অনেক সম্মান। সবাই বলে, “মালতী দেবী ভাগ্যবতী—এমন ছেলে পেয়েছেন।”

কিন্তু মনের ভেতরে সবসময় একটা হাহাকার থাকে। ছেলে-বৌমা কাজের চাপে আমার সঙ্গে খুব একটা কথা বলে না। ঘরে থাকলেও আমি যেন অদৃশ্য।

বৌমা বেশ ভালো, খারাপ কিছু বলে না। তবে মাঝেমাঝে আড়ালে কটাক্ষ করে—
“মা, আপনার আর কাজ করার বয়স নেই, বিশ্রাম নিন।”
কিন্তু সেই ‘বিশ্রাম’ মানে আসলে—আমার আর কাজে লাগি না।

রাতে ছেলে ফেরে দেরি করে। একদিন সাহস করে বললাম,
“রাহুল, আমার হাঁটুর ব্যথা খুব বাড়ছে।”
সে হেসে বলল, “আরে মা, এগুলো তো বয়সের রোগ। একটু ওষুধ খেলে ঠিক হয়ে যাবে।”

সেই হাসির আড়ালে আমি বুঝে যাই—আমার কষ্টের কথা বললে হয়তো বিরক্ত হবে। তাই আর বলি না। ফার্মেসি থেকে সাধারণ ওষুধ কিনে খাই।

তবু এক গোপন তৃপ্তি আছে। আমি অন্তত নিজের ছেলের ঘরেই আছি। অনেককে দেখি—বৃদ্ধাশ্রমে দিন কাটাচ্ছে। আমার পাড়ার বান্ধবী শেফালী তো বলে,
“তুই ভাগ্যবতী মালতী। তোর ছেলে তোকে রেখেছে। আমার মেয়েরা আমায় রাখতে চায়নি। আমি একাই আশ্রমে আছি।”

তখন মনে হয়—হ্যাঁ, ভাগ্যবতীই তো আমি। কিন্তু ভেতরে ভেতরে একটা প্রশ্ন থেকে যায়—
ভাগ্য কি সত্যিই ভালো, নাকি আমি কেবল ভাগ্যকে মানতে শিখেছি বলে এভাবেই মেনে নিচ্ছি?

প্রতিদিন রাতে আমি নিজের ছোট ঘরে একা বসে থাকি। জানালার বাইরে আলো ঝলমল করে। ছেলে, বৌমা, নাতি-নাতনির হাসি-আনন্দের শব্দ ভেসে আসে দূর থেকে। আমি চুপ করে শুনি।

মাঝে মাঝে মনে পড়ে যায়—নির্মল সেই শেষ রাতে কী বলেছিল, “আমাদের সন্তানদের মানুষ করো।”

আমি সে কথা রেখেছি। সন্তান মানুষ করেছি, বড় করেছি, সম্মানিত করেছি।

আজ আমি মালতী দেবী—বয়সের ভারে নুয়ে পড়া, শরীরের যন্ত্রণা সয়ে চলা এক মা। আমার ছেলে আমাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠায়নি, এটাই আমার বড় প্রাপ্তি।

তবু মনে মনে ভাবি—এ কি সত্যিই প্রাপ্তি, নাকি কেবল বেঁচে থাকার আরেকটা নাম?
কেমন লাগলো কমেন্টে জানাবেন।

Address

Radhanagar Para
Burdwan
713101

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when আড্ডায় সারাদিন posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category