01/06/2026
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়: পূর্ণাঙ্গ রূপ পেল শুভেন্দু অধিকারীর মন্ত্রিসভা!
আজ ১ জুন, ২০২৬, কলকাতার লোকভবনে আয়োজিত এক মর্যাদাপূর্ণ অনুষ্ঠানে রাজ্যপাল আর এন রবি নতুন ৩৫ জন বিজেপি বিধায়ককে মন্ত্রী হিসেবে শপথবাক্য পাঠ করালেন । গত ৯ মে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীসহ ৬ জন শপথ নিয়েছিলেন। আজকের এই মেগা সম্প্রসারণের পর রাজ্যের মন্ত্রিসভার মোট সদস্য সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৪১ জনে ।
প্রবীণ ও নবীনের মেলবন্ধনে সাজানো এই নতুন মন্ত্রিসভায় আঞ্চলিক ও সামাজিক ভারসাম্যকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই মেগা রদবদলের খুঁটিনাটি ও প্রথম দিনের বড় রাজনৈতিক আপডেটগুলো নিচে দেওয়া হলো:
💼 নতুন মন্ত্রিসভার সমীকরণ
১৩ জন পূর্ণমন্ত্রী: স্বপন দাশগুপ্ত, তাপস রায়, ডঃ শঙ্কর ঘোষ, অর্জুন সিং, দীপক বর্মন, গৌরীশঙ্কর ঘোষ, দুধকুমার মণ্ডলসহ অভিজ্ঞ নেতৃত্ব।
৩ জন স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী: ডঃ ইন্দ্রনীল খাঁ, মালতী রাভা রায় এবং রাজেশ মাহাতো।
১৯ জন প্রতিমন্ত্রী: অশোক দিন্দা, জোয়েল মুর্মু, হরেকৃষ্ণ বেরা, আনন্দময় বর্মনসহ একঝাঁক নতুন মুখ।
⚡ প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠক ও মুখ্যমন্ত্রীর কড়া হুঁশিয়ারি
শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান শেষ হতেই নবান্নে বসেছিল প্রথম গুরুত্বপূর্ণ ক্যাবিনেট বৈঠক। সেখান থেকে বিরোধী শিবিরের উদ্দেশ্যে তীব্র আক্রমণ শানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী:
দুর্নীতিতে 'জিরো টলারেন্স': নতুন মন্ত্রীদের স্পষ্ট বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রশাসনে কোনো রকম দুর্নীতি বা তোলামুলি সহ্য করা হবে না। অনিয়ম দেখলেই কড়া আইনি পদক্ষেপ ও ‘বুলডোজার অ্যাকশন’ চলবে।
তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ: মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি অভিযোগ তোলেন, "তৃণমূল প্রতিষ্ঠিত চোর। এরা নিজের দলের বিধায়কদের সই পর্যন্ত জাল করে প্রস্তাব জমা দেয়।" সিআইডি (CID) তদন্তে ৩ তৃণমূল বিধায়ক ইতিমধ্যেই এই জালিয়াতি স্বীকার করেছেন বলে তিনি দাবি করেন।
বড় ঘোষণা: আজ ১ জুন থেকেই রাজ্যের মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে সরকারি বাস পরিষেবা চালুর মতো বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
💥 বিরোধীদের পাল্টা প্রতিক্রিয়া
এদিকে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ ও মুখ্যমন্ত্রীর আক্রমণের পর শান্ত থাকেনি তৃণমূল শিবিরও। তাদের পাল্টা দাবি, এই সরকার কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং ধর্মের মেরুকরণকে ব্যবহার করে ক্ষমতায় এসেছে। বিধায়কদের সই জাল করার অভিযোগ সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও 'প্রতিহিংসার রাজনীতি'।
শুভেন্দু অধিকারীর এই কড়া অবস্থান এবং প্রথম দিনের জনমুখী সিদ্ধান্ত কি পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক মানচিত্রে বড় বদল আনতে পারবে? আপনার মতামত কমেন্টে জানান। 💬