05/09/2026
যাঁদের কাছ থেকে জীবনে একটু হলেও কিছু শিখেছি, তাঁদের সবার প্রতি রইল আমার বিনম্র শ্রদ্ধা।
*****
আমার শিক্ষক
------
আমার কাছে প্রথম শিক্ষক আমার বাবা-মা।
তারপরে, চারপাশে যাদেরকে দেখেছি তারা সবাই।
হ্যাঁ, আমি সবার কাছ থেকেই শিখেছি বা এখনো শিখি।
সে ছোট, বড়, মানুষ, ফুল, পাখি, গাছ, আকাশ যাই হোক না কেন!
খুব ছোট্ট আমি, তখনও ইস্কুলে যেতাম না,
সকালে বাবার পিছু পিছু আর তারপরে মায়ের পিছনে ঘুরতাম।
সবকিছুতেই আমার প্রশ্ন, সব কিছুই জানার কৌতুহলে, সমানে বক বক করতাম।
স্নানের পর খেলা করতাম যখন রাস্তার ধারের বারান্দায়,
সব্জি কাকু, মাছের মাসি, কাজের মাসি, দুধ কাকু আরও কতোজনকে দেখে শিখতাম কিভাবে কথা বলে ওরা।
তারপর, ভাইয়ের সঙ্গে খেলার সময়, এক একদিন, এক একজনের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতাম।
এক একদিন পাখি হতাম, ফুল হতাম, প্রজাপতি এমনকি ট্রেন, বাস, ট্যাক্সি কোনো কিছুই বাদ যেত না।
প্রাইমারি ইস্কুলে ভর্তি হলাম যখন, বড় মাস্টার, ছোট মাস্টার আর দিদিমণিরা লেখাপড়ার পাশাপাশি শেখাতেন বিভিন্ন খেলা আর হাতের কাজ।
হাই-ইস্কুলে, আর.টি.গার্লসে এসে দিদিমণিদের কাছে গান, গল্প বলা, সেলাই, আঁকা সবেতেই উৎসাহ পেতাম।
কলেজেও স্যারেরা ভীষণ আন্তরিকতার সাথে পাঠদান করেছেন।
আমি এখনো আমার শিক্ষক- শিক্ষিকাদের মনে করে মনে মনে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করি।
প্রথাগত শিক্ষার চেয়েও বাস্তবিক শিক্ষা বেশি জরুরি সেটা শিখেছি সংসার করতে এসে।
একটি দেশ চালানো যতটা কঠিন, সংসার চালানোও তেমনই বলে মনে হয় আমার।
একটা দেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক পরিকাঠামো সুদৃঢ় হলে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন হয়।
তেমনই সংসারের পরিকাঠামোও উন্নত করতে শিখেছি সংসারের মাথা যাঁরা, তাঁদের থেকে।
একে একে শিখেছি রান্না, ঘর গৃহস্থালির খুঁটিনাটি।
এমনকি এখনো প্রতিনিয়ত এখান ওখান থেকে, এমনকি আমার ছেলে এবং ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকেও শিখি অনেককিছুই।
তাই আমার কাছে আমার শিক্ষকের সংখ্যা অগণিত।
যে কারোর কাছে যতটুকু শিখেছি, তাকেই আমি 'গুরু' বলে মানি।
তাঁকেই জানাই আমার বিনম্র শ্রদ্ধা।
******
পাপিয়া মণ্ডল