15/12/2020
পরিযায়ীর মতো যদি পারতাম উড়ে চলে যেতে,
তবে পালাতাম এই মিথ্যে অনুভূতির দেশ ছেড়ে।
অন্ধকার ঘরটার দখিন কোণের জানালায় বসে অংশু এই স্বপ্নই দেখে প্রতিদিন। তার ঘরের মতোই অন্ধকার লাগে এ বিশ্রী জগতকে।
কতদিন হয়ে গেলো সে বাইরের ধোঁয়ার সাথে হাত মেলায়নি, কতদিন হলো সে কাদাজলে স্নান করেনি।
এখন এই ছোট্ট ঘরখানাই তার জগত আর ওই বাইরের গাছে আসা পাখির দল তার বন্ধু। পাখিগুলো গাছের ফল গুলো ঠুকরে খায়, একে অপরের সাথে কথা বলে অন্য পাখি গাছে এসে বসলে তাদের সাথে সখ্যতা করে। এসবই অংশু সব নিজেই কল্পনা করে নেই, এই একটা জিনিস যেখানে তাকে কেও বাঁধা দেওয়ার নেই।
সেই ছয় বছর ধরে এই অন্ধকার, নোংরা, ছোট্ট ঘরটাই তার সংসার। শিকল বাঁধা দুটো পায়ে আর চলার ক্ষমতা নেই, হাত দুটো থেকে কেউ বোধ হয় মাংস তুলে নিয়েছে। কঙ্কালসার দেহটা দেখে রাস্তার নেড়ি কুত্তাটাও ভয় পেয়ে যায়।
কেও তার কথা শোনেনা, সকাল আর রাতে দুবার কে যেনো ঘরের বন্ধ দরজার নীচ দিয়ে বেঁচে থাকা অবশিষ্ট খাওয়ার ফেলে দিয়ে যায়। সেই খাওয়ারে তার উদর ভরে না উপরন্তু তাকে উপোস করেই কাটাতে হয়। চোখের জল, কষ্ট, ব্যাথা এসব যে কি জিনিস সে ভুলেই গেছে।
তাই দিনের আলোয় ঘরের ওই কোণটা আলোকিত হলে আর পাখিদের কলরব শুনতে পেলে অংশু খুব আনন্দ পাই।
আর দিনের শেষে সূর্যি ডোবার সাথে সাথে পরিযায়ীর দল উড়ে গেলে, তার মনের ভেতর যে শূন্যতার সৃষ্টি হয় সেখান হয়তে নীরব চিৎকারে সে বলে উঠে, “ আমিও উড়ে যাবো পরিযায়ীর মতো,
এই মিথ্যে অনুভূতির দেশ ছেড়ে।”
✒ সাগরিকা
🎨 Jinia