07/08/2026
থিয়েটার কর্মীর উপর সাম্প্রদায়িক শক্তির বর্বরোচিত আক্রমণ : আমাদের প্রতিবাদ
++++++++++++++
আমাদের বন্ধু শুভঙ্কর দাশশর্মা ভয়ানকভাবে সাম্প্রদায়িক শক্তির হাতে নিগৃহীত হয়েছেন। আমরা জানি, সাম্প্রদায়িক শক্তি শুধু একজন নাট্যকর্মীর শরীরে আঘাত করে না, সে আসলে আঘাত করতে চায় একটি প্রশ্ন করার অভ্যাসকে, একটি স্বাধীন কণ্ঠস্বরকে।
একজন থিয়েটার কর্মীর উপর আক্রমণের অন্যতম উদ্দেশ্যটি হলো ত্রাস সৃষ্টি করা। একজনকে মারো, যাতে দশজন ভয় পায়। একজন শিল্পীকে হুমকি দাও, যাতে অন্য শিল্পী নিজেই নিজের কলমের কয়েকটি বাক্য কেটে দেন। এটাই self-censorship বা আত্ম-সেন্সরশিপের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর রূপ। এই সেল্ফ-সেন্সরশিপ একবার অটোজেনারেট হয়ে গেলে ক্ষমতাশালী শক্তিকে তখন আর প্রত্যেক নাট্যকর্মীর সামনে আঙুল নাচিয়ে বলতে হবে না, বিপদ আছে।
শুভঙ্করের মার খাওয়ার ঘটনাটা যদি বাকিদের অভ্যন্তরে আতঙ্কের অনুভূতিকে তীব্র করে তোলে তাহলে বুঝতে হবে সেল্ফ-সেন্সরশিপ অটোজেনারেট হয়ে গেছে। দুষ্কৃতিরা সফল।
ভয় যদি আমাদের মাথার ভিতরে স্থায়ী বাসা বাঁধে, তাহলে মুক্তচিন্তাকে বাইরের সেন্সর অনেকটাই অপ্রয়োজনীয় হয়ে যায়। কারণ সেন্সর তখন আর বাইরে বসে থাকে না; সেন্সর বসে যায় শিল্পীর নিজের মস্তিষ্কের ভিতরে।
তাই আমাদের বন্ধুর উপর এই আক্রমণকে আমি কোনও বিচ্ছিন্ন ব্যক্তিগত ঘটনা হিসেবে দেখতে চাইছি না। তাঁর শরীরের ক্ষত তাঁর একার নয়। এই আঘাত আমাদের প্রত্যেকের।
এর প্রতিবাদ তাই শুধু নিন্দা বা ধিক্কার হতে পারে না।
এর উত্তর সাম্প্রদায়িকতার নগ্ন রাজনৈতিক চেহেরাটিকে থিয়েটারের কেন্দ্রীয় পরিসরে নিয়ে আসা।
আরও প্রশ্ন।
আরও মুক্তচিন্তা।
আরও মানুষের কাছে যাওয়া।
--------------
আমরা সবুজ, বোলপুর