20/03/2026
পাড়ার মোড়ের চায়ের দোকানে সকাল থেকেই ভিড়। কারণ আজকে শুরু হয়েছে নির্বাচনী প্রচার। দুই প্রার্থী—বালু দা আর গোপাল দা—দুজনেই ঘোষণা করেছেন, “আমি শুধু জনগণের সেবা করতে চাই!”
চা-ওয়ালা নিতাই মুচকি হেসে বলল,
“হ্যাঁ রে, সেবা তো এমনই—দেখে মনে হয় জনগণই বেচারা!”
বালু দা মাইক হাতে চিৎকার করছে,
“আমাকে ভোট দিন! আমি আপনাদের রাস্তাঘাট, আলো, জল সব ঠিক করে দেবো!”
গোপাল দা একটু দূরে দাঁড়িয়ে আরেকটা মাইক নিয়ে বলছে,
“ওসব পুরনো কথা! আমি জিতলে আপনাদের এত উন্নয়ন করব, আপনারা চিনতেই পারবেন না পাড়া!”
পাশে দাঁড়িয়ে থাকা হরু কাকা ফিসফিস করে বলল,
“হ্যাঁ, চিনতেই পারবো না—কারণ সবকিছুই তো ওদের পকেটে চলে যাবে!”
প্রচারের শেষ দিন এসে গেল। দুজনেই বাড়ি বাড়ি গিয়ে folded হাত করে বলছে—
“আপনার একটাই ভোট, আমাকে দিন, আমি আপনাদের সেবা করতে চাই!”
একই বাড়িতে গিয়ে দুজনের দেখা হয়ে গেল।
দুজনেই একে অপরের জামার কলার ধরে টানাটানি শুরু করল—
“আমি বেশি সেবা করব!”
“না, আমি বেশি সেবা করব!”
চপ্পল খুলে গেল, জামা ছিঁড়ে গেল, আর পাশের লোকজন হেসে গড়িয়ে পড়ল।
শেষমেশ ভোটের দিন এল। ফলাফল বেরোল—বালু দা জিতেছে।
জয়ের পরদিনই বালু দা আর দেখা যায় না পাড়ায়। ফোন করলে বলে—
“আমি এখন খুব ব্যস্ত, জনগণের সেবা করছি!”
এদিকে গোপাল দা চায়ের দোকানে বসে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,
“এইবার তো সুযোগ হাতছাড়া হয়ে গেল… জনগণের সেবা করার!”
নিতাই চা ঢালতে ঢালতে বলল,
“চিন্তা কোরো না দা, পাঁচ বছর পর আবার সুযোগ আসবে—সেবা করার!”
সবাই হেসে উঠল।
কারণ তারা জানে—
এই ‘সেবা’টা আসলে কার জন্য, সেটা সবাই বোঝে… শুধু বলার সাহসটা কারও নেই!