27/04/2024
#শীতের_সংগ্ৰহ (২০২৪)
#সাংস্কৃতিক_প্রতিযোগিতার_ফলাফল
#বিতর্ক_প্রতিযোগিতায়= 'প্রথম' [বিষ্ণুপুর (চাকদহ) বারাসাত, আলমপুর(হুগলি), পানবড়েয়া (বর্ধমান) , গড়বালিয়া (হাওড়া), বালিচাতুরী (উলুবেড়িয়া), চন্দননগর লাইব্রেরী] ; 'দ্বিতীয়' (ডানকুনি), 'তৃতীয়' (খিলা, হাওড়া), 'তৃতীয়' (রহড়া), 'চতুর্থ' (মেছেদা)
#তাৎক্ষণিক_বক্তৃতায় = 'দ্বিতীয়'(আলমপুর, হুগলি) 'দ্বিতীয়' (গড়বালিয়া, হাওড়া), 'তৃতীয়' (বর্ধমান), 'তৃতীয়' (বিষ্ণুপুর,চাকদহ), 'তৃতীয়' (খিলা, হাওড়া),
#ক্যুইজ_প্রতিযোগিতায় = 'প্রথম' ( আলমপুর, হুগলি)
#স্বরচিত_গল্পলিখন = 'প্রথম' (আলমপুর, হুগলি)
নব্বইয়ের দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দলে একজন বিধ্বংসী ব্যাটসম্যান ছিলেন, নাম তাঁর ভিভিয়ান রিচার্ডস। ভিভ রিচার্ডস এমন একজন চ্যাম্পিয়ন ছিলেন যিনি একাই বিপক্ষ দলের এগারো জনের বিরুদ্ধে কুম্ভ হয়ে দাঁড়িয়ে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেবার ক্ষমতা রাখতেন। ক্রিকেটে হেলমেটের আবির্ভাবের পরেও তিনি হেলমেট পরতেন না, কিন্তু ডেনিস লিলি, জেফ থমসনের মতোন গতি দানবকে খেলতেন অবলীলায়। হেলমেট না পরার প্রসঙ্গে তাঁকে একবার একটা সাক্ষাৎকারে জিজ্ঞাসা করা হলে, তিনি শুধু বলেছিলেন, 'I am a man. '
এরকম ডাকাবুকো উত্তর, বোলারের দিকে একটা শীতল দৃষ্টি, চুইংগাম চিবোতে চিবোতে খেলা অপ্রতিরোধ্য স্ট্রোক প্লে এই সবকিছু আমাকে ভিভ রিচার্ডসের এক অন্ধভক্তে পরিণত করেছিল। তবে শুধু ভিভ রিচার্ডস নয়, বরং মহম্মদ আলি, দিয়েগো মারাদোনা এরা প্রত্যেকেই আমাকে ভীষণ ভাবে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন। ছোট থেকেই একটা হার না মানা মানসিকতা সবসময়ই নিজের মধ্যে ছিল, সময়ের সাথে সেই মানসিকতা আরও শক্তিশালী হয়েছে। যতবার দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে, ততবারই চোয়াল আরও শক্ত হয়েছে এবং আরও আগ্রাসী হয়ে জীবনপটে প্রতিভাত হয়েছি। ভগবান এবং ভাগ্যের ভরসায় বসে থাকার আদর্শে কোনোদিন বিশ্বাস রাখিনি। সব সময় মনে করেছি যেটুকু আমি অর্জন করতে চাই, ভাগ্যের হাজারদুয়ারী বন্ধ হয়ে গেলেও সেটা আমি ঠিক অর্জন করেই ছাড়বো।
আমি স্বপ্ন দেখি একটা যুক্তিবাদী রাষ্ট্রের, যেখানে কোনো প্রকার মৌলবাদ বাসা বাঁধতে পারে না। আমি স্বপ্ন দেখি এমন একটা দেশের যেখানে কোটি কোটি মানুষ নোটায় ভোট দেবে এবং প্রশ্ন ছুড়ে দেবে একটা আপাদমস্তক অন্তঃসারশূন্য নির্বাচনী ব্যবস্থার দিকে।
আমি জীবনযুদ্ধের একজন ভিভ রিচার্ডস হতে চাই। আমি একজন ভিভ রিচার্ডস হতে চাই স্বৈরাচারী রাষ্ট্রযন্ত্রের বিপক্ষে, আর ব্যাট করতে চাই গণতন্ত্রের হয়ে। নিরন্ন, বঞ্চিত, নিপীড়িত মানুষের জন্য কথা বলতে চাই এবং সুরক্ষিত করতে চাই তাঁদের সাংবিধানিক অধিকার।এসব করতে চাই কোনো রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় না থেকেই।
বর্তমান আর্থসামাজিক ব্যাবস্থায়, যেখানে মানুষের নুন আনতে পান্তা ফুরোয়, যেখানে বেকারত্ব আকাশ ছুঁয়েছে, সেই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে রুটি রুজির জন্য প্রতিদিন লড়াই করার পর যেটুকু সময় এবং অবকাশ পাই, ছুটে যাই পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে, শুধু চারপাঁচ মিনিট বলার নেশায়। লক্ষ শুধু একটাই, নিজেকে একটা বৃহত্তর মঞ্চের জন্য প্রস্তুত করা। তাই বিতর্কের মঞ্চ আমার কাছে নিবিড় অনুশীলনের ক্ষেত্র যেখানে নিজের পুঞ্জীভূত আবেগের যৌক্তিক বহিঃপ্রকাশ ঘটানো যায়। আমার স্বপ্নগুলো কতটা সত্যি হবে জানি না, কিন্তু নিজের সাথে নিজের এই যে লড়াইটা শুরু হয়েছে, এটা অব্যাহত থাকবে এবং এই লড়াইয়ের শেষ দেখেই ছাড়বো। ~ সজল পান
(চিত্রঋণ - ভাতৃপ্রতিম Deep Bose )